ব্রিস্টলে সন্ধ্যায় সেনটেইনের স্যুইটেই সেলিব্রেশন করল চার ছেলেমেয়ে। তারপর পুরো রাত উপভোগ করল অপিম্পিকের সাজে সজ্জিত বার্লিনের রাতের জীবন।
একটা ক্যাফের সামনে এসে থামতেই স্ন্যাপস্ অর্ডার করল শাসা, “আস্তে আস্তে খাও।” কানের কাছে ফিসফিস কর উঠল ডেভিড। জানে শাসা কখনো এক গ্লাস ওয়াইন কিংবা বিয়ারের বেশি পান করে না।
“ডেভি, মাই বয়, রোজ রোজ তো আর আমার দোস্ত মেডেল জিতে না, তাই না।”
“মাতলামি করলে আমি কিন্তু তোমাকে ঘরে ফিরিয়ে নিতে পারব না।” বন্ধুকে সতর্ক করে দিল ডেভিড।
আবার একটা কফি শপের পাঁয়তারা কষছে শাসা; এমন সময় ডেভিড বলল, “আর কোনো শ্যাম্পেন না, প্লিজ।” বাধা দিতে চাইল ডেভিড।
ওকে পাত্তা না দিয়ে আঙুল তুলে ওয়েট্রেসকে ডাকল শাসা। চারটা টিউলিপ গ্লাসে করে হলুদ ওয়াইন ঢেলে দিল মেয়েটা।
সে রাতে চারজন মিলে হাসছে, ওয়াইন গিলছে। কিন্তু সেকেন্ডের জন্যও কেউ ভাবতে পারেনি যে কী ঘটতে যাচ্ছে এরপর।
“ওহ ডিয়ার” বিড়বিড় করে উঠল তারা, “দেখো অশ্বারোহীর দল চলে এসেছে।”
বাদামি ইউনিফর্ম পরিহিত ছয় স্ট্রম টুপারের দল ঢুকে পড়ল শপে। নিশ্চয় তাদের রেজিমেন্টেরও কোনো ফাংশন ছিল। কারণ, দু’জনের হাতে ব্যানার। বোঝা গেল যে তারা ইতিমধ্যেই বেশ ড্রিংকস করে এসেছে। তবে ওদেরকে দেখে কফি শপের বাকি কাস্টমারদের অনেকেই তাড়াতাড়ি বিল মিটিয়ে কোট গায়ে নিয়ে বের হয়ে গেল।
ঠিক শাসাদের পাশের খালি টেবিলটাতেই এসে বসল ছয়জন ট্রুপার। কফি শপের মালিক কোনো ধরনের ঝামেলা যাতে না হয় তাই স্বয়ং এসে ছয়জনের সাথে কুশল বিনিময় করলেন। যদিও লোকটা যে টেনশনে আছেন তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। তারপর নাজি স্যালুট করে বিদায় নেয়ার চেষ্টা করতেই ছয়জনও সাথে সাথে দাঁড়িয়ে পায়ের জ্যাকবুট ঠুকে চিৎকার করে বলে উঠল “হেইল হিটলার!”
পুরো এক গ্লাস শ্যাম্পেন খেয়ে ফেলা ম্যাথি জ্যানিন তো এ দৃশ্য দেখে খুকখুক করে হাসি আর থামাতেই পারে না। সঙ্গে সঙ্গে ওর দিকে ঘুরে তাকাল ছয় স্ট্রর্ম ট্রুপার।
“চুপ করো, ম্যাটি!” সাবধান করতে চাইল শাসা; কিন্তু হয়ে গেল হিতে বিপরীত। চোখ গোলগোল করে তাকিয়ে বিষম খেলো ম্যাথিন্ডা। পরস্পরের সাথে দৃষ্টি বিনিময় করে নিজেদের টেবিল ছেড়ে শাসাদের কাছে চলে এল ছয়জন ট্রুপার।
দলের লিডার, মধ্যবয়স্ক এক সার্জেন্ট কিছু একটা বলতেই স্কুল গার্লদের মত জার্মানে উত্তর দিল তারা, “আহা, ভারি গলায় ইংরেজিতে পাল্টা জানাল সার্জেন্ট, “তোমরা ইংরেজ।”
“আমার বোন আসলে বেশ ছোট আর বোকা।” কড়া চোখে ম্যাথিল্ডার দিকে তাকাল তারা, ওদিকে ম্যাথিল্ডা তো মুখে রুমাল চেপে হেসেই যাচ্ছে।
“ওরা ইংরেজ।” নিজের দলকে এমনভাবে কথাটা বলল সার্জেন্ট যেন এর মানে হল ওরা তো এমনিতেই পাগল হয়। কিন্তু যাবার জন্য ঘুরে দাঁড়াতেই দলে একজন আবার ডেভিডকে দেখে থেমে গেল। বলল, “তুমি তো ডেভিড আব্রাহামস, ইহুদি রানার।” মুখ কালো করে ফেলল ডেভিড। এবারে ছয়জনের প্রত্যেকেই থমথমে মুখে ডেভিডের দিকে তাকিয়ে কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়াল আর সার্জেন্ট বলল, “ইহুদি আর নিগ্রোরা যে মেডেল জিতে যাচ্ছে তাতে তো ইংরেজ আর আমেরিকানদের লজ্জা হওয়া উচিত। না?” কেউ কোনো উত্তর দেয়ার আগেই উঠে দাঁড়িয়ে নম্রভাবে হাসল শাসা; বলল, “আমার মনে হয় আপনাদের কোথাও কোনো ভুল হচ্ছে। ও আসলে ইহুদি নয়; ও তো জুল।”
“এটা কীভাবে সম্ভব?”
