“এজিকিয়েল?” আদুরে ভঙ্গিতে হাসলেন সেনটেইন।
“আটাশ অধ্যায় তের আর চৌদ্দ পঙক্তি।” মাথা নেড়ে চোখ নামিয়ে নিলেন জোনস; এই নারীর জ্ঞানে সত্যিই সে মহা মুগ্ধ হয়েছে।
“ড. টুয়েন্টিম্যান জোনস” পথ আঁকড়ে ধরল শাসা, আপনি কিন্তু আমার প্রশ্নের উত্তর দেননি। এ পাথরগুলোর মূল্য কত?”
“তুমি কি পুরো প্যাকেজের দাম জানতে চাইছো?” অস্বস্তিতে পড়ে গেলেন জোনস।”
“ইয়েস স্যার। আমাকে বলুন কত দাম হবে।”
“ওয়েল, ডি রিয়ারস যদি আমাদের শেষ প্যাকেজের সমমূল্যের অর্থ প্রদান করে তাহলে এক মিলিয়ন পাউন্ডের বেশিই হবে।” কাতর ভঙ্গিতে অংকটা জানালেন জোনস।
“এক মিলিয়ন পাউন্ড?”
শাসার হতভম্ব ভাব দেখে মনে মনে চিন্তিত হলেন সেনটেইন। ভাবলেন যাক, কোনো সমস্যা নেই। ওকে আমিই শেখাব। ছেলেকে বললেন,
“মনে রেখ শাসা, এটার পুরোটাই কিন্তু লাভ নয়। খরচ মেটাতে হবে। তারপর ট্যাক্স কালেকটরদের খায়েশ মেটাতে হবে।”
হঠাৎ করেই মাথায় একটা আইডিয়া আসাতে তাড়াতাড়ি ডেস্ক ছেড়ে উঠে এলেন সেনটেইন।
“আপনি তো জানেন আমি আর শাসা শুক্রবারে উইন্ডহক যাচ্ছি। তাই হিরেগুলো আমিই ব্যাংকে নিয়ে যাবো ডেইমলারে করে”।
“মিসেস কোটনি।” আতঙ্কিত হয়ে উঠলেন জোনস। “আমি এতটা কিছুতেই অনুমতি দিতে পারব না। হায় ভগবান, পুরো এক মিলিয়ন অর্থের সমমূল্যের হিরে। নিজেই যদি রাজি হই তাহলে নিজেই অপরাধ করব।” সেনটেইনের অভিব্যক্তি বদলে যেতেই চুপ করে গেলেন জোনস। এই নারীকে তিনি ভালোভাবেই চেনেন। জানেন তাকে চ্যালেঞ্জ করে কতবড় ভুল করেছেন। তাই তাড়াতাড়ি পরিস্থিতি হাল্কা করার জন্য বললেন, “আমি কেবল আপনার কথাই চিন্তা করছি। হাজার হাজার মাইল জুড়ে এত বহু মূল্যবান হিরে নিয়ে ভ্রমণ করা মানে হল ডাকাতদেরকে সেধে ডেকে আনা।”
“কিন্তু আমার কাছে হিরে আছে তা সবাই টের পাবে কীভাবে? আমি তো ঢাক ঢোল পিটিয়ে কাউকে বলতে যাচ্ছি না।” ঠাণ্ডা স্বরে জানালেন সেনটেইন।
“ইস্যুরেন্স” অবশেষে সঠিক শব্দটা খুঁজে পেয়েছেন জোনস। “যদি সশস্ত্র পাহারা ব্যতীত প্যাকেজের কোনো ক্ষতি হয় তাহলে তো ইস্যুরেন্স সেটা কাভার করবে না। আপনি কি সত্যিই এতটা ঝুঁকি নিতে চান?”
