“আমিও এতে একমত।” উত্তরে জানালেন মুট। “কাজ শুরু করার আগেই আমাদের নব কোয়ালিশনের অস্তিত্বকে হুমকির মাঝে ফেলাটা বরদাশত করা যাবে না।”
“এখন একটা সংকটকাল চলছে।” মাঝখানে বলে উঠলেন হাভেঞ্জা, “এ ব্যাপারে আপনার মতামত কি জানতে পারি ওড বাস?”
“আপনি সেটা জানেন। মনে আছে নিশ্চয় আমি গোল্ড স্ট্যান্ডার্ডের ক্ষেত্রে গ্রেট ব্রিটেনের নীতি অনুসরণ করতে বলেছিলাম। এখনো আমি সে কথাই বলব।”
“আপনার কারণগুলো কি আরেকবার জানাবেন?”
একটা সময় আমি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলাম যে দক্ষিণ আফ্রিকার গোল্ড পাউন্ড স্টালিং-র সাথে যুদ্ধ শুরু করবে, তাই কিন্তু হয়েছে।” অস্বস্তিতে নড়েচড়ে বসলেন সরকারের দুই প্রধান ব্যক্তি। “ফলে মূলধনের অভাবে পঙ্গু হয়ে গেল আমাদের শিল্প আর হাজার হাজার শ্রমিক তাদের কাজ হারাল।
“কিন্তু এখন যদি আমরা এই পর্যায়ে এসে স্বর্ণের স্ট্যান্ডার্ড পরিত্যাগ করি তাহলে দেশের কী উপকার হবে?”
“তাহলে সবার আগে চাঙ্গা হয়ে উঠবে আমাদের স্বর্ণ খনির ওপর নির্ভরশীল শিল্প। যেমন খনিগুলো বন্ধ হয়ে গেছে সেগুলা খুলে যাবে। নতুন নতুন খনিতে আরো হাজারো শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে। আমার আর কেউ ঠেকাতে পারবে না।”
হঠাৎ করেই হার্টজগ জানালেন, কিন্তু টাইমিং? স্টক এক্সচেঞ্জে তো তাহলে বিশৃঙ্খল শুরু হবে যাবে। বড়দিনের আগে আর মাত্র তিনটা ট্রেনিং ডে আছে। তাই এক্সচেঞ্জ বন্ধ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে।” হার্টজগের কথা শুনেই মনে মনে উত্তেজনা অনুভব করলেন ব্লেইন। তার মানে প্রধানমন্ত্রী স্মুটের আইডিয়া মেনে নিয়েছেন।
“তিয়েলমানকেও আমি তার ঘোষণা প্রচারের জন্য রুখে দিতে পারব।” নিজের কথা শেষ করলেন, হার্টজগ।
সেইদিন সন্ধ্যায় ওয়েল্টেভ্রেদেনে নিজের ফোর্ডের দিকে হাঁটতে গিয়ে ভেতরে অসীম ক্ষমতার স্বাদ টের পেলেন ব্লেইন ম্যালকমস। রাজনীতিতে যোগ দেবার মাধ্যমে তিনি ধ্বংস করে দেবেন তার দেশ আর জনগণকে বিনাশকারী অপশক্তি এই ক্ষমতার তরবারি।
“আমিও এখন ইতিহাসের অংশ হতে যাচ্ছি।”
ইচ্ছে করেই প্রধানমন্ত্রীর আর বাকি গাড়িগুলোকে সাইড দিলেন কর্নেল। তারপর সবাই চলে যেতেই আরো খানিক অপেক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিলেন যে কেউ তার পিছু নিচ্ছে না।
তাই ফোর্ডের ইঞ্জিন চালু করে ইউ টার্ন নিয়ে চলে এলেন সেনটেইনের বাড়ির পেছনের দিকে। একের পর এক পাইনের সারি থাকায় দুর্গ থেকে এ রাস্তাটা চোখে পড়ে না।
গাছের নিচে ফোর্ড পার্ক করে কিছুদূর হেঁটে এগোতেই চোখে পড়ল হোয়াইট ওয়াশড় করা দেয়াল। ঠিক যেমনটা সেনটেইন বলেছেন সেভাবে ডুবন্ত সূর্যের আলোয় ঝকঝক করছে কটেজ।
