“আমি কীভাবে সাহায্য করতে পারি স্যার?”
“এটা পুরো দেশের সাথে জড়িত। সামরিক গোয়েন্দাদের পাশাপাশি আমাকে পুরো দেশের পুলিশ প্রধানদের সাথেও যোগাযোগ রাখতে হচ্ছে। পুরো অপারেশনটাই অনেক সন্তর্পণে সমাধান করতে হবে। তাই আমার একজন ব্যক্তিগত সহকারী প্রয়োজন। তোমাকে দিলাম এ প্রস্তাব।”
“আমি সত্যিই সম্মানিত বোধ করছি স্যার; কিন্তু আমাকেই কেন বেছে নিলেন তা বুঝতে পারছি না। আরো ডজন ডজন উপযুক্ত।
“আমরা একে অন্যকে ভালোভাবেই চিনি শাসা।” ওকে থামিয়ে দিলেন ব্লেইস। “গত কয়েক বছর ধরেই একসাথে কাজ করছি। তাই কোনো সন্দেহ নেই যে দল হিসেবে আমরা অত্যন্ত চমৎকার। আমি তোমাকে বিশ্বাস করি। তোমার মেধা আর সক্ষমতাকে বিশ্বাস করি। আমার কোনো পুলিশম্যান নয় বরঞ্চ এমন কাউকে প্রয়োজন যে কিনা আমাকে বুঝবে আর আমার আদেশ মন দিয়ে পালন করবে।” আচমকা অট্টহাসি দিলেন ব্লেইন, “তাছাড়া তোমারও একটা চাকরি দরকার তাই না?”
“আপনি ঠিকই বলেছেন স্যার, ধন্যবাদ।”
“আপাতত তুমি ছুটিতে থাকবে কিন্তু এয়ারফোর্স থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তোমাকে নিয়োগ দেয়া হল আর স্কোয়াড্রন লিডার হিসেবেই বেতন পাবে; কিন্তু রিপোর্ট করবে সরাসরি আমার কাছে।”
“বুঝতে পেরেছি স্যার।”
“শাসা, চোখ হারাবার পর থেকে আর ফ্লাই করেছ?” এতটা সরাসরি আর কেউ এটা শাসাকে বলেনি। লোকটার প্রতি ওর শ্রদ্ধা তাই আরো বেড়ে গেল।
“না, স্যার।” উত্তরে জানাল শাসা।
“শীঘই হয়ত তোমাকে সারা দেশ চষে বেড়াতে হবে।” ছেলেটার দিকে তাকিয়ে ওর মুখে দৃঢ় প্রতিজ্ঞার ছাপ দেখতে পেলেন ব্লেইন।
“এটা শুধু প্র্যাকটিসের ব্যাপার।” শুনে সত্যিই চমৎকৃত হলেন ব্লেইন; আলতোভাবে জানালেন।
“পোলো বল নিয়েও চেষ্টা করো। প্র্যাকটিস যত হবে ততই ভালো, তবে এসো এখন আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করি। পুরো ব্যাপারটার দায়িত্বে আছে কেপটাউন সেন্ট্রাল স্টেশনের চিফ ইন্সপেক্টর লুইস নেল। আমি তোমার সাথে পরিচয় করিয়ে দিব।”
এভাবে আরো ঘণ্টাখানেক আলোচনা-পরিকল্পনার পর ছুটি পেল শাসা; “আজ এ পর্যন্তই থাক। আগামীকাল সকাল সাড়ে আটটায় আমার কাছে রিপোর্ট করবে।” কিন্তু দরজার কাছে যেতেই আবার শাসাকে থামালেন ব্লেইন; বললেন, “ও আচ্ছা আরেকটা কথা শাসা, শুক্রবারের রাতের দাওয়াত কিন্তু এখনো উন্মুক্ত আছে। আটটায়। কালো টাই হল ড্রেস কোড। চেষ্টা করে দেখো, ঠিক আছে?”
