8 Ibid., 78.
9 Vincenzo Formicola and Alexandra P. Buzhilova, ‘Double Child Burial from Sunghir (Russia): Pathology and Inferences for Upper Paleolithic Funerary Practices’, American Journal of Physical Anthropology 124:3 (2004), 189–98; Giacomo Giacobini, ‘Richness and Diversity of Burial Rituals in the Upper Paleolithic’, Diogenes 54:2 (2007), 19–39.
10 I. J. N. Thorpe, ‘Anthropology, Archaeology and the Origin of Warfare’, World Archaeology 35:1 (2003), 145–65; Raymond C. Kelly, Warless Societies and the Origin of War (Ann Arbor: University of Michigan Press, 2000); Azar Gat, War in Human Civilization (Oxford: Oxford University Press, 2006); Lawrence H. Keeley, War before Civilization: The Myth of the Peaceful Savage (Oxford: Oxford University Press, 1996); Slavomil Vend, ‘Stone Age Warfare’, in Ancient Warfare: Archaeological Perspectives, ed. John Carman and Anthony Harding (Stroud: Sutton Publishing, 1999), 57–73.
০৪. অগণন মানুষের স্রোত
বুদ্ধিভিত্তিক বিপ্লবের আগে মানুষের সবগুলো প্রজাতিরই বসবাস আফ্রো-এশিয়ান ভূখণ্ডের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল। এ কথা সত্যি, তখন সাঁতরে কিংবা ভেলায় চড়ে যাওয়া যায় এমন কিছু ভূখণ্ডেও মানুষ ছড়িয়ে পড়েছিল। যেমন বলা যায়, ফ্লোরেস দ্বীপে মানব-সভ্যতা প্রতিষ্ঠিত হয় সাড়ে আট লক্ষ বছর আগে। তবে মানুষ তখনও আমেরিকা কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মত ভূখণ্ড বা মাদাগাস্কার, নিউজিল্যান্ড আর হাওয়াইয়ের মত দ্বীপগুলোতে পৌঁছাতে পারেনি।
শুধু যে মানুষই আফ্রো-এশিয়ান এলাকায় আটকে ছিল তা নয়, অন্যান্য সব প্রাণীও আটকে পড়েছিল সেখানে। আর তার একটা বড় কারণ ছিল সমুদ্র পার হওয়ার বাধা। এ কারণেই অস্ট্রেলিয়া বা মাদাগাস্কারের মত জায়গাগুলোতে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে বিবর্তনের ধারা ছিল আলাদা, সেখানকার উদ্ভিদ ও প্রাণীগুলোও ছিল আকৃতি-প্রকৃতিতে আফ্রো-এশিয়ান প্রজাতির চেয়ে অন্যরকম। এইভাবেই পুরো পৃথিবীটা নিজস্ব উদ্ভিদ ও প্রাণীর সমারোহে গড়ে ওঠা কয়েকটা পৃথক বাস্তুতন্ত্রে বিভক্ত ছিল। এরপর মানুষ এই স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াল।
বুদ্ধিভিত্তিক বিপ্লবের পর মানুষের হাতে যে শুধু প্রযুক্তি আর সাংগঠনিক দক্ষতা এল তাই নয়, সেই সাথে আফ্রো-এশিয়ান ভূখণ্ড ছেড়ে বাইরের পৃথিবীতে যাত্রা করার জন্য প্রয়োজনীয় দূরদর্শিতাও পেল তারা। তাদের অর্জন শুরু হল ৪৫ হাজার বছর আগে অস্ট্রেলিয়ায় উপনিবেশ স্থাপনের মধ্য দিয়ে। বিশেষজ্ঞদের জন্য এটা ব্যাখ্যা করাটা একটু কঠিন, কারণ কাজটা মানুষের জন্য মোটেই সহজ ছিল না। অস্ট্রেলিয়াতে পৌঁছাতে মানুষকে পার হতে হয়েছে ছোট-বড় অনেক সামুদ্রিক প্রণালী, আর তারপর খুব দ্রুত নিজেদের খাপ খাওয়াতে হয়েছে সম্পূর্ণ নতুন এক পরিবেশে।
