“মিসেস কোর্টনি ইনি হলেন আমার স্ত্রী ইসাবেলা।”
“আপনি বেশ চমৎকারভাবে ডান্স করেছেন মিসেস কোর্টনি। আপনাকে আর ব্লেইনকে দেখে আমি বেশ মজা পেয়েছি।”
“ধন্যবাদ মিসেস ম্যালকমস” ভেতরে ভেতরে প্রচণ্ড রেগে উঠলেও কোনোমতে ফিসফিস করলেন সেনটেইন।
হুইল চেয়ারে বসে আছেন ইসাবেলা ম্যালকমস। পেছনে নার্সও দাঁড়িয়ে আছে। ইভনিং ড্রেসের নিচে দিয়েও দেখা যাচ্ছে প্যারালাইজড হয়ে যাওয়া পায়ের গোড়ালি।
“ও তোমাকে কখনো ছাড়বে না” নিজের দুঃখে যেন কেঁদেই ফেলবেন সেনটেইন; আপন মনে বললেন, “ও কখনো পক্ষাঘাশ্রস্ত পত্নীকে ছেড়ে যাবে না।”
***
সূর্য ওঠারও একঘণ্টা আগে ঘুম ভেঙে জেগে উঠলেন সেনটেইন আর সাথে সাথে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ল এক ধরনের ভালো লাগার আবেশ। চাদর ছুঁড়ে ফেলে নগ্নপায়ে মেঝের ওপর নামতেই চোখ গেল মাইকেল কোর্টনির ফ্রেমে বাঁধানো ছবির দিকে।
“অ্যায়াম সরি, মাইকেল।” ফিসফিস করে জানালেন, “আমাকে ক্ষমা করো ডার্লিং, অনেক দিন ধরেই আমি একা। এখন ওকে চাই মাইকেল, ওকে বিয়ে করে নিজের করে পেতে চাই।” তারপর ছবিটাকে হাতে নিয়ে খানিক পেটের কাছে চেপে ধরলেও পরে আস্তে করে ড্রয়ারে রেখে দিলেন সেনটেইন।
কোনোমতে গায়ে চায়নিজ সিল্কের ড্রেসিং গাউন জড়িয়েই কোচের ডেস্কে বসে স্যার গ্যারির কাছে ব্লেইন ম্যালকমসের সমস্ত তথ্য জানতে চেয়ে টেলিগ্রাফ পাঠালেন।
এরপর সেক্রেটারিকে ফোন করে আনিয়ে মেসেজটা ধরিয়ে দিয়েই বললেন, “আব্রাহামকে ফোন দাও।”
“সেনটেইন এখন মাত্র সকাল ছয়টা বাজে। আর গতরাতে তিনটার আগে বিছানাতেই যেতে পারিনি।” ঝাঁকিয়ে উঠলেন অ্যাবি।
“তিন ঘণ্টার ঘুমই এক দক্ষ লইয়ারের জন্য যথেষ্ট। অ্যাবি, আমি চাই আজ সন্ধ্যায় আমার সাথে ডিনারের জন্য কর্নেল ম্যালকমস আর তার পত্নীকে নিমন্ত্রণ করবেন।”
দীর্ঘ কয়েক মুহূর্তের জন্য একেবারে চুপ করে রইলেন আব্রাহাম।
“আপনি আর র্যাচেলও আসবেন। তড়িঘড়ি করে বলে উঠলেন সেনটেইন।
“এতটা শর্ট নোটিশে উনার মত ব্যস্ত মানুষ আসতে পারবেন না।” খুব সাবধানে প্রতিটি শব্দ বাছাই করলেন অ্যাবি।
“উনাকে ব্যক্তিগতভাবে দাওয়াত পাঠিয়ে দিন। কোনোভাবেই যেন প্রথমে ওয়াইফের কাছে না যায় আপনার বার্তাবাহক।” অ্যাবির কথায় পাত্তাই দিলেন না সেনটেইন।
“উনি আসতে পারবেন না।” তবুও জেদ করলেন অ্যাবি। “অন্তত আমি ঈশ্বরের কাছে সে প্রার্থনাই করব।”
“মানে? কী বলতে চান?” সাপের মত ফোঁস করে উঠলেন সেনটেইন।
“আপনি আগুন নিয়ে খেলছেন। মোমবাতির শিখা নয়। একেবারে দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা বুশ ফায়ারের আগুন।”
নিজের দু’ঠোঁট কামড়ে ধরে সেনটেইন জানালেন, “নিজের চরকায় তেল দাও, আমি আমারটা বুঝব।”
খিলখিল করে হেসে উঠলেন সেনটেইন। অবাক হয়ে গেলেন আব্রাহাম। আগে কখনো সেনটেইনকে এভাবে হাসতে শোনেননি।
এবার সত্যিই বেশ উম্মা প্রকাশ পেল আব্রাহামের গলায়,
“সেনটেইন আমি যেন আপনার ব্যাপারে মাথা ঘামাই সে কারণে প্রতি মাসে আপনিই আমাকে পারিশ্রমিক দিচ্ছেন। এমনিতেই আপনার গত রাতের আচরণ নিয়ে সকাল হলেই কথা বলতে শুরু করবে পুরো শহর। সবাই আপনাকে দেখেছে।”
“অ্যাবি, আপনি আমি দু’জনেই জানি যে যা ইচ্ছে করার ক্ষমতা আমার আছে। তাই না? আপনি শুধু নিমন্ত্রণপত্র পাঠিয়ে দিন, প্লিজ!”
