“পর্বতের অপদেবতা।” শাসার হাত ধরল অ্যানা।
“তুমি কীভাবে জানো?”
“আমার সাথে কথা হয়েছে তো!”
শাসা এতটাই ভয় পেয়ে গেল যে আর কোন প্রশ্ন করার সাহস পেল না।
“তুমি চাইলে তোমার একটা ইচ্ছে এখানে পুরণ করতে পারো।” ফিসফিস করে বলল অ্যানা।
“যেকোনো কিছু?” একটু ভেবে জানতে চাইল শাসা।
“হ্যাঁ। যেকোনো কিছু।” আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে অ্যানা।
খানিকটা এগিয়ে এসে নরকংকালের সাদা হাড়ের গায়ে হাত রাখল শাসা। আপনা থেকেই বুকের গভীরে ছড়িয়ে পড়ল এক ধরনের উষ্ণতা আর আনন্দ। প্রায় স্বপ্নতর কণ্ঠে বলে উঠল, “আমি অনেক ক্ষমতা চাই।” হঠাৎ করেই কেমন যেন চিনচিন করে উঠল আঙুলের ডগা; যেন বিদ্যুতের শক খেয়েছে। ঝট করে হাত সরিয়ে নিল শাসা।
ক্ষেপে উঠল অ্যানা, “ধুর! বোকা ছেলে! কেউ এরকম কিছু চায় নাকি?”
“আচ্ছা চল। দেরি হয়ে যাচ্ছে। এখন আমাদেরকে যেতে হবে।” আবারো পাহাড় চূড়ায় উঠে এল দু’জনে। পথশ্রমে উভয়েই হাঁপাচ্ছে।
কিছু না বলে নিজের স্কার্ট তুলে ধরল অ্যানা। দেখা গেল লম্বা একটা লাল আঁচড়ের দাগ। নিশ্চয়ই কাটা ঝোপে লেগে কেটে গেছে।
“খানিকটা থুথু লাগিয়ে দাও।” অ্যানার কথায় শাসার হুঁশ ফিরল। এতক্ষণ মুগ্ধ হয়ে দেখছিল অ্যানার ক্ষত।
“উঁহু। জিভ দিয়ে।” শাসা হাঁটু গেড়ে বসে আঙুল থুথু দিয়ে ভিজিয়ে নিলেও পাল্টা আদেশ দিল অ্যানা।
সামনে ঝুঁকে আদেশ মত কাজ করতেই শাসার ঘাড়ে হাত বুলিয়ে দিল মেয়েটা।
***
আচমকা ঘুম ভেঙে যেতেই কেঁপে উঠল শাসা। প্রথমে বুঝতেই পারল না যে কোথায় আছে। পিঠের নিচে পাথুরে মাটি অত্যন্ত শক্ত আর বুকের উপরেও প্রচণ্ড ওজনদার কী যেন আছে। মাথা ঘুরিয়ে চারপাশে তাকাতেই দেখল অন্ধকার হয়ে গেছে। তারা’র আলোয় একটু দূরেই দাঁড়িয়ে আছে প্রিস্টর জন।
হঠাৎ করেই সবকিছু মনে পড়ে গেল। বুকের উপর এলোমেলো ভঙ্গিতে শুয়ে আছে অ্যানা। শাসা এত জোরে মেয়েটাকে ধাক্কা দিল যে চিৎকার করে জেগে উঠল অ্যানা।
“অন্ধকার হয়ে গেছে! ফিরে যেতে হবে। মা- বোকার মত বলে উঠল শাসা। মাথা যেন ঠিকভাবে কাজ করছে না।
পাশেই দাঁড়িয়ে প্যান্টি ঠিক করার চেষ্টা করছে অ্যানা। আকাশের দিকে তাকিয়ে সময়ের হিসেব করার চেষ্টা করল শাসা, “নয়টারও বেশি বাজে।”
“তুমি জেগে থাকতে পারলে না?” শাসার কাঁধে ভর দিয়ে নিজেকে ধাতস্থ করার চেষ্টা করছে অ্যানা!
