শাসাকে দিক পরিবর্তন করতে দেখেই ভ্রু কুঁচকে ফেলল ম্যাক্স। কোথাও কোনো গড়বড় আছে বুঝতে পেরেই চক্কর মেরে মাঠের ওপাশে নিজের দু’নম্বরকে হাত ইশারা করে আগের জায়গায় ফিরে এল।
এবার ছিল বান্টির শট। নিজের ঘোড় নিয়ে যেই না এগিয়ে এল ছেলেটা অমনি নিজের কালো স্ট্যালিয়ন নেমেসিসকে নিয়ে তেড়ে এল ম্যাক্স। আর শক্তিশালী বড়সড় ঘোড়াটা তুষার ঝড়ের মত ঝাঁপিয়ে পড়ল বান্টির ওপর।
তাড়াতাড়ি উৎসাহ দেয়ার জন্য চিৎকার করে উঠল শাসা, “তোমার লাইন বান্টি, জায়গা ছেড়ো না।” কিন্তু ঠিক সে সময় নেমেসিসের কাঁধে বুড়ো আঙুল দিয়ে গুতো দিল ম্যাক্স। অ্যাংগেল পাল্টে বিপজ্জনকভাবে এগিয়ে গেল নেমেসিস। দাঁড়িয়ে থাকলে ভয়ংকর একটা ফাউল হত। কিন্তু ভয় পেয়ে নিজের ঘোড়া নিয়ে সরে দাঁড়াল বান্টি। আর সে সুযোগে বিজয়ের মত গিয়ে জায়গা দখল করল ম্যাক্স। কিন্তু যেন কিছুই হয়নি এমন ভঙ্গি করে লাঠি তুলে সমস্ত মনোযোগ দিল সাদা বলটার দিকে।
ফলে শাসা যে নিয়ার সাইড থেকে আসছে সেদিকে লক্ষ্যই করেনি। শাসার হিলের বাড়ি খেয়ে বিদ্যুৎগতিতে ছুটে এল টাইগার শার্ক। তীক্ষ্ণ একটা মোচড় নিয়ে অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় ঝাঁপিয়ে পড়ল নেমেসিসের ওপর। আরেকটু হলে প্রায় পড়েই যাচ্ছিল শাসা।
যাই হোক, ব্লেইনের কথাই ঠিক। এটা ম্যাক্সের দুর্বল সাইড। সামনের হাঁটুর মধ্যে মাথা ঢুকিয়ে হোঁচট খেলো নেমেসিস। শূন্যে উঠে নিজের ঘোড়ার মাথার ওপর পড়ে গেল ম্যাক্স। কিন্তু লাগাম তখনো হাতে ধরা। আতঙ্কিত শাসার মনে হল নেমেসিস বুঝি ম্যাক্সকে মেরেই ফেলবে।
তবে সহজাত অ্যাথলেটিক দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বাতাসের মাঝেই বিড়ালের মত ঘুরে গিয়ে বাঁকাভাবে মাটিতে পড়ল ম্যাক্স। প্রথমে খানিক কোনো কথা না বললেও মাঠের দু’পাশ থেকে আম্পায়ারদের বাঁশি শুনেই চিৎকার শুরু করল, “ও আমার সাথে ফাউল করেছে। আমার লাইন ক্রস করে এসেছে। আরেকটু হলেই আমি মারা পড়তাম।” কাঁপতে কাঁপতে সাদা হয়ে গেছে ম্যাক্স। তারপরেও ভয় আর হতাশায় উঠে লাফাতে লাগল সবার সামনে।
মাঠের মাঝখানে এসে আলোচনা জুড়ে দিল দুই আম্পায়ার। এদিকে অনবরত প্রতিবাদ করে গেল ম্যাক্স। কিন্তু চোখ ঘুরিয়ে টাইগার সার্কের দিকে তাকাতেই শাসার আম্পায়ারদেরকে প্রভাবিত করার ইচ্ছে চলে গেল। বুঝতে পারল উত্তেজিত দর্শকরাও ন্যায়বিচারের জন্য চিৎকার শুরু করেছে।
কিন্তু আম্পায়ার দু’জনে নিজেরা সিদ্ধান্ত নিতে না পারায় এগিয়ে গেল গ্রান্ডস্টান্ড থেকে নেমে আসা রেফারির দিকে।
“গুড শট শাস!” এগিয়ে এল বান্টি, “বেয়াদবটার জন্মের শিক্ষা হয়েছে।”
“মনে হচ্ছে আমাকে মাঠ থেকে বের করে দেবে বান্টি।” উত্তরে জানাল শাসা।
“কিন্তু তুমি তো লাইন ক্রস করোনি। আমি সব দেখেছি।”
শান্ত হয়ে গেল শাসা। আচমকা মনে হল এত অতিথিদের সামনে যদি তাকে মাঠ থেকে বের কর দেয়া হয় তাহলে দাদা গ্যারি কোর্টনি আর মা সেনটেইনের মনোভাব কী হবে। সবার সামনে নিজেদের বাড়ির অপমান করল শাসা। নার্ভাস হয়ে স্ট্যান্ডের দিকে তাকালেও বুঝতে পারল না ব্লেইন ম্যালকমসই বা কী ভাবছেন। ততক্ষণে আম্পায়ারদের একজন সোজা শাসার কাছেই এগিয়ে এল,
“মিঃ কোর্টনি!”
