নিজের জীবনের সাথে জড়িত সবকিছুর সম্পর্কেই সমান আবেগপ্রবণ ডেভিড। আর ওর এই গুণের জন্যই ছেলেটাকে এত পছন্দ করে শাসা।
ফাইনাল পরীক্ষার পরদিন হানি মাইনে একসাথে উড়ে এসেছে দু’জনে। ড. টুয়েন্টিম্যান জোনস আগে থাকতেই তাদের জন্য ক্যাম্পিং ইকুপমেন্ট, স্টাফ, ট্র্যাকার আর শেফ ভর্তি দুইটা চার টন ওজনের ট্রাক রেডি রেখেছিলেন। এ অভিযানের ইনচার্জ হল শিকার আর বন্য জগতের বিষয়ে বিজ্ঞ কোম্পানির এক কর্মচারী।
তাদের গন্তব্য ছিল ক্যাপ্রিভিস্ট্রিপ। এ অঞ্চলে প্রবেশাধিকার এমনিতেই সংরক্ষিত। তবে ব্লেইন ম্যালকমস তাদের জন্য প্রবেশ আর শিকার করার লাইসেন্স জোগাড় করে দিয়েছেন।
উজ্জ্বল আনন্দে কেটে গেল ক্যাম্পের কয়টা দিন। প্রতিদিন অন্ধকার থাকতেই পায়ে হেঁটে যাত্রা করে ফিরতে ফিরতে আবার ডুবে যেত সূর্য। দু’জনেই সিংহ মেরেছে আর একই সাথে অনুভব করেছে শিকারিসুলভ বিষণ্ণতা। প্রতীজ্ঞা করেছে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করবে এ বন্য সম্পদ আর বাঁচাবে মানুষের লোভের হাত থেকে। আর অত্যন্ত ধনী এক পরিবারে জন্মগ্রহণ করার সুবাদে শাসা উপলব্ধি করেছে যে, একদিন তার উপরেই বর্তাবে এই দায়িত্ব। মেয়েদেরকে সাথে আনার ব্যাপারেও অবশ্য ওর আগ্রহই বেশি ছিল।
ত্রিশ বছর বয়সী বিশালাকার এক ডিভভার্সি নারীকে নিজের জন্য বেছে নিয়েছে শাসা। ডেভিড মহিলার নাম দিয়েছে “জাম্বো”। কারণ হিসেবে বলেছে, “ও এতই মোটা যে পাশাপাশি দুটি হাতি হেঁটে যেতে পারবে তার মাথার উপর দিয়ে।”
আর শাসার ইচ্ছেতেই সাথে করে নিজের বান্ধবীকে নিয়ে এসেছে জাম্বো। লম্বা মেয়েটাও একজন ডিভোর্সি। পাতলা হাত দুটোতে একগাদা চুড়ি আর গলায় পুঁতির মালা। ডেভিড তার নাম দিয়েছে “ক্যামেল”। দু’জনের আরেকটা গুণ হল তাদেরকে যে জন্য আনা হয়েছে ক্লান্তিহীন, নিপুণতার সাথে তা পালন করা ব্যতীত বাকি দিন ক্যাম্পে চুপচাপ কাটিয়ে দেয় দু’বান্ধবী। এমনকি ক্যাম্প ফায়ারের আশপাশে আড়ি পেতে ডেভিড আর শাসার কথা শোনারও কোনো চেষ্টা করে না।
“এতটা আনন্দের ছুটি আমি আর কখনো কাটাইনি।” পাইলটের সিটে হেলান দিয়ে বসে স্বপ্ন চোখে সামনের দিকে তাকিয়ে আছে শাসা। তারপর কী মনে হতেই হাতঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল, “আরে কেপটাউনে পৌঁছাতে তো এখনো এক ঘণ্টা বাকি।” সেফটি বেল্ট খুলে উঠে দাঁড়াল।
“কোথায় যাচ্ছ?” জানতে চাইল ডেভিড।
“প্রশ্নটার উত্তর দিয়ে তোমাকে অস্বস্তিতে ফেলতে চাই না, বুঝলে। তবে ক্যামেলকে ককপিটে আসতে দেখলে অবাক হয়ো না।”
