***
প্রথমেই প্রতিপক্ষ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ানদেরকে পেলেন ব্লেইন আর শাসা। আর সাথে সাথে উবে গেল তাদের সহজে জেতার আশা। বাধ্য হয়ে ডিফেন্সিভ খেললেন ব্লেইন। প্রথম তিন রাউন্ডে তত তাদেরকে একটুও আগে বাড়তে দেয়নি অসি দল। তবে শাসা পুরোপুরি নিজের ক্যাপ্টেনের নির্দেশমত “কাট লেফট”, “কাভার দ্য ফল” কিংবা “ব্রেক ব্যাক” মেনে চলেই খেলল। আর খানিকটা অস্থির হয়ে উঠলেও চতুর্থ রাউন্ডে গিয়ে সাফল্যের দেখা পেল শাসা। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উদযাপন করল বিজয়ের আনন্দ। যদিও সত্যি অবিশ্বাস্য হয়েছে খেলাটা।
তবে জয়ের আনন্দ ফিকে হয়ে গেল যখন শুনল পরের রাউন্ডের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা।
***
ডেভিড আব্রাহামসের প্রথম ইভেন্ট ৪০০ মিটার দৌড় কিন্তু সবাইকে হতাশ করল। চার নম্বর হল ডেভিড। সে রাতে ডিনার না খেয়েই তাড়াতাড়ি বিছানায় ঘুমাতে গেল ম্যাথিল্ডা। তবে দুদিন পরেই আবার বদলে গেল পরিস্থিতি। দুইশ মিটার হিট জিতে সেমি ফাইনালে উঠে গেল ডেভিড।
***
প্রথম প্রতিপক্ষ হিসেবে ফরাসি মরিসকে পেলো ম্যানফ্রেড ডি লা রে। “মাম্বার মতই দ্রুত র্যাটেলের মতই সাহসী” ভিড়ের মাঝেও ম্যানফ্রেডের কানের কাছে গুনগুন করে শুনিয়ে দিলেন আংকেল ট্রম্প।
চতুর্থ সারিতে কর্নেল বোন্ডের পাশে বসে আছে হেইডি। ম্যানফ্রেন্ডকে নড়ে উঠতে দেখে উত্তেজনায় কেঁপে উঠল মেয়েটা। ঠিক একটা বিড়ালের মতই দুলছে ম্যানি।
এর আগপর্যন্ত খেলার প্রতি তেমন কোনো আগ্রহ বোধ করত না হেইডি। সব ধরনের চিৎকার-চেঁচামেচি, ক্যানভাস আর চামড়া থেকে উঠে আসা ঘামের গন্ধ, জম্ভর মত একে অন্যের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার দৃশ্য দেখলেই বিবমিষা জাগত। কিন্তু এখন সিল্ক, লেস আর পারফিউমের গন্ধে সুবাসিত সুবেশী দর্শকদের মাঝে বসে পরিবেশটা তেমন খারাপ লাগল না আর।
গোমড়া মুখে ম্যানফ্রেড ডি লা রে’ও বদলে গিয়ে ভয়ংকর এক বন্য পশুতে পরিণত হয়েছে। কালো জ্বর নিচে ছেলেটার হলুদ জোড়া চোখ, ফরাসিটার রক্তাক্ত মুখ আর সাদা ক্যানভাসের ওপর তাঁকে হাটু গেড়ে বসতে বাধ্য করা ম্যানফ্রেডকে দেখে মনে মনে যেন শারীরিক শীর্ষ সুখ অনুভব করল হেইডি।
এমনকি সেই সন্ধ্যায় স্টেট অপেরা হাউজে ম্যানফ্রেডের পাশে বসেও একই রকম উত্তেজনা অনুভব করল ম্যানফ্রেডের জার্মান গাইড। খানিক ঝুঁকে হাত রাখল ম্যানফ্রেডের বাহুতে। বুঝতে পারল ছেলেটাও বহু কষ্টে নিজের রাশ টেনে রেখেছে।
আগের বারের মতই মার্সিডিজ পাঠিয়ে দিয়েছেন কর্নেল বোল্ড। অপেরা হাউজ থেকে নেমে আসতেই দেখা গেল দাঁড়িয়ে আছে ড্রাইভার। কিন্তু গাড়িতে উঠে কেন যেন ঠোঁট বাঁকিয়ে ফেলল ম্যানফ্রেড।
“কী হয়েছে?” তাড়াতাড়ি জানতে চাইল হেইডি।
“কিছু না।”
দৃঢ় হাতে ম্যানফ্রেডের কাঁধ স্পর্শ করল মেয়েটা; বলল, “কী, এখানে ব্যথা হচ্ছে?”
