4 ‘World Report on Violence and Health: Summary, Geneva 2002’, World Health Organization, accessed 10 December 2010, http://www.who.int/whr/2001/en/whr01_annex_en.pdf. For mortality rates in previous eras see: Lawrence H. Keeley, War before Civilization: The Myth of the Peaceful Savage (New York: Oxford University Press, 1996).
5 ‘World Health Report, 2004’, World Health Organization, 124, accessed 10 December 2010, http://www.who.int/whr/2004/en/reporto4_en.pdf.
6 Raymond C. Kelly, Warless Societies and the Origin of War (Ann Arbor: University of Michigan Press, 2000), 21. See also Gat, War in Human Civilization, 129–31; Keeley, War before Civilization.
7 Manuel Eisner, ‘Modernization, Self-Control and Lethal Violence’, British Journal of Criminology 41:4 (2001), 618–638; Manuel Eisner, ‘Long-Term Historical Trends in Violent Crime’, Crime and Justice: A Review of Research 30 (2003), 83–142; ‘World Report on Violence and Health: Summary, Geneva 2002’, World Health Organization, accessed 10 December 2010, http://www.who.int/whr/2001/en/whr01_annex_en.pdf; ‘World Health Report, 2004’, World Health Organization, 124, accessed 10 December 2010, http://www.who.int/whr/2004/en/reporto4_en.pdf.
১৯. অতঃপর তারা সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে লাগল
গত ৫০০ বছরে পৃথিবী নামক এই গ্রহটি অনেকগুলো শ্বাসরুদ্ধকর উত্থান-পতনের ভিতর দিয়ে গেছে। মিলেমিশে এক হয়ে গেছে তার বিভিন্ন অংশের পরিবেশ ও ইতিহাস। অর্থনীতির বিকাশ হয়েছে প্রায় বিস্ফোরণের মতো। আজ সমগ্র মানবজাতির যত সম্পদ, তার পরিমাণ রূপকথাকেও হার মানিয়ে দেয়। ইতিহাসের এই সময়কালে, বিজ্ঞান আর শিল্পের বৈপ্লবিক উন্নতি মানুষকে প্রায় অতিমানবীয় ক্ষমতা এনে দিয়েছে। খোলনলচে বদলে গেছে সামাজিক কাঠামোর, তার সাথে বদলেছে পৃথিবীর রাজনীতি, মানুষের জীবন ও চিন্তাধারা।
কিন্তু এত পরিবর্তনের পরেও সেই পুরনো প্রশ্নটা থেকেই যায়: আমরা কি সুখী হতে পেরেছি? গত পাঁচ শতাব্দীর জমা হওয়া সম্পদ কি আমাদের সন্তুষ্টি দিয়েছে? শক্তির অফুরন্ত ভাণ্ডার আবিষ্কার করেছি আমরা, কিন্তু অফুরন্ত শান্তির খোঁজ কি মিলেছে? মানুষের বুদ্ধিভিত্তিক বিপ্লবের পরবর্তী প্রায় ৭০ হাজার বছরে পৃথিবী কি আগের চেয়ে আরও একটু বেশি বাসযোগ্য হয়েছে? চাঁদের মাটিতে অক্ষয় পদচিহ্ন রেখে আসার সময় নীল আর্মস্টং যে আনন্দ অনুভব করেছিলেন, তা কি ৩০ হাজার বছর আগের শভে গুহার দেয়ালে হাতের ছাপ এঁকে দেওয়া নাম-না-জানা যাযাবর মানুষটার চেয়ে বেশি? তা যদি না-ই হবে, তাহলে এতগুলো বছর ধরে কৃষিকাজ, নগর-পত্তন, লেখালেখি, টাকা, সাম্রাজ্য, বিজ্ঞান, শিল্প- এগুলো কেন করতে গেলাম আমরা?
এই প্রশ্নগুলো নিয়ে অবশ্য ঐতিহাসিকেরা তেমন একটা মাথা ঘামান না। উরুক আর ব্যাবিলনের নগরবাসীরা তাদের শিকারি-সংগ্রাহক পূর্বসূরীদের চেয়ে সুখী ছিল কিনা, ইসলাম প্রতিষ্ঠার পর মিশরের মানুষের জীবন আরেকটু সুন্দর হয়েছিল কিনা, অথবা আফ্রিকা থেকে ইউরোপীয় উপনিবেশগুলো উঠে যাওয়ার পর সেখানকার লাখ লাখ মানুষ শান্তি পেয়েছিল কিনা- ইতিহাসের পাতায় সেসব নিয়ে আলোচনার উল্লেখ পাওয়া যায় না। অথচ ইতিহাস থেকে মানুষের সবচেয়ে বেশি জানতে চাওয়ার বিষয় এগুলোই। এখনকার অধিকাংশ আদর্শগত ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পিছনে তাড়না হিসেবে থাকে এই সুখের সন্ধান। জাতীয়তাবাদীরা বলে রাজনৈতিক আত্মপরিচয়ই সুখের মূল। সাম্যবাদীরা বলে জীবন সুখের হবে তখনই, যখন নিপীড়িত মানুষেরা সমাজ শাসন করবে। আবার পুঁজিবাদীরা বলবে অন্য কথা। তারা বলবে পণ্যের মুক্ত বাজারই পারে মানুষকে সুখী জীবন দিতে। কারণ এভাবেই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আসবে, আর তার ফলে মানুষের সম্পদ বাড়বে আর তারা আরও স্বনির্ভর হবে।
কিন্তু কোন উচ্চতর গবেষণা যদি এই দাবিগুলোকে ভুল প্রমাণিত করে, তখন? অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আর স্বনির্ভরতা যদি মানুষকে সুখী করতে না পারে, তাহলে পুঁজিবাদ কী কাজে লাগবে? বড় কোনো সাম্রাজ্যের প্রজারা যদি কোনো ছোট স্বাধীন দেশের নাগরিকদের চেয়ে সুখে থাকে, তাহলে? এই যেমন, যদি প্রমাণ করা যায় যে, আলজেরিয়ার মানুষেরা ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার আগেই বেশি ভালো ছিল, তাহলে উপনিবেশবিরোধী রাজনৈতিক আত্মপরিচয়ের সমর্থকেরা কী বলবেন?
এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া দূরে থাক, এখন পর্যন্ত কোনো ইতিহাসবিদ এই প্রশ্নগুলোই তোলেননি। ইতিহাস পর্যালোচনায় বাদ যায় না কিছুই- রাজনীতি, সমাজ, অর্থনীতি, লিঙ্গ, রোগব্যাধি, যৌনতা, ভাত-কাপড়- সবকিছু নিয়েই ইতিহাসে আলোচনা হয়, কেবল এগুলো মানুষকে সুখ দিতে পারে কিনা সে প্রশ্নে সবাই নীরব।
এই ব্যাপারটা নিয়ে অল্প কিছু মানুষ মাথা ঘামালেও সুখী হওয়ার ব্যাপারে জ্ঞানী থেকে অজ্ঞ- সবারই ধারণা অস্পষ্ট। একদিক থেকে চিন্তা করলে দেখা যায়, ইতিহাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত আসতে আসতে মানুষের সক্ষমতা অনেকটাই বেড়েছে। আর যেহেতু মানুষ সাধারণত দুর্দশা মোচন ও আশা পূরণ করতেই তার অর্জিত ক্ষমতা ব্যবহার করে, তাই বলা যায় আজকের মানুষ নিঃসন্দেহে মধ্যযুগের মানুষের চেয়ে বেশি সুখী, প্রস্তর যুগের মানুষের চেয়ে তো বটেই।
