“না, না; তোমার সাথে যেতে পারলে আমি নিজেকে সম্মানিত বোধ করব। হারি বা জিতি যাই ঘটুক না কেন।
“তুমিই জিতবে” সহজ গলায় জানিয়ে দিল হেইডি, “আমি জানি তুমিই জিতবে।”
ম্যানফ্রেডকে টিম হাউজের সামনে নামিয়ে দিয়েই গাড়ি নিয়ে আবার রূপাসট্রাসে ফিরে এল হেইডি।
কর্নেল হাউজে আসতেই দেখা গেল চলে গেছে বেশিরভাগ অতিথি। একেবারে সবশেষ জনকে বিদায় জানিয়ে হেইডিকে তার পিছনে আসার আদেশ দিলেন কর্নেল। মেয়েটার সাথে এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে তার আচরণ। দুজনে এখন উচ্চপদস্থ অফিসার আর সাধারণ কর্মচারী মাত্র।
ওক কাঠের দরজা খুলে রুমে ঢুকে গেলেন কর্নেল। পিছু নিয়ে ঢুকে দরজা আটকে দাঁড়িয়ে রইল হেইডি। পাথরের ফায়ারপ্লেসের পাশে রাখা চেয়ারে বসে আছেন জেনারেল জোলার। দুজনের জন্য কান্যাক ঢেলে নিলেন কর্নেল।
“তো ফ্রাউলেন” নিজে লেদার চেয়ারে ডুবে গিয়ে এতক্ষণে হেইডিকে বসার নির্দেশ দিলেন কর্নেল, “বসো।”
নম্রভাবে হেসে শিরদাঁড়া উঁচু করে কাউচে গিয়ে বসল হেইডি।
“সাবজেক্ট নিয়ে জেনারেল জোলারের মন্তব্য কী জানতে পারি?” প্রশ্নটা শুনে ফাইল থেকে চোখ তুলে তাকালেন জেনারেল জোলার।
“সাবজেক্টে মায়ের বিষয়টা পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। কর্নেলকে জানালেন জোলার, “ও যে বলছে ওর মা জার্মান তা কী নিশ্চিত হওয়া গেছে?”
“না, এখন পর্যন্ত নয়। তারপরেও দক্ষিণ আফ্রিকাতে আমাদের লোকজন লাগিয়েছি এ ব্যাপারে খবর নেয়ার জন্য। তবে সবার ধারণা যে জঙ্গলের মাঝে সন্তান প্রসবের সময় মারা গেছেন ওর মা। তবে ওর পিতামহী যে জার্মান ছিলেন আর ওর বাবা যে আফ্রিকাতে কাইজারের সেনাবাহিনিতে লড়াই করেছিলেন তার যথেষ্ট প্রমাণ আছে।”
“ইয়েস, সেটা তো দেখতেই পাচ্ছি।” এবার হেইডির দিকে তাকালেন জোলার, “সে তোমার ব্যাপারে কতটা আগ্রহ দেখিয়েছে ফ্রাউলিন?”
“নিজের জার্মান রক্ত নিয়ে সে বেশ গর্ব বোধ করে আর জার্মান জনগণকেও বন্ধু ভাবে। ফুয়েরারেরও বেশ ভক্ত। এমনকি মাইন ক্যাম্প থেকে উদ্ধৃতিও দিতে পারে।”
খকখক কাশি দিয়ে সিগারেট ধরালেন জেনারেল। তারপর আবার মনোযোগ দিলেন ফ্রন্ট কাভারে ঈগল আর স্বস্তিকা চিহ্নঅলা লাল ফাইলটার দিকে। অন্যদেরকে ঝাড়া দশ মিনিট অপেক্ষা করিয়ে অবশেষে তাকালেন হেইডির দিকে।
“সাবজেক্টের সাথে তুমি কতটা সম্পর্ক তৈরি করতে পেরেছ ফ্রাউলেন?”