দুপুরবেলা বেশ খানিকক্ষণ বিশ্রাম নিলেন সেনটেইন। সেক্রেটারি চারটার পরে ঘুম থেকে তুলে জানাল তার নিমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন কর্নেল ও তাঁর ওয়াইফ, শুনে বিজয়ীর ভঙ্গিতে হাসলেন সেনটেইন। তারপর বললেন স্যার গ্যারির পাঠানো উত্তর পড়তে।
লোকটার বয়স হিসাব করেও খুশি হয়ে উঠলেন। সিংহ জাতক হিসেবে কর্নেলের বয়স এখন মাত্র ঊনচল্লিশ। আগ্রহ নিয়ে পড়তে লাগলেন সেনটেইন অক্সনের গ্র্যাজুয়েট কর্নেলের দুই কন্যার নাম তারা ইসাবেলা ও মাতিল্ডা জানিন। উনার পিতাও ছিলেন বিখ্যাত লইয়ার আর মাইনিং এন্টারপ্রেনার।
কিন্তু কন্যাদ্বয়ের কথা শুনে চমকে উঠলেন সেনটেইন। ছেলেমেয়ে সম্পর্কে তো তিনি ভাবেনইনি।
“যাক মহিলা অন্তত ব্লেইনকে কোনো পুত্রসন্তান দিতে পারেননি।” ভয়ংকর কথাটা মাথায় আসতেই সেনটেইন নিজেই অপরাধবোধে দগ্ধ হলেন। তাই স্যার গ্যারির পাঠানো দীর্ঘ কেবলের বাকি অংশ পড়লেন : এস এ পার্টি ক্ষমতায় এলে কেবিনেট র্যাঙ্ক বেড়ে যাবার সম্ভাবনা অত্যন্ত প্রবল। জেনারেল সুটের স্টাফ হিসেবেও কাজ করেছেন। পড়ে যারপরনাই খুশি হলেন সেনটেইন। কিন্তু শেষ লাইনে সর্বক্ষেত্রে সতর্ক থাকার জন্যে স্যার গ্যারির পরামর্শ পড়ে বেজায় ক্ষেপেও উঠলেন।
“আমার কিসে ভালো হবে তা নিয়ে সবার এত মাথাব্যথা কেন?” রেগে মেগে আয়নার দিকে তাকাতেই চেহারা শান্ত হয়ে গেল। এমনকি তরুণীদের মত মনোযোগ দিয়ে খুঁজলেন কোথাও কোনো খুঁত পাওয়া যায় কিনা। চোখের কোণে চুলের সমান চিকন লাইন দেখে হাহাকার করে উঠল বুক।
“সব সুদর্শন পুরুষগুলো কেন এরই মাঝে বিয়ে করে বসে আছে?”
***
ইসাবেলা ম্যালকমসের খাতিরদারি আর হুইল চেয়ারকে ব্যালকনিতে টেনে তোলার জন্যে নিজের চারজন পরিচারককে প্রস্তুত করে রাখলেন সেনটেইন। তবে সবাইকে সরিয়ে দিয়ে পত্নীকে নিজের কোলে তুলে নিলেন ব্লেইন ম্যালকমস। তারপর এমনভাবে কোচের সিঁড়িতে উঠে এলেন যেন তার কোনো ওজনই নেই। স্কার্টের নিচ দিয়ে ঝুলছে ইসাবেলার বোধশক্তিহীন দুটো পা। দেখে হঠাৎ করেই সমবেদনা অনুভব করলেন সেনটেইন।
