“ড, টুয়েন্টিম্যান জোনস।”
“মিসেস কোর্টনি” বিড়বিড় করে উঠলেন জোনস।
নিজের সবচেয়ে মোহনীয় হাসিটা দিলেন সেনটেইন। কিন্তু তারপরেও জোনসের মনমরা ভাব কাটল না। শোকে যেন তিনি পাথর হয়ে আছেন।
পূর্বে ডি বিয়ারস ডায়মন্ড কোম্পানিতে কাজ করলেও দীর্ঘ পাঁচ বছর পেছনে লেগে থেকে অবশেষে হানি খনির রেসিডেন্ট ইনজিনিয়ার হিসেবে কাজ করার জন্য জোনসকে রাজি করিয়েছেন সেনটেইন। দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে দক্ষ এই হিরে মানব সারা দুনিয়ার মাঝেই শ্রেষ্ঠ।
দু’জনকেই স্যালুনে নিয়ে গিয়ে বারম্যানকে ইশারা করলেন সেনটেইন।
“আব্রাহাম, এক গ্লাস শ্যাম্পেন?” নিজ হাতে ওয়াইন ঢেলে দিলেন, “আর ড. টুয়েন্টিম্যান জোনস, একটু মাদিরা?”
“আপনি সত্যিই কিছু ভোলেন না মিসেস কোর্টনি।”
“সকলের সুস্বাস্থ্যের উদ্দেশে, জেন্টেলম্যান” যে যার পানীয়তে চুমুক দেয়ার পর দরজার দিকে তাকালেন সেনটেইন।
ঘরে ঢুকল শাসা। মনোযোগ দিয়ে দেখলেন সেনটেইন। নাহ, ছেলে প্রত্যেকের সাথেই যথাযথভাবে পরিচিত হতে পেরেছে। হালকাভাবে মাথা নেড়ে সন্তুষ্টি জানিয়ে নিজের ডেস্কে গিয়ে বসলেন। এটা এমন এক সংকেত যার মানে পরিচয়পর্ব শেষ। এবার কাজের ব্যাপারে কথা বলতে হবে। সবাই তার দিকে মনোযোগ দিলেন। “অবশেষে ঘোষণাটা এসেছে।” জানালেন সেনটেইন, “ওরা আমাদের কোটা আরো ছোট করে দিয়েছে। পুরুষ দুজন পরস্পরের দিকে চেয়ে তারপর সেনটেইনের দিকে তাকালেন।
“আমরা তো প্রায় বছরখানেক ধরেই এর অপেক্ষায় আছি।” মনে করিয়ে দিলেন আব্রাহাম। “প্রত্যাশা আর ঘটনা ঘটার মাঝে নিশ্চয় ফারাক আছে।” তিক্ত স্বরে বলে উঠলেন সেনটেইন।
“কত?” জানতে চাইলেন জোনস। “চল্লিশ শতাংশ।” সেনটেইনের উত্তর শুনে মনে হল ভদ্রলোক কান্নায় ভেঙে পড়বেন।
সেন্ট্রাল সেলিং অর্গানাইজেশন এ দর ঠিক করে। স্বাধীন উৎপাদকদের তাই এর বিরুদ্ধে কিছুই করার নেই।
“চল্লিশ শতাংশ ক্ষেপে উঠলেন আব্রাহাম, “এটা অন্যায়”
“ঠিক তাই ডিয়ার অ্যাবি, কিন্তু কিছুই করার নেই।
“ক্যাটাগরিতেও কোনো পরিবর্তন নেই?” জানতে চাইলেন অ্যাবি।
“একই শতাংশ।” সেনটেইনের উত্তর শুনে ভেতরের পকেট থেকে নোটবুক বের করে হিসাব শুরু করলেন জোনস। পেছনে ছেলের দিকে তাকালেন সেনটেইন।
“আমরা কী নিয়ে কথা বলছি তুমি বুঝতে পারছো?”