***
বিছানায় একা শুয়ে আছে সারাহ্ স্ট্যান্ডার। পাশের দোলনায় ছোট্ট মেয়েটা অঘোরে ঘুমোচ্ছে।
ঢং ঢং করে চারটা বাজল টাউন হলের ঘড়িতে। মাঝরাতের পর থেকে প্রতি ঘন্টায় এটার আওয়াজ শুনছে সারাহ্। ভাবল পাশের রুমে গিয়ে বাকি বাচ্চাদেরকে দেখে আসবে। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে রান্নাঘরের দরজা খুলে যেতেই নিঃশ্বাস আটকে শরীর শক্ত করে পড়ে রইল বিছানায়।
ঘরে এসেই বাথরুমে চলে গেল রুলফ। জুতো খুলে আস্তে আস্তে এসে বিছানায় উঠে শুয়ে পড়ল। সারাহ ভাব করল যেন সে ঘুমাচ্ছে। এতটা রাত অব্দি কখনো বাইরে থাকেনি রুলফ। ম্যানফ্রেড আসার পর থেকেই এসব শুরু হয়েছে।
অন্ধকারে শুয়েই আপন মনে সারা ভাবল, “তুমিই যত ঝামেলা ডেকে এনেছে। আই হেইট ইউ ম্যানফ্রেড।”
পাশে শুয়ে রুলফও ছটফট করছে। গড়িয়ে গড়িয়ে যাচ্ছে সময়। এরই মাঝে ছোট্ট মেয়ে কেঁদে উঠতেই দোলনা থেকে ওকে নিয়ে এসে পাশে শুইয়ে দুধ খাওয়াতে লাগল সারাহ। মেয়েকে ঘুম পাড়িয়ে আবারো দোলনায় রেখে আসতেই দেখল রুলফ হাত বাড়িয়েছে। কিন্তু ওর সাথে শারীরিক সম্পর্কে কেন যেন কখনোই আগ্রহ পায় না সারাহ। সে আনন্দটুকুও নষ্ট করে দিয়েছে ম্যানফ্রেড। তবে আজ অন্যদিনের চেয়ে কেমন যেন নিষ্ঠুর আচরণ করল রুলফ। ঠিক পশুর মতই সারাহকে শুষে নিয়ে তলিয়ে গেল গভীর ঘুমে। বাকি রাতটুকুও জেগে রইল সারাহ্।
সকালে আস্তে করে জানতে চাইল, কাল রাতে কোথায় ছিলে?”
সাথে সাথে ক্ষেপে গেল রুলফ; চিৎকার করে বলল, “একদম চুপ। নিজের মুখ বন্ধ রাখো।”
“তুমি বোকার মত অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে” তারপরেও সাহস করে বলে ফেলল সারাহ, “তোমার ঘোট ঘোট তিনটা বাচ্চা আছে রুলফ। তুমি–
“যথেষ্ট হয়েছে।” দাঁত-মুখ খিঁচিয়ে উঠল রুলফ, “এসব পুরুষদের কাজ, তুমি নাক গলিয়ো না।”
আর একটাও কথা না বলে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে গেল রুলফ। ল’ ফ্যাকাল্টির লেকচারার হিসেবেই এখন কাজ করছে। এর ভেতরে আর কোনো ঝামেলা না হলে দশ বছরের মধ্যেই চেয়ারম্যান হয়ে যাবে রুলফ।
যাই হোক ও চলে যাবার পর গৃহস্থালি সামলে ছেলেমেয়েদেরকে নিয়ে হাঁটতে বের হল সারাহ। পথিমধ্যে আরেক অধ্যাপকের স্ত্রীর সাথেও দেখা হল। এরপর যেই না দোকানে গিয়ে বাচ্চাদের জন্য চকলেট কিনছে চোখ গেল কাউন্টারে স্তূপ করে রাখা নিউজ পেপারের হেডলাইনের দিকে।
রাস্তা পেরিয়ে পার্কের বেঞ্চে বসে গতরাতে কারুতে পণ্যবাহী ট্রেন বিস্ফোরণের কথা পড়ল সারাহ। তারপর হাতের পেপারটাকে ভাজ করে বসে বসে খানিক কী যেন ভাবল।
গতকাল লাঞ্চের পরেই বেরিয়ে গেছে রুলফ। রাত দশটার খানিক আগেই স্ফোরণটা হয়েছে। এভাবে দূরত্ব আর সময়ের হিসাব করতেই অজানা আশঙ্কায় মোচড় দিয়ে উঠল পেট। বাচ্চারাসহ তাড়াতাড়ি পোস্ট অফিসের কাছে গিয়ে টেলিফোন বুথে ঢুকল।
