আর যায় কোথায়! হুঙ্কার তুলে ডান হাত দিয়ে সোজা শাসার নাক বরাবর ঘুসি চালাল সার্জেট। শাসা চট করে নিচু হয়ে গেলেও মদের নেশায় টাল হারিয়ে হুড়মুড় করে টেবিলক্লথ হাতে পেঁচিয়ে মেঝেতে পড়ে গেল। ঝনঝন ঝনঝন শব্দে ভেঙে গেল গ্লাস। শ্যাম্পেনের বোতল গড়িয়ে আশপাশে ভেসে গেল ওয়াইন। সব স্টর্ম ট্ৰপার একসাথে ঝাঁপিয়ে পড়ে শাসার মাথা আর শরীরে মারতে লাগল ঘুসির পর ঘুসি।
কিন্তু ডেভিড যেই না ওকে সাহায্য করতে যাবে, পেছন থেকে ওকে টেনে ধরল আরেকজন ট্রুপার। ডান হাতটাকে কোনো মতে ছাড়িয়েই লোকটার নাক বরাবর আঘাত করল ডেভিড। ফলে ট্র্যপারটা ওকে ছেড়ে নিজের নাক চেপে ধরলেও অন্য দু’জন এসে ডেভিডের হাত মুচতে দিল পেছন দিকে।
“ওকে ছাড়ো” চিৎকার করে একজনের কাঁধ বরাবর লাফ দিয়ে লোকটার চুল টেনে ধরল ম্যাথিল্ডা, “ডেভিডকে ছাড়! শুয়োর কোথাকার!”
মেয়েদের চিৎকার আর ফার্নিচার ভাঙার আওয়াজ পেয়ে রান্নাঘরের দরজায় এসে বিষণ্ণ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে রইল শপের মালিক।
“শাসা কোর্টনি” প্রচণ্ড ক্ষেপে গেছে তারা, “তুমি বদমাশ ডাকাতদের মত করছে। এক্ষুণি বন্ধ করো এসব।”
কিন্তু একদল বাদামি ইউনিফর্মের নিচে আসলে চাপা পড়েছে শাসা। সমানে দু’হাতে কিল ঘুসি চালাচ্ছে। তাই তারার কথার উত্তরও দিতে পারল না। অন্যদিকে স্ট্রিট ফাইটিংয়ে তো ট্রুপাররা এমনিতেই দক্ষ।
এদিকে ম্যাথিল্ডাকে তুলে রুমের এক কোনায় ছুঁড়ে মারল একজন আর তিনজন মিলে শাসাকে তুলে হাত পিছমোড়া করে বেঁধে নিয়ে চলল কিচেনের দিকে।
তাড়াতাড়ি একপাশে সরে দাঁড়িয়ে ওদেরকে পথ ছেড়ে দিল কফি শপের মালিক। তারপর শাসা ও ডেভিডকে পিছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে গলিতে নিয়ে গেল লোকগুলো।
কাউকে কোনো কিছু বলতে হল না। এ ধরনের খেলা তারা আগেও বহুবার খেলেছে। তাই প্রফেশনালদের মতই দুই বন্দিকে দেয়ালের সাথে দাঁড় করিয়ে একের পর এক লোক টুপার গিয়ে পালাক্রমে মারল মুখ থেকে শুরু করে সারা শরীরে।
ওদের পিছু নিয়ে ম্যাথিল্ডাও বেরিয়ে গিয়ে চেষ্টা করল কিছু করতে। কিন্তু আলতো এক ধাক্কা খেয়েই উড়ে এসে পড়ল ডাস্টবিনের ওপরে।
এদিকে মালিকের সাথে এসে রাগারাগি করছে তারা, “পুলিশকে ডাকুন। এক্ষুণি। ওরা তো দু’জন নিরপরাধ মানুষকে মেরে ফেলছে!”
