কাজ সেরে অপেক্ষা করার সময় পরবর্তী করণীয় নিয়ে ভাবতে লাগলেন সেনটেইন।
কয়েকটা ব্যাপার পুরোপুরি পরিষ্কার। যেমন সোজা পথে লোথারকে ধরা যাবে না। তার মানে ঘোড়া চাই। ট্রাক নিয়ে কোনো কাজ হবে না। এসব এলাকাতে চষে বেড়ানোর ফলে লোথার এ অঞ্চল যতটা ভালোভাবে জানে কোনো শ্বেতাঙ্গ তা পারবে না। তবে হ্যাঁ বুশম্যান কিউয়ির কথা আলাদা।
চোখ বুজে উত্তরাঞ্চলের মানচিত্র কল্পনা করার চেষ্টা করলেন সেনটইন। বিশাল এই নিষিদ্ধ মরুভূমিকেই বলা হয় বুশম্যানল্যান্ড।
যেহেতু সাথে ঘোড়া আছে লোথার পানির কাছে অবশ্যই যাবে আর পনের বছর আগে তাকে দত্তক নেয়া দাদাজানের কাছে এরকম দুটো জায়গার কথা শুনলেও সে স্মৃতি অনেকটাই ভুলে গেছেন সেনটেইন।
হঠাত করেই টেলিগ্রাফের বিপ বিপ শব্দে ছিঁড়ে গেল চিন্তার সুতো। আগ্রহ নিয়ে পড়ে দেখলেন :
ম্যালকমস জানিয়েছেন গত মাসে ওকাহান্ডার মিলিটারি ক্যাম্প থেকে ছাব্বিশটা ঘোড়া চুরি গেছে। আর কি প্রয়োজন তাও জানতে চেয়েছেন ম্যালকমস।
“দেখেছ, আমার ধারণাই ঠিক। লোথার পুরো মরুভূমিতেই পোস্ট বসিয়েছে।” আপন মনে উত্তরাঞ্চলের মানচিত্র স্মরণ করে দূরত্ব মেপে আবার বার্তা পাঠালেন সেনটেইন।
“ডাকাতের দল সোজা ওকাভাঙ্গো নদীমুখে যাচ্ছে। বাড়তি ঘোড়াসহ মরুভূমির বিষয়ে দক্ষ এমন ভ্রাম্যমাণ বাহিনি পাঠিয়ে দিন। কালক্রান্ড মিশন স্টেশনে বুশম্যান নিয়ে আমিও যাচ্ছি।”
***
উইন্ডহকের বাহিনির আগে জোনসই সেনটেইনের কাছে পৌঁছে গেলেন। কোম্পানির ট্রাককে এগিয়ে আসতে দেখেই মাথার উপর দু’হাত তুলে ইশারা দিতে দিতে দৌড়ে গেলেন সেনটেইন।
লাফ দিয়ে নেমেই লম্বা লম্বা পায়ে দৌড়ে এলেন জোনস। সাথে সাথে সেনটেইনকে বুকের কাছে জড়িয়ে ধরে বললেন,
“থ্যাঙ্ক গড, আপনি সুস্থ আছেন।”
কিন্তু কী করছেন বুঝতে পেরেই তাড়াতাড়ি সেনটেইনকে ছেড়েও দিলেন। বোঝা গেল বেশ অস্বস্তিতে পড়ে গেলেন।
“কিউয়িকে পেয়েছেন?” জানতে চাইলেন সেনটেইন।
“ওই তো ট্রাকে আছে।”
দৌড় দিয়ে ট্রাকের কাছে গেলেন সেনটেইন। কিউয়ি আর তার ভাই মোটা কিউয়ি ভয়ে জড়োসডো হয়ে বসে আছে। তাদের জন্যে এ অভিজ্ঞতা পুরোপুরি নতুন।
সেনটেইনকে দেখেই তাই আনন্দে কিচির-মিচির করতে করতে নাম চাইল্ড” বলে এগিয়ে এল।
“ভয়ের কিছু নেই। আমি তোমাদের সাথেই আছি। আর এরা সকলেই ভালো লোক। ভেবে দেখ তো ফিরে গেলে পুরো কালাহারির মধ্যে তোমরা কত গল্প করবে। একেবারে বিখ্যাত হয়ে যাবে।” ছোট্ট শিশুর মত জড়িয়ে ধরে দুই ভাইকে আশ্বস্ত করলেন সেনটেইন।
“এখন আমরা কিছু দুষ্ট লোককে খুঁজে বের করব যারা আমার অনেক বড় ক্ষতি করেছে। তোমরা তাদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে আমাকে নিয়ে যাবে। তারপর তোমাদেরকে এত উপহার দেব যা কেবল এতদিন স্বপ্নেই দেখেছ। আর এরপর তোমাদের দুভাইয়ের গুনগান করবে সকলে, তাহলে এখন তাড়াতাড়ি চলো সেই শয়তানগুলোকে খুঁজে বের করি।”
জোনসের কাছে ফিরে এলেন সেনটেইন।
“ডি লা রে ইন্ডাস্ট্রিট্রিয়ালগুলো রেখে গেছে। আমি সেগুলোকে নদীর তীরে পুঁতে রেখেছি।” কিন্তু জোনসের সাথে বাকি দুজনকে দেখে তো তার চোখ বিস্ময়ে থ বনে গেল। গারহার্ড ফুরি আর ম্যাক্লিয়ার।
“আপনাকে সুস্থ দেখে আমরা সবাই সত্যি খুশি হয়েছি মিসেস কোর্টনি।” লাজুক গলায় জানাল ম্যাকক্লিয়ার। “যা করার দরকার আমরা সব করব। একসাথে”।
“ধন্যবাদ ম্যাক্লিয়ার, কারণ হিরে নেই মানে বেতনও নেই। এখন আমরা সবাই মিলে কালক্লান্ডে যাবো। ফুয়েল আছে তো ফুরি?
