গিরিখাদের দেয়ালের পাশে উবু হয়ে বসে সিগারেট ধরালো ট্রাকের ড্রাইভার ফুরি গারহার্ড। এর আগে দিনের বেলায় অ্যানালিসার সাথে পাঁচ পাউন্ডের চুক্তি হয়েছে। এত দ্রুত আর সহজে অর্থ পাবার রাস্তা খুঁজে পেয়ে ফুরির কাছে নিজেকে বিকিয়ে দিতে একটুও দ্বিধা করেনি অ্যানা।
চোখের সামনে জ্যোৎস্নাস্নাত রুপালি, অনিন্দ্যসুন্দর মেয়েটাকে দেখে আনন্দে কেঁপে উঠল ফুরি।
কাছাকাছি পৌঁছে থেমে গেল অ্যানা। কামুক হাসি দিয়ে চাইল ফুরি ব্যাগ্রতা বাড়াতে।
“পাঁচ পাউন্ড কিন্তু।” ফুরিকে মনে করিয়ে দিল অ্যানা। ড্রাইভার টাকাগুলো বের করতেই ছো মেরে টান দিয়ে নিয়ে চাঁদের আলোয় পরীক্ষা করে দেখল অ্যানা। তারপর সন্তুষ্ট হয়ে পোশাকের ভেতরে চালান করে দিয়ে এসে দাঁড়াল ফুরির সামনে।
কিন্তু ফুরি যেই না নিজের মাথা নিচু করে অ্যানার দিকে তাকাল, পেছন থেকে কিছু একটা যেন প্রচণ্ড আঘাত করে তার পাজর গুড়ো করে দিল। আকস্মিক এই আক্রমণে ফুসফুস থেকে বেরিয়ে গেল সমস্ত বাতাস। কানের কাছে বিড়বিড় করে উঠল ভয়ংকর একটা কণ্ঠ।
“মেয়েটাকে এখনি চলে যেতে বলল।” গলার আওয়াজটা ঠিকই চিনতে পারল ফুরি।
তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়াল অ্যানা। ফুরির কাঁধের উপর দিয়ে একদৃষ্টে চোখ বড় বড় করে খানিক তাকিয়েই ভয় পেল, ক্যাম্পের দিকে দিল দৌড়।
কোনোমতে নিজের পোশাক ঠিকঠাক করে পেছনে ঘুরল ফুরি।
“ডি লা রে।” উদ্যত মসার রাইফেল হাতে দাঁড়ানো লোথারকে দেখেই বোকার মত বলে বসল ফুরি।
“কেন? আর কাউকে আশা করেছিলে নাকি?”
“না! না!” উদভ্রান্তের মত মাথা নাড়ল ফরি।” মানে একটু তাড়াতাড়ি চলে এসেছো, এই যা।” লোখারের সাথে শেষবার মিটিঙের পর থেকেই সে মনোযাতনায় ভুগছে। অবশেষে লোভের ওপর জয়লাভ করেছে কাপুরুষতা। এই ভেবে নিজেকে সান্ত্বনা দিয়েছে যে লোথারও নিশ্চয় কখনো এতটা পারবে না।
ভেবেছিল আর কখনো লোথারের সাথে দেখা হবে না। কিন্তু এখন তো যেন টোপাজ পাথরের মত জ্বলজ্বলে দুই চোখ নিয়ে সামনে এসে দাঁড়িয়েছে স্বয়ং লোথার।
“তাড়াতাড়ি? কয়েক সপ্তাহ কেটে গেছে দোস্ত। সবকিছু ঠিকঠাক করতে যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়েও বেশি সময় লেগেছে। এবার শক্ত হয়ে গেল লোথারের গলা, “উইন্ডহকে এখনো হিরের চালান আনননি?”
