“আমারও একজন আংকেল আছেন, আংকেল ট্রম্প”
“যদি আমি আংকেল ট্ৰম্পের অনুমতি জোগাড় করে দেই, তাহলে কি তুমি রাজি হবে?”
প্ল্যানমত সন্ধ্যা সাতটায় ভিলেজের সদর দরজায় মার্সিডিজ নিয়ে চলে এল হেইডি। মেয়েটার অনাবৃত কাঁধ দুটো একেবারে তুষার শুভ্র আর নীল টাফেটা ককটেইল ড্রেসটাতে চোখের সাথে দারুণ মানিয়ে গেছে।”
“তুমি অনেক সুন্দর কণ্ঠের বিস্ময় লুকাতে পারল না ম্যানফ্রেড। আগে আর কখনো কোনো মেয়েকে এভাবে বলেনি ম্যানি।
চোখ নামিয়ে ড্রাইভারকে আদেশ দিল হেইডি, “রূপাট্রাস চলো।”
মার্সিডিজের সিটে রিলাক্স হয়ে বসল ম্যানফ্রেড। ওদিকে সিরিয়াস ভঙ্গিতে ওর পরিবার আর দেশ নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন করে যাচ্ছে হেইডি। খানিক বাদে ম্যানফ্রেডের মনে হল যে মেয়েটা দক্ষিণ আফ্রিকা সম্পর্কেও অনেক জানে।
“দ্য ইংলিশ” তিক্ত কণ্ঠে বলে উঠল হেইডি, “যেখানেই গিয়েছে সাথে করে যুদ্ধবিগ্রহ আর নির্যাতন নিয়ে গেছে, আফ্রিকা, ইন্ডিয়া, আমার নিজের জার্মানি। আমরাও কম ভোগ করিনি। যদি আমাদের প্রাণপ্রিয় ফুয়েরার না থাকতেন তাহলে হয়ত এখনো ইহুদি আর ইংরেজদের যাতার নিচে কষ্ট করতে হত।”
“ইয়েস, তোমাদের ফুয়েরার সত্যিই মহান।” তারপর হিটলারের আত্মজীবনী থেকে উদ্ধৃতি দিল ম্যানি। শুনে বিস্মিত হয়ে গেল হেইডি, “মাইন ক্যাম্প। তুমি ফুয়েরারের উদ্ধৃতিও জানো!” ম্যানফ্রেডের মনে হল আরেক উঁচুতে উঠে গেল তাদের সম্পর্ক।
হ্যাভেল লেকের তীরে বিশাল সব বাগানের পাশেই অবস্থিত রূপাসট্রাস হাউজ। পার্কিং লটে দেখা গেল আরো ডজনখানেক লিমোজিন। গাড়ি থেকে নেমে হাত বাড়িয়ে দিল ম্যানফ্রেড। হেইডির সাথে ঢুকল রিসেপশন রুমে। ইতিমধ্যেই এসে পড়া অতিথিদের বেশিরভাগেরই ইউনিফর্মে চকচক করছে সামরিক ব্যাঙ্ক আর রেজিমেন্টের পদক। অন্যদিকে বব কাট চুলের নারীদের পরনে সিল্ক আর ভেলভেট। সবারই বলতে গেলে খালি কাধ স্পষ্ট শোভা ছড়াচ্ছে পার্টিতে।
জুটি হিসেবে ম্যানফ্রেড আর হেইডিকে এত সুন্দর লাগছে যে ওদেরকে ঢুকতে দেখেই থেমে গেল সকলের কথাবার্তা। একটু পরেই অবশ্য আবার গুঞ্জন তুলল সবাই।
“এই তো আংকেল সিগমন্ড।” উচ্ছ্বসিত হেইডি ইউনিফর্ম পরিহিত লম্বা এক ব্যক্তির কাছে ম্যানফ্রেডকে টেনে নিয়ে গেল।
“হেইডি, মাই ডিয়ার” ঝুঁকে হেইডির হাতে চুমু খেলেন আংকেল; বললেন, “যতবার তোমাকে দেখি মনে হয় যেন আগের বারের চেয়েও সুন্দরী হয়ে যাও।”
“ম্যানফ্রেড, ইনি আমার আংকেল কর্নেল সিগমন্ড বোল্ড আর আংকেল ও হল হের ম্যানফ্রেড ডি লা রে, দ্য সাউথ আফ্রিকান বক্সার।”
ম্যানফ্রেডের সাথে করমর্দন করলেন আংকেল বোন্ড। বললেন, “হেইডি বলেছে তোমার পূর্বপুরুষও নাকি জার্মান ছিলেন?”
