“সব শেষ।” চিৎকার করে খানিক বাদে জানিয়ে দিল রুলফ। “আমরা আর লোড করতে পারব না।”
“আটচল্লিশ মিনিট। ওয়েল ডান, চলো এখন সবাই!”
“তুমি?”
“যাও!” আদেশ দিল ম্যানি।
“আমি আমারটা দেখব।” সবকটা ট্রাক ফার্ম রোডে উঠে হেডলাইট না জ্বালানো পর্যন্ত অপেক্ষা করল ম্যানফ্রেড। কারণ রুল কিংবা বাকিরা যদি ওর এখনকার প্ল্যান জানত তাহলে হয়ত বাধা দেয়ার চেষ্টা করত।
বিস্ফোরক ভর্তি বগির খোলা দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকে গেল ম্যানফ্রেড। আরো প্রায় বগির অর্ধেক সাদা কাঠের বাক্স পড়ে আছে। তার মানে পঁচিশ টন বিস্ফোরক এখনো রয়ে গেছে।
তাই পনের মিনিট পরেই ফেটে যাবে এমনভাবে টাইম সেট করে কেসগুলোর আড়ালে বোমা রেখে দিলো। তারপর লাফ দিয়ে নেমেই দৌড় দিল। গার্ডের ভ্যানে ফেলে রাখা কেউই ওসেয়া ব্রান্ডওয়াগের সদস্য নয়। তাই ওরা পুলিশের কাছে যাবার সম্ভাবনা আছে। এখন আর ওদের জন্য মন খারাপ করে কোনো লাভ নেই। এসব যুদ্ধেরই অংশ। তারপর লোকোমোটিভের ক্যাবে উঠে হুইল ব্রেক খুলে থ্রটলও টেনে দিল। ঝনঝন করে আগে বাড়ল ট্রেন।
মাঝামাঝি জায়গায় থ্রটলটাকে লক করে দিল ম্যানি। তারপর আবার লাফ দিয়ে নিচে নেমে এসে চড়ে বসল নিজের মোটরসাইকেলে।
কিন্তু অপেক্ষা যেন আর ফুরোতে চায় না। একটু পরপর অধৈর্য হয়ে ঘড়িও দেখছে। অবশেষে বহুদূরে উত্তরের দিগন্তে জ্বলে উঠল কমলা রঙা শিখা। শব্দ শুনে মনে হল যেন তীরে আছড়ে পড়েছে ঢেউয়ের সারি।
মোটরসাইকেলে স্টার্ট দিয়ে দক্ষিণে ছুটল ম্যানি। শুরু হিসেবে ভালোই হয়েছে কিন্তু কাজ এখনো অনেক বাকি।
***
শাসাকে তার অফিসের দরজায় দাঁড়িয়ে ইতস্তত করতে দেখে চোখ তুলে তাকালেন ব্লেইন। ছেলেটার গায়ে পরিচ্ছন্ন এয়ারফোর্স ইউনিফর্ম। বুকে মেডেল, কাঁধে ওর র্যাঙ্ক।
“মর্নিং শাসা” মাথা নেড়ে ব্লেইন বললেন, “দশটা বাজে। তোমাকে হুইস্কি দিতে বলব?”
কুঁকড়ে গেল শাসা, “আমি আসলে সেদিনকার আচরণের জন্য ক্ষমা চাইতে এসেছি স্যার। মাথা একদম কাজ করছিল না কেন যেন।”
“বসো।” বুককেসের পাশের চামড়ায় মোড়ানো চেয়ারটা ইশারা করলেন ব্লেইন, “জীবনের কখনো না কখনো আমরা খানিকটা আহাম্মকী করেই থাকি। তবে কৌশলটা হল তুমি কখন করছো নিজে তা বুঝতে পারা। যাই হোক, তোমার ক্ষমা প্রার্থনা গ্রহণ করা হল।”
পায়ের ওপর পা উঁচিয়ে বসলেও সাথে সাথে আবার নামিয়ে নিল শাসা, “আপনি একটা কাজের কথা বলছিলেন স্যার?”
