“আমি শুনেছি প্রায় একশটা কিনে নিয়ে গেছে।” লোথার ভদ্রভাবেই তার প্রত্যাখ্যান মেনে নিয়েছেন দেখে কাউন্ট স্বস্তি পেয়েছেন।
“তাহলে রেলপথেই এগুলো দক্ষিণে নিয়ে যাবে, তাই না?
“না।” মাথা নাড়লেন কাউন্ট। “আপাতত সোয়াককা নদীতীরে রেখে দিয়ে আরো পঞ্চাশ জোগাড় করে একসাথে পাঠাবে।”
পরেরদিন সকালবেলা সসেজ, মাংস আর ডিম দিয়ে পেট ভর্তি নাশতা করে বের হয়ে এল লোখারের দল। আসার আগে বহু দর কষাকষি করে বিশ পাউন্ডে কিনে এনেছে একটা ছাই রঙা খচ্চর।
“তো এখন কি তাহলে এই পিঠ-উঁচু প্রাচীন গাধায় করে ভাগবো নাকি? জানতে চাইলেন হেনড্রিক।
“না, এটা দিয়ে শিকার করব।” হেনড্রিকের সরু চোখ দেখে হেসে ফেললেন লোথার।
পাথুরে গোপন আস্তানায় ফিরে দ্রুতহাতে অস্ত্র, খাবার-দাবার আর প্রয়োজনীয় জিনিসের বারোটা পোটলা করে ফেললেন। তারপর প্রবেশ মুখের কাছে এনে রাখলেন সব।
“ওয়েল, লাগাম তো আছে। এখন কেবল ঘোড়া চাই।” টিপ্পনি কাটলেন হেনড্রিক।
তাকে পাত্তা না দিয়ে লোথার জানালেন, “এখানে একজন গার্ড রেখে যাওয়া দরকার। কিন্তু সবাইকে নিয়েও যেতে হবে।”
শুয়োর জনের হাতে টাকা তুলে দিলেন লোথার। দলের সবচেয়ে অবিশ্বস্ত জন। বললেন, “শোনো, যদি তুমি মাতাল হয়ে পড়ে থাকো তাহলে কিন্তু সোজা মাথায় একটা বুলেট ঢুকিয়ে দেব। পুলিশের জন্যও রেখে যাবো না। বুঝলে?”
নিজের টুপির মধ্যে ব্যাংকনোটগুলো খুঁজে জন জানাল, এক ফোঁটাও স্পর্শ করব না। বাস্ তুমি তো জানোই লিকার, নারী আর টাকা নিয়ে আমাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারো।”
ওকাহান্ডা শহর প্রায় বিশ মাইল দূরে। কিন্তু টাকা পেয়েই লোথারদের আগে শহরে পৌঁছানোর জন্য বের হয়ে গেল জন।
গতকাল তেমন বাতাস না থাকায় মাটির উপর সিংহের পদচিহ্ন এখনো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। ম্যানফ্রেড আর গাধাটাকে সবার আগে রেখে পাহাড় থেকে নেমে এল বাকি দল।
এক ঘণ্টার মধ্যেই এমন এক চিহ্ন পাওয়া গেল যাতে সবাই বুঝে গেল যে কাউন্টের একটা বকনা বাছুরকে মেরে গেছে সিংহ। কেবল বাছুরের মাথা, খুড় আর বড় হাড়গুলো পড়ে আছে।
দ্রুতপায়ে হত্যাস্থানের চারপাশে ঘুরে এলেন লোথার আর হেনড্রিক।
“কয়েক ঘণ্টা আগে মাত্র পার হয়েছে এলাকা।” জানালেন লোথার। কিন্তু একটা ঘাসের ডগা ভাঙা দেখে নিজেকে শুধরে নিলেন, “নাহ, আধঘণ্টা হবে, হয়ত আমাদের আসার শব্দ শুনতে পেয়েছে।”
“না।” নিজের হাতের লম্বা লাঠিটা দিয়ে সিংহের পায়ের ছাপ পরীক্ষা করলেন হেনড্রিক। “হেঁটে হেঁটে চলে গেছে। তার মানে কোনো দুশ্চিন্তা ছিল না। আমাদের শব্দও পায়নি। পেট ভরা তাই কাছাকাছি জলের ধারেই গেছে।”
