“এর পরিবর্তে আমার কথা শোনো। আমি আর তোমার আন্টি দু’জনেই চাইছি যে তুমি কয়েকদিনের জন্য ডি লা রে পদবীটাকে ব্যবহার করো না। অন্তত তোমার বাবার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ারম্যান পদবীটা ব্যবহার করো। এমনিতেই সংবাদপত্রে বেশ কয়েকবার চলে এসেছে এ নাম। তাছাড়া আগামী মাসেই উইন্ডহকে আবার তোমার বাবার কেস আদালতে উঠবে।”
“আমার বাবার বিচার?” হাঁ করে তাকিয়ে রইল ম্যানফ্রেড। “কিন্তু বাবা তো মারা গেছে।”
“মারা গেছে? তোমার তাই ধারণা?” উঠে দাঁড়িয়ে ডেস্কের পিছন থেকে বের হয়ে ম্যানফ্রেডের কাছে এলেন বিয়ারম্যান, “আমাকে ক্ষমা করো বাছা। তোমাকে আরো আগেই বলা উচিত ছিল। তোমার বাবা মারা যায়নি। পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। আগামী মাসের বিশ তারিখে উইন্ডহকে সুপ্রিম কোর্টে তার বিচার হবে।”
কেঁপে উঠল ম্যানফ্রেড। ওর কাঁধে হাত দিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করলেন ট্রম্প বিয়ারম্যান, তারপর নরম স্বরে জানালেন, “এখন নিশ্চয় বুঝতে পারছ যে কেন তোমার নাম পরিবর্তনের কথা বলেছি?”
***
দ্রুতহাতে কাপড় ইস্ত্রি করা শেষ করে বাসা থেকে বের হয়ে এল সারাহ। এবার কাঠের স্তূপের ওপর হাঁটু মুড়ে বসে দেখতে লাগল ম্যানফ্রেডের কাজ।
শার্ট খুলে দ্বিতল হাতলের লম্বা কুঠার নিয়ে কাঠ কাটছে ম্যানফ্রেড। ঘামে ভিজে গেছে ছেলেটার উদোম পিঠ আর বুক।
হাতের তালুতে থুথু ছিটিয়ে খানিকটা পিছিয়ে এল ম্যানি। তারপর আদেশের সুরে বলে উঠল, “পাঁচের ঘরের নামতা….একই সাথে মাথার উপর কুঠারটাকে ঘুরিয়ে কাঠের গুঁড়ির ওপর দিল কোপ। “পাঁচ একে পচ।” কুঠারের তালে তালে বলা শুরু করল সারাহ্। “পাঁচ দু’গুণে দশ।” মাথা সমান লম্বা একফালি কাঠ কেটে নিল ম্যানি। এভাবে কাটতে কাটতে ঠিক যখন মেয়েটা পাঁচ দশে পঞ্চাশ” বলল ঠিক তখন পুরো কাঠটা দুটুকরো হয়ে গেল। পিছিয়ে এসে হাতলের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁত বের করে হেসে ফেলল ম্যানফ্রেড।
“ভেরি গুড, সারি, একটাও ভুল হয়নি।”
খুশিতে চকচক করে উঠল সারাহর চোখ; কিন্তু হঠাৎ তখনই ম্যানফ্রেডের কাঁধের উপর দিয়ে তাকিয়ে কী যেন দেখে আবার শক্ত করে ফেলল শরীর। তাড়াতাড়ি নিচে নেমে স্কার্ট তুলে ঘরের দিকে দৌড় দিল।
ঝট করে পিছু ফিরল ম্যানফ্রেড। শেড়ের নিচে থেকে এদিকেই তাকিয়ে আছেন আংকেল ট্রম্প। তারপর আস্তে আস্তে হেঁটে ম্যানফ্রেডের কাছে এসে দাঁড়ালেন। কী মনে করে আবার ওর চারদিকে একবার ঘুরে মনোযোগ দিয়ে পরীক্ষা করেছেন ম্যানফ্রেডের পা থেকে মাথা পর্যন্ত সবকিছু।
অস্বস্তিতে পড়ে গেল ম্যানি।
“তোমার বয়স কত বাছা?”
