“কাজ কিন্তু এখনো বহু বাকি আছে ভাই” ফোর্ড স্টার্ট করে ভাইকে জানাল মোজেস। “আমাদের গোত্রের ছাগলের মত করে সবকটা ছোট ছোট পানশালা আর পতিতালয়কে খেঁকিয়ে নিজেদের দলে আনতে হবে আর এর জন্য একমাত্র একটা রাস্তাই খোলা আছে।”
“জানি কীভাবে করতে হবে।” মাথা নাড়লেন হেনড্রিক।
“একজন জেনারেলও প্রয়োজন।” স্পষ্ট চোখে হেনড্রিকের দিকে তাকাল মোজেস। “তোমার সিআরসি ত্যাগের সময় চলে এসেছে ভাই। এখন এ কাজেই প্রয়োজন তোমার সমস্ত সময় আর শক্তি। মাটির নিচে পাথর ভেঙে শক্তি অপচয়ের আর কোনো প্রয়োজন নেই। এখন থেকে তুমি কেবল সৌভাগ্য আর ক্ষমতার জন্যেই মাথা ভাঙবে।” হালকা স্বরে হেসে ফেলল মোজেস। “তোমার হিরেগুলোর জন্য আর দুঃখ করো না। আমি তোমাকে তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু দিব।”
সিআরসি’র সাথে হেনড্রিকের চুক্তি বাতিল করে দিলেন মার্কাস আর্চার, এছাড়া স্পেশ্যাল ট্রেনের জন্যে ট্রাভেল পেপারসও ইস্যু করে দিয়েছেন। কিন্তু এ ট্রেনে হেনড্রিক কখনোই চড়েননি। বরঞ্চ শ্বেতাঙ্গদের রেকর্ড থেকে হারিয়ে ছায়ার মত মিশে গেলেন শহরতলীর ভেতরে।
মামা জিংগা তার পানশালার পেছনে শুধুমাত্র হেনড্রিকের জন্যই এক ঘর বরাদ্দ করে দিল। এ ছাড়া তার মেয়েদের কেউ না কেউ সব সময় হেনড্রিকের কাপড় ধোয়া, রান্না করার আর আনন্দ দানের কাজে তৈরি থাকত।
ড্রেকস ফার্মে প্রবেশের ছয় দিনের মাথায় বাফেলো টিমের ক্যাম্পেইন চালু করে দিলেন হেনড্রিক। উদ্দেশ্যে হল একেবারে স্পষ্ট। ড্রেকস ফার্মই হবে তাদের নিজস্ব দুর্গ।
প্রথম রাতেই বিরোধিতা করেছে এরকম বারোটি পানশালা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল। মাতাল কাস্টমারসহ অঙ্গার হয়ে গেল এগুলোর মালিক। শ্বেতাঙ্গদের ফায়ার ইঞ্জিনের আওতার বাইরে থাকায় আগুনের লকলকে শিখা নেভানোর জন্যে কোনো চেষ্টাই হল না। বরঞ্চ ড্রেকস ফার্মের অধিবাসীরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যেন উপভোগ করল সার্কাসের দৃশ্য। আগুন দেখে শিউরে উঠে নাচানাচি শুরু করল শিশুদের দল। আতশবাজির মত মদের বোতল ফাটতে দেখে অট্টহাসি দিল সবাই।
তবে মেয়েদের প্রায় সবাই বেঁচে গেছে। অনেকেই বিবস্ত্র হয়ে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে এলেও সহৃদয় পুরুষের দল এসে তাদেরকে নিয়ে গেল মামা জিংগার আশ্রয়ে।
পরবর্তী আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যে ছাইয়ের ওপর নির্মাণ করা হল নতুন পানশালা। মেয়েরাও আবার যার যার কাজে ফিরে এল। এখানে পেল আরো ভালো থাকা-খাওয়ার সুযোগ। সাথে নিজস্ব বাফেলো যেন কাস্টমাররা তাদের সাথে প্রতারণা কিংবা খারাপ আচরণ করতে না পারে।
