2 The mathematics of my bakery example are not as accurate as they could be. Since banks are allowed to loan $10 for every dollar they keep in their possession, of every million dollars deposited in the bank, the bank can loan out to entrepreneurs only about $909,000 while keeping $91,000 in its vaults. But to make life easier for the readers I preferred to work with round numbers. Besides, banks do not always follow the rules.
3 Carl Trocki, Opium, Empire and the Global Political Economy (New York: Routledge, 1999), 91.
4 Georges Nzongola-Ntalaja, The Congo from Leopold to Kabila: A People’s History (London: Zed Books, 2002), 22.
১৭. শিল্পের রথ
আধুনিক যুগের অর্থনীতি বিকাশ লাভের পেছনে দুটো উপাদানের অবদান অনস্বীকার্য। একটা হল, ভবিষ্যতের উপর আমাদের অগাধ বিশ্বাস, আর আরেকটা হল পুঁজিপতিদের নতুন নতুন পণ্যের উৎপাদনে ক্রমাগত বিনিয়োগ। কিন্তু অর্থনীতির বিকাশে কেবল এই দুটি উপাদানই যথেষ্ট নয়। অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য আরও প্রয়োজন শক্তির যোগান এবং কাঁচামাল। এসবের পরিমাণ সীমিত। যখন এই দুটো উপাদানের যোগান ফুরিয়ে আসবে, সমস্ত অর্থনৈতিক কাঠামো তখন মুখ থুবড়ে পড়বে।
কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, কাঁচামাল এবং শক্তির এই সীমাবদ্ধতার ব্যাপারটি কাগুজে তত্ত্ব মাত্র। বিগত কয়েক শতকে মানুষের শক্তি এবং কাঁচামালের ব্যবহার আগের তুলনায় বহুগুন বেড়েছে এবং তা সত্ত্বেও বিস্ময়করভাবে মানুষের ব্যবহার উপযোগী শক্তির পরিমাণ কমে যাওয়ার বদলে উল্টো বেড়েছে। যখনই এই দুই উপাদানের যে কোন একটির অভাবে অর্থনৈতিক উন্নতির গতি শ্লথ হয়ে পড়েছে, তখনই বিনিয়োগকারীরা সেই সমস্যা সমাধানের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত গবেষণায় কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ঢেলেছেন। এইসব বিনিয়োগ কেবল কাঁচামাল এবং শক্তিকে সাশ্রয়ী ভাবে ব্যবহারের কৌশলই উদ্ভাবন করেনি, সন্ধান দিয়েছে শক্তি এবং কাঁচামালের সম্পূর্ণ নতুন উৎসের।
পরিবহন শিল্পের কথাই ধরুন। বিগত তিনশ’ বছরে মানুষ পশুবাহিত মাল গাড়ি, এক চাকার ঠেলাগাড়ি থেকে শুরু করে ট্রেন, মোটরগাড়ি, শব্দের চেয়ে দ্রুতগতির বিমান, মহাকাশযান ইত্যাদি নানা ধরনের কোটি কোটি সংখ্যক যানবাহন তৈরি করেছে। এত বিপুল সংখ্যক যানবাহন তৈরির ফলে পরিবহন শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও কাঁচামালের ঘাটতি তৈরি হওয়ার কথা এবং পরিবহন শিল্পের সাথে জড়িতদের তলানিতে পড়ে থাকা কাঁচামাল নিয়ে কাড়াকাড়ি করার কথা। বাস্তব অবস্থা কিন্তু এর পুরোপুরি বিপরীত। যেখানে ১৭০০ সালে পরিবহন শিল্পকে উৎপাদনের জন্য প্রধানত কাঠ এবং লোহার উপর নির্ভর করতে হত, আজকে তাদের জন্য আছে প্লাস্টিক, রাবার, অ্যালুমিনিয়াম এবং টাইটেনিয়ামের মত নতুন উদ্ভাবিত অনেক কাঁচামালের পর্যাপ্ত যোগান, যেসবের অস্তিত্ব সম্পর্কে আমাদের পূর্বপুরুষদের কোনও ধারণাই ছিল না। ১৭০০ সালে যেখানে অধিকাংশ গাড়ি তৈরি হত ছুতার আর কামারের পেশীশক্তিকে অবলম্বন করে, সেখানে আজ পেট্রোলিয়াম চালিত ইঞ্জিন আর পারমাণবিক শক্তিতে টয়োটা এবং বোয়িং নামের বড় বড় যানবাহন তৈরির কারখানাগুলো চালিত হচ্ছে। প্রায় একই ধরনের বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ছোঁয়া আমরা আজকাল শিল্পের অন্যান্য খাতেও দেখতে পাই। এই বিপ্লবের নাম শিল্প বিপ্লব।