কিন্তু অসহায় ভঙ্গিতে কেবল মাথা ঝাঁকালো মালিক, “কোনো লাভ নেই ফ্রাউলেন, পুলিশ আসবে না।”
মার সহ্য করতে না পেরে দু’ভাজ হয়ে গড়িয়ে পড়ে গেল শাসা। সে অবস্থাতেই তিনজন ট্রুপার মিলে সমানে ওর বুক আর পেটে মারল জ্যাক বুটের লাথি।
অন্যদিকে ডেভিডকে মারতে মারতে ক্লান্ত হয়ে হাপাতে লাগল আরেক ট্রুপার। এবার পিছিয়ে এসে পরীক্ষা করে দেখল যে কতটা মেরেছে। অবশেষে ফাইনাল এক আপার কাট বসালো ছেলেটার দুলতে থাকা মাথায়। আঘাতের চোটে পিছনের দেয়ালে ঠকে গেল ডেভিডের মাথা। দু’জন এরপর দু’পাশ থেকে ছেড়ে দিতেই সশব্দে রাস্তার উপর পড়ে গেল ডেভিড। .
সেভাবেই পড়ে রইল বেচারা। জ্যাক বুটের লাথি এড়ানোর জন্য নড়াচড়ার শক্তিটুকুও শরীরে নেই। ফলে আগ্রহ হারিয়ে নিজেদের টুপি আর ব্যানার গুছিয়ে হেলেদুলে গলি পেরিয়ে দু’জন পুলিশ কনস্টেবলের পাশ দিয়ে গলি থেকে বেরিয়ে চলে গেল স্ট্রম ট্রুপারদের দল।
ম্যাথিল্ডা তাড়াতাড়ি ডেভিডের পাশে বসে কোলে তুলে নিল ওর থেতলানো মাথা।
“আমার সাথে কথা বলো ডেভিড” ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল মেয়েটা। তারাও তাড়াতাড়ি ভেজা একটা কাপড় নিয়ে রান্নাঘর থেকে ছুটে এসে শাসার পাশে বসে পড়ল। একই সাথে এটাও খেয়াল রাখল যেন শাসা ওর উদ্বেগ দেখে না ফেলে।
বেশ কয়েক মিনিট পরে আবার আস্তে আস্তে দুজনের মধ্যে প্রাণের স্পন্দন দেখা গেল। উঠে বসে দুটো হাঁটুর মধ্যে মাথা রেখেই ভয়ংকরভাবে কেঁপে উঠল শাসা। এক কনুইয়ের ওপর ভর করে খানিক উঁচু হয়ে একটা দাঁতসহ রক্ত মাখা থুথু ফেলল ডেভিড।
“ঠিক আছো তো, ডেভি মাই বয়?” ফাঁকা ঠোঁট নিয়ে জানতে চাইল শাসা।
“শাসা, আর কখনো আমাকে বাঁচাতে এসো না” ভাঙা গলায় উত্তর দিল ডেভিড, আরেকটু হলে তো জানটাই চলে যেতো।”
ম্যাথিল্ডা দু’জনকে ধরে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করল। কিন্তু শাসাকে অক্ষত দেখেই আবার চোটপাট শুরু করল তারা।
“তোমার মত এতটা আহম্মকি আমি আর কাউকে কখনো করতে দেখিনি শাসা কোর্টনি। তাই যা যা হয়েছে সেসব বলা যায় তুমি হাতে ধরে ডেকে এনেছো।”
“একটু বেশিই বলে ফেললে, ওল্ড গার্ল।” একে অন্যের গায়ের উপর ভর দিয়ে কোনোমতে গলি ছেড়ে বেরিয়ে এল শাসা আর ডেভিড। কোনার কাছে দাঁড়িয়ে থাকা এক কনস্টেবল ওদেরকে দেখেই খেঁকিয়ে উঠল।
“লোকটা কী বলল?” তারার কাছে জানতে চাইল শাসা।
“যা বলেছে বেশ বলেছে” শীতল গলায় অনুবাদ করে শোনাল তারা, “পরেরবার জনসমক্ষে মারামারি করার জন্য তোমাকে গ্রেফতার করা হবে।”
ছেলেদের সাথে সাথে হাঁটল ম্যাথিল্ডা। কিন্তু রাগত চেহারা নিয়ে কয়েক কদম আগে রইল তারা। অন্যদিকে পথচারীরাও চোখ পড়লেই চট করে আতঙ্কমাখা দৃষ্টি সরিয়ে নিচ্ছে ভিন্ন দিকে।
চারজনে মিলে ব্রিস্টলের এলিভেটরে চড়তেই চিন্তিত মুখে ম্যাথিল্ডা জানতে চাইল, “আচ্ছা শাসা, তোমার সেই যে অলিভ পর্বতে কী যেন গাছের নাম, গল্পটা আমি বুঝিনি। আবার শোনাবে?”
