“আমি মাকে বলেছি।”
“ও আচ্ছা।
হাসছে ম্যাটি। ভাবছে ব্যাপারটা বুঝি খেলা, “তারপর তুমি বলবে কিন্তু ম্যাটি তুমি তো এখনো বাচ্চা একটা মেয়ে।”
“আর তুমি বলবে, না আমি পরের জন্মদিনেই আঠারো হব।” উত্তর দিলেন ব্লেইন।
“তখন আবার গম্ভীর হয়ে বলবে, ডেভিডের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?”
আর তুমি বলবে, “ডেভিড এ বছরের শেষ থেকেই কোর্টনি মাইনিং অ্যান্ড ফিন্যান্সে যোগ দিয়ে বছরে দুই হাজার আয় শুরু করবে।”
“তুমি কীভাবে জানলে-” এবারে বিস্মিত হয়ে বাবার দিকে তাকাল ম্যাথিল্ডা, “ডেভিড তো শুধু আমাকে বলেছে।” আচমকাই থেমে গেল মেয়েটা। বুঝতে পেরেছে বাবার সোর্স কে। এমনি কিছু না বললেও সেনটেইন কোর্টনির সাথে বাবার সম্পর্ককে সে মোটেও পছন্দ করে না।
“তুমি কী ওকে ভালোবাসো ম্যাটি?”
“ইয়েস ড্যাডি; পাগলের মত।”
“আর এরই মাঝে মায়ের অনুমতিও পেয়ে গেছে, এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত।”
অপরাধীর ভঙ্গিতে মাথা নাড়ল ম্যাথিল্ডা। চুরুট হাতে নিয়ে চিন্তিত ভঙ্গিতে তাকালেন ব্লেইন, “ব্যাপারটা কিন্তু এত হালকাভাবে নেয়ার মত বিষয় নয়, ম্যাটি।”
“আমি নিচ্ছিও না। আমি ডেভিডকে দু’বছর ধরে চিনি।”
“আমি আরো সবসময় ভেবেছি তুমি হয়ত ক্যারিয়ার
“আমার ক্যারিয়ার হবে ডেভিডকে খুশি করা আর ওকে একগাদা ছেলেপুলে দেয়া ড্যাডি।”
চুরুটে আগুন ধরালেন ব্লেইন, ওয়েল, তোমার ডেভিডকে তাহলে আমার কাছে পাঠাও। আমি ওকে সাবধান করে দিব যে আমার ছোট্ট মেয়েটার খেয়াল না রাখলে ওর কপালে কী কী ঘটতে পারে।”
সাথে সাথে ডেস্কের এ পাড়ে এসে বাবার কোলে উঠে গলা জড়িয়ে ধরল ম্যাথিল্ডা, “তোমার মত এত ভালো বাবা আর কারো নেই।”
***
বিয়েতে যোগ দেয়ার জন্য র্যাপিড নিয়ে উইন্ডহকে গিয়ে অ্যাবি আব্রাহামস আর তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে এল শাসা আর ডেভিড। বাকি আত্মীয়-স্বজন আর বন্ধুরা এল ট্রেনে।
রিসেপশন পার্টিতে তারা ম্যালকম্সের সাথে তেতো হয়ে যাওয়া সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ পেয়ে গেল শাসা। বার্লিন অলিম্পিকস’র পর থেকে গত দুই বছরে তাদের সম্পর্ক যেন এই রোদ এই বৃষ্টির মতন হয়ে আছে। প্রায় প্রতিটি বিষয়েই দু’জন পরস্পরের বিরুদ্ধে মত দেয়।
তারার চোখে সুবিধাবাদী শ্বেতাঙ্গ শাসক শ্রেণির ধনীর দুলালেরা খুবই বিরক্তকর। কারণ যখন হাজার হাজার কৃষ্ণাঙ্গ ছেলে অপুষ্টিতে ভোগে তখন সেসব ধনীর ছেলেরা পোলো খেলে, টাইগার মথ প্লেন চালায়। শক্তিশালী রাইফেল দিয়ে বন্যপশু মেরে ফেলার মাঝেও কোনো “স্পোর্টসম্যানশিপ” খুঁজে পায় না তারা।