“কোটা? হ্যাঁ।”
“কোনোকিছু না বুঝতে পারলে জিজ্ঞেস করবে।” সংক্ষিপ্ত আদেশ দিয়েই জোনসের দিকে তাকালেন।
“দশ শতাংশ বৃদ্ধির জন্য আপিল করা যায় না?” জোনসের প্রশ্নের উত্তরে মাথা নাড়লেন সেনটেইন।
“ইতোমধ্যেই করেছি। কিন্তু ওরা প্রত্যাখ্যান করেছে।”
আবারো নোট বুকের উপর খসখস করে ঝড় তুললেন জোনস।
“জোড় সংখ্যাটাকে ভাঙা যায় না?” আস্তে করে জানতে চাইলেন সেনটেইন। জোনসের চেহারা দেখে মনে হল উত্তরের বদলে আত্মহত্যা করতে পারলে বেশি খুশি হবেন।
“আমার বলতে ভয় হচ্ছে যে সামনে বেশ খারাপ দিন আসছে মিসেস কোর্টনি। শ্রমিক ছাঁটাই করতে হবে। তারপরেও যদি ডি বিয়ার ফ্লোর প্রাইসটা ইতিবাচক রাখে তাহলে হয়ত খানিকটা লাভ করা যাবে।”
হঠাৎ করেই দুর্বল বোধ করলেন সেনটেইন। ডেস্ক থেকে হাত নামিয়ে কোলের ওপর রাখলেন; যেন অন্যরা তার কাঁপুনি টের না পায়। তারপর খানিক বাদে কণ্ঠস্বর যথাসম্ভব শান্ত রেখে বললেন,
“মার্চের এক তারিখ থেকে কোটা কার্যকর হবে। তার মানে ফুল প্যাকেজ ডেলিভারির জন্য আরো একটা মাস পাওয়া যাবে। এ সময়ে কী করতে হবে আপনি জানেন ড, টুয়েন্টিম্যান জোনস।”
“প্যাকেজ ভরে তুলব আমরা।”
“কীভাবে ড. জোনস? প্রথমবারের মত কথা বলল শাসা। সিরিয়াস ভঙ্গিতে ছেলেটার দিকে তাকালেন ইঞ্জিনিয়ার।
“প্রতিবার আমরা যখন হিরে তুলি তখন কয়েকটা থাকে সত্যিকারভাবেই অতুলনীয়। ভবিষ্যতের জন্য এগুলোর কয়েকটাকে সবসময় জমা করে রাখা হয়। তাই এখন এরকম হাই কোয়ালিটি হিরে সিএসও’কে পাঠিয়ে দেব।”
“বুঝতে পেরেছি।” মাথা নাড়ল শাসা, ধন্যবাদ ড. জোনস।”
“কাজটা করতে পেরে আমারও ভালো লেগেছে মাস্টার শাসা।”
উঠে দাঁড়ালেন সেনটেইন।
“এখন আমরা ডিনারে যাবো।” সাইডিং ভোর খুলে ডাইনিংরুমের পথ দেখাল সাদা জ্যাকেট পরিহিত পরিচারক। রূপা আর ক্রিস্টাল ভর্তি লম্বা টেবিলের উপর অ্যান্টিক ভাসের মাঝে শোভা পাচ্ছে হলুদ গোলাপ।
***
সেনটেইনের কোচ যে রেলপথে দাঁড়িয়ে আছে সেখান থেকে এক মাইল দূরে ধোঁয়া ওঠা ক্যাম্প ফায়ারের পাশে বসে আছে দু’জন পুরুষ। চুলায় ফুটছে। পরিজ। তাদের আলোচনার সবটুকু জুড়ে আছে ঘোড়া। অন্তত পনেরোটা শক্তিশালী, টগবগে ঘোড়া দরকার।
“আমি যার কথা ভাবছি সে আমার বেশ ভালো বন্ধু।” বললেন লোথার।
“দুনিয়াতে তোমার সবচেয়ে ভালো বন্ধুও পনেরটা তরতাজা ঘোড়া ধার দেবে না। পঞ্চাশের কমে তো নয়ই, আমার ধারণা একশ’ পাউন্ডেও কাজ হবে না।”
দুর্গন্ধযুক্ত মাটির পাইপে টান দিয়ে থু করে আগুনের মধ্যে পিক ফেললেন লোথার, “একশ’ পাউন্ড দিয়ে বরঞ্চ ভালো একটা চুরুট কিনব।”
“আমার একশ দিয়ে নয় কিন্তু।” মনে করিয়ে দিলেন হেনড্রিক।
*এখন ঘোড়ার কথা ছাড়ো। চলো লোকের খোঁজে যাই।” পরামর্শ দিলেন লোথার।
“ঘোড়ার চেয়ে মানুষ পাওয়াই বেশি সহজ হবে।” দাঁত বের করে হেসে ফেললেন হেনড্রিক। “যে কোনো সৎ লোককেও খাবার দিয়ে কিনে ফেলা যাবে। আর তার বউকে তো পুডিং দিলেই পাবে। আমি এরই মাঝে সবাইকে ওয়াইল্ড হর্স প্যানে আসার জন্য বলে দিয়েছি।”