কাধ ঝাঁকিয়ে অ্যানার হাত সরিয়ে দিল শাসা। মন চাইছে মেয়েটার কাছ থেকে দূরে সরে যেতে। কিন্তু জানে পারবে না।
“সব ভোমার দোষ।” প্যান্টি আর স্কার্ট ঠিকঠাক করে নিল অ্যানা, “বাবাকে বলব যে সব তোমার দোষ। ওহ! এবার নিশ্চয় আমার চামড়া ছিলে নিবে।”
প্রিস্টর জনের কাছে গেল শাসা। হাত দুটো এখনো কাঁপছে। আধো ঘুম আধো জাগরণভাবে বলল, “উনি তোমাকে কিছুই বলবেন না।”
মনে হল অ্যানার ক্রোধে ঘি পড়ল। ক্ষেপে উঠে বলল, “তুমি কী করবে? তুমি তো একটা বাচ্চা। যদি এমন হয় যে আমার পেটে বাচ্চা চলে এল? তাহলে কী হবে ভেবেছো?”
অ্যানার অভিযোগ শুনে অবাক হয়ে গেল শাসা, “তুমিই আমাকে দেখিয়েছে যে কী করতে হবে। নয়ত আমি জানতাম না।”
“ঈশ্বর জানেন আমাদের কী হবে” ফুঁপিয়ে উঠল অ্যানা।
“কাম অন,” অ্যানাকে প্রিস্টর জনের উপর তুলে দিয়ে নিজেও চড়ে বসল শাসা।
পাহাড় ঘুরে এদিকে আসতেই দেখা গেল নিচের সমভূমিতে মশাল নিয়ে সার্চ পার্টি বেরিয়েছে ওদের খোঁজে। রাস্তাতেও দেখা যাচ্ছে গাড়ির হেডলাইট।
“বাবা এবার আমাকে মেরেই ফেলবে।” মেয়েটার ঘ্যানঘ্যান শুনে বিরক্ত হয়ে উঠল শাসা,
“কীভাবে জানবেন? উনি তো সেখানে ছিলেন না?”
“তোমার কি ধারণা তুমিই আমার প্রথম নাকি। আগেও কতজনের সাথে করেছি। বাবা দু’বার ধরেছে আমাকে।” শাসাকে ক্ষেপিয়ে তুলতে চাইল অ্যানা।
শাসার মনে প্রথমে হিংসে এলেও পরে ঠিকই যুক্তি দিয়ে বলল, “তাহলে তো আর আমার উপরে দোষ দিয়ে কোনো লাভ নেই।” অ্যানা বুঝতে পারল যে নিজের ফাঁদে নিজেই পা দিয়েছে। তাই নাটকীয় ভঙ্গিতে ফোপানো ছাড়া আর কিছু করার রইল না।
***
বাংলোর ড্রইংরুমে পরস্পরের কাছ থেকে যত দূরে সম্ভব দূরে এসে বসল শাসা আর অ্যানা। খানিক বাদেই বাইরের নুড়ি পাথরের ওপর শোনা গেল ডেইমলারের চাকার আওয়াজ। চোখ ঘষে আবারো কাদার চেষ্টা করল অ্যানা।
দরজায় এসে দাঁড়ালেন অগ্নিমূর্তি সেনটেইন, পাশে জোনস্। তাদেরকে দেখেই গুঙ্গিয়ে উঠল অ্যানা। চটে গেলেন সেনটেইন, আস্তে করে বললেন, “অ্যাই মেয়ে একদম চুপ।” তারপর শাসার দিকে তাকিয়ে বললেন, “তোমরা কেউ ব্যথা পেয়েছো?”
“না, মা।” মাথা দোলালো শাসা।
“প্রিস্টর জন?”
“ও-ও ঠিক আছে।”
“তো ঠিক আছে, ড. টুয়েন্টিম্যান জোনস, এই ইয়াং লেডিকে ওর বাবার কাছে নিয়ে যান। কী করতে হবে সে নিশ্চয়ই জানে।”
অ্যানার কব্জি ধরে দাঁড় করিয়ে দরজার দিকে নিয়ে গেলেন জোনস, বাইরে গর্জে উঠল ডেইমলারের ইঞ্জিনে।
মেয়েটা বেরিয়ে যেতেই আবার শক্ত হয়ে উঠল সেনটেইনের চেহারা। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন,
“তুমি কিন্তু বেশ অবাধ্য হয়েছে। আমি তোমাকে বলেছি এই বদমাশ মেয়েটা থেকে দূরে থাকতে?”
“হ্যাঁ, মা।”
“খনির অর্ধেক পুরুষের সাথে ওর শোয়া শেষ। উইন্ডহকে ফিরে গিয়ে তো তোমাকে রীতিমত ডাক্তারের কাছেই নিয়ে যেতে হবে।”