মাথা নেড়ে উঠে দাঁড়ালেন ব্লেইন। আপন মনেই ভাবলেন যা করতে চলেছেন তা ঠিক হবে তো? শাসা কী এই কাজের জন্য একটু বেশিই তরুণ আর অনভিজ্ঞ নয় কি? কিন্তু ইতিমধ্যেই যা ভাবার ভেবে ফেলেছেন। তাই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন।
কালো রঙের একটা প্লেনন ফোল্ডার হাতে নিয়ে বললেন, “এটা কিন্তু হাইলি ক্লাসিফায়েড। অত্যন্ত গোপন আর সেনসিটিভ একটা রিপোর্ট।” ডান হাতে নিয়ে যেন ওজন দেখলেন তারপর শাসার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, “এটা অফিসের বাইরে নেয়া যাবে না। এখানে পড়ো। আমি ফিল্ড মার্শাল সুটের সাথে মিটিংয়ে যাচ্ছি।” শার্টের হাতা গুটিয়ে ঘড়ি চেক করে জানালেন, “এক ঘণ্টার মাঝেই ফিরব। তারপর আবার আমাদের কথা হবে।”
কিন্তু এক ঘণ্টারও আরো অনেক পরে ফিরলেন ব্লেইন। এসে দেখেন যে শাসা তখনো পড়ছে। খোলা ফোল্ডার হাতে নিয়ে ব্লেইনের দিকে তাকাতেই ফুটে উঠল চিন্তার আভাস; ব্লেইন জানতে চাইলেন, “কী বুঝলে?”
“আমিও ওবির কথা শুনেছি। কিন্তু যা পড়লাম এরকম যে হতে পারে সে সম্পর্কে কোনো ধারণাই ছিল না। আমাদের ভেতরেই গোপন আরেকটা সেনাবাহিনি! যদি কখনো আমাদের বিরুদ্ধে যায় তোক মাথা নেড়ে বিস্মিত শাসা জানাল, “একটা বিপ্লব, গৃহযুদ্ধ ঘটে যাবে। অথচ আমাদের সৈন্যেরা সবাই তো উত্তরে।”
“ওরা ইতিমধ্যেই নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছে। নরম স্বরে জানালেন ব্লেইন, “এখন পর্যন্ত গড়পড়তা আফ্রিকানদের মত তারা কেবল নিজেদের মধ্যেই আলোচনা সীমিত রেখেছিল। কিন্তু অতি সাম্প্রতিক কয়েকটা ঘটনায় মনে হচ্ছে নতুন উদ্দেশ্যও দানা বেঁধেছে-” কথা থামিয়ে চুপ করে গেলেন ব্লেইন। তারপর একটু খানিক কী যেন ভেবে বললেন, “এটা মনে হয় বলার কোনো প্রয়োজন নেই যে, এখন আমরা যা আলোচনা করব তা কেবল আমাদের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকবে শাসা। এমনকি খুব কাছের কোনো পরিবারের সদস্যের সাথেও তা শেয়ার করা যাবে না।”
“অফ কোর্স স্যার” মনে হল খানিকটা মর্মাহত হল শাসা।
“টোস নদীর তীরে রেলপথে গত সপ্তাহ দুয়েক আগে ডিনামাইট ভর্তি একটা ট্রেন বিস্ফোরিত হয়েছে শুনেছো?”
“ইয়েস স্যার। বেশ মর্মান্তিক একটা দুর্ঘটনা। ড্রাইভার আর তার ক্রুরাও মারা গেছে।”
“আমাদের কাছে নতুন একটা প্রমাণ আছে। আমাদের বিশ্বাস এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়। ক্রুদের সবাইকে গার্ড ভ্যানে পাওয়া গেছে আর এও প্রমাণ হয়েছে যে, তাদের অন্তত একজনকে হাত-পা বেঁধে ফেলে রাখা হয়েছিল। আর ট্রেন থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকও হাইজ্যাক করা হয়েছে। আর তারপর বাকিগুলোতে বোমা ফাটিয়ে দেয়া হয়েছে যেন চুরি ঢাকা পড়ে যায়।”
আস্তে করে শিস দিয়ে উঠল শাসা।
“আমার ধারণা এটা কেবল সূচনা। নতুন একটা অধ্যায় শুরু হয়েছে যা এখন থেকে নিয়মিত ঘটবে। আর যেমনটা বলেছিলাম কিছু একটা বড়সড় কারণও আছে যা খুঁজে বের করে ধ্বংস করে দিতে হবে।”
