“কিন্তু স্মুট তো ব্যক্তিগত সমস্ত অস্ত্রও নিয়ে নিয়েছে। হঠাৎ করেই বক্তৃতার মাঝখানে একজন বলে উঠল, “স্পোর্টিং রাইফেল, শটগান সব জমা নিয়েছে। ফলে অস্ত্র ছাড়া কোনো আন্দোলন তো সম্ভব নয়।”
“আপনি মূল সমস্যাটাই বুঝতে পেরেছেন ইতিমধ্যে।” সম্মতি জানিয়ে ম্যানি বলল, “সফলতার জন্য আমাদের টাকা আর অস্ত্র দরকার। সেগুলোও আমরা পেয়ে যাব।”
“জার্মানি দেবে?”
“না।” মাথা নাড়ল ম্যানফ্রেড। বলল, “এই আইডিয়া বাদ দেয়া হয়েছে। দূরত্ব বেশি হওয়াতে খরচ আর ঝুঁকিও আছে। কিন্তু যেই মুহূর্তে আমরা বন্দরের দখল নিয়ে নিব, তৎক্ষণাৎ ইউ বোট নিয়ে পৌঁছে যাবে জার্মান নেড়ি। এর পরিবর্তে আমরা আমাদের বন্দরগুলো জার্মানিদেরকে ব্যবহারের অধিকার দিব, ব্রিটিশদেরকে নয়।
“তাহলে আমরা আন্দোলনের জন্য অস্ত্র পেয়ে যাব?”
“কোথায়?”
“জ্যান স্মুটের কাছ থেকে।” অস্বস্তিতে পরস্পরের দিকে তাকালেন ম্যানফ্রেডের দর্শক।
“আপনাদের অনুমতি পেলেই আমি ছোট্ট একদল চৌকশ গ্রুপকে এ কাজের জন্য প্রশিক্ষণ দিব। তারপর সরকারের অস্ত্রশালায় অতর্কিত হামলা চালিয়ে সব নিয়ে আসব, একইভাবে অর্থ ব্যাংক থেকে।”
পুরো ব্যাপারটার বিশালতা আর এর জন্য প্রয়োজনীয় সাহসের কথা উপলব্ধি করে বিস্মিত হল সবাই। চুপচাপ শুনল ম্যানফ্রেডের বাকি বক্তব্য;
“খুব দ্রুত আমাদেরকে কাজ সারতে হবে। অস্ত্র পাওয়ার সাথে সাথে তা সবাইকে দিয়ে দিতে হবে। আর তারপর সিগন্যাল পেলেই শুরু হবে আন্দোলন। চল্লিশ হাজার দেশপ্রেমিক পুলিশ আর আমিসহ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, রেলওয়ে, বন্দর সমস্ত কিছুর দখল নিয়ে নিবে। এসব জায়গাতে এরই মাঝে আমাদের লোক মোতায়েন করা হয়েছে। আগে থেকেই নির্ধারিত একটা সিগন্যাল পেলেই সবকিছু শুরু হয়ে যাবে।”
“কী হবে এই সিগন্যাল?” জানতে চাইলেন-ওবি’র কমান্ডার।
“এমন একটা কিছু যা পুরো দেশের মাথা ঘুরিয়ে দিবে কিন্তু এত তাড়াতাড়ি তা বলার সময় আসেনি। তবে এটুকু বলা প্রয়োজন যে সিগন্যাল বাছাই করাসহ কে দিবে সেটাও ঠিক হয়ে গেছে। সিরিয়াস ভঙ্গিতে কমান্ডারের দিকে তাকাল ম্যানি;
“আমাকে দেয়া হয়েছে এ সম্মান। এই কাজের জন্য প্রশিক্ষণ থাকাতে আমি একাই সবকিছু করব। এরপর আপনাদের কাজ হবে লাগাম ধরে আমাদের সহায়তা জার্মানিকে পৌঁছে দেয়া আর আমাদের জনগণের প্রাপ্য মাহাত্ম তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া।”
চুপচাপ খানিকক্ষণ লোকগুলোর অভিব্যক্তি পরীক্ষা করে দেখল ম্যানি। দেশপ্রেমের আগুনে ধকধক করে জ্বলছে সবার চোখ।
“জেন্টলম্যান তাহলে কী আমি কাজ শুরু করতে পারি?” একে একে প্রত্যেকের দিকে তাকালেন কমান্ডার। সকলেই মাথা কাত করে সায় দিলেন।
তারপর ম্যানফ্রেডের দিকে তাকালেন কমান্ডার, “আমাদের সম্মতি আর আশীর্বাদ রইল তোমার সাথে। ব্রাদারহুডের প্রতিটি সদস্যই যেন তোমাকে সহযোগিতা করে সেটা দেখার দায়িত্ব আমার।”
ধন্যবাদ জেন্টলম্যান” আস্তে করে ম্যানফ্রেড জানাল, আর এখন আমি আপনাদেরকে হিটলারের মাইন ক্যাম্প থেকে অংশ বিশেষ পড়ে শোনাচ্ছি। “হে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, সময় এলে আমাদেরকে আশীর্বাদ করো। আমাদের প্রাপ্য মুক্তি আমাদেরকে দাও।”
“আমেন!” বুকের উপর মুষ্টিবদ্ধ হাত রেখে ওবি স্যালুট করলেন সকলে। “আমেন!”
