আর সহ্য করতে পারলেন না ব্লেইন। হাত তুললেন স্ত্রীকে শান্ত করার জন্য; বললেন, “তুমি ঠিকই বলেছ, মাই ডিয়ার। আমারই ভুল হয়েছে। ঠিক আছে এ ব্যাপারে আমরা আর কখনো কথা বলব না। আমি তোমার সঙ্গেই যাব।” হঠাৎ করেই ইসাবেলার চোখ দুটোতে প্রতিশোধপরায়ণতার হাসি ফুটতে দেখে জীবনে প্রথমবারের মত স্ত্রীকে ঘৃণা করতে আরম্ভ করলেন ব্লেইন। কিন্তু সাথে সাথেই নিজের ভুল বুঝতে পেরে অপরাধবোধেও ভুগতে শুরু করলেন। তাই তাড়াতাড়ি হুইল চেয়ারের কাছে গিয়ে দু’হাত দিয়ে ইসাবেলার হাড়সর্বস্ব হাত দুখানা ধরে সাবধানে স্ত্রীর ঠোঁটে কিস্ করে বললেন,
“আমাকে ক্ষমা করে দাও, প্লিজ।” কিন্তু হঠাৎ করেই মনের মাঝে ভেসে উঠল কফিনের ভেতরে শুয়ে থাকা ইসাবেলার শান্ত, সুন্দর, পবিত্র চেহারার দৃশ্য। তাড়াতাড়ি চোখ বন্ধ করে ছবিটাকে মন থেকে তাড়িয়ে দিতে চাইলেন ব্লেইন। কিন্তু মনে হল কিছুতেই পারছেন না।
“ওহ, খানিক সময় একসাথে কাটাতে পারলে কত মজাই না হবে, তাই না!” স্বামীর হাত আঁকড়ে ধরলেন ইসাবেলা, বললেন “এমনিতে তো আমরা কথা বলার তেমন সুযোগই পাই না। তুমি সারাক্ষণ পার্লামেন্টে নয়ত পোলো ফিল্ডে থাকো।”
“প্রতিদিন সকাল আর সন্ধ্যায় তো তোমার সাথে দেখা হচ্ছে।” সাফাই গাইলেন ব্লেইন।
“কিন্তু কথা তো হয় না। এমনকি এখন পর্যন্ত বার্লিন নিয়েও কথা হল।”
“আলোচনা করার বেশি কিছু কী আছে ডিয়ার?” সাবধানে স্ত্রীর হাত ছাড়িয়ে নিজের চেয়ারে গিয়ে বসলেন ব্লেইন
“অবশ্যই আছে।” মাঢ়ি দেখিয়ে হেসে ফেললেন ইসাবেলা; কিন্তু বিরক্ত হলেন ব্লেইন, “অনেক ধরনের প্রস্তুতি নেয়া বাকি আছে। তাহলে টিম কখন রওনা হবে?”
“আমি হয়ত টিমের সঙ্গে যাব না।” আবারও সাবধানে উচ্চারণ করলেন ব্লেইন, “হয়ত কয়েক সপ্তাহ আগেই রওনা দিব। কারণ লন্ডন আর প্যারিস থেমে ব্রিটিশ আর ফ্রেঞ্চ গভর্নমেন্টের সাথে আলোচনা সেরে তবেই বার্লিন যাব।”
“ওহ, ব্লেইন তারপরেও তো আমি তোমার সঙ্গে যাবে আর এ কারণেই অনেক প্রস্তুতি নিতে হবে।” বললেন ইসাবেলা।
নিজেকে সংযত করার চেষ্টা করলেন ব্লেইন। জানেন যে ইসাবেলা তাকে মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছেন, “ইয়েস। সাবধানে পরিকল্পপনা করতে হবে।”
কিন্তু এটা কীভাবে সম্ভব। তাহলে তিনি সেনটেইনের সাথে কীভাবে সময় কাটাবেন! তাই বললেন, “তবে একটা ব্যাপার খেয়াল রাখতে হবে ডিয়ার; এই ভ্রমণের জন্য তোমার শরীর না খারাপ হয়ে যায়!”