এমন একটা যুক্তি ছুঁড়ে দিয়েছেন যা হয়ত সেনটেইনকে কাবু করতে পারে। ব্যাপারটা নিয়ে খানিক ভেবে তাই সেনটেইন কাধ ঝাঁকাতেই স্বস্তি পেলেন জোনস।
“ওহ, ঠিক আছে ড, টুয়েন্টিম্যান জোনস, আপনি আপনার মত কাজ করুন।”
***
মরুভূমির বুক চিরে হানি মাইনে যাবার রাস্তা লোথার নিজ হাতে খুঁড়েছেন। এখানকার প্রতিটা মাইলে এখনো লেগে আছে তার ঘাম। তবে এসব কিছুই সেই বারো বছর আগেকার কথা। তারপরেও কয়েকটা পয়েন্টের কথা স্পষ্ট মনে আছে যাতে করে তার পরিকল্পনা ও উদ্দেশ্য পূর্ণ হবে।
গারহার্ড ফুরির সাথে দেখা করার পর দ্বিতীয় দিন সকালবেলা এরকমই একটা স্থানে পৌঁছালেন লোথার। এখানে পাথর ফেলে হিরের ট্রাকের রাস্তা আটকানোর পাশাপাশি শুকনো নদীবক্ষের বালির নিচে ঘোড়াদের জন্য পানিও পাওয়া যাবে।
আবার জায়গাটা এতটাই বিচ্ছিন্ন যে পুলিশে খবর দিলে, বাহিনি নিয়ে আসতেই লোথাররা পালিয়ে যাবার যথেষ্ট সময় পাবেন। তাই সিদ্ধান্ত নিয়ে হেনড্রিককে জানালেন, এখানেই আমাদের স্বার্থসিদ্ধি হবে।”
টেলিগ্রাফ লাইনের কাছেই নদীতীরে প্রাথমিকভাবে তাবু খাটানো হল। এরপর পিলারে উঠে মেইন টেলিগ্রাফ লাইনের সাথে নিজের ইয়ারফোন জয়েন্ট করে নিলেন লোথার। অপেক্ষার মুহূর্তগুলো একঘেয়ে হলেও হানি মাইনের কোনো মেসেজই তিনি মিস করতে চান না। তাই দিনের বেলা উত্তপ্ত মরুভূমির গরমে বসে বসে নোটবুকে তুলে নেন সমস্ত ডটস্ আর ড্যাশেস। পরে সেগুলোকে আবার অনুবাদ করেন।
দিনেরবেলা বলতে গেলে লোথার একাই থাকেন। হেনড্রিক ম্যানফ্রেড তার ঘোড় নিয়ে মরুভূমিতে যায়। যেন শিকারের পাশাপাশি এই পরিবেশে বাস করার শিক্ষাটাও হয়ে যায়। তাই অবসর পেয়ে লোথার কেবল ভাবেন তার পরিকল্পনার দুর্বল দিকগুলো নিয়ে। বলা বাহুল্য, সবার প্রথমেই মনে পড়ে ফুরির নাম। কাপুরুষ লোকটা সহজেই নিরুৎসাহ হয়ে পড়ে।
হঠাৎ করেই ইয়ারফোনে বিজবিজ শব্দ হতেই নোটবুক তুলে নিলেন লোথার। পাতার উপর নেচে বেড়াল লোথারের পেনসিল। অবশেষে উইন্ডহক স্টেশন মেসেজ রিসিভ করে নিতেই ইয়ারফোন নামিয়ে অনুবাদ করলেন লোথার :
পেন্টিফগারকে বলা হচ্ছে সানডে রাতের জন্যে জুনোর প্রাইভেট কোচ তৈরি রাখতে।
পেন্টিফগার হলেন আব্রাহাম। আব্রাহামস আর জুনো হল সেনটেইন কোর্টনির কোড নেইম। কেপটাউনের উদ্দেশে রওনা দেবেন সেনটেইন। ঘটনাটা ঘটার সময় এই নারী আশপাশে থাকবে না ভেবেই স্বস্তি পাচ্ছেন লোথার।
কিন্তু হঠাৎ করেই কেন যেন সেনটেইনের সাথে দেখা করার জন্যে মন কেঁদে উঠল। ডেইমলার নদীতীর পার হবার সময়ে কেবল একঝলক! “ঠিক আছে, এতে করে হিরের ট্রাক আসার আগে রিহার্সালও হয়ে যাবে।” যুক্তি সাজালেন লোথার।
শনিবার দুপুরবেলা বহুদূর থেকে কাঁপতে কাঁপতে এগিয়ে এল ডেইমলার। দশ মাইল দূর থেকে ধূলিঝড় দেখে ম্যানফ্রেড আর হেনড্রিককে সিগন্যাল দিলেন লোথার।
অগভীর কয়েকটা পরিখা খুঁড়ে কাটা গাছের ডালপালা দিয়ে নিজেদেরকে আড়াল করে লুকিয়ে আছে পুরো দল। ব্লক সৃষ্টির জন্য জড়ো করা পাথরগুলোকেও একেবারে নিপুণ হাতে প্রাকৃতিকভাবে সাজিয়ে দিয়েছেন লোথার। রিহার্সাল হওয়ায় কেউ আর মুখোশ পরল না।
