তারপর ঘোড়া আস্তাবলে রেখেই ছুটে এলেন দুর্গে। মন চাইছে কারো সাথে কথা বলতে, ইশ, যদি ব্লেইনকে পাওয়া যেত। কিন্তু ডাইনিংরুমে পাওয়া গেল স্যার গ্যারিকে।
“খবরটা শুনেছো?” সেনটেইনকে দেখে উত্তেজিত স্বরে জানতে চাইলেন স্যার গ্যারি, “ছয়টার রেডিওতে বলেছে। হার্টজগ কী করেছে। মাই গড! আমরা গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড পরিহার করেছি। তাই যাদেরই এক্ষেত্রে শেয়ার আছে তাদের অর্থ এখন দ্বিগুণ তিনগুণ হয়ে যাবে। কিন্তু তোমার কী হয়েছে বাবা?”
নিজের চেয়ারে হতভম্বের মত বসে আছেন সেনটেইন,
“না, না, কিছু হয়নি।” উন্মাদের মত দু’পাশে মাথা নেড়ে জানালেন, “আর কোনো ভয় নেই। সবকিছু ঠিক হয়ে গেছে, সবকিছু।”
***
এই প্রথমবারের মত লাঞ্চ টাইমে ওয়ল্টেভ্রেদেনে ফোন দিলেন ব্লেইন। অদ্ভুত এক কণ্ঠে কেবল জানালেন, “বিকেল পাঁচটায় কটেজে এসো।”
“ইয়েস, আমি চলে আসব।” আরো কিছু বলতে চাইলেন সেনটেইন; কিন্তু ফোন কেটে দিলেন ব্লেইন।
এক ঘণ্টা আগেই কটেজে পৌঁছে তাজা ফুল, বিছানাতে নতুন চাদর আর শ্যাম্পেনের বোতল নিয়ে তৈরি হয়ে রইলেন সেনটেইন। খানিক বাদেই এলেন ব্লেইন,
“ওহ, ডিয়ার আমি যে কতটা কৃতজ্ঞ তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।” জানালেন সেনটেইন।
“আমিও তাই চাই, কোনো কথা না! এ ব্যাপারে আমরা কখনোই কোনো কথা বলব না। যেন কখনোই এরকম কোনো কিছু ঘটেনি। প্লিজ প্রমিজ করো যে তুমিও আর কখনো তুলবে না এ প্রসঙ্গ।”
কথা দিচ্ছি। তুমি যা চাও সেভাবেই সব হবে।” স্বস্তি পেলেন সেনটেইন। হাসতে হাসতে ব্লেইনকে কিস করে বললেন, “শ্যাম্পেন?” পরস্পরের ভালোবাসার নামে টোস্ট করলেন দুজনে।
ব্রোকারদের মধ্যে সবার আগে সেনটেইনকে ফোন করলেন মি. সোয়েলস; মার্কেটের মতই উচ্ছ্বসিত গলায় জানালেন,
“মাই ডিয়ার মিসেস কোর্টনি, আপনার সময়জ্ঞান সত্যিই অলৌকিক। আপনার পুরো পারচেজ অর্ডার পূরণ করতে না পারলেও পঁচিশ শিলিংয়ে চারশ’ চল্লিশ হাজার ই আর পি এম কিনেছি। যা এখন পঞ্চাশ শিলিং আর আরো বাড়ছে। সপ্তাহ শেষে না ষাট হয়ে যায়
“বিক্রি করে দিন।” সেনটেইনের কথা শুনে ভিরমি খেলেন সোয়েলস।
“ম্যাডাম, আমি কি কিছু বলতে–
“বিক্রি করুন। সবগুলো বিক্রি করুন।” তাড়াতাড়ি ফোন রেখে নিজের লাভ হিসাব করে দেখলেন সেনটেইন। কিন্তু আবার ফোন বেজে উঠল। এভাবে একের পর এক ব্রোকারের আনন্দিত ফোন শেষে এল উইন্ডহকের কল।
“ড. টুয়েন্টিম্যান জোনস আপনার কণ্ঠস্বর শুনে কী যে ভালো লাগছে।”
“ওয়েল মিসেস কোর্টনি, এখন থেকে হানি মাইন আবার লাভের মুখ দেখবে। ডি বিয়ার্স তার জঘন্য কোটা দিয়েও আমাদেরকে আটকাতে পারবে না।” অথচ ড. এর গলা শুনে মনে হচ্ছে শোকে তিনি পাথর হয়ে গেছেন।
“আমাদের আর কোনো ভয় নেই, জোন, আই লাভ ইউ। আমি এক্ষুণি হানির উদ্দেশে রওনা দিচ্ছি।”
ফোন রেখে ছেলের খোঁজে গেলেন সেনটেইন। নিচের আস্তাবলে কৃষ্ণাঙ্গ সহিসদের সাথে খোশগল্প করছে শসা,
“বাবু, আমি এক্ষুণি কেপ টাউনে যাচ্ছি। তুমি যাবে?”
