“এতে কোনো ছাতার কাজ হবে না, বুঝলেন।” মাঝারি উচ্চতার ম্যাক্লিয়ারের মুখে কথাটা শুনে চটে উঠলেন সেনটেইন।
“আমার সামনে এসব আজেবাজে কথা বললে এক্ষুণি বেরিয়ে যাও ম্যাক্লিয়ার।”
“আপনি আমাদের অধিকার ভালোভাবেই জানেন মিসেস কোর্টনি।” বিষণ ভঙ্গীতে হাসল ম্যাক্লিয়ার।
রজারের দিকে তাকালেন সেনটেইন, “তোমার স্ত্রী এখন কেমন আছে?” এক বছর আগে জোহানেসবার্গে নিয়ে পত্নীর অপারেশন করিয়েছেন রজার যার সবটুকু খরচ বহন করেছেন সেনটেইন।
“ভালো আছে।” নাজুক ভঙ্গিতে জানাল রজার।
“তোমার এই মূর্খামি সম্পর্কে তার কী ধারণা?” চোখ নামিয়ে পায়ের দিকে তাকাল রজার। সেনটেইন বললেন, “ছোট তিনজনের মুখ নিয়েই নিশ্চয় বেশি চিন্তিত হয়ে আছে, তাই না?”
“আমরা যা করছি সবাই একসাথেই করছি” তাড়াতাড়ি বলে উঠল ফুরি। নারীরাও
কিন্তু তাকে কথা শেষ করার সুযোগ দিলেন না সেনটেইন, “দয়া করে আমি কথা বলার সময় মাঝখানে কিছু বলবে না ফুরি।”
তবে এবার আর ফুরিকে দমাতে পারলেন না। তেড়েফুড়ে সক্রোধে গর্জন করে উঠল ড্রাইভার “আপনার এই বেহুদা খনি আর এর হিরে সব এখন আমাদের কজায়। তাই আপনিই আমাদের কথা শুনতে বাধ্য এখন। আমরা না চাইলে এক টুকরো হিরেও বাইরে যাবে না। স্ট্রংরুমে যে মোটাসোটা প্যাকেট রেখে দিয়েছেন সেটাও কখনো বাইরের আলো দেখবে না যদি না আমাদের কথা শোনেন।” সমানে ফড়ফড় করে কথা বললেও মনে মনে উভয় সংকটে পড়ে যাওয়া ফুরি আন্দাজ করে নিল সেনটইনের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে। তাহলে লোথারের হাত থেকে সে নিজেও বেঁচে যাবে।
মনোযোগ দিয়ে ফুরির চেহারা দেখলেন সেনটেইন। মনে হচ্ছে লোকটার পিছনে অন্য কেউ আছে। তাই বললেন, “ঠিক আছে। আমি শুনছি। বলো কী বলতে চাও।”
হাতের কাগজ মেলে একের পর এক দাবি পড়ে শোনাল ফুরি। চুপচাপ বসে রইলেন সেনটেইন। কিন্তু তার গলার কাছে তাজা রক্তের আভা দেখে জোনস ঠিকই বুঝতে পারলেন যে তিনি কতটা রেগে গেছেন।
শেষ করে একটা কপি সেনটেইনের দিকে বাড়িয়ে ধরল ফুরি।
“আমার ডেস্কে রেখে দাও। চাকরিচ্যুত সবাইকে তিন মাসের সমপরিমাণের চেয়েও বেশি টাকা আর গুড রেফারেন্স লেটার দেয়া হয়েছে। তুমি নিশ্চয় জানো।” কাগজটাকে স্পর্শও করতে চান না সেনটেইন।
“ওরা আমাদের বন্ধু।” এখনো নিজের জেদ ছাড়ছে না ফুরি।
“ঠিক আছে। এখন তোমরা যাও।” সেনটেইন উঠে দাঁড়াতেই অবরোধ কমিটি পরস্পরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করল।
“আপনি তো আমাদেরকে কোনো উত্তর জানালেন না?” জানতে চাইল ম্যাক্সিয়ার।
“যখন আমি প্রস্তুত হব তখন।”
তিনজনে দরজার দিকে হাঁটা ধরলেও কী মনে হতেই ঘুরে সেনটেইনের দিকে তীব্র দৃষ্টিতে তাকাল ম্যাক্সিয়ার।
