***
স্টান্ডার্ড ব্যাংকের ফোর্ডর্সবার্গ ব্রাঞ্চ সেন্ট্রাল ব্যান্ড কমপ্লেক্সের সমস্ত স্বর্ণ খনিগুলোর অর্থনৈতিক কাজকর্ম সামলায়। শত শত কৃষাঙ্গ খনি শ্রমিকরা এখান থেকেই তুলে নেয় তাদের সাপ্তাহিক পারিশ্রমিক আর এই ব্রাঞ্চের সিনিয়র অ্যাকাউন্ট্যান্টও ওবি’র সদস্য। নাম উইলেম ডি কক।
ছোটখাট গড়নের উইলেম চোখে অনেক মোটা পাওয়ারের চশমা পরলেও চাহনিটা বেশ দৃষ্টি আকর্ষণের ক্ষমতা রাখে। তার সাথে মিটিংয়ের কয়েক মুহূর্তের মাঝে ম্যানফ্রেড বুঝে গেল যে ভদ্রলোক সংগঠনের প্রতি পুরোপুরি নিবেদিতপ্রাণ ছাড়াও তার চিন্তাশক্তি যথেষ্ট ক্ষুরধার। আর এই শরীরে এতটা সাহস কীভাবে পেলেন সেটাও রহস্য।
“বৃহস্পতিবার বিকেলে অর্থ আসবে। আর্মারড় কার ছাড়াও মোটরসাইকেলে পুলিশ এসকর্ট দেয়। তাই গোলাগুলি লাগবেই।”
“বুঝতে পেরেছি” মাথা নাড়ল ম্যানফ্রেড; “তবে তার আগে বলুন সাধারণত কী পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়?”
“পঞ্চাশ থেকে সত্তর হাজার পাউন্ড, তবে মাসের শেষ বৃহস্পতিবারে এক লাখ। তার সাথে সাধারণ কাজে ব্যবহারের জন্য পঁচিশ হাজারও থাকে।”
মাইনের এক কর্মচারীর বাসায় বসেছে এই মিটিং। এই লোকটাই আবার অপারেশনের জন্য স্থানীয়ভাবে কর্মী সংগ্রহ করে দিচ্ছে। ক্রাউন ডিপ গোল্ড মাইনের এই কর্মচারী, নাম লরেন, দেখতে ঠিক মাতালের মতন। তবে ম্যানফ্রেডের মনে হচ্ছে কঠিন পরিস্থিতিতে লরেন হয়ত ভেঙে পড়তে পারে।
“ধন্যবাদ, ডি কক। বাকিটা বলুন।”
“ব্যাংক ম্যানেজার মি, কার্টরাইট বিল্ডিংয়ের পেছনের দরজা খুলে অর্থ ঢুকিয়ে নেন। সে সময় অবশ্য সাধারণ লেনদেন শেষ হয়ে যায়। আমি, মিঃ কার্টরাইট আর আরো দু’জন সিনিয়র টেলার মিলে টাকা গুনে রিসিট দিয়ে দেই।
তারপর লক করে দেয়া হয় ভল্ট। আমার কাছে একটা চাবি আর হাফ কম্বিনেশন থাকে। বাকিটা মিঃ কার্টরাইটের কাছে।”
“তার মানে পুলিশ যাওয়ার পরে ভল্ট আটকাবার আগেই কাজ সারতে
“হুম, তখন একটা সম্ভাবনা আছে।” মাথা নাড়লেন ডি কক। “তখনো দিনের আলো থাকবে। রাস্তায় নোকজনও থাকবে। তাছাড়া কার্টরাইটও বেশ কঠিন বান্দা, যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে। আমি কি বলতে পারি এর দায়িত্ব আমার হাতে থাকলে আমি কী করতাম?”
