“আমি পনেরো মিনিটের মাঝেই তৈরি হয়ে যাচ্ছি।”
একটু পরেই অন্ধকার গ্যারাজে ডেইমলারের পাশে এসে দাঁড়ালেন দু’জনে।
“কাঁটাতারের মধ্যে চিহ্ন দিয়ে রেখেছি ইশারা দিয়ে দেখাতেই পঞ্চাশ গজ দূরে ছোট সাদা একটা পতাকা উড়তে দেখলেন সেনটেইন।
ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল হিরের বোতল গাড়ির বুটের ভেতরে আর টপ হিরের প্যাকেট আপনার পাশের সিটেই রেখে দিয়েছি।” ছোট্ট কালো সুটকেসটাতে পিতলের তালাও লাগানো আছে।
“গুড। নরম ড্রাইভিং দস্তানা পরে নিলেন সেনটেইন।
“দশ নাম্বার বার্ডশট লোড করে শটগানকেও প্রস্তুত করে দিয়েছি। কেউ থামাতে চাইলেই ফায়ার করবেন। ব্যাটা মরবে না, তবে ঝাঁকুনি খাবে।”
আস্তে করে হেসে হুইলের পেছনে উঠে যতটা সম্ভব নিঃশব্দে দরজা আটকে দিলেন সেনটেইন।
“এছাড়াও বুটের ভেতরে স্যান্ডউইচ আর কফির ফ্লাক্স আছে।”
সাইড উইন্ডো দিয়ে জোনসের দিকে তাকালেন সেনটেইন, “আপনি না থাকলে আমার যে কী হত।”
“প্লিজ সাবধানে থাকবেন। হিরে তো কিছু না। আমরা আরো মাটি খুঁড়ে বের করতে পারব। কিন্তু আপনি হলেন আপনিই। একক এবং একমাত্র।” নিজের কোমর থেকে সার্ভিস রিভলবারটা নিয়ে ড্রাইভার সিটের পেছনের পকেটে রেখে দিলেন জোনস। “আশা করছি হয়ত এটা ব্যবহারই করতে হবে না। গুড লাক!” পিছিয়ে দাঁড়িয়ে স্যালুট করলেন ডক্টর।
সেনটেইন স্টার্ট দিতেই মৃদু স্বরে নড়ে উঠল ডেইমলারের সাত লিটার ওজনের ইঞ্জিন। নিশানা করে ঘন্টায় চল্লিশ মাইল বেগে কাঁটাতারের ফাঁক গলে বেরিয়ে এলেন বাইরের মেইন রোডে। তীব্র বেগে গর্জন করে সামনে ছুটল ডেইমলার।
কিন্তু হঠাৎ করেই পেছনের মেইন গেইট থেকে কোনাকুনি দৌড় দিল কয়েকজন পিকেটার। হেড লাইটের আলোয় দেখা যাচ্ছে লোকগুলোর ক্রোধে উন্মত্ত মুখ। শটগান তুলে নিলেন সেনটেইন। এমন সময় ঠিক ডেইমলারের সমান্তরালে পৌঁছে গেল দু’জন পিকেটার।
তাদের পা বরাবর গুলি ছুড়লেন সেনটেইন। কানে তালা লাগানো শব্দের পাশাপাশি ঝলকে উঠল কমলা রঙের শিখা। চমকে উঠে পা দুটো চেপে বসে পড়ল বেচারা দুই খনি শ্রমিক। পাশ দিয়ে হুশ করে পার হয়ে গেল ডেইমলার।
***
“পেটি ফগার জুনো একা রাত তিনটায় মালামাল নিয়ে রওনা দিয়েছেন। এক্ষুণি তাই উনার এসকটের জন্য স্বশস্ত্র বাহিনি পাঠান।”
মোমবাতির কাঁপা কাঁপা আলোয় হাতের প্যাডের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে আছেন লোথার ডি লা রে।
একা” আপন মনেই ফিসফিস করে বললেন, “জুনো একা মাল নিয়ে আসছে। ওহ খোদা, একা এতগুলো হিরে নিয়ে আসছে। দ্রুতহাতে হিসাব করে দেখলেন তিনটায় রওনা দিয়েছে তার মানে দুপুরের পর এক ঘণ্টার মধ্যেই এখানে পৌঁছে যাবে।”
ডাগআউট থেকে বেরিয়ে নদীতীরে উঠে এলেন লোথার। চুরুট ধরিয়ে চোখ মেলে তাকালেন আকাশের দিকে। খানিক বাদেই চারপাশে ফুটে উঠল ময়ুররঙা ভোরের আলো।
খানিক বাদে ডাগআউট থেকে বেরিয়ে প্রাতঃকৃত্য সেরে এলেন হেনড্রিক। তারপর আগুনের ধারে এসেই দেখলেন লোথার চা বসিয়েছেন। আমাদেরকে পরিকল্পনা বদল করতে হবে।” চোখ পিটপিট করে তাকালেন হেনড্রিক। “কেন?”
