“হ্যালো, আমি কারো সাথে কথা বলতে চাই” এবার শোনা গেল এক উত্তেজিত নারী কণ্ঠ, “সংবাদপত্রে লিখেছে যে আপনারা ওশেয়া ব্রান্ডওয়ানা সম্পর্কে জানতে চান। আমি সে ব্যাপারেই কথা বলতে চাই।”
“আমার নাম কোর্টনি।” আফ্রিকানে উত্তর দিল শাসা, “স্কোয়াড্রন লিডার কোর্টনি, আপনি পুলিশকে সাহায্য করতে চান শুনে বেশ খুশি হলাম। আমাকে নির্দ্বিধায় সব বলতে পারেন। কোনো সমস্যা নেই।” মেয়েটা বেশ ভয় পাচ্ছে বুঝতে পেরে তাকে আশ্বস্ত করতে চাইল শাসা; “আমি শুনছি। আপনি সময় নিয়ে বলুন।”
“আপনি কী পুলিশ?”
“ইয়েস ম্যাডাম। আপনার নামটা কী বলবেন?”
“না! আমি তো আপনাকে
নিজের ভুলটা বুঝতে পারল শাসা। তাড়াতাড়ি বলল, “ঠিক আছে। আপনার নাম বলতে হবে না। কী বলতে চাইছেন তা বলুন।”
দীর্ঘক্ষণ নীরবতার পর প্রায় ফিসফিস করে কথা বলে উঠল ওপাশের কণ্ঠ, “ওরা অস্ত্র চুরি করছে।”
“আপনি কী বলতে পারবেন কোন অস্ত্র?” সাবধানে জানতে চাইল শাসা।
“প্রিটোরিয়ার অস্ত্রের ফ্যাক্টরি থেকে, রেলওয়ে ওয়ার্কশপ।”
সিধে হয়ে বসে দু’হাতে রিসিভার চেপে ধরল শাসা। সামরিকবাহিনির সমস্ত অস্ত্র গোলাবারুদ আসে রেলওয়ে ওয়ার্কশপ থেকে।
“আপনি আমাকে যা বলছেন তা সত্যিই বেশ গুরুত্বপূর্ণ” আবারও সন্তর্পণে বলে উঠল শাসা, “কীভাবে এগুলো চুরি করছে সেটা কি বলতে পারবেন?”
“ওরা কেসের ভেতরে লোথার টুকরা রেখেই অস্ত্রগুলো চুরি করছে।” ফিসফিস করে জানাল নারীকণ্ঠ।
“এসব কে করছে বলতে পারবেন প্লিজ? আপনি কী জানেন কে দায়ী?”
“আমি ওয়ার্কশপের কারো নাম জানি না। তবে কে ইনচার্জে আছে সেটা জানি।”
“আমাদের ওর নামটাই দরকার। কিন্তু আবার চুপ করে গেল সেই অচেনা নারী। শাসা বুঝতে পারল যে সে নিজের সাথেই যুদ্ধ করছে যে নামটা কি বলবে নাকি বলবে না। তাই জোর করার ঝুঁকি নিল না শাসা। কেবল বলল, “আপনি কি বলতে চান সে কে?”
