একইভাবে বলা যায়, ডলার, মানবাধিকার এবং আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের অস্তিত্ব আছে কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাসে। সেকারণে কোনো একজন মানুষের অবিশ্বাসে এসবের অস্তিত্ব বিলীন হবার সম্ভাবনা নেই। এগুলো আন্তর্ব্যক্তিক বিষয়, তাই এগুলোকে পাল্টে দিতে হলে অসংখ্য মানুষের বিশ্বাস ও চিন্তাধারায় পরিবর্তন আনতে হবে। ব্যাপারটা মোটেই সহজ নয়, আর একজন ব্যক্তির পক্ষে তা অসম্ভব। এ ধরণের পরিবর্তন আসতে পারে বড় এবং জটিল কোনো প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে। সেটা হতে পারে কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় দল কিংবা কোনো বিপুল আদর্শিক আন্দোলন। আবার এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়তে হলে অনেকজন মানুষকে এই পরিবর্তনের জন্য পরস্পরকে সহযোগিতা করতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। আর সেটা তখনই সম্ভব হবে যখন তারা নতুন কোনো মিথের উপর তাদের সম্মিলিত বিশ্বাস স্থাপন করবে। তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়াচ্ছে এমন, সমাজের একটা কাল্পনিক ভিত্তি পালটে দিতে হলে সেখানে আরেকটা কাল্পনিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
পিউজোকে নির্মূল করতে হলে তার চেয়ে শক্তিশালী কিছু প্রয়োজন, সেটা হতে পারে ফ্রান্সের আইনব্যবস্থা। ফ্রান্সের আইনকে অকার্যকর করতে পারে আরও বড় কিছু, যেমন ফ্রান্স রাষ্ট্রটি স্বয়ং। আর ফ্রান্স নামক রাষ্ট্রটিকেই আমরা যদি অস্বীকার করতে চাই? তাহলে আমাদের বিশ্বাস করতে হবে আরও বড়, আরও শক্তিশালী কোনো ধারণায়।
এই সম্মিলিত কল্পনা ও বিশ্বাসের হাত থেকে মানুষের মুক্তি নেই। এই বিশ্বাসের খাঁচার গরাদ কেটে যতবারই আমরা ছুটে যাব মুক্তির আশায়, ততবারই আমাদের পথরোধ করবে আরও বড় কোনো খাঁচার অদৃশ্য দেয়াল।
————–
তথ্যসূত্র
1 Angus Maddison, The World Economy, vol. 2 (Paris: Development Centre of the Organization of Economic Co-operation and Development, 2006), 636; ‘Historical Estimates of World Population’, U.S. Census Bureau, accessed 10 December 2010, http://www.census.gov/ipc/www/worldhis.html.
2 Robert B. Mark, The Origins of the Modern World: A Global and Ecological Narrative (Lanham, MD: Rowman & Littlefield Publishers, 2002), 24.
3 Raymond Westbrook, ‘Old Babylonian Period’, in A History of Ancient Near Eastern Law, vol. 1, ed. Raymond Westbrook (Leiden: Brill, 2003), 361–430; Martha T. Roth, Law Collections from Mesopotamia and Asia Minor, 2nd edn (Atlanta: Scholars Press, 1997), 71–142; M. E. J. Richardson, Hammurabi’s Laws: Text, Translation and Glossary (London: T & T Clark International, 2000).
4 Roth, Law Collections from Mesopotamia, 76.
5 Ibid., 121.
6 Ibid., 122–3.
7 Ibid., 133–3.
8 Constance Brittaine Bouchard, Strong of Body, Brave and Noble: Chivalry and Society in Medieval France (New York: Cornell University Press, 1998), 99; Mary Martin McLaughlin, ‘Survivors and Surrogates: Children and Parents from the Ninth to Thirteenth Centuries’, in Medieval Families: Perspectives on Marriage, Household and Children, ed. Carol Neel (Toronto: University of Toronto Press, 2004), 81 n.; Lise E. Hull, Britain’s Medieval Castles (Westport: Praeger, 2006), 144.
