আই সি।” পুরো ব্যাপারটার বিশালত্ব অনুভব করতে গিয়ে হিমশিম খেয়ে গেলেন ব্লেইন। তিনি তো সবসময় এটাই চেয়েছিলেন। কিন্তু মুখে বললেন,
“গুড বাস, হার্টজগ কেন সম্মত হল সেটাই তো মাথায় আসছে না?” কারণ জানে যে জাতি এখন আর তাকে তেমন বিশ্বাস করে না। তাছাড়া নিজের দলেও বিশৃঙ্খলা চলছে। ওর নিজের কেবিনেট এখন দুর্বিনীত আচরণ করছে।”
“ইয়েস ওড বাস। সত্যিই এটা আমাদের জন্য সুযোগ বটে। কিন্তু গত মাসের ট্রান্সভ্যাল আর জার্মিস্টলের বিজয়ের পর এখন চাইলে আমরাই তো জাতীয় নির্বাচন করতে পারি। জিতেও যাব। কোয়ালিশনের কোনো প্রয়োজনই নেই।”
কয়েক মুহূর্তের জন্য চুপ করে রইলেন প্রাজ্ঞ জেনারেল। তারপর গম্ভীর মুখে বললেন, “তুমি ঠিকই বলেছো ব্লেইন। কিন্তু তাতে তো লোকে হার্টজগের বিরুদ্ধে ভোট দিবে। আমাদের পার্টিকে ভালোবেসে নয়।”
স্মুট যে কত গভীর আর মহৎ মনের মানুষ বুঝতে পেরে অভিভূত হয়ে গেলেন ব্লেইন।
“এখন খুব দুঃসময় চলছে। আমাদের চারপাশেই নাচছে ঝড়ো মেঘ। তাই শক্ত একটা কোয়ালিশন কেবিনেট দরকার। তাই সবাইকে একত্র হওয়া দরকার। একের পর এক পুরনো খনি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এভাবে একসময় আমাদের ভালোবাসার দক্ষিণ আফ্রিকাই নিঃশেষ হয়ে যাবে।”
মাথা নাড়লেন ব্লেইন। পুরো দেশ আজ এসব নিয়ে চিন্তিত। একদিকে শ্বেতাঙ্গ জনগণ খরা আর আদি যুগের কলাকৌশলের কারণে খামারগুলো হারাচ্ছে, দক্ষতার অভাবে বেকার হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, বিশটা গোত্রে বিভক্ত কৃষ্ণাঙ্গরা গ্রাম ছেড়ে দলে দলে উন্নত জীবনের আশায় শহরের বেকার অপরাধী মানুষের সংখ্যা বাড়াচ্ছে। আইন ভঙ্গ করে প্রথমবারের মত অনুভব করছে রাজনৈতিক শক্তির আকর্ষণ।”
“এই সমস্যা আসলেই এখনো আমাদের অগোচরে রয়ে গেল।” ব্লেইন বুঝতে পারলেন সুটের দুশ্চিন্তা। আমাদের ছেলে-মেয়ে, নাতি-পুতিরা না জানি এর জন্য আমাদেরকেই দোষারোপ করে।”
“সত্যিই তাই ব্লেইন। আর এ কারণে কোয়ালিশন আর কো-অপারেশন চাই। বিরোধ নয়।”
“সবকিছু কেমন যেন দ্রুত বদলে গেল তাই না? নরম স্বরে জানতে চাইলেন ব্লেইন, “মনে হয় যেন গতকালও বেশ সমৃদ্ধ আর সুখী ছিলাম।”
“তোমাকে আমার দরকার ব্লেইন, চিন্তা করার জন্য কি সময় চাও?” জিজ্ঞেস করলেন সুট।
মাথা নাড়লেন ব্লেইন, “না। কোনো প্রয়োজন নেই। আপনি আমার ওপর ভরসা রাখতে পারেন ওড় বাস।”
“আমি জানতাম তাই বলবে।”
চোখ ঘুরিয়ে পেছনে তাকাতেই সেনটেইনকে দেখে দূর থেকেও লজ্জা পেয়ে গেলেন ব্লেইন। চারপাশের মন্দা থেকেই তাঁর স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে, সেনটেইন যে ঐশ্বর্য হারাচ্ছেন কেপ টাউনে গিয়ে তিনি তাই ভোগ করবেন ভাবতে গিয়ে ভীষণ লজ্জা পেলেন কর্নেল।
আর তারপর ইসাবেলাকে দেখেই খানিকটা কমে গেল অপরাধবোধ। এদিকে আবার মুট বললেন, “আমি আরো চারদিন এখানকার অতিথি হয়ে থাকব। এই ফাঁকে ব্যারি হার্টজগের সাথে গোপন একটা মিটিং করে কোয়ালিশনের ব্যাপারে ফাইনাল কথাও বলা হবে। তাই তুমি কাছেই থেকো। যেন ডাকলেই পাওয়া যায়।”
“অবশ্যই।” বহু কষ্টে নিজের আবেগ দমন করলেন ব্লেইন। “আপনি কি। চান আমি এখনই ইস্তফা দিয়ে দেই?”
