“সেনটেইন তাড়াহুড়া করে কিছু করা যাবে না। যদি
“অ্যাবি, এক্ষুণি ডেইমলার রেডি করে জোনসকে টেলিগ্রাফ করে জানিয়ে দিন যেন আমি না আসা পর্যন্ত কিছু না করে। কোনো সমঝোতা না, কিছু না।”
“আপনি না কাল সকালে চলে যাবেন?”
“না।” ফোঁস করে উঠলেন সেনটেইন, “আমি আধঘণ্টার মধ্যেই রওনা দিচ্ছি। অতিথিরা চলে যাক আর যত তাড়াতাড়ি পারেন ডেইমলার রেডি করুন।”
“রাত একটা বাজে সেনটেইনের চেহারা দেখে বাকিটা আর বলার সাহস পেলেন না অ্যাবি।
কোনোমতে নিজেকে ঠাণ্ডা করে স্যালুনে ফিরে এলেন সেনটেইন।
“কোনো সমস্যা হয়েছে মিসেস কোর্টনি?” উঠে দাঁড়ালেন ব্লেইন, “আমি কি কোনো সাহায্য করতে পারি?”
“আরে না, না সব ঠিক আছে। শুধু খনিতে একটু সমস্যা দেখা দিয়েছে তাই আমাকে এক্ষুণি যেতে হবে।”
“আজ রাতেই?”
“হ্যাঁ, এক্ষুণি-_”
“একা একা যাবেন আপনি?” ব্লেইনের মুখে চিন্তার রেখা দেখে উফুল্ল হয়ে উঠলেন সেনটেইন। “রাস্তা তো বেশ দূর।”
“আমি আসলে একা ট্রাভেল করতেই বেশি পছন্দ করি।” পরের বাক্যটা বেশ জোর দিয়ে বললেন, “কিংবা বলা যায় সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটু বেশিই খুঁতখুঁতে। আমার কয়েকজন কর্মী অববোধ ডাকাতেই যাবার তাড়া। হয়ত সংঘর্ষের মুখেও পড়তে হতে পারে।”
তাড়াতাড়ি আশ্বাসের সুরে ব্লেইন বলে উঠলেন, সরকারের তরফ থেকে আমি নিজে আপনাকে সবরকম সহায়তার নিশ্চয়তা দিচ্ছি। চান তো পুলিশও পাঠিয়ে দিতে পারি।”
“ধন্যবাদ, আপনাকে ডাকা যাবে জেনেই বেশ স্বস্তি পেলাম।”
“কাল সকালের আমার প্রথম কাজই হবে এটা। কিন্তু কয়েক দিন হয়ত লেগে যেতে পারে।” আবারো দু’জনে নিচু গলায় কথা বলে এমন আচরণ করছেন যেন চারপাশে আর কেউ নেই।
“ডার্লিং মিসেস কোর্টনি উনার ভ্রমণের জন্য তৈরি হবেন নিশ্চয়ই।” স্ত্রীর কথা শুনে ব্লেইন এমনভাবে চমকে উঠলেন যেন ইসাবেলার অস্তিত্বের কথা ভুলেই গিয়েছিলেন।
“হ্যাঁ, হ্যাঁ সেটাই। আমাদের এক্ষুণি চলে যাওয়া উচিত।”
ইসাবেলার হুইল চেয়ারের পাশে হেঁটে হেঁটে রেলওয়ের প্লাটফর্ম পর্যন্ত গেলেন সেনটেইন।
অপেক্ষারত শেভ্রলেতে সাবধানে ইসাবেলাকে তুলে দিয়ে দরজা আটকে সেনটেইনের দিকে তাকালেন ব্লেইন।
“ও অসাধারণ, সাহসী এক নারী। আমি ওকে ভালোবাসি তাই কখনো একা ছাড়তে পারব না; কিন্তু মনে হচ্ছে–” চুপ করে সেনটেইনের হাত ধরলেন ব্লেইন।
“হ্যাঁ, আমিও যদি নরম স্বরে জানালেন সেনটেইন। তারপর ব্লেইনের হাত ছেড়ে দিয়ে ঝুঁকে জানালার ওপাশে ইসাবেলার দিকে তাকিয়ে বললেন, “কেপ টাউনে এলে অবশ্যই ওয়েল্টেভ্রেদেনে আসবেন?”