০৭. স্মৃতি উপচানো তথ্য
প্রাকৃতিক বিবর্তন একজন মানুষকে জন্ম থেকে ফুটবলার করে গড়ে তোলে না। এটা ঠিক, যে পা দিয়ে আপনি ফুটবলে লাথি দেন সেটা তৈরি করে বিবর্তন। যে কনুই দিয়ে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে গুঁতো মেরে আপনি হলুদ কার্ড পান সে শক্ত কনুইয়ের পেছনে অবদান বিবর্তনের। যে মুখ দিয়ে অন্য খেলোয়াড়কে গালি দেন বিবর্তনই তা ধীরে ধীরে তৈরি করেছে। কিন্তু বিবর্তনের এতসব উপহার বড়জোর আমাদের একা একা ফাঁকা একটা গোলবারে পেনাল্টি কিক করার সুযোগটুকুই করে দিতে পারে। একটা সত্যিকারের ফুটবল ম্যাচ খেলতে হলে আপনাকে বিকেলবেলা স্কুলের মাঠে অচেনা কিছু মানুষকে খেলার সঙ্গী করে নিতে হবে। পাশাপাশি এটাও নিশ্চিত করতে হবে যে দুই পক্ষের সব খেলোয়াড়েই যেন একই নিয়ম মেনে চলে। যেসব হিংস্র প্রাণী অচেনা কিছু দেখলেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তেড়ে আসে তারা তাদের জন্মগত স্বভাব থেকেই সেটা করে। কুকুরের ছানা সব দেশেই সব জায়গাতেই একই কায়দায় নিজেদের মধ্যে মারামারি, খুনসুটি করতে থাকে – কারণ সেটা তাদের জিনগত সংকেতে লিপিবদ্ধ করা থাকে। কিন্তু কিশোর একটা ছেলের জিনে ফুটবল খেলার নিয়ম-কানুন লিপিবদ্ধ থাকে না। তারপরও তারা অচেনা ছেলেদের সাথে ফুটবল খেলতে পারে, কারণ তারা সবাই ফুটবল খেলার একই নিয়ম-কানুন শিখেছে। নিয়ম-কানুনের পুরোটাই মানুষের কল্পনা থেকে বানানো, কিন্তু সেটা সবাই জানে এবং মানে বলেই সকলে মিলে একসাথে খেলাধুলা করা সম্ভব হয়।
শুধু একটা গুরুত্বপূর্ণ তফাৎ বাদ দিলে ফুটবল দলের মতো খেলার নিয়মের এই ধারণা রাষ্ট্র, চার্চ কিংবা ব্যবসাকেন্দ্রের মত বড় বড় মানব সংগঠনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আমাদের শিকারি পূর্বপুরুষদের যেমন একটি গোষ্ঠীতে বা ছোট একটি গ্রামে বাস করতে অল্প কিছু সরল এবং সুনির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হতো, ফুটবল খেলার নিয়মগুলোও অনেকটা তার সমতুল্য। প্রত্যেক খেলোয়াড়ই খেলার সবগুলো নিয়ম মনে রাখার পাশাপাশি গান, ছবি বা বাজারের ফর্দও মনে রাখতে পারে। কিন্তু বড় বড় মানব প্রতিষ্ঠানগুলোকে হাজার হাজার এমনকি লাখ লাখ মানুষকে একসাথে নিয়ে কাজ করতে হয়। তাদেরকে অনেক অনেক তথ্য এবং নিয়ম-কানুন জমা রাখতে হয়। এত তথ্য এবং নিয়ম-কানুন মনে রাখা এবং সেসব প্রয়োগ করার মতো ক্ষমতা একজন মানুষের মস্তিষ্কে থাকে না।
