“কোনো বর্ণনাও দেয়নি?”
“ইয়েস। লিডার দেখতে নাকি বেশ বড়সড়, কালো চুল আর দাড়ি, বাকানো নাক, এক চোখের উপর ক্ষতচিহ্নের দাগ, তবে আরো গুরুত্বপূর্ণ একটা কথা বলেছে।”
“কী?”
একটা কোর্ড নেইম। লিডার নাকি হোয়াইট সোর্ড নামে পরিচিত। আর একেবারে টপ লেবেল থেকেই তাকে সাহায্য করার আদেশ দেয়া হয়েছে।”
“হোয়াইট সোর্ড!” গভীর চিন্তায় মগ্ন হয়ে গেলেন ব্লেইন।
“আমি ইন্সপেক্টরকে বলে এসেছি যে, আপনি আদেশ না দেয়া পর্যন্ত যেন এ কোড় নেইম আর বর্ণনা কাউকে না দেয়া হয়।
“গুড।” হুইস্কিতে চুমুক দিলেন তৃপ্ত ব্লেইন। যাক শাসার ওপর ভরসা করে তিনি ঠকবেন না। বললেন, “হোয়াইট সোর্ড”, এই ট্রিগারটাই আমাদের প্রয়োজন ছিল যে কিনা অবশেষে ওবিকে অ্যাকশনে নামিয়েছে।
“সেটাই স্যার। কারণ যারা গ্রেফতার হয়েছে তারা সবাই তাকে বেশ ভয় পায়। পুরো ব্যাপারটা ঘটিয়েই আবার হাওয়া হয়ে গেছে সেই লিডার। ডাকাতির অর্থেরও কোনো হদিস মেলেনি, একশ’ সাতাশ হাজার পাউন্ড।”
“বেশ বড় একটা অংক।” বিড়বিড় করে উঠলেন ব্লেইন, “আর এটা স্পষ্ট যে, এর পুরোটাই ওবির যুদ্ধ ফান্ডে চলে গেছে। এর সাথে হয়ত সেই জেলিগনাইটগুলোও।”
“কোড় নেইম সম্পর্কে আমার পরামর্শ হল প্রেস আর জনসাধারণ থেকে এ নাম আপাতত লুকিয়ে রাখাটাই শ্রেয়।”
“আমি তাতে একমত। তবুও তোমার কারণগুলোও শুনি। দেখা যাক আমার সাথে মেলে কিনা।”
“প্রথমত, আমরা চাই না যে হোয়াইট সোর্ড এখনি সতর্ক হয়ে যাক যে আমরা তার সম্পর্কে জানি।”
মাথা নাড়লেন ব্লেইন, “গুড।” “আরেকটা কারণ হল, আপনি পাবলিকের কাছে সাহায্যে চাওয়ায় যত ফোন এসেছে তার বেশিরভাগই ছিল বোগাস। এখন যদি কোড নেইমটাও প্রচার পায় তাহলে এটা নিয়ে সবাই তামাশা বানাবে।”
“অল রাইট। তাহলে কয়েকদিনের জন্য এটা আড়ালেই থাক। আর কিছু?”
“না। আপাতত না।”
“তাহলে শোনো, এখানে তোমার অনুপস্থিতিতে কী কী হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের পর আমরা ঠিক করেছি যে, ওবিকে রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দিব। ফলে পুলিশ, আর্মিসহ সমস্ত সরকারি চাকরিজীবী এখান থেকে তাদের সদস্যপদ তুলে নিতে বাধ্য হবে।”
“কিন্তু তাতে তো তাদের সমর্থন পরিবর্তিত হবে না।”
“হ্যাঁ তা হবে না। এদেশে এখনো চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ শতাংশ আমাদের বিরুদ্ধে নাজি জার্মানিকেই পছন্দ করে।”
“এভাবে তো চলতে দেয়া যাবে না স্যার। আপনি আর ওড বাস মিলে অবশ্যই কিছু একটা করতে হবে।”
“ইয়েস, সেটা আমরাও জানি। তাই তদন্ত শেষ হোক, রিং লিডারদের নাম বের হোক তারপর আমরাও নাড়া দেব।”
“গ্রেফতার করবেন?” বিস্মিত হয়ে গেল শাসা।
“ইয়েস। দেশের শত্রু হিসেবে তাদেরকে আটক করা হবে।”