“সকালের ভেতরেই সেখানে পৌঁছে দেব, মিসেস কোর্টনি।” প্রমিজ করল ড্রাইভার।
ফুরি তাদেরকে যে পথ দিয়ে কালক্রান্ড নিয়ে এল তা তাদেরকে লোথারের প্রায় ৮০ মাইল কাছাকাছি নিয়ে এল। তবে এমনট হতে পারে যে সেনটেইনের অনুমান ভুল। যদিও এরকম সম্ভাবনার কথা তিনি মাথায়ও আনতে চাইছেন না।
“মনে হচ্ছে গত কয়েক ঘণ্টায় এখান দিয়ে আরো কয়েকটা ট্রাক গেছে। আপনার কী মনে হয় ম্যালকমদের পাঠানো পুলিশ বাহিনি? উইডস্ক্রিনের ফাঁক দিয়ে রাস্তায় তাকিয়ে জোনসের কাছে জানতে চাইলেন সেনটেইন।
“হলে তো ভালোই হত। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে সাপ্লাই কনভয়। হয়ত মিশন স্টেশনে ঘোড়া আর পুলিশের জন্য আমাদেরকেও অপেক্ষা করতে হবে।”
খানিক বাদেই সামনে দেখা গেল মিশন স্টেশনের ছাদ। তারপর আরো একটু সামনে এগোতেই উত্তেজনায় চিৎকার করে উঠলেন সেনটেইন, “লুক! গির্জার পাশেই ট্রাক” উইন্ডমিলের কাছে ঘোড়া। আরে দেখুন উর্দি পরা সৈন্য। কর্নেল ম্যালকমস তার প্রমিজ রেখেছেন।”
বালিরঙা পুলিশ ট্রাকের পাশেই থামল ফুরি। সাথে সাথে নেমে দৌড় দিলেন সেনটেইন। ছোট্ট চার্চের পাশের দালানের বারান্দায় বেরিয়ে এল লম্বা চওড়া এক দেহ। হালকা পায়ে সিঁড়ি দিয়ে নেমে এগিয়ে এল তার দিকে। অস্ফুট কণ্ঠে সেনটেইন জানালেন, “কর্নেল ম্যালকমস’ আমি আশা করিনি যে আপনি নিজে এখানে আসবেন।”
“আপনি সম্পূর্ণ সহযোগিতা চেয়েছেন মিসেস কোর্টনি হাত বাড়িয়ে দিলেন ম্যালকমস। পরস্পরের হাত বেয়ে সাথে সাথে যেন প্রবাহিত হল নীল বিদ্যুৎতরঙ্গ।
“আপনি নিশ্চয় মরুভূমিতে যাচ্ছেন না?” জানতে চাইলেন সেনটেইন।
“আমি না গেলে আপনিও যাচ্ছেন না কিন্তু।” হেসে ফেললেন ম্যালকমস, প্রধানমন্ত্রী জেনারেল হার্টজাগ আর বিরোধী নেতা জেনারেল মুট দু’জনেই আমাকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন যেন আপনাকে চোখের আড়াল না করি। “কিন্তু আমাকে তো যেতেই হবে। নয়ত বুশম্যান দু’জনকে কেউ সামলাতে পারবে না। আর ওরা ছাড়া ডাকাতেরা উধাও হয়ে গেলেও কিছু করার থাকবে না।”