জানতে চাইলেন বিয়ারম্যান।
উত্তর শুনে মাথা নেড়ে বললেন, “আর তিন বছর হলেই প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে যাবে। লাইট হেভিওয়েটের জন্যে তুমি পুরোপুরি ঠিক আছে আর তারপর কোনো ঝামেলা না বাঁধলে হেভিওয়েট পর্যন্ত যেতে পারবে।”
উত্তেজনায় ম্যানফ্রেডের গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল। অথচ আংকেল ট্রম্প আর কিছু না বলে কাঠের স্কুপের দিকে এগিয়ে গেলেন। নিজের জ্যাকেট খুলে পরিপাটি করে ভাজ করে একপাশে সরিয়ে রাখলেন, তারপর টাই খুলে শার্টের হাতা গুটিয়ে এগিয়ে এলেন ম্যানির কাছে।
“তো তুমি বক্সার হতে চাও?” হাতের কুঠারটাকে কাঠের নিচে ঢুকিয়ে রেখে আংকেলের সামনে এসে দাঁড়াল ম্যানফ্রেড। ডান হাতের তালু বাড়িয়ে দিলেন আংকেল। বললেন, “হিট ইট!” হাত মুঠো করে ঘুরিয়ে মারল ম্যানি।
“তুমি কি সোজা সেলাই করছো নাকি আটা বানাচ্ছ? জোরে মারো। আরো জোরে। এই তো। গুড! এবার বামে! হুস! বামে! ডানে! আবার বামে!”
দু’হাত সামনে বাড়িয়ে হেলে-দুলে যেন নাচলেন আংকেল। ম্যানফ্রেড নিজেও এখন আগ্রহ নিয়ে ঘুষি চালাচ্ছে।
“অল রাইট।” অবশেষে হাত সরিয়ে নিলেন আংকেল।
“এবারে আমার মুখে মারো। একেবারে বোতামের ওপর। দেখা যাক পিঠে লাগাতে পারো কিনা।”
হাত নামিয়ে পিছিয়ে এল ম্যানফ্রেড।
“না, আংকেল আমি এটা পারব না।”
“কেন?”
“আপনাকে মারাটা উচিত হবে না।”
“আমরা তো এখন বক্সিং করছি।” চিৎকার করে উঠলেন আংকেল। “আমি তো আরো ভেবেছি তুমি লড়তে চাও। আমি ভেবেছি তুমি বুঝি পুরুষ হয়ে উঠতে চাও। এখন তো দেখি বাচ্চাদের মত ঘ্যানঘ্যান করছে। তারপর নাকি সুরে ম্যানফ্রেডকে নকল করে বললেন, “না আংকেল আপনাকে মারাটা উচিত হবে না।”
তারপর হঠাৎ করেই ডান হাত দিয়ে ম্যানফ্রেডের গালে এত জোরে ঘুষি মারলেন যে চামড়ায় দাগ পড়ে গেল।
“তুমি পুরুষ নও! কখনো ফাইটার হতেই পারবে না।”
পরের আঘাতটা এত জোরে এল যে ম্যানফ্রেড ঠিকভাবে ঠাহরই করতে পারল না। এত ব্যথা পেল যে চোখ ভরে গেল জলে।
“তোমার জন্য আসলে মেয়েদের স্কার্ট বানাতে হবে। তাই না?”
খুব সাবধানে ম্যানফ্রেডকে পরখ করে দেখছেন আংকেল। চাইছেন বিশৃঙ্খল মনোজগতের অধিকারী এই কিশোরকে স্থির করার জন্যে। আরেকটা আঘাত করে এবারে ম্যানফ্রেডের নিচের ঠোঁট কেটে দিলেন।
“কাম অন!” একের পর এক অপমান করে নিঃশব্দে চ্যালেঞ্জ করলেন ছেলেটাকে।
আর তারপরেই যা ঘটল দেখে ভরে গেল তার বুক। উল্লাসিত হয়ে দেখলেন যে বদলে গেল ম্যানফ্রেডের চোখের দৃষ্টি। আচমকা সেখানে ধপ করে জ্বলে উঠল হলুদ আলো। ঠিক যেমনটা শিকারকে আক্রমণের আগমুহূর্তে থাকে সিংহের চোখে। এগিয়ে এল ম্যানফ্রেড।