শিস দিয়ে উঠল শাসা, “সত্যিকারের ঝামেলা বেঁধে যাবে স্যার।”
“এই কারণেই তাদেরকে একসাথে জালে তুলে নিতে হবে। একটাকেও মিস্ করা যাবে না।” উঠে দাঁড়ালেন ব্লেইন। “তোমাকে ক্লান্ত দেখাচ্ছে শাসা। তাছাড়া মাদমোয়াজেল তারাও নিশ্চয় কিছু বলতে চায়। তাহলে কাল সকাল সাড়ে আটটায় আমার অফিসে দেখা হচ্ছে।” দুজনে একসাথেই স্টাড়ি থেকে বেরিয়ে এলেন। যাওয়ার আগে মনে পড়ে যাওয়ার ভঙ্গিতে ব্লেইন জানালেন, “ও আচ্ছা তোমার দাদু স্যার গ্যারি আজ সকালে ওয়েল্টেভ্রেদেনে এসেছেন।”
“উনি জন্মদিনের পার্টির জন্য এসেছেন।” হেসে ফেলল শাসা।
“আপনি আর ফিল্ড মার্শাল স্মুটসও নিশ্চয় আসছেন।”
স্টাডি দরজা মেলে ধরলেন ব্লেইন, “তা কি আর মিস করার উপায় আছে!” বাইরে দেখা গেল সরল মুখ করে হেঁটে বেড়াচ্ছে তারা।
অট্টহাসি দিলেন ব্লেইন, “তারা, শাসাকে আজ রাতে একটু ঘুমাতে দিও। আমি কাল কোনো জম্বির সাথে কাজ করতে চাই না।”
***
পরদিন সকালে বহুক্ষণ লাগিয়ে মিটিং করলেন ব্লেইন আর শাসা। তারপর প্রধানমন্ত্রীর অফিসে যেতেই স্মুটস নিজেও শাসাকে একগাদা প্রশ্ন করলেন। অবশেষে বললেন, “হোয়াইট সোর্ড নামের এই বান্দাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পেতে হবে আর তা আবার কোনো কিছু ঘটাবার আগেই। তদন্তের সাথে জড়িত সবাইকে এ ব্যাপারে আদেশ দিয়ে দাও।”
“ইয়েস স্যার।”
“আর উইকেন্ডের ছুটির আগেই আমার ডেস্কে পূর্ণ তালিকাটা চাই।”
সকালের মাঝামাঝি সময়ে সিআইডি হেড কোয়ার্টারে পৌঁছে জাগুয়ার পার্ক করল শাসা।
বেজমেন্টের একাংশে বানানো হয়েছে অপারেশন রুম। পুলিশ বাহিনির অনেকেও ওবির সদস্য জানার পরে অনেক যাচাই-বাছাই করে নিজের টিম সাজিয়েছেন ইন্সপেক্টর লুইস নেল।
টেকো মাথার লুইসের বয়স আর দায়িত্বের সীমাবদ্ধতার কারণে তাকে ওভারসিজ মিলিটারিতে যেতে দেয়া হয়নি বলে তার ক্ষোভের সীমা নেই। আর শাসার মতে লুইসকে সন্তুষ্ট করা অত্যন্ত কঠিন এক কাজ। তারপরেও দুজনের দাপ্তরিক সম্পর্কটা বেশ ভালোই বলা চলে।
ঠোঁটে সিগারেট নিয়ে টেলিফোনে কথা বলছিলেন নেল; এমন সময় ভেতরে ঢুকল শাসা। মাউথপিস হাত দিয়ে ঢেকেই খেঁকিয়ে উঠলেন ইন্সপেক্টর, “কোন চুলায় গিয়েছিলে শুনি? আমি তো আরো সার্চ পার্টি পাঠাতে যাচ্ছিলাম। তারপর বললেন, “বসো। তোমার সাথে কথা আছে।”
ডেস্কে বসে চারপাশে চোখ বোলালো শাসা। সিগারেটের ধোঁয়া আর টাইপরাইটের খটখট শব্দ তুলে কাজ করছে গোয়েন্দারা। এমন সময়ে ডেস্কের আরেকটা টেলিফোন বেজে উঠতেই নেল বললেন, “ফোনটা ধরো তো। যাই পাবে সুইচ বোর্ড সোজা আমার কাছে পাঠিয়ে দেবে।” রিসিভার কানে দিল শাসা, “গুড মর্নিং, সি আই ডি হেড কোয়ার্টারস। মে আই হেল্প ইউ?” ওপাশে নীরবতা টের পেয়ে আবার আফ্রিকান ভাষায়ও একই কথা জানাল।