“ধন্যবাদ ডি কক। আপনার সাহায্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।”
***
৯. মাঝরাত
মাঝরাত হতে তখনো দশ মিনিট বাকি। মিটিং শেষে ফ্রিম্যাসন হল থেকে বেরিয়ে এলেন মি. পিটার কার্টরাইট। তিনি এই লজের প্রেসিডেন্টও। সব সময়কার মত হলের পিছনে পার্ক করে রাখা মরিসে উঠে চাবি ঘুরাতেই ঘাড়ের পেছনে ঠাণ্ডা আর শক্ত কিছুর উপস্থিতির সাথে সাথে শুনলেন, “এটা একটা পিস্তল মি. কার্টরাইট। যা বলা হবে তা না করলে মাথায় গুলি ঢুকে যাবে। ব্যাঙ্কে চলুন প্লিজ।”
পেছনের সিটে মাস্ক পরে বসে থাকা দু’জনের ভয়ে আতঙ্কিত কার্টরাইট ব্যাংকের কাছে এসে পেছনের দরজায় পার্ক করলেন মরিস। গত কয়েক মাসেই না হলেও চারটা ব্যাংক ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। আর একটাতে ব্যাংকের গার্ড গুলি খেয়ে মারা গেছে। তাই কার্টরাইটেরও বুঝতে কষ্ট হল না যে কী ঘটছে।
মরিস থেকে নামার সাথে সাথে দু’পাশ থেকে দুজন মিলে তাকে ধরে নিয়ে এল ব্যাঙ্কের দরজার কাছে। একজন পিস্তলের হাতল দিয়ে বাইরে থেকে নক করতেই বিস্মিত কার্টরাইটের চোখের সামনে ভেতর থেকে খুলে গেল দরজা। আর তখনই বুঝতে পারলেন যে ডাকাতেরা কীভাবে এতটা এগোতে পেরেছে। মাথা ভর্তি এলোমেলো চুল আর ভয়ে ছাই হয়ে যাওয়া চেহারা নিয়ে পাজামা আর ড্রেসিং গাউন পরে দাঁড়িয়ে আছেন তার সিনিয়র অ্যাকাউনট্যান্ট উইলেম ডি কক। নিশ্চয় তাকেও বিছানা থেকে টেনে আনা হয়েছে।
“আয়্যাম, সরি, মিঃ কার্টরাইট” তোতলাতে লাগলেন ডি কক, “ওরা আমাকে জোর করে বাধ্য করেছে।”
“নিজেকে সামলাও, ম্যান।” ডি ককের উদ্দেশে খেঁকিয়ে উঠলেন কার্টরাইট, কিন্তু আচমকা দুই নারীকে দেখে সম্পূর্ণ বদলে গেল তার অভিব্যক্তি : ডি ককের ছোটখাট মোটাসোটা পত্নী আর তার নিজের প্রাণপ্রিয় স্ত্রী মেরি।
“পিটার” কেঁদে উঠল মেরি, “ওহ, পিটার ওদেরকে মানা করো যেন কিছু করে।”
“স্টপ দ্যাট মেরি। ওদের সামনে এতটা দুর্বল হয়ো না।”
ডাকাতদের দিকে তাকালেন কার্টরাইট। তার দুপাশের দু’জনসহ মোট ছয়জন। তবে লিডারকে চিনে নিতে মোটেও ভুল করলেন না প্রাজ্ঞ কার্টরাইট। লম্বা, শক্তিশালী গড়নের লোকটার মাস্ক ভেদ করেও দেখা যাচ্ছে শিকারি পশুর মত অদ্ভুত ধূসর একজোড়া চোখ; যার মাঝে সহানুভূতির লেশমাত্র নেই।
“ভল্ট খুলুন।” ভারি কণ্ঠে আদেশ দিল লিডার।
“আমার কাছে চাবি নেই” কার্টরাইটের উত্তর শুনেই মেরির কব্জি ধরে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে দিল হলুদ চোখের লিডার।
“খবরদার বলছি।” চিৎকার দিয়ে উঠলেন কার্টরাইট; কিন্তু মেরির মাথায় সহজভাবেই পিস্তলের নল ঠেকাল লিডার।
“আমার স্ত্রী সন্তান-সম্ভবা।” আবার বলে উঠলেন কার্টরাইট। “তাহলে তো আপনি তাকে আর কষ্ট না দিলেই ভালো করবেন।
“খুলে দাও পিটার। এগুলো তো আমাদের টাকা নয়। ওরা নিয়ে যাক।” আর্তচিৎকার জুড়ে দিলেন মেরি আর তারপরই প্রস্রাব করে দেয়াতে ভিজে গেল ড্রেসিং গাউনের স্কার্ট।
ভল্টের সবুজ রঙা স্টিলের দরজার কাছে গিয়ে পকেট থেকে চেইন লাগানো ঘড়ি বের করলেন কার্টরাইট। যেখানে চাবিও আছে। রাগে, ক্ষোভে, অপমানে ভেতরে ভেতরে দগ্ধ হলেও কিছু করার নেই। খুলে দিলেন লক। তারপর সবাই যখন মনোযোগ দিয়ে এদিকেই তাকিয়ে আছে তখন নিজের ডেস্কের দিকে তাকালেন কার্টরাইট। ডান পাশের ড্রয়ারে সবসময় একটা ওয়েবলি পিস্তল থাকে।
