“আমাদেরকে যেগুলোর কাজ শেষ হয়ে গেছে সেগুলো আর প্যাকিং দেখান। যদি কোনো ঝামেলা থাকে সেখানেই থাকবে।” আদেশ দিলেন ব্লেইন।
পুরোপুরি চেক করার পর ব্রিটিশ লং সার্ভিস পয়েন্ট থ্রি জিরো থ্রি ক্যালিবারের রাইফেল হলুদ গ্রিজ-প্রুফ পেপারে মুড়িয়ে কাঠের বাক্সে ভরে ফেলা হয়। প্রতিটা কেসে দশটা করে রাইফেল থাকে।
ডেসপ্যাচ স্টোরে ঢুকে দেখা গেল ডজনখানেক ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশ নীল ওভার অল পরা অন্তত পঞ্চাশজন ফ্যাক্টরি কর্মচারীর সাথে কাজ করছে। প্রতিটি কেস নামিয়ে র্যাপিং পেপার খুলে চেক করে আবার কেসে রিলোড় করা হচ্ছে। শাসা রুমে ঢোকার সাথে সাথেই শুনে দেখল যে আর মাত্র পঞ্চাশটা কেস খুলে দেখা বাকি আছে।
ওদেরকে দেখেই ব্যস্তপায়ে এগিয়ে এল স্টোরকীপার। সরাসরি ব্লেইনকে বলল, “আমি জানি না যে আপনারা কারা, তবে এই বেকুবি করার আগে দু’বার ভাবা উচিৎ ছিল। পুরো একদিনের কাজ নষ্ট হল। ডারবান বন্দরে কনভয় অপেক্ষা করছে এসব অস্ত্র কখন আমাদের ছেলেদের হাতে পৌঁছাবে তার প্রতীক্ষায়।”
খানিকটা হেঁটে কনস্টেবলের কাছে এগিয়ে গেল শাসা। জানতে চাইল, “কিছু পাওয়া যায়নি না?”
“আমরা কেবল সময় বরবাদ করছি।” চোখ তুলে তাকাবারও প্রয়োজন মনে করল না লোকটা। মনে মনে খানিকটা দমে গেল শাসা। ওর জন্যই সবার কাজের ব্যাঘাত ঘটল। অপরাধবোধ আরো বেড়ে গেল যখন বাকি কেসগুলোও একে একে সিল করে দেয়া হল।
কাজ সেরে চলে গেল কনস্টেবল আর কর্মীদের দল। তাদেরকে বিদায় দিয়ে এগিয়ে এলেন ইন্সপেক্টর, “কিছুই ঘটেনি মিনিস্টার, আয়্যাম সরি।”
“আমাদের এটা করতে হয়েছে আসলে।” আড়চোখে শাসার দিকে তাকালেন ব্লেইন, “এর জন্য কাউকে দোষারোপ করার নেই।”
“কিন্তু কাউকে না কাউকে তো দোষ দিতেই হবে।” খানিকটা উন্মা প্রকাশ পেলো চিফ স্টোরম্যানের কণ্ঠে। “আপনাদের তামাশা যদি শেষ হয় তো আমি বাকি কেসগুলোও তুলে ফেলব ট্রাকে?”
একদৃষ্টে লোকটার দিকে তাকিয়ে আছে শাসা। কিছু একটা কেন যেন ওকে মনে মনে খোঁচাচ্ছে, লোকটার চাহনিতে কেমন যেন একটা ভাব।
“তাই তো। যদি কোনো সুইচ থাকে তো তা এই লোকটার কাছেই আছে।” মনে মনে ভাবল শাসা।
“অল রাইট” ওদিকে একমত হয়ে গেলেন ব্লেইন, “ব্যাপারটা সোনার ডিম দেয়া হাঁসের পেছনে হোটার মতন হয়ে গেল। যাই হোক, আপনারা আপনাদের কাজ করুন।”
“একটু দাঁড়ান স্যার।” তাড়াতাড়ি বলে উঠল শাসা “তারপর স্টোরম্যানের দিকে তাকিয়ে বলল, “এরই মাঝে কয়টা ট্রাক লোড হয়েছে?”