“জাম্বোর জন্য আমার সত্যিই ভয় হচ্ছে।” মাথা নাড়ল ডেভিড। মিটিমিটি হেসে বন্ধুর কাঁধে চাপড় দিলো শাসা।
এক ঘণ্টা বাদে পর্বতের পাশ দিয়ে উড়ে এয়ারস্ট্রিপে প্লেন নিয়ে নামল শাসা। এতটাই দক্ষভাবে ঘাসের ওপর র্যাপিডকে নামিয়ে আনল যেন টোস্টের উপর মাখন লাগাচ্ছে। অতঃপর ট্যাক্সিইং করে হ্যাঁঙ্গারে নিয়ে এল প্লেন। আর ঠিক যেই মুহূর্তে ইঞ্জিন বন্ধ করল তখনই চোখে পড়ল হ্যাঁঙ্গারের ছায়ায় পার্ক করা হলুদ ডেইমলার। পাশে দাঁড়িয়ে আছেন সেনটেইন। “ওহ, খোদা, মা এখানে! জলদি মেয়েদেরকে মেঝেতে শুইয়ে দাও।”
“দেরি হয়ে গেছে।” গুমরে উঠল ডেভিড। “পোর্টহোল দিয়ে তোমার মায়ের দিকে হাত নাড়ছে জাম্বো।”
ক্যামেলকে নিয়ে খিকখিক করে হাসতে হাসতে সিঁড়ি বেয় নিচে নেমে গেল জাম্বো। মায়ের রাগ যে কোথায় গিয়ে জমা হচ্ছে ভাবতে বসে শক্ত হয়ে গেল শাসা।
মুখে কিছুই বললই না সেনটেইন। কিন্তু দেখা গেল আগে থেকেই একটা ট্যাক্সি এনে রেখেছেন। মেয়েদের কথা মা কীভাবে জানল তা কখনোই জানতে চায়নি শাসা। কেবল ট্যাক্সির ব্যাকসিটে বেসামাল নারী দু’জনকে তুলে দেয়ার সময় কঠিন দৃষ্টিতে তাকালেন সেনটেইন।
“ওদের লাগেজ ট্যাক্সির বুটে তুলে দাও।” তির্যক দৃষ্টি হেনে ছেলেকে আদেশ দিয়েই কাজ সেরে ট্যাক্সি ড্রাইভারের দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়লেন। “যেখানে যেতে চায় নামিয়ে দিও।”
চোখ গোল করে তাকিয়ে নিজের সিটে বসে রইল ক্যামেল; কিন্তু ট্যাক্সি গেইট দিয়ে বেরিয়ে চোখের আড়াল না হওয়া পর্যন্ত জানালা দিয়ে হাত নেড়ে একের পর এক কিস ছুঁড়ে দিল জাম্বো শাসার উদ্দেশে। মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে মা যে কী করবে ভাবতে লাগল শাসা।
কিন্তু “ট্রিপটা বেশ মজার হয়েছে তাই না ডার্লিং” মিষ্টি স্বরে জানতে চেয়েই গাল উঁচু করে দিলেন সেনটেইন। আর নারী দু’জনের কথা আর কখনোই উল্লেখ করল না মাতা-পুত্র কেউই।
“অসাধারণ!” স্বস্তি আর কৃতজ্ঞতায় মায়ের গালে কিস করল শাসা। মাকে সব বিস্তারিত বলতে চাইলেও ছেলেকে থামিয়ে দিলেন সেনটেইন। বললেন, “পরে। এখন তুমি র্যাপিডে তেল ভরে পুনরায় চেক্ করে নাও। আমরা কাল জোহানেসবার্গ যাচ্ছি।”
***
৭. কার্লটন হোটেলে
কার্লটন হোটেলে উঠলেন সেনটেইন আর শাসা। ত্রিশ শতাংশের মালিকানা থাকাতে শহরে এলে তার জন্য বরাদ্দ হয়ে যায় রয়্যাল স্যুইট।
গসিপ হবার সম্ভাবনা আছে জেনেও রাত দুটো অব্দি হোটেলের টপ ফ্লোরের নাইট ক্লাবে একসাথে নাচলেন ব্লেইন আর সেনটেইন। ঠিক করেছেন এ কয়েকদিন মাথা থেকে ব্যবসা সরিয়ে কেবল রেইনকেই মনোযোগ দিবেন।