“ওর নাম-” খানিকক্ষণ দ্বিধা করেই যেন উগরে দিল কোনোমতে, “সবাই তাকে হোয়াইট সোর্ড ডাকে।”
“কী”
“হোয়াইট সোর্ড, ওর নাম হোয়াইট সোর্ড।” আর এর সাথে সাথে ক্লিক করে কেটে গেল কানেকশন।
“হ্যালো! হ্যালো!” রিসিভারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে চিৎকার শুরু করে দিল শাসা; কিন্তু সুনসান যন্ত্রটা আর কোনো উত্তর দিল না।
***
শাসা ব্লেইন ম্যালকমসের ডেস্কের পাশেই দাঁড়িয়ে আছে। জোহানেসবার্গের মার্শাল স্কয়ারের পুলিশ কমিশনারকে ফোন করলেন ব্লেইন, “মার্চ ওয়ারেন্ট তৈরি হওয়ার সাথে সাথেই ওয়ার্কশপ বন্ধ করে দিন। আমি ট্রান্সভ্যালের মিলিটারি কমান্ডারের সাথেও কথা বলেছি। তিনি আপনাকে পূর্ণ সহযোগিতা দিবেন। তাই এক্ষুণি কাজ শুরু করুন। কেস খুলে খুলে সমস্ত আইটেম লিস্টের সাথে মিলিয়ে দেখুন। আমিও এক্ষুণি রওনা দিচ্ছি। আমার জন্য রবার্টস হাইটস এয়ারফিল্ডে কার পাঠিয়ে দিন সময় জানার জন্য শাসার দিকে তাকালেন; তারপর বললেন, “বিকেল পাঁচটা। তার আগে গোপনীয়তা যেন কিছুতেই ভঙ্গ না হয়। আরেকটা ব্যাপার কমিশনার, আপনি নিজে সার্চ পার্টির মেম্বার খুঁজে নিন। ওবি কিংবা কোনো গ্রুপের সদস্য যেন না হয়।”
শাসা র্যাপিড নিয়ে রবার্টস হাইটস এয়ারফিল্ডে নামতেই এগিয়ে এলেন এক পুলিশ ইন্সপেক্টর।
“তদন্তের কাজ কেমন এগুচ্ছে?” তৎক্ষণাৎ জানতে চাইলেন ব্লেইন, “কতটা কী করতে পেরেছেন?” সবাই পরস্পরের সাথে এরই ফাঁকে হ্যান্ড শেক সেরে নিল।
“কিছুই পাইনি, মিনিস্টার।” মাথা নেড়ে জানালেন ইন্সপেক্টর, “আমরা এ পর্যন্ত ছয়শ’ কেস রাইফেল চেক করেছি। কাজটা সময়সাপেক্ষ হলেও সবকিছু জায়গামতই আছে।”
“স্টোরে কতকগুলো কেস আছে?”
“নয়শ আশি।”
“তার মানে অর্ধেক চেক্ করা শেষ।” মাথা নেড়ে জানালেন ব্লেইন, “চলুন তারপরেও একবার দেখি।”
টুপি মাথায় দিয়ে গলা পর্যন্ত টেনে দিলেন ওভারকোট। এয়ারস্ট্রিপ জুড়ে বইছে ঠাণ্ডা হাওয়া। প্রিটোরিয়ার মাঝখানে না পৌঁছানো পর্যন্ত শাসা কিংবা ব্লেইন কেউই আর গাড়িতে কোনো কথা বললেন না।
ওয়ার্কশপের গেইটে পাহারা দিচ্ছে সামরিকবাহিনির গার্ড। ব্লেইনকে দেখেও তারা দৃশ্যত তেমন কোনো আগ্রহ দেখাল না।
ওয়ার্কশপ ম্যানেজারের অফিসে কাজ করছেন তদন্তকারী ইন্সপেক্টর। তার রিপোর্টেও তেমন নতুন কোনো খবর পাওয়া গেল না।
“চলুন ভেতরে গিয়ে ঘুরে আসি।” চিন্তিত ভঙ্গিতে আদেশ দিলেন ব্লেইন; তারপর শাসা, চিফ ইন্সপেক্টর আর ওয়ার্কশপ ম্যানেজারসহ একত্রে ভেতরে ঢুকলেন।
এত বিশাল একটা ফ্যাক্টরিকে ওয়ার্কশপ বলাটা আসলে যুক্তিযুক্ত হয়নি। একেবারে শুরুতে রাষ্ট্রায়ত্ত রেলওয়ে সার্ভিস করার জন্য প্রস্তুত করা হলেও আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে এখন এখানে লোকোমোটিভও বানানো সম্ভব। আর বর্তমানে উত্তর আফ্রিকার মরুভূমিতে যুদ্ধ করার জন্য আর্মারড কারই তৈরি হচ্ছে এ ওয়ার্কশপে। এতটাই ব্যস্ত সবাই যে পুলিশি তদন্তের জন্যও বন্ধ হয়নি কাজ।
“আপনাদের এখানে কর্মীর সংখ্যা কত?” বিভিন্ন যন্ত্র আর কাজের শব্দে চিৎকার করে প্রশ্ন করতে হল ব্লেইনকে। উত্তরে শুনলেন, “একসাথে প্রায় তিন হাজার। যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্র বানাতে এখন তিন শিফট কাজ করতে হয়।”
পুরো দল নিয়ে একেবারে কোনার বিল্ডিংয়ে চলে এল ম্যানেজার, “ছোট ছোট অস্ত্রগুলো অর্থাৎ ব্যারেল আর ব্লকস নিয়ে এখানেই কাজ হয়। কাঠের কাজ বাইরের ঠিকাদার করে।”