“স্যার!” সিধে হয়ে বসল শাসা যে কোনো খারাপ সংবাদ শোনার জন্য প্রস্তুত।
“আনুষ্ঠানিকভাবে তোমাকে সাবধান করা হচ্ছে। এ ধরনের বিপজ্জনক খেলার ব্যাপারে ওয়ার্নিং মনে রেখো।”
“বুঝতে পেরেছি স্যার।” ভাবলেশহীন থাকতে চাইলেও ভেতরে ভেতরে আনন্দে ফেটে পড়েছে শাসা। এ যাত্রায় পার পেয়ে গেছে।
“খেলা শুরু করো মি. কোটনি।” ঘোষণা দিয়ে সরে যাবার ঠিক আগ মুহূর্তে শাসার মনে হল তার উদ্দেশে চোখ টিপে দিলেন আম্পায়ার।
খেলা শেষ হবার মাত্র তিন মিনিট আগে পেনাল্টি শট খেলতে তাদের এলাকায় চলে এল ম্যাক্স। কিন্তু শাসার দলের স্টাফ বেচারা নাটালের গুঁতো খেয়ে সুবিধে করতে পারল না। তবে শাসাকে বল পাস করে দিল। এদিকে বান্টিও পেছনে থাকায় ও একা নাটাল ঘোড়সওয়ারদের সাথে পেরে উঠল না।
অন্তত ড্র হলেও তো করতে হবে। হাতঘড়ি দেখে শাসাকে জানাল বান্টি।
“উঁহু ড্র যথেষ্ট নয়। আমাদেরকে জিততেই হবে।” ভয়ংকর গলায় জবাব দিল শাসা।
“আর মাত্র আধা মিনিট বাকি। এবারে বল সোজা এগিয়ে এল বান্টির দিকে। কিন্তু মিস্ করায় এখন গোল আর তাদের মাঝে আছে কেবল স্টাফ গুডম্যান। ওকে সাহায্য করার জন্য দৌড় দিলেও মনে মনে চিন্তায় পড়ে গেল শাসা। আর বুঝি কোনো আশা নেই। কিন্তু না, দুরুদুরু বুকে নাটালদের মাঝখানে এগিয়ে এল স্টাফ। বলকে এমন ঘুরিয়ে মারল যে সোজা বান্টির লাইনে গিয়ে পড়ল। বান্টিও বল নিয়ে পুরো মাঠে তাড়া করল।
“আমার দিকে দাও বান্টি।” মাঠের বাম পাশ থেকে চিৎকার করে উঠল শাসা।
“হিয়ার ডিগার হিয়ার।” ঘোত ঘোত করতে করতে ম্যাক্সও এগিয়ে এল।
হিট করল বান্টি। কিন্তু বল গিয়ে নাটালের পেছনের ঘোড়ার সামনের খুড়ে গিয়ে আবার বান্টির ঘোড়ার পা-দানি ছুঁয়ে চলে এল ওয়েল্টেভ্রেদেনের সীমানায়।
কী ঘটবে সাথে সাথে টের পেয়ে গেল। তাই টাইগার শার্ককে নিয়ে এগিয়ে এসে বলে মেরে পরিবর্তন করে দিল দিক। তারপর এত জোরে ছুটল যে কাত হয়ে পড়ে গেল ঘোড়া। কিন্তু “হাহ!” বলে পেটে শাসার গুতো খেয়েই আবার উঠে দাঁড়াল। সামনেই ড্রিবলিং করছে বল।
