“আপনি ওখানে যেতে পারবেন না স্যার” পতাকা উঠিয়ে জাগুয়ারকে থামিয়ে দিল এক পুলিশ। “ওখানে কাউকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। কালো বেজন্মার দলেরা দেখলেই ইট ছুড়ছে আর সবকিছুতে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে।”
সার্জেন্ট, আমি এই মাত্রই একটা মেসেজ পেয়েছি যে আমার বাগদত্তা ওখানে আছে। সে অনেক বিপদের মাঝে আছে, প্লিজ আমাকে ওর কাছে যেতে দিন।”
“আমাকে উপর থেকেই অর্ডার দেয়া হয়েছে স্যার আয়্যাম সরি।” ব্যারিকেডের ওপাশে চারজন হল কৃষ্ণাঙ্গ মিউনিসিপ্যাল পুলিশ।
“সার্জেন্ট এখন যদি আপনার নিজের স্ত্রী কিংবা মা হত তাহলে আপনি কী করতেন?
চোরা চোখে চারপাশে তাকাল সার্জেন্ট, “ঠিক আছে, স্যার। এক মিনিটের জন্য রোড ব্লক তুলে আমরা আপনার দিকে পিঠ দিয়ে দাঁড়াবো। তবে আপনাকে আমরা কখনোই দেখিনি, কিংবা আপনার সম্পর্কে কিছু জানিও না, ঠিক আছে?”
পরিত্যক্ত রাস্তায় পড়ে আছে একগাদা আবর্জনা, ভাঙা ইট আর কাঁচের টুকরা। চারপাশের ধ্বংসলীলা দেখে আরো জোরে গাড়ি ছোটাল শাসা। মাঝে মাঝে গলির ভেতরে এক দু’জন মানুষকে দেখা গেলেও কেউই ওকে বাধা দিল না। অবশেষে ভিক্টোরিয়া রোডে পৌঁছে স্বস্তি পেল শাসা। সোজা পুলিশ স্টেশনে চলে এল।
“তারা ম্যালকমস” নামটা শুনেই চিনে ফেলল ফ্রন্ট ডেস্কের সার্জন। “ইয়েস, আমরা তাকে ভালোভাবেই চিনি। কারণ আমার চারজন লোক লেগেছে তাকে এখানে আনতে।”
“চার্জ কী ওর বিরুদ্ধে সার্জেন্ট?”
“দাঁড়ান বলছি” খাতার উপর চোখ বোলাল সার্জেন্ট, “অবৈধ সমাবেশ, ইচ্ছেকৃতভাবে সম্পত্তি বিনষ্ট করা, অকথ্য ভাষার ব্যবহার, পুলিশকে নিজ দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়া।”
“আমি ওর জন্য বেইল চাইছি।”
“এর জন্য কিন্তু স্যার বিস্তর পয়সা খরচ করতে হবে বলে দিচ্ছি।”
“ওর পিতা হলেন কেবিনেট মিনিস্টার ব্লেইন ম্যালকমস।”
“ওয়েল আগে বলবেন না? ঠিক আছে, দাঁড়ান, দেখছি কী করা যায় স্যার।”
কারাগারের গরাদের ফাঁক দিয়ে তাকাতেই দেখা গেল তারার চোখ দুটো কালো হয়ে আছে। চুলগুলোও উষ্কখুষ্ক; পরনের টিশার্ট ছেঁড়া।”
“হিউবার্টের কী খবর?” শাসাকে দেখেই জানতে চাইল তারা।
“তাতে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই।”
“তাহলে ওকে ছাড়া আমিও এখান থেকে এক পাও নড়ব না।”
মেয়েটার ম্যাডোনার মত দৈহিক সৌন্দর্য দেখে আবারো দীর্ঘশ্বাস ফেলল শাসা। তার মানে তাকে এখন একশ’ পাউন্ড খরচ করতে হবে। পঞ্চাশ তারা আর পঞ্চাশ হিউবার্টের জন্য।
“ওকে লিফট দেয়ার কথাও বলো না কিন্তু আবার। ছোটখাটো বলশেভিকটার জন্য পঞ্চাশ পাউন্ডই যথেষ্ট হয়েছে। এখান থেকে পায়ে হেঁটেই নিজের গর্তে ফিরতে পারবে এখন।” ঘোষণা করল শাসা।
