“না, ব্লেইন, এটা ইসাবেলা আর তার মেয়েদের প্রাপ্য।”
“আমার অর্থ আমি চাইলে”।
“ব্লেইন! ব্লেইন! আমার এখন এক মিলিয়ন পাউন্ড অর্থ প্রয়োজন। আছে তোমার কাছে? এর চেয়ে কমে কিছুই হবে না।”
আস্তে আস্তে মাথা নাড়লেন ব্লেইন, “এত? না, আমার কাছে এর তিন ভাগের এক ভাগও নেই সেনটেইন।”
“তাহলে এ ব্যাপারে আমরা আর কথা বলব না, ঠিক আছে?” দৃঢ় কণ্ঠে জানালেন সেনটেইন, “এখন আমাকে দেখাও তো ডিনারের জন্য ক্রেফিশ কীভাবে ধরব? একসাথে যতদিন আছি আমি আর কোন রকম মন খারাপ করা কথা বলতে চাই না।”
শেষবিকেলে দুজনে একসাথে কুঁড়েঘরের পেছনে ঢালুর উপর উঠে গেলেন। হাতে হাত রেখে ঘুরে বেড়ালেন বুনোফুলের ভিড়ে।
“দেখো ব্লেইন, কেমন করে প্রতিটা ফুল আকাশের সূর্যের দিকেই তাকিয়ে থাকে! আমিও ওদেরই মতন আর তুমিই হলে আমার সূর্য, মাই লাভ!”
খুঁজে খুঁজে পছন্দমত ফুল নিয়ে মুকুট বানিয়ে সেনটেইনের মাথায় পরিয়ে দিলেন ব্লেইন। বললেন, “আর তুমি হলে আমার অন্তরের রানি।”
বুনো ফুলের চাদরে শুয়ে উদ্দাম ভালোবাসায় মেতে উঠলেন ব্লেইন আর সেনটেইন, তাদের নিচে চূর্ণ হয়ে গেল লাল কমলা পাপড়ি আর বাতাসে সুবাস ছড়িয়ে দিল মাদকময় সুগন্ধ।
খানিক বাদে ব্লেইনের হাতের ওপর মাথা রেখে শুয়ে রইলেন সেনটেইন। অস্ফুট কণ্ঠে জানালেন, “জানো আমি কদিন বাদে কী করব?”
“বলল।” জড়ানো গলায় জানালেন ব্লেইন, “এমন এক কাজ করব যাতে লোক বছরখানেক পরে বলবে সেনটেইন কোর্টনি ডুবে গেলেও স্টাইল করেই হেরেছে।”
“মানে?”
“এবারের বড়দিনের পার্টি হবে সর্বকালের সেরা ধুমধাড়াক্কা। এক সপ্তাহের জন্য ওয়েল্টেভ্রেদেন হয়ে যাবে ওপেন হাউজ, প্রতি রাতে শ্যাম্পেন আর নাচ।”
“সত্যিই তাই করবে?”
“এর ফলে আমরা দুজনে একসাথে জনসমক্ষে আসারও একটা অজুহাত পেয়ে যাব। তুমি আসবে না?”