শিল্প বিপ্লবের হাজার হাজার বছর আগে থেকেই মানুষ জানত কীভাবে বিভিন্ন ধরনের শক্তির উৎসকে ব্যবহার করতে হয়। তারা কাঠ পুড়িয়ে উৎপন্ন তাপে লোহা গলাত, বাড়িঘর গরম রাখত আর পিঠা তৈরি করত। পালতোলা জাহাজ বাতাসের শক্তি ব্যবহার করে দেশে-বিদেশে ঘুরে বেড়াত আর পানিচালিত কলে নদীর স্রোতকে কাজে লাগিয়ে মাড়াই করা হত ধান। তা সত্ত্বেও এই প্রত্যেক উৎসের ব্যবহারের কিছু সীমাবদ্ধতা এবং সমস্যা ছিল। গাছের যোগান সব জায়গায় পাওয়া যেত না, দরকার পড়লেই বায়ুকল চালানোর জন্য বাতাস বইতো না এবং কেবলমাত্র নদীর কাছাকাছি বসবাস করলেই নদীর স্রোতকে কাজে লাগানো সম্ভব হতো।
তার চেয়েও বড় সমস্যা যেটা ছিল তা হল, মানুষ এক ধরনের শক্তিকে অন্য ধরনের শক্তিতে রূপান্তর করতে পারত না। তারা বাতাস এবং স্রোতের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে পালতোলা জাহাজ চালাতে বা কলে মাড়াই করতে পারত, কিন্তু তারা এসব দিয়ে পানি গরম করতে কিংবা লোহা গলাতে পারত না। একইভাবে, তারা কাঠ পুড়িয়ে উৎপন্ন তাপ ব্যবহার করে মাড়াইকলের চাকা ঘুরাতে পারত না। সেকালে, শক্তির রূপান্তর করতে পারে এমন একটি যন্ত্রের কথাই কেবল মানুষ জানত, তা হলো শরীর। পরিপাক নামক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী খাদ্য নামক জৈব জ্বালানি গ্রহণ করত এবং পেশী নড়াচড়ার মাধ্যমে নতুন উপায়ে সে শক্তি ব্যবহার করত। নর, নারী এবং অন্যান্য প্রাণী নানা ধরনের শস্য এবং মাংস খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করত, সেসব থেকে পাওয়া শর্করা এবং চর্বি পুড়িয়ে তারা রিকশা চালাত বা লাঙ্গল ঠেলত।
যেহেতু মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীর শরীরই ছিল শক্তি রূপান্তরের একমাত্র অবলম্বন, সে কারণে পেশীশক্তিই ছিল মানুষের সকল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র। মানুষের পেশী ঠেলাগাড়ি আর বাড়ি বানাত, গরুর পেশী মাঠে চালাত লাঙ্গল আর ঘোড়ার পেশী এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় মালামাল পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হত। জৈবিক পেশীশক্তি চালিত এসব যন্ত্রের একটিই শক্তি আহরণের উৎস ছিল- সেটি হল গাছপালা। গাছপালা আবার শক্তির জন্য নির্ভরশীল ছিল সূর্যের উপর। সালোকসংশ্লেষণ নামক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা সূর্য থেকে শক্তি সংগ্রহ করত এবং তাকে রূপান্তরিত করত ফল, মূল, বীজ ইত্যাদি নানা জৈব উপাদানে। সুতরাং, এ পর্যন্ত মানুষ যা কিছু করেছে তার পেছনের শক্তির মূল যোগানদাতা ছিল সূর্য, গাছ যার আলো গ্রহণ করেছে এবং গাছ থেকে মানুষসহ অন্যান্য প্রাণী তা গ্রহণ করে তাকে পেশীশক্তিতে পরিণত করেছে।
