“বাতাসের গতি কেমন অ্যাবি?”
“ঘণ্টায় বিশ থেকে ত্রিশ মাইল।”
“থ্যাঙ্ক ইউ। ঠিক আছে আমি মাঠে ওদের জন্য অপেক্ষা করব।”
“আরেকটা ব্যাপার” খনিকটা দ্বিধার স্বরে জানালেন অ্যাবি, “গতকাল ওরা বেশ গোপনে প্লেনে উঠেছে। এমনকি আমাকেও এয়ারফিল্ডে যেতে দেয়নি। তাই মনে হচ্ছে হয়ত সাথে কোনো সঙ্গী আছে। আশা করছি বুঝতে পারছেন।”
সাথে সাথে ভ্রূ কুঁচকে ফেললেন সেনটেইন, যদিও ভালো করেই জানেন যে ডি থাইরি রক্ত প্রবাহ এত সহজে হার মানবে না। অতি সূক্ষ্মভাবে আবার বিপরীত লিঙ্গের প্রতি ছেলের এই আগ্রহে গর্বও বোধ করেন বলা চলে। যাই হোক বিষয় পাল্টে বললেন, “ধন্যবাদ অ্যাবি। আমি নতুন লীজে সাইন করে দিয়েছি। তুমি কনট্রাকট নিয়ে কাজ শুরু করে দিতে পারো।” আরো পাঁচ মিনিট ব্যবসা সংক্রান্ত আলোচনা সেরে ফোন রেখে দিলেন সেনটেইন। তারপর লন্ডনে শেয়ার বিক্রির জন্য খবর পাঠিয়ে মিরিয়াম আর হাজীকে বলে দিলেন তার অনুপস্থিতিতে কী কী করতে হবে। তারপর হিসাব করে দেখলেন যে দুপুর নাগাদ পৌঁছে যাবে শাসা।
এরপরই ডেইমলার নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন সেনটেইন। পথিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ কাটানোর সময় আরেকবার মনে পড়ে গেল শাসার কথা। সেকেন্ড ক্লাস পেয়ে এ বছর শেষ করেছে শাসা।
ওকে নিয়ে ব্লেইনের দাবি, “সেনটেইন, তুমি ছেলেকে নিয়ে একটু বেশিই ভাবো। ওকে একটু নিজের মত থাকতে দাও না। তুমি নিজে সফল বলেই এতটা আধিপত্য বজায় রাখতে চাও। তুমিই তো সব করে ফেলেছে। নিজেকে প্রমাণ করার জন্য ওই বেচারা আর কিইবা করতে পারে?”
“ব্লেইন, আমি ওর ওপর জোর খাটাতে চাই না।”
“আমি বলেছি যে তুমি কতৃত্ব করতে পছন্দ করো। করছে সেটা তো বলিনি।”
“তুমি যে মাঝে মাঝে কী বলল আমার মাথায় ঢোকে না।”
“শাসাকে জিজ্ঞেস করো।” মিটিমিটি হেসে সেনটেইনের কাঁধে হাত রেখে ব্লেইন বলেছিলেন, “তোমার দড়ি মাঝে মাঝে একটু আলগা হতে দিও সেনটেইন। ও যেন নিজের ভুল আর অর্জন দুটোই উপভোগ করতে পারে। তুমি যেসব পশু খাও না তাদেরকে হত্যা করাটা অপছন্দ হলেও ছেলেটাকে শিকারে হাত পাকাতে দাও। কোর্টনিরা তো এ বিষয়ে বিখ্যাত। ওর সামনে শিকার আর পোলোটা তুমি কখনো করোনি।”
“আর ফ্লাইং?”
“হ্যাঁ, ফ্লাইংও।”
“ঠিক আছে, এখন থেকে ও যত খুশি পশু হত্যা করবে। আমি আর কিছু বলবো না। কিন্তু ব্লেইন, ও কী অলিম্পিকের জন্য পোলো টিম তৈরি করতে পারবে?”
“ফ্রাঙ্কলি বলতে গেলে, না, মাই ডার্লিং।”
“কিন্তু ও তো বেশ দক্ষ। শাসা নিজে তোমাকে বলেছিল না?”