“কর্নেল বোল্টের আদেশানুযায়ী আমি ওর কাছে নিজেকে বেশ বন্ধুভাবাপন্ন হিসেবে তুলে ধরেছি। বুঝিয়েছি যে বক্সিংয়ে আমার যথেষ্ট আগ্রহ আছে; তাছাড়া ওর পিতৃভূমির সমস্যা নিয়েও ভাবি।”
“ফ্রাউলেন ক্রেমার আমার শ্রেষ্ঠ • অপারেটরদের একজন।” জানালেন কর্নেল, “আমাদের ডিপার্টমেন্ট থেকে ওকে বক্সিং আর দক্ষিণ আফ্রিকা সম্পর্কে অগাধ জ্ঞান দান করা হয়েছে।” মাথা নেড়ে জেনারেল বললেন, “আর কী বলার আছে, বলো ফ্রাউলেন।”
“ওর দেশের মানুষের রাজনৈতিক উচ্চাকাভক্ষার প্রতি আমি আমার সহানুভূতি দেখিয়েছি। আর এটাও পরিষ্কার করে দিয়েছি যে, আমি হয়ত ওর বন্ধুর চেয়েও বেশি কিছু।”
“তার মানে তোমাদের মাঝে কোনো শারীরিক সখ্যতা?”
“না, জেনারেল, ভেবে দেখেছি যে এত দ্রুত এগোতে গেলে সাবজেক্ট বিগড়ে যেতে পারে। ওর ফাইল থেকে যতটা জেনেছি সে এক কঠোর ধর্মীয় ব্যাগ্রাউন্ড থেকে এসেছে। এর পাশাপাশি কর্নেল বোন্ডও এখনো কোন রকম শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের আদেশ দেননি।”
“শুড।” সম্মত হয়ে মাথা নাড়লেন জেনারেল, “ব্যাপারটা কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফুয়েরার নিজে আমাদের এ অপারেশন সম্পর্কে জানেন। আমার মতই উনারও ধারণা যে, দক্ষিণ আফ্রিকা কৌশলগতভাবে আমাদের পৃথিবীব্যাপী স্বার্থ পূরণে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় অঞ্চল। সুয়েজ খাল আমাদের সাথে সাহায্য করতে অস্বীকৃতি জানানোয় এই একটিই পথ খোলা আছে। এর সাথে আবার এ অঞ্চল আমাদের প্রয়োজনীয় সামরিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ক্রোম, হিরে, প্লাটিনাম গ্রুপ ম্যাটেরিয়াল সব এখানে পাওয়া যায়। সাবজেক্টের সাথে আমার সাক্ষাতের পর তাই আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে, এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়ে এগোনো যায়। তার উপরে আবার এ অপারেশনকে ডিপার্টমেন্ট থেকেও বৈধতা দিয়ে “লাল” রেটিং দেয়া হয়েছে।”
“ভেরি গুড, মাই জেনারেল।”
“এ অপারেশনের কোড নেইম হবে হোয়াইট সোর্ড।”
“ঠিক আছে।”
“ফ্রাউলেন ক্রেমার, এই অপারেশনের পুরো দায়িত্ব এখন তোমার। প্রথম সুযোগেই ওর সাথে শারীরিকভাবে এতটা জড়িয়ে পড়বে যেন ওর উপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ সুদৃঢ় হয়।”
“ভেরি ওয়েল, মাই জেনারেল।”
“হয়ত এক্ষেত্রে সাবজেক্টের সাথে তোমাকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে। সেক্ষেত্রে তোমার কোনো সমস্যা নেই তো?”
একটুও দ্বিধা না করে হেইডি উত্তরে জানাল, “না, মাই জেনারেল। আপনি আমার দায়িতুবোধ আর বিশ্বস্ততার উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করতে পারেন।”
“ভেরি গুড, ফ্রাউলেন” ভয়ংকর শব্দের কাশি দিয়ে ভাঙা গলায় জেনারেল জানালেন, “কর্নেল, সাবজেক্ট যদি গেমসে গোল্ড মেডেল পেয়ে যায় তাহলে আমাদের উদ্দেশ্য আরো ভালোভাবে পূর্ণ হবে। তাহলে দেশে তার সম্মানও বেড়ে যাবে।”
“বুঝতে পেরেছি জেনারেল।”
“আচ্ছা লাইট হেভিওয়েট টাইটেলের জন্য কোনো শক্ত প্রতিযোগী নেই তো যে কিনা আবার জার্মান?”
