বিস্ফোরক।” এখানে বিশ টন জেলিগনাইট আছে অ্যাংলো আমেরিকান গ্রুপের গোল্ড মাইনের জন্য।
গার্ডদের ভ্যান পাশ কাটিয়ে যেতেই স্টেশন মাস্টারের অফিসে ঢুকে দেয়ালে ঝোলানো টেলিফোনে বিশেষ একটা নাম্বার ডায়াল করল ড্রাইভার।
“সেন্ট্রাল আফ্রিকান ভাষায় জানাল, “আমাকে এগারো মোলতে লাইন দিন।”
খানিক বাদেই কানেকশন জুড়ে দিল অপারেটর; কিন্তু ক্লিক শব্দ করে অপারেটর লাইন থেকে না যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করল ড্রাইভার। তারপর বলল, “ভ্যান নিয়েকার্ক বলছি” “দিস ইজ হোয়াইট সোর্ড।” এই উত্তরটাই শোনার জন্য অপেক্ষা করলেও নামটা শোনা মাত্র ড্রাইভারের গায়ের সব লোম যেন খাড়া হয়ে গেল। বলল, “তেইশ মিনিট লেইট হলেও দুই মিনিট আগে ছেড়ে গেছে। ট্রাকের নাম্বার দুটো হল বারো আর তেরো।”
“ঠিক আছে।”
টেলিফোন রেখে হাতঘড়ির দিকে তাকাল ম্যানফ্রেড ডি লা রে। তারপর তাকাল ফার্ম হাউজের রান্নাঘরে উদ্বিগ্ন মুখে ওর দিকে চেয়ে থাকা দু’জন নারীর দিকে।
“ধন্যবাদ ম্যাডাম।” দুই নারীর মাঝে বর্ষীয়ান যিনি তার উদ্দেশে ম্যানি বলল, “আপনার সাহায্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। কথা দিচ্ছি এর জন্য আপনাকে কোনো ঝামেলায় পড়তে হবে না কখনো।”
“কী যে বলো বেটা” গর্বের ভাব ফুটে উঠল বৃদ্ধার কণ্ঠে, “৯৯ সালে তো আমার ফার্ম পুড়িয়ে স্বামীকেও মেরে ফেলেছিল রুনিক্কি।”
গোলাঘরের পেছনেই মোটরসাইকেল পার্ক করে এসেছে ম্যানফ্রেড। স্টার্ট দিয়ে বাইকে চড়ে মাইলখানেক আসতেই পৌঁছে গেল মেইন রোডে। উত্তরে মোড় নিয়ে আবার কয়েক মাইল যেতেই দেখা গেল পাশাপাশি চলছে রেললাইনের উপরে ট্রেন আর মেইন রোডে ম্যানি। পাথুরে একটা পাহাড়ের নিচে পরস্পরকে ছেদ করে যাবে রেলপথ আর সড়ক পথ।
মোটরসাইকেল থামিয়ে রাস্তা চেক করে দেখল ম্যানফ্রেড। আশপাশে কাক-পক্ষীও নেই। তারপর আরেকটা রাস্তা ধরে চলে এল পাহাড়ের পেছনে। রেলপথও এপাশ দিয়েই গেছে। তাছাড়া বুড়ির ফার্ম হাউস থেকে যথেষ্ট দূরে থাকায় কারো সন্দেহও হবে না। পাহাড় বেয়ে উঠে আসায় হাঁটার গতিতে এগোচ্ছে ট্রেন।
সামনেই কাটা ঝোঁপের আড়ালে লুকিয়ে রাখা হয়েছে তিন টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন চারটা ট্রাক। একটা আবার দশ টনী। রেলওয়ে লাইন থেকে একশ’ কদমের মত দূরত্বে ঘাসের ওপর, ট্রাকের পাশে শুয়ে-বসে বিশ্রাম নিচ্ছে তার লোকজন। কিন্তু যেই না মোটরসাইকেলের আওয়াজ হল, সাথে সাথে সোজা হয়ে দাঁড়াল সবাই। ম্যানফ্রেডকে দেখে আগ্রহ নিয়ে ওর চারপাশে ভিড় করে দাঁড়াল। রুলফ স্ট্যান্ডার হল ওদের লিডার।