দরজায় থেমে গেলেন ব্লেইন। খোলা চুলার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে থাকা সেনটেইন ব্লেইনের পদশব্দ পাননি। তাই তার অজান্তে মন ভরে সেনটেইনকে দেখে নিচ্ছেন ব্লেইন। গভীর এক মমতায় ভরে উঠল কর্নেলের বুক। সামান্য গলা খাকারি দিতেই ধড়মড় করে উঠে দাঁড়ালেন সেনটেইন।
“আমি আরো ভেবেছি তুমি আসবে না।” দৌড়ে গিয়ে ব্লেইনকে জড়িয়ে ধরে কিস করলেন। তারপর বললেন,
“তোমাকে ক্লান্ত দেখাচ্ছে।”
“হুম। দিনটা বেশ লম্বা ছিল।”
“এসো।” ব্লেইনকে হাত ধরে খোলা চুলার পাশের চেয়ারে বসিয়ে দিলেন সেনটেইন। তারপর জ্যাকেটটাও খুলে কাবার্ডে রেখে নিয়ে এলেন হুইস্কির গ্লাস।
“ঠিক আছে”।
গ্লাসে চুমুক দিয়ে মাথা নাড়লেন ব্লেইন, “পারফেক্ট।” চোখ বুলিয়ে কটেজের সাদাসিধে ফার্নিচার, ফুলের ভাস্ দেখে বললেন, “বেশ সুন্দর।”
ওদিকে চুরুট রেডি করতে গিয়ে সেনটেইন জানালেন, “সারাদিন খেটে তোমার জন্য সব সাজিয়েছি। স্যার গ্যারিকে বিয়ে করার আগে অ্যানা এখানে থাকত। তারপর থেকে খালিই পড়ে আছে। এখন আমরা থাকব ব্লেইন।” ব্লেইনের হাতে চুরুট দিয়ে তার পায়ের কাছে কুশন এনে বসলেন সেনটেইন। তারপর কর্নেলের হাঁটুর ওপর হাত রেখে তাকালেন মুখের দিকে।
কতক্ষণ থাকবে?”
“ওয়েল” গভীর চিন্তায় পড়ে যাবার ভান করলেন কর্নেল, “তুমি আমাকে কতক্ষণ চাও? এক ঘণ্টা? নাকি আরো বেশি হাত দিয়ে তার হাঁটু চেপে ধরলেন সেনটেইন, “পুরো রাত।”
ওয়েন্টেলেদেনের রান্নাঘর থেকে নিয়ে আসা রোস্টেড বী টার্কি আর নিজের ক্ষেতের আঙুর থেকে তৈরি ওয়াইন দিয়ে ডিনার সারলেন দুজনে।
তারপর আগুনের সামনে মাদুর পেতে বসে কফি খেতে খেতে সেনটেইনের চুলে মাথায় ঘাড়ে আঙুল বুলিয়ে দিলেন ব্লেইন।
“তুমি কোথায় যাচ্ছো?” আচমকা সেনটেইন উঠে দাঁড়াতেই জানতে চাইলেন কর্নেল।
“চুরুট শেষ করে এসো, দেখে যাও।”
সেনটেইনের আদেশ কি আর ফেলতে পারেন কর্নেল। তাই বেডরুমে ঢুকতেই দেখলেন নিচু বিছানাটার মাঝখানে নাইট ড্রেস পরে বসে আছেন সেনটেইন। দুহাত বাড়িয়ে ডাকলেন কর্নেলকে।
অন্যান্য রাতগুলোর তুলনায় আজ তাদের ভালোবাসা হল বেশ ঢিমেতালে। যেন প্রতিটি মুহূর্তই হল বিশেষ। এতদিনে সেনটেইনের শরীর আর তার চাহিদা সম্পর্কে জেনে গেছেন ব্লেইন। তাই নিজের দায়িতুও তিনি সম্পূর্ণরূপে পালন করলেন। মনে হল পরস্পরের রক্তও যেন আজ এক সুরে নেচে উঠল। মনে হল যেন দুজনে মিলে আজ এক হয়ে উঠলেন।
***
কটেজের জানালা দিয়ে পাখিদের কিচির-মিচির ভেসে আসতেই ঘুম থেকে জেগে উঠলেন ব্লেইন। পর্দার ফাঁক দিয়ে আসা সূর্যের আলো মাথার ওপর তৈরি করেছে অদ্ভুত সোনালি সব নকশা।