“দয়া থেকেই জন্ম নেয় হৃদয়ের বিশ্বস্ততা আর দৃঢ়তা” নিজের বাফেলোদেরকে বুঝিয়ে দিলেন হেনড্রিক। আর তার এই “হ্যাপি হাউজ” পলিসি সাদরে গ্রহণ করল ড্রেকস্ ফার্মাসী। শহরতলিতে বসবাসরত সকল কৃষ্ণাঙ্গ খনি শ্রমিকদের দেখভাল করতেন হেনড্রিক। তাই কিছুদিনের মাঝেই বন্ধ হয়ে গেল পকেটমার আর ছিঁচকে চোরদের দৌরাত্ম। বেড়ে গেল মদের মান। মামা জিংগা নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তৈরি করা শুরু করলেন সব রকমের পানীয়।
মদ্দা হাতির মত কড়া স্বাদের এই মদ মানুষকে মাতাল করলেও অন্ধ কিংবা ব্লেইনের কাজ বন্ধ করে দিত না। তাই মাত্র দুই শিলিং খরচ করলেই মিলে যেত আনন্দ।
গ্রাম থেকে পালিয়ে শহরে আসা মেয়েদেরকে ড্রেকস ফার্মে নিয়ে আসত হেনড্রিকের লোকজন। কিংবা বিভিন্ন জায়গায় বাফেলোদেরকে পাঠিয়ে তিনিই তাদেরকে বিভিন্ন কিছুর লোভ দেখিয়ে শহরে আনতেন।
জোহানেসবার্গের নগর পিতার দল আর পুলিশ শহরতলীর এসব কাজকর্ম সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকলেও বিকল্প কোনো উপায় না পেয়ে এ ব্যাপারে চোখ বন্ধ করে ফেললেন। কেননা এসব পানশালা বন্ধ করে দিলে কোথায় যাবে অবৈধ এত অধিবাসী? তাই মাঝেমাঝে হানা দেয়া, গ্রেফতার আর কদাচিৎ ফাইন করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রইল তাদের দায়িত্ব। কিন্তু যেহেতু রহস্যময় কারণে ড্রেকস ফার্ম থেকে খুন-খারাবি আর ডাকাতির মত ঘটনাও উধাও হয়ে শান্ত হয়ে গেল চারপাশ তাই তারাও আর এ দিকটা মাড়াত না। র্যান্ডের খনি শ্রমিকদের কাছে স্বর্গ হয়ে উঠল এ ফার্ম। তারপরেও এখনো হাজার হাজার কাস্টমার আছে যারা ড্রেকস ফার্ম চেনে না। এদের ব্যাপারে মনোযোগী হয়ে উঠল মোজেস গামা।
“তারা যেহেতু আমাদের কাছে আসতে পারছে না; আমাদেরকেই ওদের কাছে যেতে হবে।” কী করতে হবে হেনড্রিককে বুঝিয়ে দিতেই পুরো এক বহর সেকেন্ড হ্যান্ড ডেলিভারী ভ্যান কিনে সেগুলো সারাইয়ের জন্য কৃষ্ণাঙ্গ মেকানিক লাগিয়ে দিলেন হেনড্রিক।
প্রতি সন্ধ্যায় মদ আর মেয়েদেরকে নিয়ে এসব ভ্যান পৌঁছে যেত দূর দূরান্তের খনিগুলোতে। তারপর গাছের নিচে কিংবা পরিত্যক্ত কোনো দালানের ভেতর দাঁড়াতেই খনি শ্রমিকদের কম্পাউন্ডের বাফেলো গার্ড কাস্টমারদেরকে যাওয়া-আসার সুযোগ দিত। প্রাপ্ত অর্থ থেকে শেয়ার পেত সবাই।
“তো ভাই, তুমি কি এখনো তোমার ছোট্ট পাথরগুলোর কথা ভাব?” দু’বছর বাদে একদিন হেনড্রিকের কাছে জানতে চাইল মোজেস।
“যেমনটা তুমি বলেছিলে” মিটিমিটি হাসলেন হেনড্রিক, “একজন মানুষ যা যা চাইতে পারে তার সমস্ত কিছুই এখন আমাদের হাতে।”
“তুমি এত সহজে সন্তুষ্ট হও।” খানিকটা পরিহাসের সুরে বলে উঠল মোজেস।