অন্যদিকে, শাসা ভেবেই পায় না যে দেবীর মত রূপ নিয়ে একটা তরুণী মেয়ে কেমন করে দিন-রাত বইয়ে মুখ গুঁজে পড়ে থাকে। কিংবা শহরতলীর বস্তিতে ঘুরে বেড়ায়। এদিকে আবার মেডিক্যালের বলশেঙ্কি স্টুডেন্টগুলোকেও তার ঘোরতর অপছন্দ। কারণ ডিসেন্ট্রি, টিউবার কিউলোসিস, সিফিলিস রোগীদের মাঝে এদের সাথেই নার্স হিসেবে স্বেচ্ছা সেবকের কাজ করে তারা।
আসিসির সাধু ফ্রান্সিস ভাগ্যবান যে তখন তুমি ছিলে না। নয়তো দু’জনে প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে যেতে।” ঠাট্টা করে বসে শাসা।
তবে এসব তো কিছুই নয়। সত্যিকারে ঝামেলা বাধে যখন তারা ম্যালকমসের সতীত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে শাসা, “ঈশ্বরের দোহাই তারা, এটা বিংশ শতাব্দী। রানি ভিক্টোরিয়াও সেই সাইত্রিশ বছর আগে মারা গেছেন।”
“ইতিহাস শিক্ষা দেয়ার জন্য ধন্যবাদ শাসা কোর্টনি। কিন্তু আর একবার যদি তুমি আমাকে স্পর্শ করার চেষ্টা করো তাহলে কিন্তু তোমার হাত ভেঙে তিন টুকরো করে দিব, বলে দিলাম।”
“নিজেকে তুমি এত স্পেশাল ভাবো কেন হ্যাঁ? আরো কত সুন্দর মেয়েরা ঘুরে বেড়াচ্ছে”
“তো ঠিক আছে। ওদের দিকেই মনোযোগ দাও। আমাকে নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে কেন?”
“আজ পুরো সন্ধ্যায় এই একটাই ভালো কথা বললে।”
শীতল এক ধরনের ক্রোধমাখা কণ্ঠে কথাগুলো বলেই নিজের জাগুয়ার স্পোর্টস কার চালিয়ে নিয়ে এসেছে শাসা। থামল এসে ম্যালকম গৃহের জোড়া সদর দরজার সামনে।
“আমার জন্য দরজা খুলে দেয়ার কোনো দরকার নেই।” সমান মাত্রায় শীতল কণ্ঠে জানিয়ে দিয়ে গাড়ি থেকে নেমে গেল তারা। যাওয়ার আগে এত জোরে ঠাশ করে দরজা বন্ধ করল যে জ কুঁচকে ফেলল শাসা।
এটাও প্রায় দু’মাস আগের ঘটনা। তারপর থেকে অবশ্য এমন একটা দিনও যায়নি যে শাসা মেয়েটার কথা ভাবেনি।
গরমে ঘামতে ঘামতে হানি মাইনে কাজ করা কিংবা অরেঞ্জ নদীর ওপর দিয়ে যাওয়ার সময়ে বিনা নোটিশে আচমকাই মনে পড়ে যেত তারার চেহারা।
কালাহারির ওপর দিয়ে টাইগার মথ চালিয়ে মেয়েটার স্মৃতি ভুলতে চাইলেও কোনো লাভ হত না। মরুভূমির বন্যতায় সিংহ শিকার কিংবা কোর্টনি কোম্পানির হিসাব মেলাবার সময়েও অমোঘ একটানে যেন বারবার ভেসে উঠত তারার স্মৃতি।
এবার ওর বোনের বিয়েতে এসে দেখা গেল যে হেয়ার স্টাইল বদলে ফেলেছে তারা। একেবারে খাটো করে ফেলায় উক্ত হয়ে গেছে নগ্ন ঘাড়। তাতে যেন আরো বেড়ে গেছে ওর উচ্চতা আর দৈহিক সৌন্দর্য।
এক মুহূর্তের জন্য শাসার সাথে তারার চোখাচোখি হতেই মনে হল যেন জ্বলে উঠল মেয়েটার চোখ। বোঝা গেল সেও শাসাকে মিস্ করেছে। যদিও হালকাভাবে একবার মাথা নেড়েই সাথে সাথে পাশের ছেলেটার সাথে কথা বলায় মগ্ন হয়ে গেল তারা।
