“চলো তোমাকে একটা জিনিস দেখাই।” শেডের পেছনকার দেয়ালের সাথে লাগোয়া কাবার্ডের ঢাকনা খুলে চামড়া আর রাবারের তৈরি একটা জিনিস বের করে ম্যানফ্রেডের হাতে দিলেন আংকেল।
“এটা কী আংকেল ট্রম্প?”
“তোমার জন্য কেপটাউন থেকে অর্ডার দিয়ে আনিয়েছি। চলো দেখাচ্ছি।”
তারপর খুলে ম্যানফ্রেডকে দেখালেন। দাড়ির ফাঁক দিয়ে দেখা যাচ্ছে আংকেলের হাসি।
“কেমন হয়েছে?”
“এত সুন্দর উপহার এর আগে কেউ আর দেয়নি আমাকে। কিন্তু এটা কী?”
“তুমি নিজেকে বার বলে দাবি করো অথচ স্পিড ব্যাগ চেন না?
“স্পিড ব্যাগ। এটা তো অনেক দামি!”
“হুম। কিন্তু তোমার আন্টিকে বলতে যেও না আবার।”
“এটা দিয়ে আমরা কী করব?”
“দেখ তবে!” বলেই ফ্রেমের সাথে আটকানো ব্যাগটাতে একের পর এক ঘুষি চালালেন আংকেল। দুহাত একসাথে চালানোর ফলে খানিক পরেই হাঁপিয়ে উঠলেন।
“স্পিড বুঝলে, ঠিক মাম্বার মতই।”
আংকেল ট্ৰম্পের মহানুভবতা আর আগ্রহ দেখে যা বলতে চেয়েছিল তা বলতে গিয়ে শরমে মরে গেল যেন ম্যানফ্রেড। অথচ না বলে উপায়ও নেই। তাই বহুকষ্টে নিজের সমস্ত সাহস জড়ো করে কোনোমতে বলে ফেলল, “কিন্তু আমাকে তো যেতে হবে আংকেল।”
অবাক হয়ে চোখে একগাদা অবিশ্বাস নিয়ে ওর দিকে তাকালেন আংকেল, “চলে যেতে হবে? তুমি আমার বাসা ছেড়ে চলে যাবে?” গলার কাছে পেঁচানো তোয়ালে দিয়ে মুখের ঘাম মুছে নিলেন, “কেন?”
“আমার পা। তিনদিনের ভেতরেই পা’র বিচার শুরু হবে। তাই আমাকে ওখানে যেতেই হবে আংকেল। তবে কথা দিচ্ছি, আমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আবার ফিরে আসব।”
মুখ ঘুরিয়ে দৌড়াতে লাগলেন আংকেল ট্রম্প। সাথে সাথে এল ম্যানফ্রেড। ঘোড়র কাছে না পৌঁছানো পর্যন্ত আর কেউ কোনো কথা বলল না।
তারপর ঘোড়ার গাড়িতে বসে লাগাম টেনে সামনের হুইলের পাশে দাঁড়ানো ম্যানফ্রেডের দিকে তাকিয়ে বললেন, “আমার নিজের যদি এরকম বিশ্বস্ত একটা ছেলে থাকত তবে বেশ হত।” দুলকি চালে ঘোড়া ছুটিয়ে চলে এলেন আংকেল।
পরের দিন সন্ধ্যায় ডিনার শেষ করে নিজের বিছানায় শুয়ে শুয়ে গ্যেটে পড়ছে ম্যানফ্রেড। এতটাই তন্ময় হয়ে ছিল যে কখন আংকেল ট্রম্প এসে পাশে দাঁড়িয়েছেন সেটাও টের পায়নি। ম্যানফ্রেডের হাত থেকে বই নিয়ে রেখে দিলেন আংকেল, বললেন, “চোখ খারাপ হয়ে যাবে তো৷” ট্রুডি আন্টির ভয়ে বহু ঝামেলা করে মোমবাতির আলোকে ঢেকে এতক্ষণ পড়েছে।
তাড়াতাড়ি উঠে বসল ম্যানফ্রেড। আংকেলও পাশে এসে বসলেন। খানিক বাদে ম্যানফ্রেডের দিকে না তাকিয়েই বললেন, “আগামীকাল নিজের ফোর্ড নিয়ে টটেনবাক্ উইন্ডহকে যাচ্ছে। সাথে একশ’ টাকি থাকলেও তোমার জায়গা হয়ে যাবে। ট্রেনের চেয়ে সস্তা হবে বুঝলে।”
