“ওর সাথে কথা বলার চেষ্টা করেও কোনো লাভ নেই।” উত্তরে জানালেন সেনটেইন, “দেখেছো না ও আমার দিকে কেমন করে তাকিয়েছিল।”
“হয়ত আবার কখনো ব্লেইন চাইলেন সেনটেইনকে সান্ত্বনা দিতে। কিন্তু। তার চোখে বিষণ্ণতা দেখে দৌড়ে এসে সেনটেইনকে জড়িয়ে ধরলেন ব্লেইন।
অলিম্পিক ট্রায়ালসের প্রথম দিনেই প্রায় এক সেকেন্ডে ২০০ মিটার স্প্রিন্টে নিজের সেরাটা দেখাল ডেভিড আব্রাহামস। কিন্তু দ্বিতীয় দিনে আশানুযায়ী তেমন ভালো করতে পারল না। কিন্তু এরপরেও লিস্টে সবার আগেই এল তার নাম। পাশে বসে বন্ধুর কাঁধ চাপড়ে দিলো শাসা। ডেভিডও বার্লিন যাচ্ছে।
***
দুই সপ্তাহ পরে জোহানেসবার্গের ইনান্ডা ক্লাবে বসল পোলো ট্রায়াল। ফাইনাল ডে’র শেষ ম্যাচে ব্লেইনের নির্ধারিত A’ টিমের বিপরীতে সম্ভাব্য B’ টিমের জন্য নির্বাচিত হল শাসা।
গ্রান্ডস্টান্ডে বসে শাসার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা খেলাটা দেখলেন সেনটেইন। কিন্তু বুঝতে পারছেন যে এটুকুই যথেষ্ট নয়। অন্যদিকে দলের দুই নম্বরের খেলা ক্লাইভ রামসে যাকে হয়ত বার্লিনে পাঠানো হতে পারে। সারা সপ্তাহ জুড়ে চমৎকার খেলল। বেয়াল্লিশ বছর বয়স্ক রামসে এর আগেও প্রায় ত্রিশটা ম্যাচে ব্লেইনের সেকেন্ড হিসেবে খেলেছে। সেনটেইন জানেন যে নির্বাচকেরা তাই নিশ্চয়ই রামসেকে রেখে তরুণ আর মেধাবী হলেও অভিজ্ঞতাহীন শাসাকে নির্বাচন করবে না।
ইতিমধ্যেই নির্বাচকদের সিগারেটের ধোয়া আর মাথা নাড়ানো দেখে যা বোঝার বুঝে গেলেন সেনটেইন। লোকগুলো হয়ত খানিক বাদেই ঘোষণা দিবে যে, “ইয়ং কোর্টনি আগামীবার তার চান্স পাবে।” মনে হচ্ছে লোকগুলোকে এখন থেকেই ঘৃণা করা শুরু করে দেবেন সাথে ব্লেইন ম্যালকমস’কেও কিন্তু হঠাৎ করেই ভিড়ের মধ্য থেকে এত প্রচণ্ড হুল্লোড় উঠল যে ঝট করে উঠে দাঁড়ালেন সেনটেইন।
মাঝমাঠে ক্লাইভ রামসেকে চ্যালেঞ্জ করেছে শাসার টিম-মেট। ব্যাপারটা হয়ত ইচ্ছেকৃত নয় কিন্তু ফাউল করে ক্লাইভকে ঘোড়র উপর থেকে শক্ত গ্রাউন্ডে ফেলে দিল ছেলেটা। সন্ধ্যার সময়ে এক্স-রে রিপোর্টে দেখা গেল যে রামসের হাড়ে বেশ কয়েকটা ফাটল দেখা গেছে। অর্থোপেডিক সার্জন অপারেশন করতে বাধ্য হয়েছেন। নির্দেশ দিলেন যে, “অন্তত এক বছরের জন্য পোলো খেলা বন্ধ।”
তাই নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত এখন কী হয় শোনার জন্য উৎকণ্ঠা নিয়ে বসে রইলেন সেনটেইন। আর আগে যেমনটা বলেছিলেন ঠিক সেভাবেই শাসার নাম এলে সিলেকটর’স রুম থেকে বের হয়ে এলেন ব্লেইন ম্যালকমস। একটু বাদেই অবশ্য চেয়ারম্যান ডেকে নিয়ে জানালেন যে, “ভেরি ওয়েল, ইয়ং কোর্টনি ক্লাইভের জায়গায় খেলবে।” স্বভাবতই উল্লসিত হয়ে উঠলেন ব্লেইন। আনমনে এর আগে কতদিন ভেবেছেন যে শাসার মত তার নিজের একটা ছেলে থাকলে কত না ভালো হত।
