“টাকা বের করে নাও!” লিডারের আদেশ পেয়ে কিট ব্যাগ নিয়ে এগিয়ে এল তিন আততায়ী।
“আমার স্ত্রী, আমি ওর কাছে যেতে চাই।” কেউ কোনো বাধা দিল না দেখে মেরিকে আস্তে করে ধরে চেয়ারে বসিয়ে দিলেন কার্টরাইট। তারপর আলতো করে ড্রয়ারটা খুলে ফেললেন।
পিস্তল তুলে ঢুকিয়ে ফেললেন অ্যাপ্রনের পকেটে।
এরপর ডি ককের পাশে গিয়ে দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়ালেন। অপেক্ষা করছেন কখন বেরিয়ে আসবে তিন ডাকাত। একটু পরে সবাই যখন আবার মনোযোগ দিয়ে ক্যানভাসের ব্যাগগুলো দেখছে, গুলি ছুড়লেন কার্টরাইট। রুমের ওপাশের দেয়ালে লাগল বুলেট। কিন্তু এর প্রায় সাথে সাথে লুগার বুলেটের আঘাতে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেল তার শরীর। নিজের রক্তের পুকুরে মুখ ডুবিয়ে শুয়ে পড়লেন কার্টরাইট।
***
র্যান্ড ব্যাঙ্ক ডাকাতিতে দু’জন মৃত।
ওবির সাথে পাওয়া গেছে সম্পর্ক। ওবি শব্দটাতে আটকে গেল সারাহ স্ট্যান্ডারের চোখ। ছেলেমেয়ের জন্য চকোলেট কিনে দোকানের বাইরে এসে এক কপি নিউজ পেপারও কিনে নিল সারাহ।
রাস্তা পেরিয়ে এসে পার্কের বেঞ্চিতে বসে চোখের সামনে মেলে ধরল নিউজ পেপার।
গত রাতের সম্পূর্ণ ঘটনাসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লেইন ম্যালকমসের অনুরোধও ছাপা হয়েছে আজকের পত্রিকায়। যেখানে জোহানেসবার্গ আর কেপটাউনের নির্দিষ্ট দুটি নাম্বার দিয়ে অপরাধী সম্পর্কে তথ্য জানানোর জন্য বলা হয়েছে। তাছাড়া তথ্যদাতার পরিচয় গোপনের ব্যাপারেও সম্পূর্ণ নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে।
প্রায় এক ঘণ্টা অন্যমনস্ক হয়ে বসে রইল সারাহ। পরিবারের প্রতি বিশ্বস্ততা আর দেশের প্রতি দায়িত্ববোধের মাঝে পড়ে সিদ্ধান্ত নিতেও দোটানায় পড়ে গেল। স্বাধীনতা আর ন্যায়বিচারের নামে ট্রেন বা ব্যাংক উড়িয়ে সাধারণ মানুষ হত্যা করাটা কি ঠিক হচ্ছে? নিজের স্বামী-সন্তানকে বাঁচাতে চাওয়াটা কি বিশ্বাসঘাতকতা? ম্যানফ্রেড ডি লা রে কে না থামালে আরো যে কতো মানুষ মারা যাবে তা কে না জানে? গৃহযুদ্ধ শুরু হলে দেশে কত অরাজক অবস্থা নেমে আসবে তাও বেশ বুঝতে পারছে সারাহ। পেপার দেখে নাম্বার দুটো মুখস্থ করে নিল তাড়াতাড়ি।
তারপর ছেলেমেয়েকে নিয়ে রাস্তা ধরে পোস্ট অফিসের দিকে হাঁটা ধরল। অফিসের জানালা দিয়ে ওর দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছেন পোস্টমাস্টার। এ লোকটাকেও ওবি’র ইউনিফর্মে দেখেছে সারাহ।
সাথে সাথে কেপে উঠল কী করতে যাচ্ছে ভেবে। কারণ সব টেলিফোন কলই পোস্ট অফিসের এক্সচেঞ্জ হয়ে যায়। দ্রুত মোড় নিয়ে তাই কসাইয়ের দোকানের দিকে হাঁটা ধরল। যেন এটাই তার পরিকল্পনা ছিলো। পর্কের চপ কিনে বাসায় চলে এল।
