এতো বছর পর, ওর এতো সাহস হবে এখানে আসার? গাই বেঁচে থাকতে ও কি বোম্বেতে এসে নিজের জীবনের ঝুঁকি নেবে?
হ্যাঁ, বেজার মুখে ভাবলো ও। টম একাধিকবার প্রমাণ করেছে যে গাই এর জিনিস কেড়ে নিতে ওর কোনো লজ্জাবোধ নেই। আর সেজন্যে ওকে যদি দুনিয়া ফুড়ে অন্যপাশেও চলে যেতে হয়, তো ও সেটাই করবে।
আচমকা গাই প্রচন্ত ক্ষিপ্রতায় হাত চালালো। জানালার কাঁচের গায়ে মাছিটা ভর্তা হতে গেলো আঘাতে। হাত ঘুরিয়ে দেখে, সেখানে রক্তের ক্ষীণ একটা ধারা।
এবার আর তুই পালাতে পারবি না।
*
ফ্রান্সিস বেরিয়ে এসে দেখে মেরিডিউ দুর্গের বাইরে ঘুরঘুর করছে। দুজন মিলে টম যে সরাইটায় বসে ছিলো সেখানে গেলো। ফ্রান্সিসের কাছে থেকে গাই এর সাথে দেখা হওয়ার সব ঘটনা শুনে টমের চেহারায় আধার ঘনিয়ে এলো।
“সারাহের জন্য ও কিছু করবে, সেটা অবশ্য আমি আশাও করিনি,” টম বললো। “কিন্তু অ্যাগনেসের জন্যেও কিছু করবে না? ওর স্বামী কোম্পানির কুঠি বাঁচাতে লড়াই করে মারা গিয়েছে!” অতীতে বহুবারের মতো আরো একবার ওর মনে হলো ও আর গাই কি আসলেই একই সাথে একই মায়ের গর্ভে ছিলো? তাহলে এতো আলাদা হলো কিভাবে ওরা?
“কিন্তু আমাদের এখানে দেরি করা সম্ভব না,” ফ্রান্সিস বললো। “গাই আপনার সম্পর্কে অনেক প্রশ্ন করেছে আমাকে আমার মনে হয় উনি সন্দেহ করছেন যে এই টম উইল্ড লোকটা আসলে নিজের আসল পরিচয় দিচ্ছে না।”
টম হতাশার শব্দ করলো মুখ দিয়ে। “আমার ভালো দেখে একটা ছদ্মনাম নেওয়া উচিত ছিলো। একটা বাচ্চা ছেলেও ধরে ফেলবে ফাঁকটা।”
“আপনি তো আর জানতেন না যে ভাগ্যের ফেরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রক্ষাকর্তা হয়ে দাঁড়াবেন।”
“কিন্তু এটা তো জানতাম যে গাইয়ের এলাকায় প্রবেশ করছি। ও আমার খবর পাবে না এটা ভেবে নেওয়াটা গাধামি হয়েছে।”
“আমার মনে হয় উনি এখনো এ ব্যাপারে নিশ্চিত না। আমি ওনাকে বলেছি যে আমি আপনাকে কেপ টাউনে খুন করেছি, তবে আমার কথা বিশ্বাস করছেন কিনা জানিনা। উনি কিন্তু ব্রিঞ্জোয়ানের লোকজন আর যে জাহাজে করে এখানে এসেছি সেটার লোকজনের সাথে কথা বলবেন। আর তখন দুইয়ে দুইয়ে চার মিলাতে দেরি হবে না।” ফ্রান্সিস ওর পানীয়ের দিকে তাকিয়ে রইলো। “কি করবো এখন আমরা?”
