“তুমি তো আমাদেরকে আচ্ছা বোকা বানিয়েছ ম্যানি” ভয়ংকর স্বরে জানাল রুলফ, “কখনো বলোওনি যে ট্রম্প বিয়াম্যান তোমার আংকেল। খোদার কসম ম্যান, উনি পাঁচ বছর ধরে ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। স্ল্যাটার আর ব্ল্যাক জ্যাপথা তো উনার হাতেই কাবু হয়েছিল।”
“বলিনি নাকি?” কপট চিন্তার ভাঁজ ফেলল কপালে ম্যানি। “বোধ হয় খেয়াল ছিল না।”
“ম্যানি, এখন উনার সাথে তাহলে পরিচয় করিয়ে দাও।” কাতর অনুনয় জানাল ভাইস ক্যাপ্টেন। “আমরা সবাই উনার সাথে দেখা করতে চাই, প্লিজ ম্যান প্লিজ।”
“তোমার কী মনে হয়? উনি আমাদের টিমের কোচ হতে রাজি হবেন? তুমি একবার জিজ্ঞেস করবে আর যদি ট্রম্প বিয়ারম্যান আমাদের কোচ হন তো” কথাটার সম্ভাবনায় বিভোর হয়ে চুপ করে গেল রুলফ।
“আমি বলি কি” সাজেশন দিল ম্যানি, “যদি রবিবারের সকালবেলার উপাসনায় তুমি বক্সিং দলকে নিয়ে গির্জায় আসতে পারো তাহলে দেখবে আন্টি নির্ঘাৎ লাঞ্চে দাওয়াত করবেন। আর আমার ট্রুডি আন্টির রান্না তো খাওনি।”
যেই কথা সেই কাজ। দাড়ি কামিয়ে চুল আঁচড়ে, নিজেদের সেরা পোশাকটা পরে গির্জায় হাজির হয়ে গেল পুরো বক্সিং স্কোয়াড। স্তবগানের সময় তো ছাদ পর্যন্ত পৌঁছে গেল ওদের হুঙ্কার।
লাঞ্চটাকে নিজের রন্ধন বিদ্যার প্রতি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিলেন আন্টি। সারা সপ্তাহ জুড়ে মেয়েদেরকে নিয়ে ডিনার প্রস্তুত করলেন। অন্যদিকে সপ্তাহের পর সপ্তাহে হোস্টেলের সাদামাটা খাবার খেয়ে বিরক্ত হয়ে যাওয়া একদল তরতাজা তরুণ তো মনোযোগের ভাগ-বাটোয়ারা করতে গিয়ে হিমশিম খেয়ে গেল। একদিকে লম্বা টেবিলের মাথায় বসে স্মৃতিচারণ করছেন স্বয়ং ট্রম্প বিয়ারম্যান; অন্যদিকে কিচির-মিচির করছে আন্টির সুন্দরী মেয়েরাও; এদিকে আবার টেবিল উপচে পড়ছে অত্যন্ত সুস্বাদু সব রোস্ট, পুডিং আর বিভিন্ন খাবার।
খাওয়া শেষে আস্ত হরিণ গিলে ফেলা পাইথনের মত ফোলা পেট নিয়ে উঠে দাঁড়াল রুলফ। পুরো টিমের পক্ষ থেকে ধন্যবাদের বক্তৃতা দিতে গিয়ে আংকেলকে অনুনয় করল যেন তিনি তাদের কোচের দায়িত্ব নেন।
প্রথমে পুরো চিন্তাটাকেই হাসি মেরে উড়িয়ে দিলেন আংকেল। কিন্তু ছেলেদের সম্মিলিত একের পর এক কারণ দেখিয়েও পার পেলেন না। সমস্ত বাহানা খারিজ করে দিল বক্সিং স্কোয়াড। আর শেষপর্যন্ত তাই রাজি না হয়ে পারলেন না ট্রম্প বিয়ারম্যান। তবে উল্লসিত ছাত্রদের সাথে করমর্দন করতে গিয়ে এটাও মনে করিয়ে দিলেন যে, “তোমরা নিজেরাই কিন্তু নিজেদের খাল খুঁড়লে, বুঝেছ? কিছু কিছু বাক্য তো আমি একদম শুনতে পারি না, যেমন : আমি ক্লান্ত হয়ে গেছি, যথেষ্ট হয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি।” বোঝা যাচ্ছে আংকেল নিজেও কতটা আনন্দিত হয়েছেন।
অতঃপর ভরপেট খেয়েদেয়ে সন্ধ্যাবেলা একসাথে হলে ফিরে এল ম্যানি আর রুলফ। সারাটা পথ কেন যেন রুলফ একটাও কথা বলেনি। কেবল মেইন গেইটের কাছে এসে বলল,
“ম্যানি, একটা কথা বলো তো, তোমার কাজিন, ওর বয়স কত?
