বিয়ের দিন যে সিল্কের পোশাকটা পরেছিল সেটাই এখন পরে আছে সেরেনা। ওর হাঁটার তালে তালে ঢেউ উঠল সেই পোশাকে, শরীরের প্রতিটি বাঁক আর ওঠানামা নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলল। তার সাথে যখন ওর লম্বা সোনালি চুলে সূর্যের আলোর ছোঁয়া লাগল আর প্রসাধনের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা চেহারা আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠল তখন, যেন আশপাশের সব কিছুই ম্লান হয়ে গেল ওর সামনে।
জোর করেই ওর ওপর থেকে চোখ সরিয়ে আনলাম আমি, হ্রদের অন্যদিকে তাকালাম। প্রায় সাথে সাথেই জঙ্গলের মাঝ থেকে বেরিয়ে এলো টেরামেশের দীর্ঘদেহী অবয়ব। সেখানে দাঁড়িয়ে আড়মোড়া ভাঙল সে, প্রকাণ্ড হাঁ করে হাই তুলল। তারপর পায়ে হাঁটা পথটা ধরে এগিয়ে আসতে শুরু করল এ পাশে। সাথে কোনো অস্ত্র নেই তার, না ধনুক, না তলোয়ার। পরনে কেবল শুধু ছোট্ট একটা নেংটি, ফলে পেশিবহুল দেহের প্রায় সবটুকুই উন্মুক্ত। মনে হলো যেন চওড়া হাড় আর ফুলে থাকা পেশি ছাড়া আর কিছুই নেই তার শরীরে; কিন্তু কোনোটার সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখেনি কোনোটা। যতটা না মানুষ তার চাইতে কোনো বুনো জন্তুর সাথেই যেন তার মিল বেশি।
ধাতব শিরস্ত্রাণটা দিয়ে কেবল তার মুখের একটা পাশ ঢাকা রয়েছে। অন্য পাশটায় কোনো লোম বা চুল নেই, শুধু অজস্র কাটাকুটির ক্ষত আর দাগে ভর্তি। দেখলে মনে হয় মানুষের স্বাভাবিক চেহারাকে ব্যঙ্গ করছে ওই অংশটা। আর এই উন্মুক্ত ক্ষতবিক্ষত চেহারার ঠিক মাঝখানে রয়েছে পাতাবিহীন চোখটা, পলকহীন চেয়ে আছে সামনে।
পথের অর্ধেকটা আসার পরেই সামনের মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা সেরেনার উপস্থিতির কথা বুঝতে পারল টেরামেশ। মাঝপথে থমকে দাঁড়াল সে, তারপর খোলা চোখটার নির্লিপ্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে বিদ্ধ করল সেরেনাকে।
একই রকম ভাবলেশহীন দৃষ্টিতে তার চোখে চোখ রাখল সেরেনা। তারপর দুই হাত বুকের কাছে তুলে আনল, থুতনির নিচের বোতামটা থেকে শুরু করে এক এক করে খুলতে শুরু করল সবগুলো বোতাম। পোশাকের কোমর পর্যন্ত খুলে ফেলল ও, তারপর দুপাশ দুদিকে সরিয়ে দিতেই বেরিয়ে এলো স্তন দুটো। বড় গোলাকার মাখনরঙা ত্বক, মাঝখানে খাড়া হয়ে আছে বোটা। দুই আঙুলের মাঝে একটা বোঁটা ধরে টেরামেশের দিকে তাক করল ও, আস্তে আস্তে ডলতে শুরু করল; যতক্ষণ না এক ফোঁটা স্বচ্ছ তরল পদার্থ বেরিয়ে এলো সেটা থেকে। একই সাথে ঢুলুঢুলু হয়ে এলো ওর চোখ জোড়া, মনে হলো যেন নারীসুলভ কমনীয়তা এবং অদম্য কামের এক অসাধারণ মিশ্রণ ঘটেছে ওর মাঝে।