সাথে সাথে খানিকটা দ্বিধা দেখা গেল লোকটার চোখে। তার মানে মিথ্যে বলছে। অবচেতনেই ডেস্কের ক্লিপবোর্ডে আটকানো কাগজগুলোর দিকে তাকিয়ে ওদেরকে নিয়ে লোডিং ডেকে চলে এল।
দ্রুতপায়ে ডেস্কের কাছে গিয়ে কাগজগুলো চেক করল শাসা; “তিনটা ট্রাক। ওগুলো কোথায়?”
“ওই বগিগুলো এরই মাঝে অন্য লাইনে পাঠানো হয়ে গেছে।” বিড়বিড় করে উঠল স্টোরম্যান।
“এক্ষণি তাহলে আবার আনিয়ে নিন।” কর্কশ কণ্ঠে আদেশ দিলেন ব্লেইন।
একসাথে দাঁড়িয়ে আছেন ব্লেইন আর শাসা। প্রথম রেলওয়ে গুড ট্রাকটার তালা খুলে সাইড ডোর মেলে দেয়া হল। ভেতরটাতে মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত ভর্তি হয়ে আছে সবুজ রাইফেলের কেস।
“যদি ওগুলো এখানে থাকে তাহলে নিচের সারির কেসগুলোই হবে।” বলে উঠল শাসা। কারণ প্রমাণ সরাবার জন্য প্রথমেই ওগুলো লোড করা হবে।”
“নিচের কেসগুলো নামিয়ে আনো।” তীক্ষ্ণ কণ্ঠে আদেশ দিলেন ব্লেইন।
শব্দ করে করে ঢাকনাগুলোকে কংক্রিটের মেঝেতে ফেলতে লাগল কনস্টেবল।
“স্যার!” আচমকাই চিৎকার করে উঠল লোকটা, “দেখুন!”
কনস্টেবলের পাশে চলে এলেন ব্লেইন। খোলা বাক্সটাতে নজর বুলিয়েই চোখ তুলে তাকালেন।
তাড়াহুড়া করে শেডের দরজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে স্টোরকিপার।
“ওকে গ্রেফতার করো।” ব্লেইনের আদেশ পাওয়ার সাথে সাথে দৌড়ে গিয়ে স্টোরকিপারকে ধরে ফেলল দুই কনস্টেবল।
শাসার দিকে তাকালেন ব্লেইন, “ওয়েল মাই বয়, এবার নিশ্চয় তুমি সন্তুষ্ট হয়েছে। সামনে এখন তাহলে নিঘুম রাত আর মাথার ওপর কাজের পাহাড় ভেঙে পড়ল।”
***
কেবিনেট অফিসের পলিশ করা লম্বা টেবিলটার চারপাশে বসে ব্লেইন ম্যালকমসের রিপোর্ট শুনছেন পনেরোজন প্রভাবশালী ব্যক্তি।
“কী পরিমাণ অস্ত্র খোয়া গেছে তার সঠিক সংখ্যা জানার কোনো উপায় নেই। মাসের শুরুতেই আরো বড়সড় দুটো শিপমেন্ট পাঠানো হলেও একটা চালানও এখনো কায়রোতে পৌঁছেনি। আমার হিসাব মতে দেড় মিলিয়ন রাউন্ড গুলিসহ প্রায় দুই হাজার রাইফেল হবে।”
অস্বস্তিতে নড়েচড়ে বসলেন সবাই। তবে কেউ কোনো কথা বললেন না।
“ব্যাপারটা যে ভয়ংকর তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে তার চেয়ে দুশ্চিন্তার বিষয় হল ত্রিশ থেকে পঞ্চাশটা ভিকার মেশিনগানও উধাও হয়ে গেছে।”
“অবিশ্বাস্য।” বিড়বিড় করে উঠলেন ডেনিস রিটাজ; “এর মাধ্যমে চাইলে পুরো দেশে বিদ্রোহ শুরু করা যাবে। এসব কথা যেন বাইরে না ছড়ায়। তাহলে সবাই সন্ত্রস্ত হয়ে উঠবে।”
“এর সাথে এটাও খেয়াল রাখতে হবে যে কারুতে যেসব বিস্ফোরক হাইজ্যাকড হয়েছে তার মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা নষ্ট করে ফেলা কোনো ব্যাপারই না। যদি সত্যিই বিদ্রোহের আশংকা-_”।
“প্লিজ ব্লেইন আমাদেরকে বলুন যে আঙুল তুললেন প্রধানমন্ত্রী, “ওরা কখন খোলা ময়দানে হাজির হতে পারে তার কি কোনো ধারণা আছে?”