ভদ্রলোকের একটা চোখের পাতা নিচে নামানো আর একটু পরপরই জলে ভরে যাচ্ছে চোখ। ডান হাতের লিনেন রুমালটা দিয়ে অবশ্য সাথে সাথেই পানি মুছে নিচ্ছেন আংকেল।
“সত্যিই তাই কর্নেল। আপনার দেশের সাথে আমার বেশ গভীর একটা সম্পর্ক আছে।” উত্তর দিল ম্যানফ্রেড।
“আহ, তুমি তো দেখছি বেশ ভালো জার্মান বলো।” ম্যানফ্রেডের বাহুতে হাত রাখলেন:আংকেল, “আজ সন্ধ্যায় এখানে এমন কয়েকজন আছেন যারা তোমার সাথে দেখা করতে চায়। কিন্তু তার আগে আমাকে বললো আমেরিকান কৃষ্ণাঙ্গ বক্সার সাইরাস লোম্যাক্স সম্পর্কে তোমার ধারণা কী? আর ওর সাথে খেলার জন্য তোমার কৌশলটাই বা কী হবে?”
এভাবেই পুরো সন্ধ্যা জুড়েই হেইডি কিংবা আংকেল মিলে অতিথিদের সাথে ম্যানফ্রেডের পরিচয় করিয়ে দিলেন। তবে একটু বেশি সময় কাটাতে হল জেনারেল জোলারর সাথে। লম্বা এই অফিসারের গায়ের ছাই রঙা ইউনিফর্মের গলায় আছে আয়রন ক্রস। লোকটার চেহারা সাদামাটা হলেও প্রখর বুদ্ধিমান যে তা সহজেই বোঝা যাচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকার পরিস্থিতি আর রাজনীতি নিয়ে ম্যানফ্রেডকে অনেক প্রশ্ন করলেন জোলার। ম্যানফ্রেডের মনে হল অফিসার দক্ষিণ আফ্রিকা সম্পর্কে যথেষ্ট সহানুভূতিশীল আর তাই অনেক খবরই রাখেন। একটু বাদেই এসে ম্যানির হাত ধরে টেনে নিয়ে গেল হেইডি।
এক্সকিউজ মি জেনারেল জোলার; আমি বক্সিং কোচকে প্রমিজ করে এসেছি যে রাত নয়টার মধ্যেই তার স্টারকে ফিরিয়ে দিয়ে আসব।”
“তোমার সাথে পরিচিত হয়ে বেশ ভালো লাগল ইয়াংম্যান।” ম্যানফ্রেডের সাথে হাত মেলালেন জেনারেল, “আমাদের দেশও ভালো বন্ধু হওয়া উচিৎ।”
“এক্ষেত্রে আমি আমার সাধ্যমত সব করব।” আশ্বস্ত করল ম্যানফ্রেড।
“গুড লাক ফর দ্য গেমস, হের ডি লা রে।”
ফেরার পথে মার্সিডিজে উঠে হেইডি বলল, “আমার আংকেল তোমাকে বেশ পছন্দ করেছেন। উনার বন্ধুরাও, যেমন জেনারেল জোলার।
“সন্ধেটা আমারও দারুণ কেটেছে।”
“তুমি মিউজিক পছন্দ করো ম্যানফ্রেড?”
প্রশ্নটা শুনে খানিক অবাক হয়ে গেল ম্যানি; বলল, “খানিকটা পছন্দ করি; তবে এক্সপার্ট নই।”
“ওয়াগনার?”
“ইয়েস; ওয়াগনারকে অনেক ভালো লাগে।”
“আংকেল সিগমন্ড আমাকে আগামী শুক্রবারের বার্লিন ফিলহারমোনিক অর্কেস্ট্রার দুইটা টিকিট দিয়েছেন। ওয়াগনারের প্রোগ্রামও হবে। জানি তুমি যে সন্ধ্যায় তোমার প্রথম ম্যাচ খেলবে; কিন্তু তারপরে আমরা সেলিব্রেট করতে পারি, কী বলল?” খানিক দ্বিধা করেই হেইডি আবার বলল, “সরি, তুমি হয়ত ভাবছো আমি একটু বেশিই তাড়াহুড়া করছি। কিন্তু কথা দিচ্ছি যে-”