গোমড়া মুখে হাত দুটো ভাজ করে বুকের উপর রেখে জাগুয়ারের সামনে সিটে উঠে বসল তারা। পেছনের টায়ার থেকে নীল ধোয়া তুলে অকারণে খানিকটা জোরেই গাড়ি ছোটাল শাসা।
দক্ষিণের দিকে না গিয়ে গাড়ি নিয়ে চলে এল ডেভিডস পীক’-এ। এমন জায়গায় দাঁড় করাল যেখানে থেকে দেখা যাচ্ছে ডিস্ট্রিক্ট সিক্সের ধোঁয়ায় ঢাকা কালো আকাশ।
“কী করছো তুমি?” শাসা ইঞ্জিনের সুইচ অফ করতেই জানতে চাইল। তারা।
“নিজের কৃতকর্মের উপরে একবার চোখ বোলাতে চাও না?” শীতল স্বরে জানতে চাইল শাসা; “যা পেয়েছে তাতে নিশ্চয়ই খুব গর্ববোধ করছে।”
অস্বস্তিতে নিজের সিটে নড়েচড়ে বসল তারা। “এসব আমরা করিনি। ও পাড়ার গ্যাংস্টারদের কাজ।”
“মাই ডিয়ার তারা, বিপ্লব আসলে এভাবেই কাজ করে। অপরাধীকে ধ্বংসলীলায় উৎসাহ দেয়া হয় যেন আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নষ্ট হয়ে যায়। আর তখন নেতারা এসে বিপ্লবীদেরকে আবার মেরে ফেলে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে। তুমি তোমার হিরো লেনিনের লেখা পড়োনি?”
“এটা পুলিশেরই ভুল ছিল—
“হ্যাঁ, ব্যাপারটা সবসময় পুলিশেরই ভুল থাকে; এটাও লেনিনেরই শিক্ষা।”
“না, তা নয়।
“চুপ” তারার উদ্দেশে খেঁকিয়ে উঠল শাসা, “একবারের জন্য হলেও চুপ থেকে আমার কথা শোনো। এখন পর্যন্ত তোমার জোয়ান অব আর্কের মত হাবভাব আমি সহ্য করে গেছি। কারণ আমি তোমাকে ভালোবাসি। কিন্তু যখন থেকে তুমি লোকজনের বাড়ি জ্বালিয়ে ইট আর বোমা মারা শুরু করলে ব্যাপারটা কিন্তু আর ছেলেখেলার পর্যায়ে নেই।”
“আমাকে চোখ রাঙানোর চেষ্টা করবে না।” পাল্টা তেড়ে এল তারা।
“দেখো তারা, আগুন আর ধোয়ার দিকে তাকাও। তুমি ওদের জন্যই দরদ দেখাবার ভান করো। তাদেরকেই নাকি সাহায্য করতে চাও। এখন আবার তাদের বাড়ি আর ঘরেই তুমি আগুন দিলে।”
“আমি তো ভাবিনি যে—”।
“না, সেটাই। তবে আমি এখন যা বলবো সেটা দয়া করে স্মরণ রেখো। আমার ভালোবাসার এই ভূমিকে যদি তুমি নষ্ট করার চেষ্টা করো আর এর মানুষকে কষ্ট দাও তাহলে কিন্তু তোমার সাথে আমার শত্রুতা শুরু হয়ে যাবে আর এর জন্য জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমি লড়াই করব।”।
দীর্ঘক্ষণ চুপ করে রইল তারা। অন্যদিকে ঘুরিয়ে তাকিয়ে আছে। তারপর একটু বাদে নরম স্বরে বলল, “আমাকে বাড়িতে নিয়ে যাবে, প্লিজ?”
বহু রাস্তা ঘুরে অবশেষে নিউল্যান্ডে ম্যালকস হাউজের সামনে এল জাগুয়ার। পথিমধ্যে শাসা কিংবা তারা কেউ কোনো কথা বলল না।
“হয়ত তুমি ঠিকই বলেছো। হয়ত আমরা আসলেই পরস্পরের শত্রু।” জাগুয়ার থেকে বের হয়ে ড্রাইভারের সিটে বসে থাকা শাসার দিকে তাকাল তারা। তারপর নরম স্বরে বলল, “গুডবাই, শাসা।