“কোন জন?” আগ্রহ না দেখিয়েই জানতে চাইল ম্যানি। “মোটাটা, গারট্রড আর ব্রণ মুখেরটা রেনাটা” “না! না, ম্যানি, বেকুবের মত কথা বলো নয়া” ওকে থামিয়ে দিল রুলফ। “নীল নয়না যে সুন্দরী যার মাথাভর্তি সিল্কি সোনালি চুল। ওকেই আমি বিয়ে করব।”
সাথে সাথে দাঁড়িয়ে গেল ম্যানফ্রেড মনে হচ্ছে মাথা ঘুরে পড়ে যাবে।
“আর কক্ষনো একথা বলবে না। কেঁপে উঠল ম্যানির গলা। রুলফের জ্যাকেট চেপে ধরে বলল,
“তোমাকে সাবধান করে দিচ্ছি কিন্তু। সারাহ্ সম্পর্কে এরকম আর বললে সিধে মেরে ফেলব।”
মাত্র ইঞ্চিখানেক দূরেই ম্যানফ্রেডের মাথা থাকায় ভয়ংকর হলুদ চোখ জোড়াতে জ্বলে ওঠা খুনের নেশা স্পষ্ট দেখতে পেল রুলফ। বলল,
“হেই ম্যানি, কী হয়েছে? আমি তো খারাপ কিছু বলিনি। তুমি কী পাগল হয়ে গেছ? আমি কক্ষনো সারাহকে অপমান করব না।”
ম্যানফ্রেডের চোখ থেকে আস্তে আস্তে দূর হয়ে গেল হলদেটে আগুন। রুলফকে ছেড়ে দিয়ে মাথা নেড়ে বলল, “ও তো একটা বাচ্চা মেয়ে। এভাবে বলাটা তোমার উচিত হয়নি ম্যান।”
“বাচ্চা মেয়ে?” অনিশ্চিত ভঙ্গিতে হেসে উঠেই জ্যাকেট ঠিক করে নিল রুলফ। অন্ধের মত কথা বলো না ম্যানি। ও বাচ্চা মেয়ে নয়। ও হল সবচেয়ে সুন্দরী, কিন্তু ঝড়ের বেগে গেইট পার হয়ে ভেতরে ঢুকে গেল খ্যাপা মানি।
“তার মানে ব্যাপারটা তাহলে এই বন্ধু!” ফিসফিস করে উঠল রুলফ। দীর্ঘশ্বাস ফেলে হাত দুটো পকেটে ভরে হাঁটা ধরতেই মনে পড়ল খাওয়ার সময় কেমন করে ম্যানির পিঠে হাত রেখে দাঁড়িয়ে ছিল সারাহ। হঠাৎ করেই খানিকটা বিষণ্ণ হয়ে উঠলেও নিজেকেই প্রবোধ দিল রুলফ, “এখনো হাজার হাজার সুন্দরী রুলফ স্ট্যান্ডারকে পেলে ধন্য হয়ে যাবে বুঝলে!” কাঁধ ঝাঁকিয়ে ম্যানির পিছু পিছু গেইটের ভেতরে ঢুকে পড়ল রুলফ।
***
এরপর টানা বারোটা ম্যাচ জিতে গেল ম্যানফ্রেড। প্রতিটাই নক আউট, তৃতীয় রাউন্ডের মাঝেই খেলা শেষ। স্পোর্টস রাইটার সবাই একবাক্যে মেনে নিল ওই হল কালাহারির সিংহ। কিন্তু আংকেল ট্রম্প কপট বকুনির মাধ্যমে বললেন,
“অল রাইট, বাছা, যত পারো জিতে নাও। কিন্তু মনে রেখো তুমি কিন্তু চিরকাল তরুণ থাকবে না। শেষপর্যন্ত কিন্তু মানুষের পেশি কিংবা মুঠি নয়, মাথাটাই ঠিকে থাকে। এ কথাটা কক্ষনো ভুলে যেও না।” তাই ট্রেনিং সেশনের মত পড়াশোনাতেও সমান মাত্রায় মনোযোগ ঢেলে দিল ম্যানি।