“সাড়ে নয়টায় এখানে পৌঁছে যাবে। বগি নাম্বার বারো আর তেরো। কাজ সেরে ফেলল।”
বাকিদেরকে রেখে ম্যানফ্রেড আর রুলফ এগোল রেলপথের দিকে। ট্রেনটাকে থামাবার দায়িত্ব ম্যানির; যেন বগি দুটো তার লোকদের সামনেই থামে।
ঠিক সেই পয়েন্টে এসে ফিশ প্লেটের নিচে বোমা ফিট করে ফেলল ম্যানফ্রেড। তারপর ফিরে এসে লাল রঙের ফ্লেয়ার বসিয়ে ফেলল। এ কাজ করতে করতেই সন্ধে হয়ে যাওয়ায় পরের কাজে হাত দিল দু’জনে। বাকি দলকেও যার যার জায়গায় পাঠিয়ে দেয়া হল। সবার হাতে শটগান আর এনফিল্ড রাইফেল হলেও ম্যানফ্রেড আর রুলফ ইউ বোটের ক্যানিস্টারে চেপে আসা জার্মান লুগার নিয়েছে।
এবার অপেক্ষার পালা। সবার আগে ম্যানফ্রেডই শুনতে পেল। বেশ দূরে থাকলেও রাতের অন্ধকারে গুঞ্জন শুনলেই হুইসেলে তিনবার শব্দ করে সবাইকে সতর্ক করে তুলল। মুখে ফেস মাস্ক পরে রেলওয়ে লাইনের ঘাসের জমিতে অপেক্ষা করছে পুরো দল।
ঢালুর ওপর দিয়ে আসার সময় খানিকটা ধীর হয়ে গেল ট্রেনের গতি। আস্তে আস্তে এগিয়ে এসে পা রাখল প্রথম ফ্লেয়ারে। সাথে সাথে তার জ্বলে আলোকিত হয়ে উঠল আশপাশের পঞ্চাশ গজ এলাকা।
ব্রেকের ধাতব কিচকিচ আওয়াজ শুনেই হাঁফ ছাড়ল ম্যানফ্রেড। উপস্থিত বুদ্ধিতেই ট্রেন থামিয়ে দিয়েছে ড্রাইভার। জ্বলে উঠল দ্বিতীয় ফ্লেয়ার।
চট করে লাফ দিয়েই বিস্মিত ড্রাইভার আর তার ফায়ারম্যানের দিকে সুগার তাক করল ম্যানফ্রেড।
“ট্রেন থামাও! হেডলাইট বন্ধ করো!” মুখোশের আড়ালে চিৎকার করে আদেশ দিল, তারপর নিচে নেমে আসো।”
ব্রেক লক করে হাত মাথার উপরে তুলে নিচে নেমে এল রেলওয়ে ড্রাইভার। সাথে সাথে তাদেরকে মার্চ করে বেঁধে ফেলা হল। তারপর পেছন দিকে দৌড় দিল ম্যানি। কিন্তু ততক্ষণে রুলফের লোকজন জোর করে বগি দুটোর দরজা খুলে জেলিগনাইটের কাঠের বাক্স হাতে হাতে করে প্রথম লরিটাতে তোলা শুরু করে দিয়েছে।
“ট্রেনের পেছনকার গার্ড কোথায়?” জানতে চাইল ম্যানফ্রেড।
“বেঁধে ফেলেছি।” উত্তরে জানাল রুলফ। আবার দৌড়ে ট্রেনের মাথায় চলে এল ম্যানফ্রেড। তাড়াতাড়ি করে বাকি বোমাগুলো তুলে ফেলল। কাউকে গুলি করতে হয়নি দেখে বলা যায় খুশিই হয়েছে। আবার যখন পিছনে এল তখন প্রথম লরি পুরো ভরে গেছে।
“নিয়ে যাও!” রুলফের আদেশে ট্রাক চালিয়ে চলে গেল একজন।
দ্বিতীয় ট্রাক এগিয়ে আসতেই সেটাও ভর্তি করা শুরু হল।
ঘড়ি দেখল ম্যানফ্রেড, “বারো মিনিট।” শিডিউল থেকে এগিয়েই আছে।
ড্রাইভার, গার্ড আর ফায়ার ম্যানকে গার্ডের ভ্যানে বেঁধে আটকে রাখায় কাজ আরো দ্রুত এগোল।