“নির্ভর করবে আসলে।” সিরিয়াস ভঙ্গিতে জানালেন ব্লেইন। দুজনেই’। জানেন যে সবকিছু ইসাবেলার উপরেই নির্ভর করবে, “আমাকে খুব জোরালো কোনো বাহানা খুঁজতে হবে।”
“তোমাকে বাহানা আমিই দিচ্ছি।” উত্তেজিত হয়ে উঠলেন সেনটেইন, “আমি না হয় পোলো সপ্তাহের আয়োজন করব, বিশ গোলের টুর্নামেন্ট। সারাদেশের সব টপ প্লেয়ারদেরকে আমন্ত্রণ করব। আর তুমি তো জাতীয় ভাবেই চ্যাম্পিয়ান। তার মানে এ আয়োজন প্রত্যাখ্যান করতে পারবে না।”
“সত্যিই পারব না। তুমি খুব চালাক।” সপ্রশংস দৃষ্টিতে মাথা নাড়লেন ব্লেইন।
“সে ফাঁকে শাসার সাথেও দেখা করিয়ে দেব। আমি তোমাকে চিনি শোনার পর থেকেই তোমাকে দেখতে চাইছে।”
“তাহলে খুবই ভালো হয়। তুমি কিছু জুনিয়র টিমকেও দাওয়াত করতে পারো। তোমার ছেলের ঘোড়া চালানোও দেখা হয়ে যাবে।”
“ওহ ব্লেইন! এটা অত্যন্ত চমৎকার একটা আইডিয়া?” আনন্দে হাততালি দিলেন সেনটেইন, “আমার বাবু সোনাটা, আহারে বেচারা হয়ত এইবারই নিজের ঘোড়া নিয়ে খেলার শেষ সুযোগ পাবে। কারণ ওয়েল্টেভেদেন বিক্রি করে দিলে তো ঘোড়াগুলোকেও হারিয়ে ফেলতে হবে।” মুহূর্তের জন্য চোখে বিষাদের ছায়া ঘনালেও আবার উজ্জ্বল হয়ে উঠল তার চেহারা “কিন্তু যেমনটা বলেছি, বিদায় নিলেও স্টাইল করেই বিদায় নেব।”
***
ওয়েল্টেভ্রেদেনের আমন্ত্রণে খেলতে আসা জুনিয়র দলগুলোর মধ্যে সবশেষে টিকে রইল শাসার টিম আর নাটাল জুনিয়র। শাসার দল ওয়েল্টেভ্রেদেনের রক্ষণ ভাগ ঠেলে নয় গোল দিয়ে দিল ম্যাক্সের নাটাল জুনিয়র। এর উপর আবার ঘোড়া থেকে পড়ে গিয়ে অসম্ভব ক্ষেপে উঠল শাসা। রাগে দুঃখে আর হতাশায় সহিসের উপর তেতে উঠল শাসা, “তুমি জিনের বেল্ট ঠিকভাবে আটকাওনি।”
“কিন্তু আপনিও চেক করেছিলেন।”
“খবরদার আমার মুখে ওপর কথা বলবে না।” তারপর সহিস অ্যাবেলের দিকে না তাকিয়েই মাঠের ওপাশে নাটালের লাইনের দিকে তাকিয়ে বলল, “আমি এবার টাইগার শার্ক নিয়ে যাব। ওর সামনের পায়ের ব্যান্ডেজ চেক করে এখানে নিয়ে আসো।” কম বয়সী টাইগার শার্ক হল বে স্ট্যালিয়ন জাতের ঘোড়া। মাত্র এক বছর ধরে এটাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে শাসা খেলার উপযোগী করে গড়ে তুলেছে। তবে বিশাল শক্তিশালী কাঁধ আর হ্যামার হেডের কুৎসিত চেহারার ঘোড়াটার আচরণও জেদী টাইপের। কোনো রকম সতর্কতা ছাড়াই হঠাৎ লাথি ছুঁড়ে বসে। অন্যসময় হলে শাসা হয়ত অপেক্ষাকৃত শান্ত গ্রাম পুডিং নামে ঘোড়াটাকেই নিত; কিন্তু ম্যাক্স নিজের কালো স্ট্যালিয়ন বেছে নিতেই শাসা বুঝতে পারল তাকে কী করতে হবে।
অন্যদিকে ওয়াগনের মাঝখানের হুইলের ওপর হেলান দিয়ে বসে নিঃশব্দে শাসাকে দেখছেন ব্লেইন। হাত দুটো বুকের ওপর ভাঁজ করা, এক চোখের ওপর ঝুঁকে আছে চওড়া কানঅলা পানামা টুপি। মোটের ওপর শাসাকে দেখে খুশিই হলেন ব্লেইন। জেতার ইচ্ছেটাই হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ আর এ কথা কেবল পোলো গ্রাউন্ড নয় জীবনের সবক্ষেত্রেই খাটে। শাসা কোর্টনির মাঝে এ গুণ আছে কিনা নিশ্চিত না হলেও মায়ের ক্রমাগত চেষ্টায় বড়দের প্রতি এবং নিজ স্কুলে শাসা অত্যন্ত সুবোধ আচরণ করে।
গত চারদিন ধরেই ওকে খেয়াল করছেন ব্লেইন। তাই বুঝতে পেরেছেন যে সহজাতভাবেই ছেলেটা ঘোড়া চালানোতে দক্ষ। নির্ভীক হবার কারণে অবশ্য মঝে মাঝেই লাইন ক্রস করে চলে যায়। তবে ব্লেইন জানেন অভিজ্ঞতার সাথে সাথে নিজেকে ঠিকই বদলে নিতে শিখবে শাসা।