“কেন মা?”
“সারপ্রাইজ!”
সাথে সাথে লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়াল শাসা। স্ট্যান্ড স্ট্রিটের পোটারস মোটর শোরুমে চলে এলেন মা আর ছেলে। দৌড়ে এলেন সেলস ম্যানেজার,
“মিসেস কোর্টনি আপনাকে অনেকদিন দেখিনি। উইশ ইউ আর ভেরি হ্যাপি নিউ ইয়ার।
“ধন্যবাদ মি, টিমস। এবার বলুন কত তাড়াতাড়ি আমার নতুন ডেইমলার ডেলিভারি দিতে পারবেন?”
“হলুদ হবে নিশ্চয়?”
“অবশ্যই!”
“আর ফিটিংস ভ্যানিটি, ককটেইল কেবিনেট!”
“সব থাকবে?”
“আমি এক্ষুণি আমাদের লন্ডন অফিসে ফোন করে দিচ্ছি। চার মাস?”
“না। তিন মাস করুন মিঃ টিমস।”
মায়ের আচরণ দেখে অবাক হয়ে গেছে শাসা। বলেই বসল, “মা, আমাদের তো টাকা
“ধুর বাবু, দেউলিয়া হতেও স্টাইল লাগে।”
“এখন কোথায় যাবো?”
“পোস্ট অফিস!”
তারপর সথেবি’কে ক্যানসেল অর্ডার পাঠিয়ে মাউন্ট নেলসন হোটেলে লাঞ্চ করলেন সেনটেইন আর শাসা।
***
মিটিং শেষ হবার সাথে সাথে ছুটে আসার প্রমিজ করেছিলেন ব্লেইন। তাই কথামত চলেও এলেন। কিন্তু কর্নেলের চেহারা দেখে আঁতকে উঠলেন সেনটেইন,
“কী হয়েছে ব্লেইন?”
“চলো একটু হাঁটি সেনটেইন, সারাদিন রুমে বন্দি হয়েছিলাম।”
“এস্টেটের পেছনে চূড়ায় পড়ে থাকা কাঠের গুঁড়ির ওপর বসে সূর্যাস্ত দেখলেন দু’জনে; কিন্তু কর্নেলের বিষণ্ণতা কাটল না।
“আমাকে বলল কী হয়েছে, ব্লেইন? মুখ ঘুরিয়ে সেনটেইনের দিকে তাকালেন ব্লেইন।
“ইসাবেলা।”
“কী হয়েছে ওর?” আচমকা নামটা শুনে দমে গেলেন সেনটেইন।
“ডাক্তারেরা ওর জন্য আর কিছুই করতে পারবে না। নেক্সট জাহাজে চড়েই সাউদাম্পটন থেকে ফিরে আসছে।”
নিস্তব্ধতার মাঝেই রুপালি সমুদ্রে ডুবে গেল সূর্য। পৃথিবীর মত সেনটেইনের বুকের মাঝে নেমে এল অন্ধকার।
“ব্যাপারটা কত আজব তাই না।” ফিসফিস করে উঠলেন সেনটেইন,
“তোমার কারণেই এখন আমি চাইলে পার্থিব যে কোনো কিছু পেতে পারি শুধু তোমাকে ছাড়া।”
***
পিঠে খাবারের বস্তা নিয়ে রাতে নতুন চাঁদ ওঠার সাথে সাথে ক্রাল ছেড়ে বেরিয়ে এলেন সোয়ার্ট হেনড্রিক আর তার ভাই মোজেস। তারপর গাছে উঠে ঈগলের বাসা থেকে কাটিজ পেপারের প্যাকেটগুলোও নিয়ে এল মোজেস।
তাদের গ্রাম কিংবা গোত্রের আর কারো পিছু নেয়া সম্ভব নয় এমন দূরত্বে এসে বোল্ডারের আড়ালে আগুন জ্বেলে বিশ্রাম নিতে বসল দুই ভাই। প্যাকেট খুলে ছোট একটা পাত্রে হিরেগুলো নিয়ে দেখলেন হেনড্রিক। অন্যদিকে খাবার তৈরি করল মোজেস।