অবাক হয়ে গেল সার্জেন্ট, “জুলুরা তো কালো হয়।”
আবারো ভুল করছেন। জুলুরা জন্মগতভাবেই সাদা। কেবল রোদে পুড়েই কালো হয়। আমার বন্ধু সবসময় ছায়াতেই থেকে অভ্যস্ত।”
“তুমি নিশ্চয় তামাশা করছে, তাই না?” খানিকটা ক্ষেপে উঠল জার্মান সার্জেন্ট।
“অফ কোর্স অ্যায়াম চোকিং!” লোকটা যেভাবে জোকিং বলেছে সে উচ্চারণেই বলে উঠল শাসা।
“শাসা, বাদ দাও।” বলে উঠল ডেভিড, “ঝামেলা হতে পারে। কিন্তু ততক্ষণে শ্যাম্পেনের নেশায় ঘোরের মধ্যে চলে গেছে শাসা। আচমকা কেউ কিছু বোঝার আগেই সার্জেন্টের বুকে টোকা দিয়ে বলল, “আসলে, মাই ডিয়ার ফেলো, আপনি যদি ইহুদির খোঁজ করে থাকেন, তাহলে আমিই এখানকার একমাত্র ইহুদি।”
“তোমরা দুজনেই ইহুদি?” চোখ সরু করে জানতে চাইল সার্জেন্ট।
“বোকার মত কথা বলবেন না তো। আমি তো এরই মাঝে বলেছি যে ও জুলু আর আমি ইহুদি।”
“তুমি মিথ্যে বলছো।” পাল্টা জবাব দিল সার্জেন্ট।
ততক্ষণে কফি শপের বাকি খদ্দেররাও পূর্ণ মনোযোগে শুনছে দুই দলের বাগবিতন্ত। যারা ইংরেজি বোঝে না ওদেরকে অনুবাদ করে দিচ্ছে তাদের বন্ধুরা।
শ্যাম্পেনের প্রভাব আর অন্যরা তাকিয়ে আছে বুঝতে পেরে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠল শাসা, “দেখা যাচ্ছে আপনাকে প্রমাণও দিতে হবে। তাহলে তো ইহুদিদের অতি প্রাচীন এক সিক্রেট আপনাকে বলতেই হবে। আমিই শোনাচ্ছি।”
মজার কিছু শোনার আশায় উৎসুক হয়ে পড়ল কফি হাউজের দর্শক। কিন্তু অস্বস্তিতে খানিকটা নড়ে উঠল স্টর্ম ট্রুপারদের দল।
“চুপ করো শাসা।” আবারো বন্ধুকে সাবধান করে দিল ডেভিড।
“ও কী বলতে চাইছে?” ম্যাথিল্ডাও মজা পাচ্ছে।
“শাসা কোর্টনি বেহুদা ঝামেলা করো না।” বলে উঠল তারা।
কিন্তু ওদের কথায় পাত্তা না দিয়ে শাসা কবিতার মত ছন্দে বলে উঠল, “রাব্বি রাই তো তোমাদেরকে হেইল, কী যে লোকটার নাম ওটা বলতে শিখিয়েছে।”