“তুমি চাইছে না যে আমি তোমার সঙ্গে যাই, তাই না?” চড়া গলায় জানতে চাইলেন ইসাবেলা।
“না তা না “
“আমার কাছ থেকে সরে যাবার জন্য এরকম সূবর্ণ সুযোগ তো তুমি আর পাবে না।”
“ইসাবেলা, প্লিজ নিজেকে শান্ত করো। নয়তো তোমার”।
“আমার প্রতি তোমার কত টান দেখানোর জন্য খবরদার কোনো ভান করবে না, নয় বছর ধরে তোমার কাছে আমি বোঝা হয়ে আছি। আমি নিশ্চিত যে এখন তুমি আমার মৃত্যুও কামনা করো।”
“ইসাবেলা” কথাটার সত্যতা উপলব্ধি করে কেঁপে উঠলেন ব্লেইন।
“ওহ, আমার সামনে ন্যাকামি করো না ব্লেইন ম্যালকমস। হয়ত আমি এই চেয়ারে বন্দি হয়ে আছি; কিন্তু আমি সব দেখি, সব শুনি।”
“এভাবে কথা বলার আমার কোনো ইচ্ছেই নেই।” উঠে দাঁড়ালেন ব্লেইন, “তুমি আবার যখন শান্ত।
“বসো!” হিসহিস করে উঠলেন ইসাবেলা, “তোমার ইচ্ছে মতন যখন তখন ওই ফরাসি বেশ্যাটার কাছে আর ছুটে যেতে দিব না!” এমনভাবে কুঁকড়ে উঠলেন ব্লেইন যেন মুখে চাবুকের বাড়ি খেয়েছেন। ওদিকে ইসাবেলা বলেই চলেছে, “ওহ, ঈশ্বর অবশেষে কথাটা বলেই ফেললাম। আরো কতবার যে বলতে চেয়েছি তোমার কোনো ধারণাই নেই। বলতে পেরে আমার কল যে শান্তি লাগছে। বেশ্যা, দুশ্চরিত্রা!”
“এভাবে যদি বলতে থাকো, তাহলে আমি চললাম” সতর্ক করে দিলেন। ব্লেইন।
“বেশ্যা! বেশ্যা!”
ঘুরে দাঁড়িয়েই হাঁটা ধরলেন ব্লেইন।
“প্লিজ কাম ব্যাক! ব্লেইন!” পেছন থেকে চিৎকার করতে লাগলেন ইসাবেলা, “ব্লেইন, আয়্যাম সরি। প্লিজ কাম ব্যাক!” স্ত্রীকে অবজ্ঞা করতে পারলেন না ব্লেইন। ফিরে এলেন কিন্তু এত রেগে গেছেন যে হাত-পা কাঁপছে। তাই পকেটে হাত ঢুকিয়ে দাঁড়ালেন। নরম স্বরে বললেন, “অল রাইট। সেনটেইন কোর্টনি সম্পর্কে যা বলেছ তা সত্যি। আই লাভ হার। কিন্তু এটাও সত্যি যে আমরা দুজনেই চেষ্টা করেছি যেন তুমি কোনোভাবে আঘাত না পাও। তাই ওর সম্পর্কে আর এভাবে কথা বলবে না। সে চাইলে বহু বছর আগেই আমি ওর কাছে চলে যেতাম তোমাকে ছেড়ে। ঈশ্বর আমায় মাফ করুন; কিন্তু এটাই সত্যি। কেবলমাত্র সেই আমাকে এখানে থাকতে বাধ্য করেছে।”
ব্লেইনের মনে হল ঠিক তার মতই কাঁপছেন ইসাবেলা; অথবা এটা তার মনের ভুলও হতে পারে। খানিক বাদে ইসাবেলা বললেন, “আমি জানি আমি তোমার সাথে বার্লিন যেতে পারব না। এরই মাঝে উ, যোসেফের সাথে কথা বলেছি আর তিনিও আমাকে এতটা ধকল নিতে মানা করেছেন। এটাও জানি যে, তুমি আর সে মিলে নানা প্ল্যান করেছে। নিজের ক্ষমতা খাটিয়ে শাসা কোর্টনিকে টিমে ঢুকিয়েছ যেন তাকে সঙ্গে নেয়ার অজুহাত পাও। জানি তোমরা রোমাঞ্চকর সময় কাটানোর প্ল্যান করছে আর আমি তোমাকে বাধা দিতে পারবোও না–”
ক্ষেপে গিয়ে ইসাবেলাকে থামানোর জন্য হাত তুললেন ব্লেইন। আবারো– তীক্ষ্ণ হয়ে উঠল ইসাবেলার গলা।
