হুইল চেয়ার ঠেলে ইসাবেলা সহ তাদের কাছে চলে এলেন ব্লেইন। চারপাশের আবহাওয়াও বেশ চমৎকার। প্রকৃতিও আজ সেনটেইনের টুর্নামেন্টে সাহায্য করেছে। হালকা বাতাসও আছে। ডিসেম্বরে শীত পড়লেও ওয়েল্টেভেদেন কনস্টানশিয়া উপত্যকার পেছনে পড়ায় বেঁচে গেছে।
ব্লেইনকে এগিয়ে আসতে দেখে ওয়েটারকে সরিয়ে দিয়ে নিজের হাতে শ্যাম্পেনের গ্লাস নিয়ে ইসাবেলার কাছে এলেন সেনটেইন।
“ধন্যবাদ, কিন্তু আমার লাগবে না।” মিষ্টি হেসে প্রত্যাখ্যান করলেন ইসাবেলা। এক মুহূর্তের জন্য হতভম্ব হয়ে গ্লাস হাতে দাঁড়িয়ে রইলেন সেনটেইন।
তাঁকে উদ্ধার করতে এগিয়ে এলেন ম্যালকমস “যদি কিছু মনে না করেন বলে শ্যাম্পেনের গ্লাসটাকে নিয়ে নিলেন। কৃতজ্ঞ চোখে হেসে ফেললেন সেনটেইন। হুইল চেয়ারের জন্য জায়গা করে দিল বাকি অতিথির দল। এদিকে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান বলে উঠলেন,
“হুভার আর তার আধিপত্যবাদ নীতির কবলে কেবল ইউএস নয় আমাদেরও বিস্তর ক্ষতি হচ্ছে। তা না হলে এতদিনে এই মন্দা কেটেই যেত। ঈশ্বর জানেন আর কতদিন এমনটা সইতে হবে।” জেনারেল মুটের দিকে তাকিয়ে জানতে চাইলেন “ওড় বাস আপনার কী ধারণা?”
মিটিমিটি হেসে নীল চোখে দুষ্টুমি ফুটিয়ে সুট জানালেন, “ডিয়ার আলফ্রেড, আমি তো অর্থনীতিবিদ নই, একজন বৃক্ষপ্রেমী মাত্র। সাথে সাথে অন্যদের মাঝে সংক্রামিত হল তার হাসি। সবাই জানে বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ জন মেনার্ডের সাথে নিয়মিত বৈঠক করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারকে তিনিই বিভিন্ন পরামর্শ দেন।
“তাহলে তো স্বর্ণের স্ট্যান্ডার্ডের কথা বাদ দিয়ে আমার গোলাপগুলোকে দেখুন ওড বাস।” অতিথিরা যে এরকম আলোচনায় স্বস্তি পাচ্ছেন না তা ঠিকই বুঝতে পারলেন সেনটেইন।
লম্বা টিউলিপ গ্লাসে শ্যাম্পেন হাতে হাসি-ঠাট্টায় মত্ত হলেও শূন্যতায় ভরে গেছে তার অন্তর। জানেন দুঃস্বপ্ন হলেও এটাই সত্যি। তার সবকিছু শেষ হতে চলেছে। আজকের স্মৃতি নিয়েই এগোতে হবে অনিশ্চিত আর নিয়ন্ত্রণহীন ভবিষ্যতের দিকে। হঠাৎ করেই কাঁধের উপর দিয়ে তাকিয়ে আস্তে করে হাততালি দিলেন ব্লেইন। অন্যরাও তাই করল।
“এই তো এসে গেছে বিজয়ী হিরো- “ কে যেন হেসে ফেলতেই নিজের সিটে নড়ে উঠলেন সেনটেইন। ফ্লানেল আর ব্লেজার পরে গোসল সেরে মায়ের পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে শাসা। যতটুকু দ্ৰতা প্রয়োজন মুখে ঠিক ততটুকুই হাসি।
“ওহ বাবু, আমি সত্যিই তোমার জন্য গর্বিত।” ঝট করে উঠে দাঁড়িয়ে ছেলেকে কি করলেন সেনটেইন। এবার সত্যিকারের অস্বস্তিতে পড়ে গেল শাসা। ছেলেকে এত সুন্দর লাগছে যে সেনটেইনের ইচ্ছে করল বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরতে। কিন্তু আত্মসংবরণ করে ওয়েটারকে শ্যাম্পেনের গ্লাস নিয়ে আনতে বললেন মিসেস কোর্টনি। অবাক হয়ে গেল শাসা।
