“না! না!” তীব্র বেগে মাথা নাড়ল ম্যানফ্রেড, “এসব সত্য নয়। বাবা। কখনো এমন কিছু করবে না। এগুলো আমাদের হিওে, বাবা আমাকে সব বলেছেন।”
“ওর সাথে তুমি ছিলে কিনা সেটা বলো?” আরেকটা চিৎকার করে ম্যানিকে থামিয়ে দিল আংকেল।
“না, আংকেল। উনি একাই গেছেন। যখন ফিরে এসেছেন তখন দেখেছি যে মারাত্মকভাবে আহতও হয়েছেন। বাবার হাত –কব্জি–”
“ধন্যবাদ ঈশ্বর।” উপরের দিকে তাকিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন আংকেল। “ওই পাপী লোকটাই ওকে মন্দ পথে টেনে নিয়ে গেছে।”
“আমার বাবা পাপী নন।” জোরগলায় প্রতিবাদ জানাল ম্যানফ্রেড।
“বরঞ্চ উনার সাথেই প্রতারণা করা হয়েছে।”
“একদম চুপ।” ঝট করে উঠে দাঁড়ালেন ট্রম্প বিয়ারম্যান, “তুমি যা বলছো তা ঈশ্বরের চোখে জঘন্য অপরাধ। এক্ষুণি এর প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে।”
ম্যানফ্রেডকে টানতে টানতে নিয়ে গিয়ে কালো একটা কামারের নেহাইয়ের সামনে ঠেলে দিলেন। তারপর বললেন, “চুরি করা যাবে না। ঈশ্বর এটা হাজারোবার বলেছেন।” নেহাইয়ের ওপর একটা হিরে রেখে বললেন, “এই পাথরগুলো হল সেই পাপাত্ম ফল।” পাশের ব্ল্যাক থেকে চার পাউন্ডের স্নেজহ্যামার টেনে নামিয়ে ম্যানফ্রেডের হাতে ধরিয়ে দিলেন আংকেল,
“এগুলোকে এক্ষুণি ধ্বংস করে ফেলতে হবে।”
“ক্ষমা চেয়ে নাও। ঈশ্বরের দয়ার জন্য প্রার্থনা করো, তারপর ভেঙে ফেলো সব পাথর।”
হাতে হাতুড়ি নিয়ে হিরের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ম্যানফ্রেড।
“ভাঙো; ঈশ্বরের নামে ভেঙে ফেলো সবগুলো। যেন তোমার পাপের বোঝা লাঘব হয়।”
আস্তে আস্তে হাতুড়িটাকে উপরে তুলেও থেমে গেল ম্যানি। চোখ ঘোরাতেই দেখতে পেল আংকেলের রক্তচক্ষু।
“তাড়াতাড়ি ভাঙো। এক্ষুণি।” ঠিক কাঠ কাটার সময় যেমন করে মাথার উপর ঘুরিয়ে আঘাত করে তেমনিভাবে হীরের ওপর হাতুড়ি নামিয়ে আনল ম্যানফ্রেড। চিনির চেয়েও উঁড়ো গঁড়ো হয়ে পাউডার হিসেবে ছড়িয়ে পড়ল হিরে। কিন্তু দ্যুতি এতটুকু কমেনি। মোমবাতির আলোতে যেন মেঝেতে আগুন ধরে গেল। এভাবে একের পর এক পাথর এনে নেহাইয়ের ওপর রেখে দিলেন আংকেল।
মাঝরাতেরও পরে সমস্ত হিরে গুড়ো করে মেঝেতে সাদা ধুলার ওপর হাঁটু গেড়ে বসে প্রার্থনা করল ম্যানফ্রেড আর ট্রম্প বিয়ারম্যান।
“ও ঈশ্বর, তোমার এই তরুণ ভূত্যকে তার অজ্ঞতা ও নির্বুদ্ধিতার জন্য ক্ষমা করে দাও।”
তারপর উঠে দাঁড়িয়ে ম্যানফ্রেডকেও তুলে দাঁড় করালেন আংকেল। বললেন, “এখন বিছানায় যাও। আপাতত তোমার আত্মার মুক্তির জন্য যা যা সম্ভব করা হয়েছে।”
পোশাক খুলে কম্বলের নিচে শুয়ে পড়ল ম্যানফ্রেড। কী মনে করে যেন আংকেল আবার জানতে চাইলেন, “যদি তোমাকে যেতে বারণ করি তারপরেও কি তুমি কাল সকালে উইন্ডহক যাবে?”