এতক্ষণে খসে পড়ল ইসাবেলার শান্ত সুন্দর মুখশ্রীর মুখোশ। প্রচণ্ড ঘৃণা নিয়ে বললেন,
“ও আমার। তুমি কখনোই ওকে ছিনিয়ে নিতে পারবে না। নিজের সিটে হেলান দিয়ে বললেন ইসাবেলা। ব্লেইনও ঢুকে পড়ে পত্নীর হাত ধরলেন। বোঝা গেল একটু আগের কথাটা শুনতে পাননি।
চলে গেল শেভ্রলে। স্ট্রিটলাইটের আলোয় একদৃষ্টে সেদিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন সেনটেইন।
***
লোথার ডি লা রে কানের পাশে ইয়ারফোন নিয়েই ঘুমিয়েছেন। তাই বিপবিপ আওয়াজ শুনে ধড়মড় করে উঠে বসে বললেন, “হেনি, তাড়াতাড়ি মোমবাতি জ্বালাও, এত রাতে টেলিগ্রাফে যোগাযোগ করছে, নিশ্চয়ই জরুরি কিছু।”
নোটবুক হাতে নিয়ে টুয়েন্টিম্যান জোনসের মেসেজ অনুবাদ করে তো হতভম্ব হয়ে গেলেন লোথার।
“গারহার্ড ফুরি। গাধার বাচ্চাটা কোন আক্কেলে এরকম একটা কাজ করতে গেল।” তাড়াতাড়ি ডাগ আউট থেকে বের হয়ে শুকনো নদীবক্ষের উপর পায়চারি শুরু করলেন লোথার।
“অবরোধ, এখন কেন অবরোধ ডাকতে গেল? শিপমেন্ট বাতিল হয়ে গেছে মানে ডায়মন্ড অবরোধকারীরা হিরে-খনি থেকে বের হতে দিচ্ছে না।” হঠাৎ করেই থেমে গিয়ে নিজের হাত মুঠি করে বাতাসে ঘুষি ছুড়লেন, “তার মানে বেকুবটা আমাদের সাথে সহযোগিতা করতে চাইছে না। এখন কী হবে? আমার সব প্ল্যান ভেস্তে গেল।”
অন্ধ রাগে কেঁপে উঠল লোথারের সর্বাঙ্গ।
“আমার সমস্ত পরিশ্রম আর ঝুঁকি বৃথা গেল। ঘোড়াগুলোকে এত কষ্ট করে চুরি করলাম; সব পণ্ড হল এই পেট মোটা হলুদ শয়তানটার জন্য”
মনে হচ্ছে ফুরি এখন চোখের সামনে থাকলে নির্দ্বিধায় খুন করে ফেলতেন লোথার।
“বাস!” দৌড়ে এসে হাঁপাতে লাগলেন হেনড্রিক, “তাড়াতাড়ি এসো! টেলিগ্রাফ!”
দু’লাফ মেরে ডাগআউটে ফিরে এসে হেডসেট তুলে নিলেন লোথার। উইন্ডহকের কোর্টনি অপারেটর খনিতে মেসেজ পাঠাচ্ছে—
“আমি এক্ষুণি আসছি তার আগে কোন ওয়াদা কিংবা সমঝোতা নয়। কোম্পানি স্টোর এক্ষুনি বন্ধ করে দিন। অবরোধকারী ও তাদের কাছে সমস্ত খাবার-দাবার বিক্রি বন্ধ। তাদের চালাঘরের পানি আর বিদ্যুৎ সরবরাহও বন্ধ করে দিন। অবরোধ কমিটিকে আরো জানিয়ে দিন যে পুলিশ ফোর্সও রওনা দিয়েছে।”
ফুরির উপর সমস্ত রাগ আচমকা ভুলে গিয়ে আনন্দে হেসে ফেললেন লোথার।
“ফুরি আর তার চ্যালাদের কোনো ধারণাই নেই যে, তাদের উপর কোন ঝড় নেমে আসছে। ওহ ঈশ্বর। সেনটেইন কোর্টনির পথে পড়ার চেয়ে ছোট একটা লাঠি নিয়ে কালো মাম্বার সাথে লড়াই করাটাও আরো বেশি সহজ।”
কী যেন ভাবলেন লোথার। তারপর হেনড্রিক আর ম্যানফ্রেডকে তাড়াতাড়ি জানালেন, “আমার মনে হচ্ছে অবরোধ থাক বা না থাক, হিরে খনি থেকে বেরিয়ে উইন্ডহকে যাবেই যাবে। তবে ফুরি বোধ হয় আসছে না। তাই প্যাকেজটা আমাদের হাতে লক্ষ্মীর মতন তুলে দেয়ারও কেউ নেই। যাই হোক, হিরে আসছে মানে আমাদের কার্যও ঠিকই সিদ্ধি হবে।”