ছেলের হাতে চাপ দিলেন সেনটেইন, “বিশেষ দিনে খাওয়া যায়। নাও।”
নাতির পাশে চলে এলেন স্যার গ্যারি। “কাম অন, মাই বয়। চ্যাম্পিয়ন হয়ে কেমন লাগছে বলো।”
“প্লিজ দাদু, আমি বন্ধুদের কাছে যেতে চাই। তবে সবার জন্য পরে একটা সারপ্রাইজ আছে।”
“সারপ্রাইজ!” নিজের চেয়ারে বসলেন সেনটেইন। ছেলের কাণ্ড তিনি ভালোই জানেন। আগেরবার ফায়ার ওয়ার্কাসের নামে পুরনো গোলাঘরসহ পাঁচ একর গাছ পুড়িয়ে দিয়েছিল শাসা। তাই জানতে চাইলেন, কেমন সারপ্রাইজ “বলে দিলে তো মজাই নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু প্রাইজ গিভিং’র আগে আমরা মাঠ খালি করে ফেলতে চাই। ভাবলাম তোমাকে বলে রাখি।” সবটুকু শ্যাম্পেন গলায় ঢেলে আরো জানাল, “আমার এখনো বহু কাজ বাকি আছে। তাই যাচ্ছি মা।” হাত তুলে থামাতে গেলেও চলে গেল শাসা।
এদিকে ব্লেইন আর জেনারেল স্মুটও কী যেন আলোচনা করতে করতে উঠে গেলেন দূরে। আগ্রহ নিয়ে তাকালেন সেনটেইন। পরস্পর বিপরীত একটা জুটি সাদা দাড়ির ছোটখাটো এক দেশনেতা আর লম্বা-চওড়া এক যোদ্ধা ও ল’ইয়ার।
জেনারেল স্মুট জানতে চাইলেন, “নিউ ইয়ার পর্যন্ত কি তুমি বাইরে থাকতে পারবে?”
জানতে পারি কী হবে জেনারেল?” জিজ্ঞেস করলেন ব্লেইন।
“আমি তোমাকে হাউজে দেখতে চাই। জানি এর জন্য তোমাকে বেশ কিছু আত্মত্যাগ করতে হবে ব্লেইন। এখানে উইন্ডহকে বেশ চমৎকারভাবেই দায়িত্ব পালন করছে আর এতে তোমার নিজস্ব সম্মান ও ক্ষমতাও বাড়ছে। তাই আমার যে চাওয়া তুমি প্রশাসকের পদে ইস্তফা দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা পার্টির হয়ে নির্বাচন করো তা অনেক বড় বলিদান হবে।”
উত্তর দিলেন না ব্লেইন। সত্যিই এতটা ত্যাগ স্বীকার করতে পারবেন কিনা বুঝতে পারছেন না।
গার্ডেনস’র হয়ে লড়াই করে হার্টজনের বিরুদ্ধে জিতে গেলেও কেবল বিরোধী দলে সিট পাবেন। এর চেয়ে প্রশাসকের পদ অনেক আকর্ষণীয়।
“আমরা তো বিরোধী দলে ও বাস।” সহজ স্বরে জানালেন ব্লেইন। উত্তর দেবার আগে হাতের লাঠি দিয়ে মাটিতে কিকোউ ঘাস নাড়াচাড়া করে দিলেন স্যুট,
“ব্লেইন, তোমার জন্য এটা করব। তাই কথা দাও।”
“অবশ্যই।”
“এখন যদি আমার ওপর ভরসা রাখো তাহলে ছয় মাসের মধ্যে একটা মন্ত্রণালয় পাবে।”
ব্লেইনের চোখে অবিশ্বাস দেখে থেমে গেলেন সুট। গভীরভাবে দম নিয়ে জানালেন, “কোয়ালিশন ব্লেইন, হার্টজগ আর আমি একটা কোয়ালিশন কেবিনেটের ব্যাপারে কাজ করছি। মনে হচ্ছে আগামী বছরের মার্চ নাগাদ ঘোষণা দিতে পারব। আইন মন্ত্রণালয় আমি নিব আর পছন্দ মতন চারজন মন্ত্রী নিয়োগ দিতে পারব। আমার লিস্টে তুমিও আছে।”