তাই প্রথম সুযোগেই সেনটেইনকে ফোন করলেন ব্লেইন, “শুক্রবারের আগে ঘোষণা দেয়া হবে না। তবে বার্লিনের টিকিট পেয়ে গেছে শাসা।”
অস্থির হয়ে উঠলেন সেনটেইন, “ওহ, ব্লেইন ডার্লিং, শুক্রবার পর্যন্ত কীভাবে ধৈৰ্য্য রাখব আমি?” আনন্দিত কণ্ঠে জানালেন, “তিনজন একসাথে বার্লিন যাব। কত মজা হবে তাই না! চাইলে ডেইমলার নিয়েই ইউরোপে যাওয়া যাবে। প্যারিসে কয়েকটা দিন কাটালে তুমি আমাকে লাজারেতে ডিনার করাতে নিয়ে যেও। অনেক প্রস্তুতি নিতে হবে। ঠিক আছে, শনিবারে দেখা হলে বাকি কথা বলব।”
“শনিবার?” ভুলেই গিয়েছিলেন ব্লেইন।
“স্যার গ্যারির জন্মদিন, পাহাড়ের উপর পিকনিক!” দীর্ঘশ্বাস ফেললেন সেনটেইন, “বছরের এমন কয়েকটা দিনেই কেবল আমরা বৈধভাবে একসাথে সবার সামনে আসতে পারি।”
“এত তাড়াতাড়ি আবার স্যার গ্যারির জন্মদিন চলে এল? কত দ্রুত সময় যাচ্ছে!”
“ওহ, ব্লেইন, তুমি কিন্তু কোনো বাহানা করবে না। এ বছর তো ডাবল সেলিব্রেশন হবে। জন্মদিন আর শাসার বার্লিন যাওয়া। প্রমিজ করো যে আসবে।”
খানিক দ্বিধায় ভুগলেন ব্লেইন। এরই মাঝে ইসাবেলা আর মেয়েদেরকে কথা দিয়ে রেখেছেন যে সপ্তাহান্তের ছুটিতে নানীর বাসায় নিয়ে যাবেন।
“আই প্রমিজ সুইটি, আমি সময়মত চলে আসব।” সেনটেইন কখনো জানতেও পারবে না যে, এর জন্য ইসাবেলা তাকে কতটা শাস্তি দিবে।
আসলে অনবরত শারীরিক ব্যথা আর ওষুধ খাবার কারণেই খিটখিটে হয়ে গেছেন ইসাবেলা। মনে মনে নিজেকে এই বলে বোঝালেন ব্লেইন যে, ইসাবেলা এখনো সেই বিয়ের সময়কার মতই অনিন্দ্যসুন্দরী আছেন। কেবল ভয়ংকর সে অ্যাকসিডেন্টের কারণেই দিনকে দিন কংকালে পরিণত হচ্ছেন। বাঁকানো হাড় জিরজিরে পা দুটোতে একটুও মাংস নেই।
ঠোঁটগুলোও এত শুকিয়ে গেছে যে বেরিয়ে পড়েছে সবকটা দাঁত। তাই হাসলে কিংবা রেগে গেলে দেখা যায় সাদা মাঢ়ি।
শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে গেছে দেহত্বক। স্পষ্ট দেখা যায় হাত আর কপালে নীল শিরা। কেবল চোখ দুটোই হল জীবন্ত।
“কীভাবে এমনটা পারলে ব্লেইন?” তীক্ষ্ম কণ্ঠে জানতে চাইলেন ইসাবেলা, “তুমি কিন্তু আমার কাছে প্রমিজ করেছিলে, ঈশ্বর জানে আমি এই উইকেন্ডের জন্য কবে থেকে অপেক্ষা করছি।” একের পর এক বাক্যবাণে উত্তেজিত হয়ে উঠলেন ইসাবেলা। চিৎকার করে বলে উঠলেন, “ঠিক আছে, যাও তোমার পিকনিক করে এসো। জানি, আমি তোমার কাছে কতটা বোঝ। জানি আমার সাথে কয়েক মিনিট কাটাতেও তোমার কত আপত্তি”