“ওরা আমাদের পানি-গ্যাস কেটে দিয়েছে।”
“আমার আদেশে।” বিনা সংকোচে মেনে নিলেন সেনটেইন।
“আপনি জানেন আমরা চাইলে হিরেসহ আপনার সবকিছু নিয়ে নিতে পারি। আপনি থামাতেও পারবেন না।”
“তাহলে তো আমার চেয়ে বেশি খুশি আর কেউ হবে না। এসো। স্টোর ভেঙে সব নিয়ে নাও। ডিনামাইট দিয়ে স্ট্রংরুম উড়িয়ে সব হিরে নিয়ে যাও। আমার কিছু যায় আসে না তাতে।”
লোকেরা বেরিয়ে যেতেই জোনসের দিকে তাকালেন সেনটেইন, “ও ঠিকই বলেছে। সবার আগে হিরের কথা মাথায় রাখতে হবে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব উইন্ডহকে নিয়ে যেতে হবে।”
“তাহলে পুলিশ এসকর্ট দিয়ে পাঠিয়ে দিই।” জোনসের পরামর্শ শুনে মাথা নাড়লেন সেনটেইন।
না। পুলিশ আসতে এখনো পাঁচদিন বাকি। কাল ভোরের আগেই হিরেগুলো সরিয়ে ফেলতে হবে। ইসুরেন্সে দাঙ্গা-হাঙ্গামা কিংবা গৃহযুদ্ধের কাভার নেই। এইসব বেকুবদের হাতে হিরেগুলো পড়লে আমি শেষ হয়ে যাবো। জোনস।”
“বলুন আপনি কী করতে চান।”
“ডেইমলারকে গ্যারেজে নিয়ে চেক করে তেল ভরে নিন। পেছনের দরজা দিয়ে হিরে লোড করে দেব।” অফিসের গোপন দরজাটা দেখালেন ইঙ্গিতে “মাঝরাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে গ্যারাজের বিপরীত দিকের কাঁটা তার কেটে দিবেন।”
“গুড” বুঝতে পেরে খুশি হলেন জোনস।” তাহলে ম্যানিটারি লেইন দিয়ে বের হওয়া যাবে। পিকেটাররা মেইন গেইটে থাকায় কিছু টের পাবে না। সেকেন্ডের মাঝে উইন্ডহকের রোডে উঠে যাওয়া যাবে।”
“আমি একাই এতদূর চলে এসেছি। তাই একা একাই ফিরে যাবো। আপনাকে এখানে প্রয়োজন আছে। নয়ত ওরা অন্য কোনো দুরভিসন্ধি করে খনির ক্ষতি করবে।”
সিদ্ধান্তহীনতায় পড়ে গেলেন জোনস। এই খনি তার গর্ব, একই সাথে কন্যা কিংবা স্ত্রীর মতই সেনটেইনকেও একইরকম ভালোবাসেন। অবশেষে দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবলেন, এটাই ঠিক হবে।
“ঠিক আছে। আমি অ্যাবিকেও টেলিগ্রাফ পাঠিয়ে দেব যেন এসকর্ট টিম পাঠিয়ে দেয় আপনার জন্যে।”
“আমি বের না হওয়া পর্যন্ত জানাবেন না। হয়ত লাইনে পিকেটাররা আঁড়ি পেতে রেখেছে। এ কারণেই টেলিগ্রাফ লাইন এখনো সচল আছে।”
মাথা নাড়লেন জোনস।
“ঠিক আছে। কখন রওনা দিতে চান?”
“রাত তিনটায়।”
“ভেরি ওয়েল, মিসেস কোর্টনি। আমি বাবুর্চিকে বলে আপনার জন্যে হালকা ডিনার রেডি করাচ্ছি। আর আপনিও একটু রেস্ট নিয়ে নিন। সবকিছু প্রস্তুত করে আড়াইটায় আপনাকে ডেকে দেব।”
***
কাঁধে জোনাসের স্পর্শ পাবার সাথে সাথে উঠে বসলেন সেনটেইন।
“আড়াইটা বাজে। ডেইমলার রেডি আর হিরেও লোড় হয়ে গেছে। কাঁটাতারও কেটে রেখেছি।”
