আস্তে আস্তে পাশ ফিরে সেনটেইনের ঘুমন্ত চেহারার দিকে তাকালেন ব্লেইন। বালিশ ছুঁড়ে ফেলে ম্যাট্রেসের ওপর শুয়ে আছেন তার ভালোবাসার নারী। ঠোঁট দুটো প্রায় তার কাধ স্পর্শ করে রেখেছে। বন্ধ চোখের পাতার চামড়ার নিচে ফুটে উঠেছে নীল শিরা। মুখের কোণে খানিকটা চিন্তার ভাঁজ। “মাই পুওর ডার্লিং, তোমার এই দুঃসময়ে শুধু যদি কিছু করতে পারতাম।” আচমকা কথাটা মনে হতেই শক্ত হয়ে উঠল রেইনের শরীর।
পাশে শুয়ে থাকা এই নারী তাঁকে বিনা শর্তে ভালোবেসেছেন। চাইবার আগে ব্লেইনকে সবকিছু উজাড় করে দিয়েছেন। সেনটেইনই বলেছেন এমন কিছু তারা কখনোই করবেন না যাতে অন্য কেউ ব্যথিত হন। অথচ বিনিময়ে ব্লেইনের কাছ থেকে সোনা কিংবা প্রতিজ্ঞা কিছুই চাননি।
অন্যদিকে সম্মান আর দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজেকে মহৎ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন ব্লেইন। ভালোবাসা হয়েছে উপেক্ষিত। তাহলে তিনি কার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন? যাকে ভালোবাসেন তার সাথে নাকি স্ত্রীর সাথে?
আস্তে করে চাদর সরিয়ে উঠে গেলেন ব্লেইন। ঘুমের মধ্যে নড়ে উঠে আবার ঘুমিয়ে গেলেন সেনটেইন। তিনি গত রাতেই বাথরুমে নতুন রেজর আর টুথব্রাশ রেখে দিয়েছেন ব্লেইনের জন্যে। দেখে তো মনে মনে আরো বিষণ্ণ হয়ে উঠলেন কনেল।
পা টিপেটিপে রুমে এসে দাঁড়ালেন বিছানার পাশে। আপন মনেই ভাবলেন, “আমি এখন চলে গেলেও সেনটেইন কখনোই আমার বিশ্বাসঘাতকতা টের পাবে না। কিন্তু না তাতে তো তিনিও শান্তি পাবেন না। তাই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন।
নিচু হয়ে চোখের পাতা স্পর্শ করতেই জেগে গেলেন সেনটেইন। ব্লেইনকে দেখে তৃপ্ত মুখে হাসলেন,
“ডার্লিং কয়টা বাজে?”
“সেনটেইন, ঘুম ভেঙেছে?”
তাড়াতাড়ি উঠে বসলেন সেনটেইন, “ওহ ব্লেইন, তুমি পোশাক পরে তৈরিও হয়ে গেছো? এত তাড়াতাড়ি!”
“আমার কথা শোনো সেনটেইন, ব্যাপারটা খুবই জরুরি।”
মাথা নেড়ে মনোযোগ দিয়ে কর্নেলের দিকে তাকালেন সেনটেইন।
“আমরা গোল্ড ছেড়ে দিচ্ছি।” খসখসে গলায় জানালেন ব্লেইন; অপরাধবোধের চোরাকাটা বিধে আছে কণ্ঠে। “মাত্র গতকালকেই ওড় বাস আর ব্যারি হার্টজগ মিলে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিউ ইয়ারে খোলার আগেই ঘোষণা দিয়ে দেবেন।”
পুরো পাঁচ সেকেন্ড শূন্য চোখে তাকিয়ে থাকার পর আচমকা কথাটার মর্ম বুঝতে পারলেন সেনটেইন। বিস্ময়ে বড় বড় হয়ে গেল চোখ। কিন্তু হঠাৎই আবার নিভে গেল সেই আলো।
“ওহ, গড, মাই ডার্লিং, এত গোপন একটা তথ্য আমাকে দিয়েছে। তোমার কর্তব্যের কথাও ভাবোনি।” আবেগে কেঁপে উঠল গলা, “তুমি সত্যিই আমাকে এতটা ভালোবাসো।”