“চিঠিটা ড্রাফট করে রাখো। হার্টজগকে আমি তোমার কারণগুলো বুঝিয়ে বলার পরে তুমি নিজেই তার হাতে রেজিগেনশন তুলে দিও।”
বারবার আড়চোখে হাতঘড়ির দিকে তাকাতেই মুট তাড়াতাড়ি ছেড়ে দিলেন ব্লেইনকে, “যাও তোমাকে ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। আশা করছি আমি কাপটা তোমার হাতেই তুলে দিব।”
খুব ক্লোজ একটা ম্যাচে ব্লেইন ম্যালকমদের কেপ A’ টিম ট্রান্সভ্যাল A’ কে হারিয়ে দিল। কিন্তু পুরস্কার বিতরণীর সময় দেখা গেল সবাই আসলেও জুনিয়র চ্যাম্পিয়নদের দেখা নেই।
“শাসা কোথায়?” টুর্নামেন্টের আয়োজক সাইরিলের দিকে তাকিয়ে বেঁকিয়ে উঠলেন সেনটেইন।
অসহায় চোখে সাইরিল জানাল, “আমাকে তো বলেছিল যে চল আসবে।
এটাই যদি ওর সারপ্রাইজ হয় তো–উৎসুক অতিথিরা তাকিয়ে আছে দেখে দ্রুত নিজের রাগ ঢেকে হেসে ফেললেন, বললেন, “ঠিক আছে ওদেরকে ছাড়াই শুরু করতে হবে।”
কিন্তু জেনারেলের পাশে নিজের আসনে বসতে না বসতেই মাথার উপর শোনা গেল উড়োজাহাজের গর্জন। ক্রমেই কাছে এগিয়ে আসছে শব্দটা। দর্শকরাও আকাশের দিকে তাকিয়ে অস্বস্তিতে নড়েচড়ে বসল। মাথার উপর আসতেই ছোষ্ট্র সিঙ্গল ইঞ্জিনের এয়ারক্রাফটাকে চিনতে পারলেন সেনটেইন। পুশ মথ। সোজা স্ট্যান্ডের দিকে এগোতে এগোতেই আচমকা তীব্র গতিতে নাক খাড়া করে আকাশের উপরে চলে গেল বিমান। আতঙ্কে চিৎকার শুরু করল এক নারী।
এদিকে এয়ারক্রাফটের সাইড উইন্ডো দিয়ে শাসার মুখখানা দেখেই স্তম্ভিতে হয়ে গেলেন সেনটেইন। মনে পড়ে গেল মাইকেল কোর্টনির মুখ। যেন শাসা নয় মাইকেলই ককপিট থেকে হাত নাড়ছে।
প্লেন পাগলের মত বার কয়েক চক্কর মেরে ওক গাছের উপর আসতেই দাঁড়িয়ে গেলেন সেনটেইন। বুক চিরে বেরিয়ে এল নীরব আর্তনাদ। মনে হল মর্ট হোমের দুর্গের উপর হলুদ স্কাউট প্লেনের ক্ষত-বিক্ষত ধ্বংসাবশেষ নিয়ে নেমে আসছেন মাইকেল।
“মাইকেল!” মনে মনে স্বামীর নাম ডাকতে লাগলেন সেনটেইন। চোখের সামনে ভেসে উঠল লম্বা বিচু গাছের উপর থেকে মাটিতে আছড়ে পড়া হলুদ প্লেন। সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে জ্বলে উঠল ভয়ংকর সুন্দর এক ফুলের শিখা, খোলা ককপিটের মানুষটা চোখের সামনেই জ্বলে-পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেল।