“আমার বাবা!” ফিসফিস করে উঠল ম্যানি।
“আমার কথা মান্য করবে না?”
“জানি না আংকেল। আমার পা–”
“তুমি এরই মাঝে অনেক অনুতাপ করার মত কর্ম করে ফেলেছে। তাই অবাধ্যতায় আর কিছু যাবে-আসবে না। তাছাড়া তোমার বিবেক তোমাকে যেখানে নিয়ে যায় সেখানে যেতে তোমাকে কোনো বাধাও দিবো না। তবে তোমার নিজের আর আমার খাতিরে একটা কথা শোনো, উইন্ডহকে গিয়ে বিয়ারম্যান পদবী ব্যবহার করবে। ডি লা রে নয়। ঠিক আছে?”
***
“আজই রায়। যদিও আমি কখনো আগে থেকেই কোনো কেস সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করি না তারপরেও বলছি যে এই লোকের অবশ্যই ফাঁসি হবে। এই ব্যাপারে আর কোনো সন্দেহ নেই।” সেনটেইন কোর্টনির মুখোমুখি বসে ঘোষণা করলেন আব্রাহাম।
“আপনি এতটা নিশ্চিত হলেন কীভাবে অ্যাবি?” ফ্রেঞ্চ জানালার কাছে দাঁড়িয়ে থাকা স্বল্পবসনা সেনটেইন কোর্টনির কোমর আর নিতম্বের প্রশংসা না করে পারলেন না অ্যাবি। আনমনে তাই চুরুটে জোর টান দিয়ে বললেন,
“প্রথমত লোকটার অপরাধের মাত্রা। পরিকল্পনা করে জঘন্য মনোভাবের সাথে তা বাস্তবায়ন করা। সামরিক স্থাপনাতে হামলা, ডাকাতি। পুলিশের ওপর গুলি আর গ্রেনেড ছোঁড়াসহ আরো বহু কিছু।”
দীর্ঘশ্বাস ফেললেন সেনটেইন। বাইরে বেশ শান্ত আর স্থির থাকলেও মনের গহীনে তিনি নিজেও অপরাধবোধে ভুগছেন। কেননা লোথারকে এই জঘন্য অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়ার জন্য পরিস্থিতি তিনিই সৃষ্টি করেছিলেন।
“দ্বিতীয়ত” চুরুট সরিয়ে রাখলেন অ্যাবি, “লোকটার রেকর্ড। যুদ্ধের সময় বিশ্বাসঘাতকতা আর বিদ্রোহের কারণে পুলিশ তার মাথার দামও ঘোষণা করেছিল।”
“কিন্তু যুদ্ধকালীন অপরাধের জন্য তো তাকে প্রধানমন্ত্রী আর আইন মন্ত্রণালয় থেকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে।”
“তারপরেও এসব অপরাধ তার বিরুদ্ধেই সাক্ষ্য দিবে।” সবজান্তার মত মাথা নাড়লেন অ্যাবি, “ক্ষমা পেয়েছিল বলেই আইনের অবজ্ঞা করায় বিচারকেরা এখন আরো বেশি ক্ষুব্ধ হবেন।”
হাতের চুরুটটার ছাই পর্যবেক্ষণ করে অ্যাবি জানালেন, “তৃতীয়ত লোকটার মাঝে অনুতাপের লেশমাত্র নেই। লুটের মাল কোথায় রেখেছে সেটা নিয়ে কিছুতেই মুখ খোলেনি।”
হিরের কথা শুনেই সেনটেইনের মুখ কালো হয়ে যাওয়ায় অ্যাবি তাড়াতাড়ি বলে দিলেন বাকি পয়েন্ট “চতুর্থত, অপরাধের সবচেয়ে আবেগ উদ্রেককারী অংশটা হল সমাজের একজন গণমান্য নারীর ওপর হামলা।” আচমকা হো হো করে হেসে ফেললেন অ্যাবি, “যে নারী এমনই অসহায় যে নিজেকে বাঁচাতে নিরূপায় হয়ে লোকটার হাত কামড়ে দিয়েছে। এক্ষেত্রে আপনার সাহসও তার বিরুদ্ধেই যাবে।”