“পেশি কেমন যেন টান হয়ে আছে, কালই ঠিক হয়ে যাবে। সমস্যা নেই।”
“হ্যানস, আমাদেরকে আমার অ্যাপার্টমেন্টে নিয়ে চলো।” ড্রাইভারকে আদেশ দিল হেইডি। “মুক্তি আমাকে শিখিয়েছে ফার্ন দিয়ে তৈরি হারবাল ওষুধ সত্যিই জাদুর মত কাজ করে।”
“না, না এর কোনো প্রয়োজন নেই— বাধা দিতে চাইল ম্যানফ্রেড।
“অলিম্পিক ভিলেজে যাবার পথেই পড়বে আমার অ্যাপার্টমেন্ট। বেশি সময়ও লাগবে না। এরপরই হানস তোমাকে নামিয়ে দিয়ে আসবে।” ওর সন্দেহের উদ্রেগ না করে কীভাবে ওকে একা করে পাওয়া যাবে এটা নিয়ে শঙ্কিত ছিল হেইডি; কিন্তু দেখা গেল এখন তার সাজেশন শুনে আর কিছু বলল না ম্যানফ্রেড। বাকি পথটুকু একেবারে চুপচাপ বসে রইল ছেলেটা। ভয়ে ওকে আর স্পর্শ করল না হেইডি।
ওদিকে মনে মনে সারাহকে ভাবতে চাইল ম্যানফ্রেড। কিন্তু কেন যেন ওর চেহারা স্পষ্টভাবে কিছুতেই মনে করতে পারছে না। ইচ্ছে করল হানসকে বলে সোজা টিম হাউজে নিয়ে যেতে; কিন্তু সেটাও করল না। বুঝতে পারছে যা করছে তা ভুল হচ্ছে কিন্তু বাধাও দিতে পারছে না। আর একেকটা ম্যাচের পর তো ব্যাপারটা আরো কঠিন হয়ে যায়। যেন ওর শরীরের ওপর শয়তান এসে ভর করে। মেয়েটাকে মানা করে দেয়ার জন্য মুখ খুলতে গেল ম্যানি। কিন্তু দেখা গেল সামনের দিকে ঝুঁকে ড্রাইভারকে হেইডি বলছে, “থ্যাঙ্ক ইউ হানস। আমাদেরকে এই কর্নারে নামিয়ে দাও। তারপর ব্লকের শেষে গিয়ে অপেক্ষা করো।” গাড়ি থেকে নেমে ফুটপাত ধরে হাঁটা শুরু করল হেইডি। তাই চুপচাপ পিছু নেয়া ছাড়া ম্যানির আর কিছু করার রইল না।
বিল্ডিংয়ের লবিটা কেমন যেন আঘো-অন্ধকারে ঢাকা।
“আয়্যাম সরি ম্যানফ্রেড; আমি টপ ফ্লোরে থাকি আর এখানে কোনো এলিভেটরও নেই।”
উপরে যাওয়ার পরিশ্রমে খানিকটা সুস্থির হল ম্যানফ্রেড। ঢুকল হেইডি, বলল, “এই হল আমার প্রাসাদ।” ক্ষমা চাইবার মত করে হেসে ফেলল। তারপর বিছানা দেখিয়ে ম্যানিকে বলল, “ওখানে বসো ম্যানফ্রেড।”
গায়ের জ্যাকেট খুলে কার্বাডে ঝুলিয়ে রাখল হেইডি। মেয়েটার উন্নত বুক দেখে চট করে অন্যদিকে চোখ ফিরিয়ে নিল ম্যানি। তাড়াতাড়ি দেয়ালের দিকে তাকাতেই দেখল বইয়ের তাক। নিজেকে শাসন করল এই বলে যে অন্য কিছু নিয়ে ভাবতে হবে।
ছোট্ট বাথরুমটাতে গিয়ে সবুজ একটা বোতল হাতে নিয়ে ফিরে এল হেইডি। ম্যানির সামনে দাঁড়িয়ে হেসে বলল, “তোমার শার্ট আর কোর্ট খুলে ফেলো।” হাঁ করে তাকিয়ে রইল ম্যানফ্রেড। এরকম কিছু তো ভাবেইনি। তাই বলল,