টম উত্তর দেওয়ার আগেই অ্যানা ঢুকলো ঘরে। পিছনে ঢ্যাঙা এক লোক। কুজো হয়ে হাটছে লোকটা, নাকটা টকটকে লাল হয়ে আছে। অ্যানা টেবিলের পাশে আরো দুটো টুল টেনে আনলো।
“আমি বাজারে গিয়ে কয়েকজন পরিচিত ব্যবসায়ীর সাথে কথা বললাম,” কোনো ভূমিকা ছাড়াই বলতে শুরু করলো অ্যানা। “ওরাই আমাকে মিস্টার ব্যারির সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো।”
ঢ্যাঙা লোকটা সামান্য মাথা ঝোঁকালো। টমের ইশারা পেয়ে ফ্রান্সিস উঠে গিয়ে আরো দুটো পানীয় নিয়ে এলো।
“অনেক ধন্যবাদ, ব্যারি বললো। তারপর ঢকঢক করে গ্লাসের অর্ধেকটা গলায় ঢেলে দিলো। “এতোক্ষণে শান্তি পেলাম।”
“মিস্টার ব্যারি গভর্নর কোর্টনীর হয়ে কাজ করেন,” ব্যাখ্যা করলো– অ্যানা।
বাকিরা শক্ত হয়ে গেলো। “এনাকে বিশ্বাস করা যায়?” টম জিজ্ঞেস করলো।
ব্যারি কথাটা গায়ে মাখলো না। “গভর্নর কোর্টনীর জন্য আমার কোনো দরদ নেই। তবে তার টাকা সম্পর্কে দুয়েকটা কথা আমার জানা আছে।”
“সেটা দিয়ে আমাদের কি?” তিক্ত কণ্ঠে বললো ফ্রান্সিস। “আমি আমার চাচাকে দেখেছি। অ্যাগনেস আন্টি বা বাকিদের উদ্ধারের জন্যে আংরিয়াকে একটা শিলিং-ও দেবেন না উনি। স্পষ্ট বলে দিয়েছেন যে দস্যুদের সাথে কোনো মীমাংসায় যাবেন না।”
ব্যারি ওর পানীয় থেকে মুখ তুলে চাইলো। “হাহ, থুতু ফেললো ও একদলা। “গভর্নর কোর্টনী মুখে বলেন যে দস্যুদের সাথে ওনার কোনো লেনদেন নেই। কিন্তু ওনার মুক্তিপণ না দিতে চাওয়ার আসল কারণ এটা।”
“মানে?” জানতে চাইলো ফ্রান্সিস।
ব্যারি ওর গ্লাসের ভিতরে তাকিয়ে রইলো। ওটা ততোক্ষণে খালি হয়ে গিয়েছে। টম ব্যাপারটা ধরতে পেরে নিজের পানীয়টা ওর দিকে ঠেলে দিলো। ব্যারি চোখ টিপলো।
“আমি জেটির পাশে কোম্পানির গুদামের হিসাবরক্ষক ছিলাম। ভালোই কাজ করতাম। ফলে পদোন্নতি হতে দেরি হয়নি। একবার হিসাবের খাতায় আমি কিছু গড়মিল খুঁজে পাই। কিছু জিনিসের দাম মেটানো হয়েছে কিন্তু সেগুলো এসে পৌঁছায়নি। কিছু জিনিসের পাশে ‘হারানো মাল হিসেবে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে। কিন্তু আমি নিজের চোখে সেগুলোকে দেখেছি। আর একজন বিশ্বস্ত কর্মচারী হিসেবে আমি তখনি গভর্নর কোর্টনীকে বিষয়টা দেখাই।”
“নিশ্চয়ই সেজন্যে আপনাকে কোনো ধন্যবাদ দেওয়া হয়নি,” ফ্রান্সিস বললো।
“আমাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়,” ব্যারি টেবিলের সবার দিকে তাকালো। ওদের সহানুভূতি আশা করছে। আমাকে হুমকি দেন যে তিনমাসের মাঝে আমাকে শেষ করে ছাড়বে।”
“হুম, একেবারে গাই-এর মতই,” টম বললো। “কিন্তু আংরিয়ার সাথে এর সম্পর্ক কি?”
ব্যারি আবার ওর গ্লাসটা তুলে ধরে দেখালো যে ওটা খালি হয়ে গিয়েছে। টম ওখানকার মেয়েটাকে ইশারা করলো। সে এগিয়ে এসে আর এক গ্লাস দিয়ে গেলো। ব্যারি ওটা নিতে গেলো, কিন্তু তার আগেই টম সেটা কেড়ে নিয়ে ব্যারির নাগালের বাইরে সরিয়ে নিয়ে গেলো।