দুই হাত উঁচু করে শিরস্ত্রাণটা ধরল টেরামেশ, তারপর সেটাকে মাথা থেকে তুলে এনে ফেলে দিল মাটিতে। তার চেহারার দুই পাশে যে অমিল তা দেখলে চমকে উঠতে হয়। বাম পাশের কর্কশ ক্ষতবিক্ষত অংশের সাথে একেবারেই মেলে না চেহারার ডান অংশের অভিজাত অবয়ব। কিন্তু চোখের দৃষ্টি একই রকম নির্লিপ্ত, এবং ঠোঁটের কোণে পরিষ্কার নিষ্ঠুরতার ছাপ। ঠোঁটের অক্ষত অংশ বাঁকিয়ে হাসল সে; কিন্তু কোনো দয়া বা রসবোধের চিহ্ন রইল না সেই হাসিতে; স্রেফ উদগ্র যৌন কামনার প্রকাশ।
এবার দুই হাতে পরনের নেংটিটা খুলে এক পাশে ফেলে দিল সে, ফলে উন্মুক্ত হলো তার যৌনাঙ্গ নরম হয়ে ঝুলছে দুই পায়ের মাঝে। এক হাতে পুরুষাঙ্গটা ধরে ওপরে নিচে ডলতে লাগল টেরামেশ। ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে ফুলে উঠতে লাগল সেটা, মনে হলো টেরামেশের মুঠিতে আঁটবে না ওটার পরিধি। সামনের চামড়া সরে গিয়ে মাথাটা বেরিয়ে এলো। গোলাপি রং, পাকা আপেলের সমান আকারে। প্রায় তার বাহুর সমান আকৃতি নিয়ে দেহের সামনে ঠেলে দাঁড়িয়ে রইল অঙ্গটা।
সেরেনাকে দেখে মনে হলো এই দৃশ্য দেখে ও নিজেও উত্তেজিত হয়ে উঠেছে। পোশাক এবার সম্পূর্ণ খুলে ফেলল ও, তারপর দুই হাত দিয়ে ঊরুসন্ধি ঢেকে সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে রইল। কোমরটা ঠেলে দিয়েছে সামনের দিকে, ঠোঁটে মদির আহ্বানের হাসি। ওর কাছ থেকে এমন নির্লজ্জ আচরণ দেখে বেশ অবাক হয়ে গেলাম আমি, যদিও জানি যে এই সবই ওর অভিনয়।
সামনে এগিয়ে এলো টেরামেশ। হ্রদের ওপরের পথটা ছেড়ে নেমে এলো সে, ঢাল বেয়ে নেমে আসতে শুরু করল সেরেনার দিকে। ডুমুর গাছের গোড়ায় যেখানে আমি এবং রামেসিস লুকিয়ে আছি তার কাছ দিয়েই হেঁটে গেল সে। এত কাছ দিয়ে গেল যে তার নাক দিয়ে বেরিয়ে আসা উত্তেজিত শব্দও শুনতে পেলাম আমি, যেন মৈথুনের আগ মুহূর্তে কোনো বুনো শূকর; যৌন উত্তেজনার গন্ধ এসে লাগল আমার নাকে, যেন কোনো ছোঁয়াচে বসন্ত রোগের দুর্গন্ধ।
টোমেশকে বিশ কদম এগিয়ে যাওয়ার সময় দিলাম আমি, তারপর আলতো করে স্পর্শ করলাম রামেসিসের কাঁধ। একই সাথে লুকানো জায়গা থেকে বেরিয়ে এলাম আমরা। আমার কাছ থেকে তিন কদম আগে বেড়ে দাঁড়াল রামেসিস, যাতে তীর ছুঁড়তে কোনো রকম বাধার সম্মুখীন হতে না হয়। তারপর তীরন্দাজের অভ্যস্ত ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে গেল ও। এক হাতে ধরে রেখেছে ধনুকটা, আরেক হাতে বিশেষ তীরটা জুড়ে ধরেছে ছিলার সাথে। ওদিকে টেরামেশ তখন সেরেনার কয়েক কদমের মাঝে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। সেরেনার সামনে পাহাড়ের মতো মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে সে, ওকে প্রায় ঢেকে দিয়েছে আমাদের দৃষ্টিপথ থেকে।