“না, এখনো না কোনোমতে বলেই মনে মনে নিজেকে গাল দিল ফুরি। এটাই তো ছিল তার টিকে থাকার পথ। বলা উচিত ছিল, “হ্যাঁ। আমি নিজেই গত সপ্তাহে নিয়ে এসেছি।” কিন্তু মুখ থেকে বের হওয়া শব্দ তো আর ফেরত নেয়া যায় না। তার বদলে নিজের প্যান্টের বোতাম লাগানোর দিকে মনোযোগ দিল।
“কখন চালান আসবে তাহলে?” ফুরির চিবুকের নিচে মসারের নল রেখে মুখখানাকে উপরে তুলে ধরলেন লোধার। বোঝাই যাচ্ছে যে ফুরির কথা বিশ্বাস করছেন না।”
“উনারা ইচ্ছে করেই দেরি করছেন। আর কতদিন লাগবে জানি না। উড়া খবরে শুনেছি এবার নাকি পাথরের বেশ বড়সড় একটা প্যাকেজ আসবে।”
“কেন?” নরম স্বরে জানতে চাইলেন লোথার; কিন্তু ফুরি কাঁধ ঝাঁকাল “জানি না। শুধু শুনেছি যে বড় একটা চালান।”
“হুম, তার মানে আমি তোমাকে যা বলেছিলাম তাই সত্যি। ওরা খনি বন্ধ করে দিতে চলেছে।” খুব সাবধানে ফুরির চেহারা পরখ করে দেখলেন লোথার; কেন যেন মনে হল লোকটা দ্বিধায় ভুগছে। এবার তাহলে একটু টাইট দিতে হবে। যেন কোনো গড়বড় না করে। এটাই হবে শেষ চালান বুঝলে; তারপর তোমরা সবাই অডিট ট্রাকে করে যেসব বেচারাকে এনেছে তোমার অবস্থাও তেমনই হবে।”
বিষণ্ণ ভঙ্গিতে মাথা নাড়ল ফুরি, “হ্যাঁ, ওদের চাকরি গেছে।”
“তার মানে পরের বার তুমি, বন্ধু। আর পরিবারকে তো তুমি জান দিয়ে ভালোবাসো, তাই না?”
“হ্যাঁ।”
“তাহলে তো ছেলে-মেয়ের খাবার আর পোশাকের জন্য টাকা দরকার এমনকি কাজ হারালে ওই ছুড়িকেও পাবে না।”
“ম্যান, এভাবে বলো না।”
“তাহলে আমাদের আগে যেমন কথা হয়েছে সেভাবে কাজ করো। তুমি জানো কী করতে হবে। ওরা তোমাকে চালানের তারিখ জানালেই পরিকল্পনা মত কাজ করবে।”
ফুরি মাথা নাড়ল। কিন্তু লোথার নিশ্চিত হতে পারছেন না। তাই বললেন, “বলো কী কী করতে হবে। তারপর ফুরি বিরক্ত হলেও পুরো প্রক্রিয়াটা গড়গড় করে বলে গেল আর লোথার মনোযোগ দিয়ে শুনলেন, এক-আধবার শুধরে দিতে হলেও অবশেষে সন্তুষ্টির হাসি হেসে বললেন, “কোনো ঝামেলা যাতে না হয় বন্ধু, ভুল করা আমার একদম ভালো লাগে না। কাছে এসে ফুরির চোখের দিকে তাকালেন লোথার। তারপর হঠাৎ করেই ঘুরে হাঁটা শুরু করলেন।
খানিক কেঁপে উঠে মাতালের মত টলতে টলতে ক্যাম্পের দিকে চলে গেল ফুরি। পথিমধ্যে মনে হল মেয়েটার কথা। টাকা নিয়ে ভেগে গেল কিন্তু তার কাজ হল না। অথচ কেন যেন এখন আর ওর কাছে যেতেও ইচ্ছে করছে না। লোথার ডিলারের কথা শুনে হিম হয়ে গেছে সারা শরীর।
***
চুড়ার ঠিক নিচের জঙ্গল দিয়ে চলেছে ওদের ঘোড়া। আগামী দিনগুলোর উত্তেজনার আনন্দে সবার চেহারাই বেশ হাসিখুশি। সেভেন এম এম ম্যানলিচার স্পোর্টিং রাইফেল নিয়ে প্রিস্টর জনের কাঁধে চড়ে বসেছে শাসা। আর সেনটেইনের স্ট্যালিয়নের রঙ ধূসর; নাম মেঘ। কিশোরী বয়সে বাবার দেয়া স্ট্যালিয়নটার নাম ও রেখেছিলেন মেঘ। গলার কাছে হালকাভাবে ইয়েলো স্কার্ফ পেঁচিয়ে রাখা সেনটেইনের চোখ দুটোও চকচক করছে,
