* এখান থেকে শুরু করে পরবর্তী অংশগুলোতে আমরা সেপিয়েন্সের ভাষা বলতে তাদের সাধারণ ভাষাগত দক্ষতার কথা বুঝব, ভাষার কোন নির্দিষ্ট আঞ্চলিক রূপকে নয়। ইংরেজি, হিন্দি, বাংলা, চৈনিক এদের সবগুলোই সেপিয়েন্সের এই সাধারণ ভাষারই নানান রূপ। এমনকি, ধারণা করা হয়, বুদ্ধিভিত্তিক বিপ্লবের সময়েও সেপিয়েন্সের নানা দল বা গোষ্ঠী ভাষার নানান রূপ ব্যবহার করতো।
————
তথ্যসূত্র
1 Robin Dunbar, Grooming, Gossip and the Evolution of Language (Cambridge, Mass.: Harvard University Press, 1998).
2 Frans de Waal, Chimpanzee Politics: Power and Sex among Apes (Baltimore: Johns Hopkins University Press, 2000); Frans de Waal, Our Inner Ape: A Leading Primatologist Explains Why We Are Who We Are (New York: Riverhead Books, 2005); Michael L. Wilson and Richard W. Wrangham, ‘Intergroup Relations in Chimpanzees’, Annual Review of Anthropology 32 (2003), 363–92; M. McFarland Symington, ‘Fission-Fusion Social Organization in Ateles and Pan, International Journal of Primatology 11:1 (1990), 49; Colin A. Chapman and Lauren J. Chapman, ‘Determinants of Groups Size in Primates: The Importance of Travel Costs’, in On the Move: How and Why Animals Travel in Groups, ed. Sue Boinsky and Paul A. Garber (Chicago: University of Chicago Press, 2000), 26.
3 Dunbar, Grooming, Gossip and the Evolution of Language, 69–79; Leslie C. Aiello and R. I. M. Dunbar, ‘Neocortex Size, Group Size, and the Evolution of Language’, Current Anthropology 34:2 (1993), 189. For criticism of this approach see: Christopher McCarthy et al., ‘Comparing Two Methods for Estimating Network Size’, Human Organization 60:1 (2001), 32; R. A. Hill and R. I. M. Dunbar, ‘Social Network Size in Humans’, Human Nature 14:1 (2003), 65.
4 Yvette Taborin, ‘Shells of the French Aurignacian and Perigordian’, in Before Lascaux: The Complete Record of the Early Upper Paleolithic, ed. Heidi Knecht, Anne Pike-Tay and Randall White (Boca Raton: CRC Press, 1993), 211–28.
5 G. R. Summerhayes, ‘Application of PIXE-PIGME to Archaeological Analysis of Changing Patterns of Obsidian Use in West New Britain, Papua New Guinea’, in Archaeological Obsidian Studies: Method and Theory, ed. Steven M. Shackley (New York: Plenum Press, 1998), 129–58.
০৩. আদম হাওয়ার দিনলিপি
আমরা যদি নিজেদের স্বরূপ, ইতিহাস ও মনস্তত্ত্ব সম্পর্কে একটা ভালোরকম ধারণা পেতে চাই, তাহলে আগে আমাদের শিকারি পূর্বপুরুষদের চিন্তার জগতটা সম্পর্কে অবশ্যই ভালোভাবে জানতে হবে। পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্বের প্রায় পুরোটা সময় জুড়ে হোমো সেপিয়েন্সরা শিকারি হিসেবেই বসবাস করেছে! একটু খেয়াল করলে দেখা যায়, এই যে দলে দলে মানুষের ক্রমাগত শহরমুখী হবার প্রবণতা, শ্রমিক বা চাকুরিজীবী হয়ে শহরে জীবনযাপন করার সংস্কৃতি এসব কিন্তু মাত্র সেদিনের কথা। বড়জোর ২০০ বছর হবে। তারও আগের ১০ হাজার বছর তারা কৃষিকাজ ও ক্ষেত-খামারে কাজ করেই কাটিয়েছে। মজার ব্যাপার হল, সেপিয়েন্সের অনেক অনেক দিন ধরে চলে আসা শিকারি জীবনের সময়কালের সাথে তুলনা করলে এই কৃষিকাজ ও শহুরে জীবনযাপনের প্রায় ১০ হাজার দুইশ বছরের সময়কাল নেহায়েত একটা মুহূর্ত ছাড়া আর কিছুই নয়!
বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক আবিষ্কার থেকে আমরা জানতে পারি, আমাদের এখনকার সামাজিক আচার-আচরণ এবং মানসিক প্রবণতার অনেক কিছুই আসলে তৈরি হয়েছিল কৃষিভিত্তিক সমাজেরও আগের সেই লম্বা সময়টাতে। এমনকি আজও, এইসব বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা দাবি করেন যে, আমাদের মস্তিষ্ক ও শরীর উভয়ই আসলে অভিযোজিত হয়েছে শিকারি-সংগ্রাহক জীবনের জন্য। আমাদের এখনকার খাদ্যাভ্যাস, মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব কিংবা আমাদের যৌনতা- এসবই আসলে গড়ে উঠেছে শিল্প বিপ্লবের পর থেকে গড়ে ওঠা উত্তরাধুনিক পারিপার্শ্বিকতার সাথে যুগ যুগ ধরে চলে আসা আমাদের শিকারি মনের নিয়ত মিথষ্ক্রিয়ার মাধ্যমে। শিল্প বিপ্লব পরবর্তী এই নতুন পরিবেশ ছিল বড় বড় শহর, বিমান, টেলিফোন আর কম্পিউটারে ভরপুর। এই পরিবেশ আমাদের আরও বেশি বস্তুগত সম্পদ দিয়েছে, দীর্ঘায়িত জীবন দিয়েছে যা আমরা সেই আগেকার জীবনে পাইনি। কিন্তু একই সাথে এই পরিবর্তিত পরিবেশ আমাদের দিয়েছে একাকীত্ব, হতাশা এবং নানা ধরনের মানসিক চাপ। কেন এমন হল সেটা বুঝতে হলে, আমাদের সেই শিকারি জীবনের আরও গভীরে যেতে হবে, যে জীবন আমরা এখনও যাপন করি আমাদের অবচেতনে।
একটা সহজ উদাহরণ দেখা যাক। আমরা জানি খাবারের অতিরিক্ত ক্যালরি আমাদের কোন উপকারে তো আসেই না, বরং ক্ষতি করে। কিন্তু এটা জানার পরও আমরা ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার লোভ সামলাতে পারি না। এদিকে এই লোভের কারণে শারীরিক স্থূলতা প্রায় মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে আজকের উন্নত দেশগুলোতে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও খুব দ্রুত ছড়িয়ে যাচ্ছে। যদি আমরা আমাদের শিকারি পূর্বপুরুষদের খাদ্যাভ্যাসটা ভালো করে খেয়াল না করি তাহলে এই বেশি বেশি মিষ্টি ও চর্বিযুক্ত খাবারের প্রতি আমাদের লোভের কারণটা একটা রহস্যই থেকে যাবে। যে সমস্ত তৃণভূমি কিংবা জঙ্গলে তারা বসবাস করত, সেখানে খাবার ছিল অল্প। বিশেষ করে মিষ্টিজাতীয় (শর্করা সমৃদ্ধ) খাবার তো খুবই অল্প। ৩০ হাজার বছর আগের একজন সাধারণ শিকারির একমাত্র যে মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়ার সুযোগ ছিল তা হল পাকা ফলমূল। এই কারণেই প্রস্তরযুগের একজন নারী চলতে চলতে হঠাৎ কোন ফলে ভরা ডুমুর গাছ দেখতে পেলে মোটেই দেরি না করে তৎক্ষণাৎ যতখানি সম্ভব ডুমুরের ফল খেয়ে ফেলত। কারণ সে জানত, দেরী করলে এলাকার বেবুনের দল সেই গাছটা উজাড় করে ফেলবে। সেই সময় থেকে, বেশি ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার প্রতি লোভ আমাদের একদম মজ্জাগত। আজ হয়তো বাস্তবে আমরা সুউচ্চ ভবনে থাকি, আমাদের ফ্রিজ ভর্তি খাবার দাবার থাকে, কিন্তু আমাদের ডিএনএ এখনও মনে করে আমরা তৃণভূমিতেই আছি। এই কারণেই আমরা এখন এক বাক্স আইসক্রিম এক নিমেষে খেয়ে ফেলতে পারি, এমনকি সাথে একটা বড়সড় কোকাকোলাও!
