3 Mark, Origins of the Modern World, 81.
4 Christian, Maps of Time, 436.
5 John Darwin, After Tamerlane: The Global History of Empire Since 1405 (London: Allen Lane, 2007), 239.
6 Soli Shahvar, ‘Railroads i. The First Railroad Built and Operated in Persia’, in the Online Edition of Encyclopaedia Iranica, last modified 7 April 2008, http://www.iranicaonline.org/articles/railroads-i; Charles Issawi, ‘The Iranian Economy 1925–1975: Fifty Years of Economic Development’, in Iran under the Pahlavis, ed. George Lenczowski (Stanford: Hoover Institution Press, 1978), 156.
7 Mark, Origins of the Modern World, 46.
8 Kirkpatrick Sale, Christopher Columbus and the Conquest of Paradise (London: Tauris Parke Paperbacks, 2006), 7–13.
9 Edward M. Spiers, The Army and Society: 1819–1914 (London: Longman, 1980), 121; Robin Moore, ‘Imperial India, 1858–1914’, in The Oxford History of the British Empire: The Nineteenth Century, vol. 3, ed. Andrew Porter (New York: Oxford University Press, 1999), 442.
10 Vinita Damodaran, ‘Famine in Bengal: A Comparison of the 1770 Famine in Bengal and the 1897 Famine in Chotanagpur’, The Medieval History Journal 10:1–2 (2007), 151.
১৬. পুঁজিবাদের দর্শন
সাম্রাজ্য তৈরি আর বিজ্ঞানের বিকাশের পিছনে টাকার বড় রকমের ভূমিকা ছিল ঠিকই। কিন্তু টাকাই কি এই দুটো কাজের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল?
ইতিহাসে অর্থনীতির আসল ভূমিকাটা চট করে বুঝে ওঠা যায় না। টাকা যুগে যুগে সাম্রাজ্য তৈরি আর ধ্বংস করেছে, নতুন নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে, শিল্পকারখানার চাকা ঘুরিয়েছে, আবার লাখ লাখ মানুষকে বানিয়েছে দাস, শত শত প্রাণী আর উদ্ভিদকে বিলুপ্ত করে দিয়েছে এই টাকাই। সেসব নিয়ে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা বই লিখে ফেলা যায়। অথচ মাত্র একটা শব্দে এর পুরোটা বুঝিয়ে দেওয়া যায়- ‘বৃদ্ধি’। বর্তমান সময়ে পৃথিবীর অবস্থা ভালো-মন্দ যাই হোক না কেন, অর্থনীতির বৃদ্ধি কিন্তু এক মুহূর্তের জন্যও থেমে থাকে না। সে সামনে যা পায় সেটাই গ্রাস করে, আর সাথে সাথেই আরও বড় হয়ে যায় চোখের পলকে।
ইতিহাসের শুরুর বেশিরভাগ সময় জুড়েই অর্থনীতি মোটামুটি স্থবির ছিল। হ্যাঁ, পৃথিবীর মোট উৎপাদন বেড়েছে বটে, কিন্তু সেটা হয়েছে মানুষের নতুন নতুন জায়গায় যাওয়া আর নতুন নতুন দেশ আবিষ্কারের জন্য। মাথাপিছু উৎপাদনের পরিমাণ বাড়েনি। কিন্তু এই আধুনিক যুগে এসেই পরিস্থিতি পালটে গেল। ১৫০০ সালে পৃথিবীর সব পণ্য ও সেবা মিলিয়ে মোট উৎপাদন ছিল প্রায় ২৫ হাজার কোটি ডলারের মতো। আর আজকে সেটা প্রায় ৬০ লক্ষ কোটি ডলার! তার চেয়ে বড় কথা, ১৫০০ সালে মাথাপিছু উৎপাদনের মূল্য ছিল বছরে গড়ে ৫৫০ ডলার, আর আজকের দিনে সকল নারী-পুরুষ-শিশু মিলে গড় বার্ষিক মাথাপিছু উৎপাদন ৮৮০০ ডলার হয়ে গেছে!১ এই বিপুল বৃদ্ধির কারণটা কী?
অর্থনীতি বেশ বাজে রকমের জটিল বিষয়। তার মধ্যেও আসুন একটা সহজ উদাহরণ দেখি।
ধরুন, ক্যালিফোর্নিয়ার এল ডোরাডোর তুখোড় পুঁজিপতি স্যামুয়েল গ্রিডি একদিন একটা ব্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠা করলেন।
একই শহরের উঠতি ঠিকাদার এ এ স্টোন তার প্রথম বড় কাজটা শেষ করে হাতে পেলেন নগদ লাখ দশেক ডলার। সেটা নিয়ে তিনি সোজা চলে গেলেন গ্রিডির ব্যাঙ্কে জমা করে দিতে। এখন ব্যাঙ্কের পুঁজির পরিমাণ হয়ে গেল দশ লাখ ডলার।
এদিকে শহরের একজন ঝানু রাঁধুনি জেন ম্যাকডোনাট খেয়াল করলেন যে, শহরে ভালো কোনো বেকারি নেই, কাজেই এই সুযোগ একটা নতুন ব্যবসা শুরু করার। কিন্তু সেটা করার মতো টাকা তার কাছে নেই। কাজেই তিনিও গেলেন ব্যাঙ্কে, গিয়ে গ্রিডিকে বোঝালেন যে এই বেকারিটা হবে টাকা খাটানোর মোক্ষম জায়গা। বুঝিয়ে সুঝিয়ে তিনি দশ লাখ ডলার ধার নেওয়ার ব্যবস্থাও করে ফেললেন। ব্যাঙ্কের হিসাবের খাতায় তার নামের পাশে যোগ হল দশ লাখ ডলার।
এখন বেকারি তৈরি করে দেওয়ার জন্য ম্যাকডোনাট গিয়ে ধরলেন ঠিকাদার স্টোনকে। এই কাজ বাবদ স্টোন চাইলেন দশ লক্ষ ডলার।
ম্যাকডোনাট স্টোনকে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে দশ লাখ ডলারের একটা চেক ধরিয়ে দিলেন। স্টোন সেটা জমা করলেন নিজের অ্যাকাউন্টে।
তাহলে ব্যাঙ্কে স্টোনের অ্যাকাউন্টে এখন কত আছে? ঠিক ধরেছেন, বিশ লাখ ডলার।
কিন্তু ব্যাঙ্কের সিন্দুকে নগদ ডলার আছে কত? দশ লাখ!
এখানেই শেষ নয়। দুমাস পর স্টোন ম্যাকডোনাটকে জানালেন, এদিক-সেদিক দিয়ে খরচ বেড়ে গিয়ে এখন আর দশ লাখ ডলারে বেকারিটা তৈরি করা যাচ্ছে না, পুরোটা শেষ করতে মোট খরচ বিশ লাখ ডলারে দাঁড়াবে। ম্যাকডোনাট এতে খুশি না হলেও, কাজ তো আর মাঝপথে থামিয়ে দেওয়া যায় না, তাই তিনি আবার গেলেন ব্যাঙ্কে, গিয়ে গ্রিডিকে বুঝিয়ে আরও দশ লাখ ডলার ধার করে আনলেন নিজের অ্যাকাউন্টে। তারপর সেটা পাঠিয়ে দিলেন স্টোনের অ্যাকাউন্টে।
তাহলে এখন স্টোনের অ্যাকাউন্টে কত জমল? ত্রিশ লাখ।
কিন্তু ব্যাঙ্কে আছে কত? ব্যাঙ্ক কিন্তু সেই শুরু থেকেই মাত্র দশ লাখ ডলার নিয়ে বসে আছে।