***
রাস্তার পাশেই ভোলা জায়গায় পড়ে আছে সবুজ জাগুয়ার। দেখে মনে হচ্ছে। বহুদিন কেউ এটাতে চড়েনি। যেন গাড়িটা এখানেই পড়ে থেকেছে।
এর পেছনেই নিজের বেন্টলি পার্ক করে চূড়ার কিনারে গেলেন ব্লেইন ম্যালকম। পথটা ভয়ংকর নয়। জ্যাকেট খুলে বেন্টলিতেই রেখে দিলেন। এতটা পথ চড়লে নিশ্চয়ই গরম লাগবে। গাড়ির দরজা লক করে পথে নামলেন। আজ সেনটেইন অনুনয় করেছেন বলে নয় বরঞ্চ শাসা কোর্টনির জন্য তার মমতৃবোধ আর দায়িত্ব থেকেই এসেছেন ব্লেইন।
এর আগে অনেকবারই ভেবেছেন যে, শাসা হয়ত তার সৎ ছেলে কিংবা জামাতা কিছু একটা হবেই হবে। কিন্তু আজ সত্যিই অনুতাপ, না মন খারাপই হল যে এর একটাও এখন পর্যন্ত সত্যি হল না।
ইসাবেলা মারা গেছে প্রায় তিন বছর। কিন্তু এখনো তিনি সেনটেইনকে বিয়ে করেননি। এখনো মনে আছে যে সেই রাতে ইসাবেলার সাথে কথা বলার পর কতটা ভেঙে পড়েছিল সেনটেইন। যোগাযোগও বন্ধ করে দিয়েছিল। এমনকি এর পরে আবার সবকিছু স্বাভাবিক হলেও মৃত্যুপথযাত্রী ইসাবেলা যে তাকে কী বলেছিল তা আর কখনোই বলেননি সেনটেইন। কেন যে সেদিন সেনটেইনকে ডেকেছিলেন তা ভাবতে গিয়ে আজও শরমে মরে যান ব্লেইন। প্রায় এক বছর লেগেছে সেনটেইনকে আবারো আগেকার রূপে ফিরে পেতে।
যাই হোক, এরপর তো বিয়ের নামও শুনতে পারে না সেনটেইন। এমনকি ব্লেইন কয়েকবার চেষ্টাও করেছেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। ঠিক যেন ইসাবেলা বুঝি এখনো কোনো জাদুবলে জীবিত আছেন তাদের দুজনের মাঝে।
তাছাড়া শাসা আর তারাও আছে। দু’জনেই যেন অন্ধকারে হাতড়ে বেড়াচ্ছে দু’জনের হাত। সেই প্রথমবারেই ছেলেমেয়ে দুজনের পরস্পরের প্রতি ভালোবাসার কথা টের পেয়েছেন ব্লেইন; অথচ প্রতিবার তারা নিজেরাই একে অন্যকে আঘাত করে ভুলে যায় এর গভীরতা। এর পেছনে আর কিছু নয়, কাজ করে অহমিকা আর আত্মাভিমান। কিন্তু এটাও বুঝতে পারছে না যে দু’জনে অন্যজনকে ছাড়া অসম্পূর্ণ।