এ বিষয়ে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ধারণাটা অনেকটা এমন- প্রায় ৪৫ হাজার বছর আগে যেসব মানুষ ইন্দোনেশিয়ান আর্কিপেলাগোতে (এশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে সরু প্রণালী দিয়ে বিচ্ছিন্ন দ্বীপপুঞ্জ) বসবাস করত, তারাই প্রথম সমুদ্রপথে যাতায়াত শুরু করে। তারা সমুদ্রে চলার উপযোগী নৌকা তৈরি করতে শেখে। তারপর মাছ ধরতে, ব্যবসা করতে কিংবা আবিষ্কারের জন্য আরো দূরে যেতে শুরু করে। এর ফলে মানুষের জীবনযাত্রায় কিছু অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসে। সিল, সামুদ্রিক গরু বা ডলফিনের মত সকল সমুদ্রচারী স্তন্যপায়ী প্রাণীই বহুযুগের বিবর্তনে পেয়েছে জলজ জীবনের উপযুক্ত শরীর ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। কিন্তু ইন্দোনেশিয়ার মানুষেরা সম্পূর্ণ নতুন এক উপায় আবিষ্কার করল। তারা ছিল আফ্রিকান তৃণভূমির নরবানরের (ape) বংশধর। সমুদ্র পাড়ি দিতে তাদের মাছের মত পাখনা কিংবা তিমির মত মাথার প্রয়োজন হল না। বরং তারা শিখে ফেলল কীভাবে নৌকা বানাতে হয়, আর কীভাবে সেটা চালাতে হয়। এই নতুন অর্জিত দক্ষতাই একদিন তাদের পৌঁছে দিল অস্ট্রেলিয়ায়।
এটা ঠিক যে পুরাতত্ত্ববিদেরা এখনও ৪৫ হাজার বছর আগের কোনো নৌকা, দাঁড় কিংবা কোনো জেলেগ্রামের নিদর্শন এখনও খুঁজে পাননি। অবশ্য পাওয়া খুব সহজও নয়, কারণ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাবৃদ্ধির কারণে সেই প্রাচীন ইন্দোনেশিয়ার তটরেখা আজ কয়েকশ মিটার পানির নিচে। তবু এই ধারণার পক্ষে জোরালো প্রামাণ্য যুক্তি আছে। অস্ট্রেলিয়ায় বসতি স্থাপনের কয়েক হাজার বছরের মধ্যে মানুষ উত্তরের অনেক ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন দ্বীপে উপনিবেশ তৈরি করে। এর মধ্যে বুকা (Buka) আর মানুস (Manus) এর মত কিছু দ্বীপ ছিল নিকটতম ভূখণ্ড থেকেও প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে। উন্নত ধরণের নৌকা ও তা চালানোর দক্ষতা ছাড়া সেখানে যাওয়াটা অবিশ্বাস্য। একই ধরনের সামুদ্রিক যাতায়াতের প্রমাণ পাওয়া যায় নিউ আয়ারল্যান্ড আর নিউ ব্রিটেন দ্বীপের মাঝেও।১
মানুষের অস্ট্রেলিয়া যাত্রা ইতিহাসের একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কলম্বাসের আমেরিকা যাওয়া বা অ্যাপোলো এগারোর চাঁদে যাওয়ার চেয়ে সেটা কোনো অংশে কম নয়। ওটাই প্রথমবারের মত কোনো মানুষের তথা কোনো স্থলচারী স্তন্যপায়ী প্রাণীর আফ্রো-এশিয়ান ভূখণ্ডের বাইরে কোথাও যাওয়া। তবে ঘটনাটা তার চেয়েও বেশি গুরুত্ববহ অন্য একটা কারণে। এই অভিযানের মধ্য দিয়েই শিকারি মানুষ খাদ্যশৃঙ্খলের সবচেয়ে উপরে উঠে নিজেদের আত্মপ্রকাশ করল পৃথিবীর নৃশংসতম প্রাণীরূপে।