রান্নাঘরে ঢুকতেই শুনতে পেল রুলফের স্টাডিতে বেশ কয়েকজনের উত্তেজিত আলোচনা চলছে। ম্যানফ্রেডের কণ্ঠ শুনে বেড়ে গেল সারাহর হার্টবিট। প্রায় তিন সপ্তাহ পর এখানে এল ম্যানি।
যাই হোক, রুলফ আর বাচ্চাদের জন্য ডিনার বানাতে বসে গেল সারাহ। তবে সামনের স্টাডি থেকে ভেসে আসা কথাগুলোও স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে। একবার ম্যানি বলল যে, “আমি যখন জোহানেসবার্গে ছিলাম” তার মানে ম্যানিও জোহানেসবার্গে ছিল। পেপারে পড়েছে মৃত ব্যাংক ম্যানেজারের নাকি গর্ভবতী স্ত্রী আর দুইটা ছোট ছোট ছেলেমেয়েও আছে। না জানি সেই নারীর মনের অবস্থা এখন কী হয়েছে।
“ওহ, খোদা এসব কখন শেষ হবে?” আপন মনেই ভাবছে সারাহ, “ম্যানি কেন আমাদেরকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে না”
***
উইটওয়াটারস্রান্ড থেকে একাই র্যাপিড চালিয়ে চলে এল শাসা। অন্ধকার নামার পরে ল্যান্ড করলেও তৎক্ষণাৎ গাড়ি চালিয়ে নিউল্যান্ডে ব্লেইনের দরজায় এসে কড়া নাড়ল।
তারাই দরজা খুলল। আর শাসাকে দেখে সাথে সাথে উজ্জ্বল হয়ে উঠল মেয়েটার চেহারা। “ওহ ডার্লিং, তোমাকে যে কত মিস্ করেছি!” পরস্পরের উপর হামলে পড়ে কি করল দু’জনে। অবশেষে ব্লেইন এসে দুই ছেলেমেয়েকে আলাদা করলেন।
“লুক শাসা, আমি তোমাকে বিরক্ত করতে চাই না; কিন্তু যদি খানিকটা সময় পাও তো আমাকে রিপোর্টটা জানিয়ে যেও।”
লজ্জা পেলেও লাল হয়ে খেঁকিয়ে উঠল তারা, “ড্যাডি, তুমি আমাদের উপর গোয়েন্দাগিরি করছিলে?”
“সারা দুনিয়াকে জানিয়েই তো তুমি সব করছ ডিয়ার। যাই হোক, শাসা চলল।”
স্টাডিতে ঢুকে শাসাকে চেয়ারে বসতে ইশারা করলেন ব্লেইন। জানতে চাইলেন।
“ড্রিংক?”
“কেবল জিঞ্জার বিয়ার।”
“এখন বলো কী এমন ঘটেছে যা তুমি টেলিফোনে বলতে চাওনি?” নিজের জন্য হুইস্কি নিয়ে শাসাকে জিঞ্জার বিয়ার দিলেন ব্লেইন।
“ভাগ্য অবশেষে আমাদের উপর মুখ তুলে তাকিয়েছে, স্যার।” ব্লেইনের নির্দেশেই জোহানেসবার্গ গিয়ে ব্যাংক ডাকাতির তদন্ত করে এসেছে শাসা। সেখানে আটককৃত ডাকাতকেও জেরা করেছে। আপনি তো জানেনই যে লোকটা ক্রাউন মাইনে কাজ করে। নাম লরেন। আমাদের ওবি লিস্টেও তার নাম আছে। আমি পুলিশ ইন্সপেক্টরকে বলেছি যে আপনি উত্তর।
“কোনো অত্যাচার নয়।” ঐ কুঁচকে তাকালেন ব্লেইন।
“না, স্যার, তার প্রয়োজনও হয়নি। লরেন মোটেও শক্ত ধাচের নয়। আমরা কেবল বলেছি যে, এই অপরাধের শাস্তি ফাঁসি হলেও যদি সে সহযোগিতা করে তাহলে আপোস করা হবে। আর সাথে সাথে গড়গড় করে সব বলে দিয়েছে। তবে লিডারের সাথে ডাকাতির মাত্র তিনদিন আগে দেখা হওয়ায় তার নাম কিংবা ঠিকানা জানতে পারেনি।”