কিন্তু ব্লেইন এমনভাবে তাকিয়ে রইলেন যে সেনটেইন বুঝতে পারলেন কর্নেলের অনুশোচনা; বিছানার উপর হাঁটু গেড়ে বসে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, “ব্লেইন, তুমি আমাকে যা বলেছো আমি এর কোনো অন্যায় ফায়দা লুটব না, আমি কাউকে বলব না”।
“সেনটেইন আমি কখনোই তোমাকে ঘৃণা করতে পারব না, কখনোই না।” লম্বা লম্বা পা ফেলে রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন কর্নেল।
সেনটেইনের মন চাইল ছুটে গিয়ে ব্লেইনের পিছু নেন; কিন্তু বুঝতে পারলেন এ মুহূর্তে তা সম্ভব নয়। উপলব্ধি করলেন আহত সিংহের মতই কিছু সময় একাকী কাটাতে চান ব্লেইন।
***
ওয়েল্টেভ্রেদেনে নিজের ডেস্কে বসে আছেন সেনটেইন। সামনে আইভরি আর পিতলের তৈরি টেলিফোন।
মনে মনে প্রচণ্ড ভয় পাচ্ছেন যা করতে চাইছেন তা সমাজ আর আইনের চোখে জঘন্য অপরাধ। এমনকি বিপজ্জনক এই ভ্ৰমণ হয়ত তাকে সম্মানহানির কলংক আর কারাগার পর্যন্ত নিয়ে যাবে।
আর ঠিক তক্ষুনি বেজে উঠল ফোন। গভীর দম নিয়ে হ্যান্ডসেট তুললেন সেনটেইন।
“আমি মি. সোয়েলসকে লাইন দিয়েছি মিসেস কোর্টনি” শোনা গেল সেক্রেটারির গলা।
ধন্যবাদ নাইজেল।”
“মিসেস কোর্টনি” একটু পরেই কথা বললেন সোয়েলস; স্টকব্রোকার ফার্মের সিনিয়র পার্টনার জানালেন, “উৎসবের শুভেচ্ছা নিন।”
ধন্যবাদ মি, সোয়েলস। আপনার জন্যে একটা বায়িং অর্ডার আছে। আজ মার্কেট বন্ধ হবার আগেই ফিল আপ করা চাই।”
“অফকোর্স।”
“প্লিজ পাঁচশ হাজার ইস্ট র্যান্ড প্রোপাইটরি মাইনস্ কিনুন।” পুরোপুরি নিস্তব্ধতা নেমে এল ফোনের ওপাশে।
বহুক্ষণ বাদে অবশেষে সোয়েলস বললেন, “এটা তো প্রায় ছয়শ’ হাজার পাউন্ড।
“ঠিক তাই।”
“মিসেস কোর্টনি-” ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন সোয়েলস।
“কোনো সমস্যা?” জানতে চাইলেন সেনটেইন।
না, না, আসলে আমি এত অবাক হয়ে গেছি যে, যাই হোক আমি এক্ষুণি কাজ করে দিচ্ছি।”
“আপনার কন্ট্রাকট নোট পাবার সাথে সাথে আমি চেক পাঠিয়ে দেব।” তারপর একটু বিরতি দিয়ে ঠাণ্ডা গলায় বললেন, “নাকি এক্ষুণি কোন ডিপোজিট চান?”
নিঃশ্বাস বন্ধ করে বসে রইলেন সেনটেইন। কারণ যদি সোয়েলস চেয়ে বসে এত বড় অ্যামাউন্ট উনি কোত্থেকে দিবেন?
“ওহ, মিসেস কোর্টনি। আমি সত্যিই লজ্জিত। ঠিক আছে কোন তাড়াহুড়া নেই। আমরা আপনাকে কনট্রাকট নোট পাঠিয়ে দিচ্ছি। আগামীকাল সকালেই কনফার্ম করতে পারব।”
সেনটেইনের হাত এতটাই কাঁপছে যে টেলিফোন সেট জায়গামত রাখতে গিয়েও হিমশিম খেয়ে গেলেন।
“এটা আমি কী করলাম। এত বড় জালিয়াতির জন্যে ন্যূনতম দশ বছর সাজা তো নিশ্চিত! দেউলিয়া হওয়া সত্ত্বেও আরো হাফ মিলিয়ন ঋণের বোঝা মাথায় নিচ্ছেন। ভাবলেন এক্ষুণি ফোন করে অর্ডার ক্যানসেল করে দেবেন। কিন্তু তার আগেই আবার রিং বেজে উঠল,