“দক্ষিণে।” রোদের মাঝেও চোখ পিটপিট করে পরীক্ষা করে জানালেন লোথার, “নদীর ধারে গেলে শহরের কাছে। আমাদের জন্য ভালোই হল।”
মসার বন্দুক কাঁধে ঝুলিয়ে লোকদের ইশারা করে আগে বাড়লেন লোথার। খানিক গিয়ে বালিয়াড়ির মাথায় পৌঁছাতেই দেখা দিল পশুজ। খোলা জায়গায় বিড়ালের মত হাটলেও পেটের দু’পাশে মাংসের ভারে সুবিধে করতে পারছে না।
লং রেঞ্জ হলেও গর্জে উঠল লোথারদের কাঁধের রাইফেল। কিন্তু লোথার প্রথম শটেই সিংহের পেটের নিচে ধূলিঝড় বইয়ে দিলেন। মরুভূমি অঞ্চলে রেঞ্জ নিয়ে সব সময় এ ভুলটা হয়।
পরের শটেই আহত হল সিংহ। গতি থামিয়ে বিশাল মাথাটা ঘুরিয়ে নিতম্বের আঘাত দেখতে যেতেই আরেকটা বুলেট গিয়ে বিধে গেল মাংসের ভেতরে। যন্ত্রণায় কুঁকড়ে উঠেও আরো একবার লাফিয়ে লাফিয়ে উধাও হয়ে গেল সামনের দিকে।
“খুব বেশি দূর যেতে পারবে না!” সবাইকে সামনে এগোতে ইশারা করলেন হেনড্রিক।
লোথার হেনড্রিক আর ক্লেইন বয় মিলে সামনে এগোল।
“রক্ত” একটু আগে যে জায়গায় সিংহটার গায়ে লোখারের বুলেট লেগেছিল সেখানে পৌঁছে চিৎকার করে উঠলেন হেনড্রিক।
“ফুসফুসের রক্ত!” ফেনাফেনা হয়ে আছে লাল রক্ত। চিহ্ন দেখে দৌড় দিল সকলে।
“দেখো! নিশ্চয়ই আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে” সিংহটা যেখান থেকে হাওয়া হয়ে গেছে সেখানে পৌঁছে লোথারের কথা শেষ হবার আগেই ওদের দিকে ধেয়ে এল আহত সিংহ।
পাহাড়ের শৃঙ্গের ঠিক পেছনেই মাটিতে শুয়ে থাকলেও লোথারদের শব্দ শুনে আবার উঠে পড়ল। দু’পক্ষের মাঝে এখন পঞ্চাশ কদমের দূরত্ব মাত্র।
লাল কেশরগুলো ফুলে ফেঁপে আরো বড়সড় দেখাচ্ছে। তীক্ষ্ণ দাঁতঅলা চোয়াল আর হাঁ করা মুখের ভেতর থেকে এমন এক গর্জন বেরোল যে ধীর হয়ে গেল লোথারের হাত। মসার রাইফেল কাঁধে তুলে নিতেই মাটি থেকে উঠে দাঁড়াল সিংহ।
মন চাইল গুলি করে বসেন। কিন্তু জোর করে নিজের এইম বদল করলেন লোথার। বুক কিংবা ঘাড়ে গুলি করেও এ পশুকে পরাস্ত করা যাবে না। এতটা কাছ থেকে কেবল ব্রেইনে গুলি লাগাতে পারলেই নিস্তেজ করা যাবে এ জন্তকে।
সিংহের নাকের উপরের গোলাপি অংশটাতে গুলি করলেন লোথার। বিড়াল চোখ দুটোর মাঝখান ছিন্নভিন্ন করে দিয়ে মাখন রঙা হলদেটে মগজ আর হাড় ভেদ করে খুলির পেছন দিক দিকে ছিটকে বেরোল বুলেট, কিন্তু সিংহটা এখনো এগোচ্ছে। বিশাল পুরুষালি একটা দেহ এসে আছড়ে পড়ল লোখারের বুকের উপর। একপাশে পড়ে গেল হাতের রাইফেল। সিংহের মাথা আর কাঁধের বাড়ি খেয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন লোথার।