“হ্যাঁ।” সম্মত হলেন ব্লেইন, “ও হয়ত ভালো। কিন্তু ওর অভিজ্ঞতার অভাব আছে। যদি ওকে নির্বাচন করা হয় তাহলে ও হবে এযাবৎকালের সবচেয়ে তরুণ খেলোয়াড়। কিন্তু আমার মনে হয় না ওকে বাছাই করা হবে।”
একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলেন সেনটেইন। ব্লেইন নিজেও অভিব্যক্তিশূন্য চোখে তাকালেন। জানেন সেনটেইন কী ভাবছেন। ক্যাপ্টেন হিসেবে জাতীয় নির্বাচকের দায়িত্বে আছেন ব্লেইন।
“ডেভিড বার্লিনে যাবে।” জানালেন সেনটেইন।
“ডেভিড আব্রাহাম তত ঠিক গ্যাজেল হরিণ বলা যায়। ও এখনই দুইশ’ মিটারে সারা পৃথিবীতে চতুর্থ আর চারশ’ মিটারে তৃতীয়। অন্যদিকে শাসাকে জায়গা পেতে হলে অন্তত পৃথিবী সেরা দশজন ঘোড়সওয়ারের সাথে লড়তে হবে।” যুক্তি দেখালেন ব্লেইন।
“শাসাকে বার্লিনে পাঠানোর জন্য আমি সবকিছু করতে পারি।”
“ঠিক তাই। তুমি পারবে।” একমত হলেন ব্লেইন। “আমি তোমাকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি মাই লাভ, আমি সর্বোতভাবে চেষ্টা হঠাৎ থেমে গেলেন ব্লেইন, প্রত্যাশা নিয়ে তাকালেন সেনটেইন, “করব যে নির্বাচকদের কাছে শাসার নাম এলে আমি যেন রুম ছেড়ে চলে আসতে পারি।”
“ও এত বেশি নীতিবান?” জোরে জোরে চিৎকার করেই হতাশায় ডেইমলারের স্টিয়ারিং হুইল চেপে ধরলেন সেনটেইন। সাথে সাথেই অবশ্য চোখের সামনে আইভরি আর সোনালি কারুকাজ করা বিশাল বিছানার দৃশ্যটা ভেসে উঠতেই আনমনে হেসে উঠে ভাবলেন, “নাহ, কথাটা সবক্ষেত্রে খাটে না।”
ধূ-ধূ করছে পুরো এয়ারফিল্ড। ডেইমলারকে হাঙ্গ্যারের পাশে পার্ক করে রাখলেন সেনটেইন। যেন শাসা আকাশ থেকে দেখতে না পায়। তারপর একটা ট্রাভেলিং কার্পেট বের করে ঘাসের ওপর বিছিয়ে বসলেন। হাতে গত সপ্তাহের শেষ না করা বই। মাঝে মাঝেই আবার চোখ তুলে দেখছেন উত্তরের আকাশে।
***
ঘোড়া নিয়ে দৌড়ানোর মত আকাশে উড়ে বেড়ানোটাকেও সমান মাত্রায় উপযোগ করে ডেভিড আব্রাহামস। যদিও অ্যাবি আব্রাহামস সারা জীবন ধরেই সেনটেইনের সাথে কাজ করে আসছেন, তথাপি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পরই শাসা আর তার সখ্যতা গড়ে উঠেছে। তারপর দু’বন্ধু মিলে তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয় ফ্লাইং ক্লাব; যার জন্য টাইগার মথ ট্রেনারের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন সেনটেইন।
ডেভিড আইন নিয়ে পড়ছে; যার আরেকটা উদ্দেশ্য হল উইন্ডহকে বাবার জায়গায় স্থলাভিষিক্ত হওয়া। তাই ছেলেটাকে ভাললাভাবে পর্যবেক্ষণ করার পর শাসার সাথে ওর বন্ধুত্বকেও মেনে নিয়েছেন সেনটেইন।
বাবার চেয়েও লম্বা ডেভিডের চেহারাটাও সদা হাস্যোজ্জ্বল, মাথার চুলগুলো কোঁকড়া আর বাবার মতই পাখির ঠোঁটের মত নাক। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হল ছেলেটার গাঢ় সেমিটিক জোড়া চোখ আর সংবেদনশীল হাত যা এখন ড্রাগন র্যাপিড প্লেনের কন্ট্রোল কলাম ঠুয়ে আছে। ঠিক মনোযোগ দিয়ে উপাসনা করার মতই প্লেন চালায় ডেভিড। অন্যদিকে শাসা চালায় দক্ষ ইঞ্জিনিয়ারসুলভ মনোভাব নিয়ে।