“ধন্যবাদ, আংকেল ট্রম্প।”
“শহরে বুড়ি এক বিধবা আছে, রাধেও ভালো। তুমি ওর কাছেই থাকবে। আমি চিঠি লিখে দিয়ে দিব।” কোটের পকেট থেকে একটা কাগজ বের করে ম্যানির কোলে রেখে দিলেন।
ধন্যবাদ আংকেল।” এছাড়া আর কী বলা যায় ভেবে পেল না ম্যানফ্রেড। মন চাইল আংকেলের গলায় হাত ধরে খসখসে দাড়িতে মুখ ঘষে; কিন্তু কিছু না করে চুপ চাপ বসে রইল।
“অন্যান্য আরো খরচ আছে। জানি না এখানে কীভাবে ফিরবে। যাই হোক— আবার কোটের পকেটে হাত ঢুকিয়ে কী যেন একটা বের করে ম্যানফ্রেডের খোলা হাতের তালুতে রেখে দিলেন আংকেল।
চকচকে দুটো কয়েন দেখে মাথা নাড়ল ম্যানি
“আংকেল”।
“কিছু বলল না। বিশেষ করে তোমার আন্টিকে তো নয়ই।” এই বলে আংকেল উঠে দাঁড়ালেন আর এমন সময় তার শার্টের হাত ধরে ফেলল ম্যানফ্রেন্ড।
“আংকেল আমি আপনাকে এসব কিছুই পরিশোধ করে দিবো।”
“জানি তুমি পারবে। আনন্দ আর গর্বের মাধ্যমে হাজার গুন ফিরিয়ে দেবে কোনো একদিন।”
“না, না, অন্য কোনো দিন নয়। এক্ষুণি।”
বিছানা থেকে তড়াক করে লাফ দিয়ে নেমে চারটা ইটের উপর দাঁড়ানো নিজের প্যাকিং কেসের ওয়ার্ডরোবের কাছে গেল ম্যানি। তারপর বাক্সের নিচে হাত ঢুকিয়ে হলুদ একটা ব্যাগ বের করে আবার আংকেলের কাছে ফিরে এল।
“এইবার, আপনার হাত বাড়িয়ে দিন, আংকেল।”
“যেন মজা পাচ্ছেন এমন ভঙ্গি করে বিশাল হাতের থাবা বাড়িয়ে ধরে হাসলেন আংকেল। “এখানে কী আছে?” কিন্তু সাথে সাথে হাসি বন্ধ কর যেন নিজের আসনে জমে গেছেন এমনভাবে তাকিয়ে রইলেন ম্যানফ্রেডের দেয়া পাথরগুলোর দিকে।
“হিরে আংকেল ট্রম্প,” ফিসফিস করে উঠল ম্যানফ্রেড, “আপনাকে ধনী বানিয়ে দেয়ার জন্যে যথেষ্ট। যা চান সব কিনতে পারবেন।”
“তুমি এগুলো কোথায় পেয়েছ?” ঠাণ্ডা স্বরে জানতে চাইলেন আংকেল,
“তোমার কাছে কীভাবে এল?”
“আমার বাবা। উনিই আমার জ্যাকেটের সেলাইয়ের মধ্যে ভরে দিয়েছেন। বলেছেন এগুলো দিলে আমার পড়াশোনা আর যা যা প্রয়োজন সব হয়ে যাবে।”
“তার মানে এই!” নরম হয়ে গেল আংকেলের গলা, “সংবাদপত্রে এ কয়দিন ধরে যা লিখছে সব সত্য। তোমার বাবা আসলেই ডাকাত। আর তুমিও তার সাথে ছিলে। তাই না? উত্তর দাও।” আচমকা চিৎকার করে উঠে বললেন, “ওর সাথে তুমিও ঠিক এই ভয়ংকর কাজটা করেছ?” ম্যানফ্রেডের শার্ট ধরে ঝাঁকুনি দিলেন আংকেল, “আমাকে বলো। সবকিছু খুলে বলল। সেই ইংরেজ নারীর উপর তোমার বাবা যখন আক্রমণ করে এসব চুরি করেছে তখন তুমিও ওর সাথে ছিলে?”