“ও একাই হীরে নিয়ে আসছে। তার মানে এত সহজে কেড়ে নিতে দিবে না। আর আমি তাকে আহত করতে চাই না।”
“গোল্লায় যাও তুমি। আমি তো কিছুই বুঝতে_”
“তোমাকে এত কিছু বুঝতে হবে না।” খসখসে কণ্ঠে লোথার জানালেন, “আর এটাই একমাত্র কারণ নয়। একজন একাকী নারীর জন্যে একজন পুরুষই যথেষ্ট। ওতো তোমাকে চেনে। তাই তোমার যাওয়া ঠিক হবে না। তুমি ম্যানির সাথে থাকবে। কাজ শেষ হলেই যেন রওনা দিতে পারি সেভাবে প্রস্তুতি নিয়ে রাখবে।”
আসলে হেনড্রিককে তিনি যা জানালেন না তা হল, সেনটেইনের সাথে শেষবারের মত একাকী একবার দেখা করতে চান।
***
আচমকা রাস্তার উপর আলগা মাটি আর পাথর দেখে ধুলার মেঘ উড়িয়ে ব্রেক কষলেন সেনটেইন।
“ধুত্তরি।” এই রাস্তা পরিষ্কার করতে কিংবা আরেকটা পথ খুঁজে পেতে খালি খালি দেরি হবে ভাবতেই বাতাসে গালি ছুড়লেন। ডেইমলারকে খানিকটা পিছিয়ে এনে রেখে প্রথমবারের মত আতঙ্ক অনুভব করলেন সেনটেইন।
সামনে আর পিছনে দু’দিকেই ভেঙে পড়েছে রাস্তার কিনারা। উদ্বিগ্ন মুখে চারপাশে তাকাতেই প্রচণ্ড কাশিও পেল।
এরপর ধুলার মেঘ থামতেই দেখা গেল সামনের রোড। একপাশে একটু ব্লক করা হলেও চিকন একটা ফাঁকাও আছে। যদিও ডেইমলারের দেহ সেখান দিয়ে বেরোতে পারবে না। তবে গাড়িতে একটা কোদাল আছে। তাই এত্ত গরমে কয়েক ঘণ্টার পরিশ্রমের কথা ভাবতেই আবার মনে বিতৃষ্ণা এল। কিন্তু দরজার হাতলে হাত রেখেও অজানা এক আশঙ্কায় বুক কেঁপে উঠতেই ঝট করে চোখ ঘুরিয়ে পাশে তাকালেন সেনটেইন।
অনেক উপরের চূড়া থেকে তার দিকে তাকিয়ে আছে এক লোক। পরনের নীল শার্টে ঘামের দাগ। লম্বা-চওড়া মানুষটাকে দেখে সৈন্য কিংবা শিকারি বলেই মনে হচ্ছে। কিন্তু ভয়ংকর কথা হল কোমরের কাছের রাইফেলটা সোজা তার দিকেই তাক করা আর পরনের মুখোশটাও বেশ ভয়ের। লোকটা কী চায় তাও বেশ স্পষ্ট বুঝতে পারছেন।
আর তারপরেই মনে পড়ল যে শটগানটাও রি-লোড করতে ভুলে গেছেন।
এমন সময়ে কথা বলতে লাগল আগন্তুক, ইঞ্জিন বন্ধ করে বাইরে বের হও!”
গাড়ি থেকে বের হলেও মরিয়া হয়ে চারপাশে তাকালেন সেনটেইন। আতঙ্ক ভুলে গিয়ে কী করা যায় তাই ভাবছেন। এক মনে সামনের ফাঁকা জায়গাটা দেখে ঠিক করলেন, “অন্তত বেরুবার চেষ্টা তো করা যায়।” নিচু হয়ে আবার তাই গাড়িতে ঢুকে গেলেন।
